02/06/2026
সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই ভালো ইংরেজি শেখান। অভিভাবকদেরকে খুব সিরিয়ালি বলছি।
কারো কোন সস্তা আবেগী কথায় কান দিবেন না। ইংরেজি ছাড়া কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার পৃথিবীতে আরো অচল।
তাছাড়া ইংরেজি শিখলে বাংলায় খারাপ হয়না কেউ। শেখার ইচ্ছে থাকলেই হয়। মানুষ তিন-চারটা ভাষা পর্যন্ত শিখছে।
সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান শেখান। বিজ্ঞান শিখলেই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী হতে হবে, তা নয়। বিজ্ঞান শিক্ষা, ক্রিয়েটিভিটি বাড়ায়। যৌক্তিক চিন্তা করার শক্তি বাড়ায়।
সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই গণিত শিখতে আলাদা করে গুরুত্ব দিন। গণিত বুঝতে পারা একটা মানুষের জন্য আলাদা গুণ। গণিত মানুষের মস্তিষ্ককে প্রখর করে। গণিত মানুষের কগনিটিভ পাওয়ার (cognitive ability) বৃদ্ধি করে।
জাপানের মানুষ ট্রেনে বসে সুডুকু খেলে। সুডুকু একটা সংখ্যার খেলা—পাজল। অনেক জাপানিজ বিশ্বাস করে, সুডুকু খেললে, মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
শিশুদেরকে ছোটবেলা থেকেই প্রোগ্রামিং, কোডিং শেখান। কম্পিউটারের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেন। এখন বাচ্চাদের জন্যও, ওদের মতো করে এসব শেখার সুযোগ আছে। তাদের কালে যা দরকার, সেটা তাদেরকে দিতে হবে। আপনাকে পাহারাও দিতে হবে। তা না হলে ওরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবে।
আপনার সন্তান কে ছোট বেলা থেকেই বই পড়তে উৎসাহ করুন। এটা আপনার সন্তান কে ভাবতে শিখাবে। মুক্ত চিন্তা করতে শিখাবে।
সন্তানকে ভালো কিছু শেখাতে হলে আপনাকেও শিখতে হবে। সেটা করুন। নিজে প্রতিদিন কিছু শিখুন। সন্তানের সাথে সাথে শিখুন। এটা এক অনন্য আনন্দ। আমরা বাচ্চাদের শেখাই। ওর সাথেও শিখি।
আপনি কি নিজে শিখে আপনার সন্তানকে শেখান?
26/05/2026
গবেষণা কী কেন কীভাবে?
গবেষণা বা research, ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু মানবসভ্যতার ইতিহাসে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীন কালের সেই গুহাবাসী মানুষ হতে আজকের এই একবিংশ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর জগতে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হয়েছে একটি কারণেই- তা হলো বহু মানুষের গবেষণা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জেনে বা না জেনেই কিন্তু আমরা অনেকে গবেষণা করে চলেছি। হতে পারে গবেষণাটা যুগান্তকারী কিছু একটা নতুন জিনিস আবিষ্কারের অথবা হতে পারে আলু-পটোলের দামের সঙ্গে হজমি গোলার চাহিদা বাড়া-কমার সম্পর্ক বের করার। অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা- এটাই তো গবেষণা।
গবেষণা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই গবেষণা কাকে বলে, তা জেনে নেওয়া যাক।
Organization for Economoic Co-operation and Development(OECD)-এর স্বীকৃত সংজ্ঞানুসারে গবেষণা বা রিসার্চ হলো- 'Creative work undertaken on a systematic basis in order to increase the stock of knowledge, including knowledge of man, culture and society, and the use of this stock of knowledge to devise new applications'
ওপরের সংজ্ঞাটা খেয়াল করলেই গবেষণা কাকে বলে, তার মোদ্দা কথাটা বেরিয়ে আসবে। গবেষণা হলো নতুন কিছু করা, যা আগে করা হয়নি বা করা হলেও ভালো করে হয়নি। সেটা করতে হবে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে এবং এ থেকে বেরিয়ে আসবে নতুন জ্ঞান, নতুন তথ্য।
গবেষণা করতে গেলে কি বিজ্ঞানী হতে হবে? না, মোটেও না; বরং গবেষণার সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে আম-জনতার যে কেউই হতে পারেন গবেষক, করতে পারেন গবেষণা।
গবেষণার রকমফের
গবেষণা নানা রকমের হতে পারে। যেমন- বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা, যেখানে বর্তমানে আছে এমন কোনো কিছুর কোনো বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ে কিছু জানা বা যাচাই করা হয়। আবার হতে পারে অনুসন্ধানী গবেষণা, যেখানে অজানা কোনো কিছুর সম্পর্কে ধারণা পেতে গবেষণা করা হয়েছে। কখনো কখনো গবেষণার উদ্দেশ্য হলো কারণ বের করা, কেন কোনো একটি ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো সময় গবেষণা করা হয় কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে সেই ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে। গবেষণার কার্যক্ষেত্রের ভিত্তিতে তা হতে পারে মৌলিক গবেষণা অথবা ফলিত গবেষণা। তবে সব ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রেই একটা কথা প্রযোজ্য, তা হলো গবেষণা কোনো কিছুকে খুব সিস্টেম্যাটিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের উদ্ভব ঘটানো।
গবেষণা কেন করবেন?
দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গবেষণা করা লাগে বটে, তবে সেসব অনানুষ্ঠানিক বা ইনফরমাল গবেষণার চেয়ে পড়াশোনা বা বিজ্ঞানের প্রয়োজনে গবেষণা করা হয় বেশি। কেন গবেষণা করবেন, সেই প্রশ্নের জবাবে আসুন, দেখে নিই একটা তালিকা-
১) পড়াশোনার অংশ: পিএইচডি, মাস্টার্স, এমনকি স্নাতক পর্যায়ের থিসিস লেখার জন্য গবেষণা করতে হবেই।
২) উচ্চশিক্ষা: আবেদন করার সময়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে খুব কাজে আসে।
৩) পেশাগত কাজের জন্য: শিক্ষক, বিজ্ঞানী, এঁদের তো বটেই- আরও অনেক পেশায় গবেষণা করার দরকার আছে। ধরা যাক, কোনো একটি কারখানার বর্তমানে যেসব বাতি তৈরি হয়, তা এক মাস চলার পরেই নষ্ট হয়ে যায়। একজন গবেষক বাতি ও কারখানার যন্ত্রাংশ নিয়ে গবেষণা করে নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বাতি বানানোর পদ্ধতি বের করতে পারেন।
৪) জনস্বার্থ: সামাজিক অনেক সমস্যার কারণ বের করার জন্য জনস্বার্থেও গবেষণার প্রয়োজন আছে। যেমন- ধরা যাক বাংলাদেশে আর্সেনিক রোগের প্রাদুর্ভাবের আসল কারণটা কী? অথবা ডায়রিয়ার সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা কী? এসব প্রশ্নের জবাব বের করতে হলে বিজ্ঞানীদের করতে হবে গবেষণা।
গবেষণা করতে শেখা
গবেষণা কি শেখার জিনিস? অবশ্যই। কারণ গবেষণা করাটা খুব পদ্ধতিগত ব্যাপার। এখানে নির্দিষ্ট ধাপ আছে, যেগুলো এড়ানোর কোনো উপায় নাই। তাই আপনি পড়া, পেশা কিংবা জনস্বার্থ- যে কারণেই গবেষণা করুন না কেন, আপনাকে গবেষণা করাটা শিখতে হবে ভালো করে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার গুরু শ্রদ্ধেয় ড. কায়কোবাদ স্যার গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে সব সময় বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার কালজয়ী সব গবেষকের কথা শোনাতেন তাঁর ছাএদের। জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন বোস, প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সিভি রমন, কুদরত-ই-খুদা- এঁরা এক সময় বিশ্বসেরা গবেষণা করেছেন, নোবেল জয় করার মতো উচ্চমানের গবেষণা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে আমাদের দেশে নতুন গবেষণার হার সেরকম আশাব্যঞ্জক নয়। অথচ গবেষণা শেখাটা জটিল কোনো কাজ না; বরং বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে গবেষণার অনেক ধাপ হয়ে গেছে সহজ।
তাই খুব সহজ এই গবেষণার ধাপগুলোকে শিখে নিতে পারলে সহজেই আপনি গবেষণার রাজ্যে রাখতে পারবেন পা, খুলে দিতে পারবেন জ্ঞানের রাজ্যের নতুন জানালা, উন্মোচন করতে পারবেন নতুন কোনো রহস্যের দ্বার। আর একই সঙ্গে আপনার পড়াশোনা কিংবা পেশাতেও এগিয়ে যেতে পারবেন।
তাই আসুন, গবেষণা করতে শিখি, একেবারে গোড়া থেকেই।