15/12/2012
আমাদের দেশের মূর্খ চাষী,যারা কিনা রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফসল ফলায়,তাদের কেউই কৃষি ভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট করা নয়।তারপরেও তারা চিনতে পারে তার ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পোকামাকড় এবং নিতে পারে সেইসব পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা।নিজের শত্রুকে চেনার এইজ্ঞানটুকু তো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।
বাংলাদেশে বাস করে এরকম একটি শিক্ষার্থী তার প্রাইমারী ইশকুলের গণ্ডি পার করার আগেই শিখে ফেলে,"১৪ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।"
যখন শিক্ষার্থীটি হাই স্কুলে যায়,তখন আরো পরিস্কার করে শিখে,"১৯৭১সালের শেষদিকে যখন পাক হানাদার বাহিনী দেখল তাদের পরাজয় নিশ্চিত,তখন বাঙালি জাতিকে চিরদিনের মতো মেধাশূণ্য করে দিতে এদেশীয় রাজাকার,আলবদর,আলশামসের সহায়তায় ইসলামি ছাত্রসংঘের প্রত্যক্ষ মদদে এদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক,ডাক্তার,সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে তাদের হত্যা করে।১৪ ও ১৫ডিসেম্বর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়।"
এবার শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করে কলেজে পা দিয়েই জানতে পারে,"ইসলামি ছাত্রসংঘের পরিবর্তীত নাম ইসলামিক ছাত্রশিবির,যারা কমবয়সী কলেজপড়ুয়া ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর জন্য বিস্তর চেষ্টা তদবীর করছে এবং তত্কালীন হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকারদের গঠিত রাজনৈতিক দলের নাম জামায়াতে ইসলামী(পিছলামি)।"
এই যে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের প্রথম ৩টা স্টেপে ৩টা ধ্রুব সত্য জেনে গেলো,তবুও কি তাদের মধ্য প্রকৃতপক্ষে কোন বিকার আসে? আমার তো মনে হয় আসে না। তা না হলে,সেই পুরনো শকুন ৪২বছর ধরে বাংলার মানচিত্র খামচে ধরে বেঁচে থাকে কিকরে? জামায়াত-শিবির তো আকস্মিক ভাবে উদয় হওয়া কোন কিছু না। ৭১সালে রাজাকার,আলবদর,আল শামস ও ইসলামী ছাত্রসংঘ এই জনপদে এনেছিলো ভয়াল বিভীষিকা। জামায়াত-শিবির তো তাদেরই পরিবর্তিত রূপ,যারা কেবল ধর্মের তকমা আর 'ছুমন্তর ছু' দিয়ে বিরাট ব্যবসাটা ফেঁদে বসে আছে। আর সাধারণ অজ্ঞ মুসলমান ধর্মের লেবাস দেখে মুগ্ধ হচ্ছে আর ক্ষতিকর এই 'পরজীবি' পাচ্ছে পরম আশ্রয়।সাধারণ অজ্ঞ আর মূর্খ মুসলমানের কথা না হয় বাদ দিলাম,তাদের না হয় 'ইসলাম' শব্দটা দেখলেই বিরাট কিছু হয়ে যায়,কিন্তু যারা বিদ্যার্জন করেছে,যারা জ্ঞানলাভ করতে পেরেছে তাদের কী অবস্থা?
প্রতিবছর পঙ্গপালের মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে লাখে লাখে জিপিএ ৫।মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকে লাখ লাখ A+ আর গোল্ডেন A+। ডাবল গোল্ডেন।রেকর্ড পরিমাণ সিজিপিএ নিয়ে গ্রাজুয়েশন করা পোলাপাইন, বুয়েট,ডিএমসি ইত্যাদি এবং ইত্যাদি..... কোথা হইতে আসে এতো মেধাবীরা? এগুলো কী কেবল কেতাবী বিদ্যা? উপরে মূর্খ চাষার উদাহরণ দিয়ে এটাই বুঝালাম,তোমার দেশ ও জাতির শত্রু আর তোমার অস্তিত্বের শত্রুকে চিনতে ইতিহাসে অনার্স-মাস্টার্স করার দরকার নাই।কলেজ জীবনেই বুঝে গেছো বা বুঝে যাবে সব।শুধু দরকার নিজের সচেতনতা। যে বিষধর সাপকে শুধু ধর্মের উছিলায় নিজেদের মধ্যে এতোকাল ধরে বড় করেছে আমাদের অজ্ঞ পূর্ব পুরুষ,সেই সাপকে মেরে ফেলতে হবে। এতো প্যাচাল কিংবা বয়ান দিয়ে লাভ নেই।যাদের ব্রেইন অলরেডি ওয়াশড,তাদের জন্য এই স্ট্যাটাস নয়। যারা পড়াশুনা কর,তারা সত্যকে জানো।সত্যের পথে চলো।
কাল বিজয় দিবস। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই মাটিতে শেষ হোক,এটাই হোক সকলের প্রাণের দাবি।