09/04/2024
মানুষের প্রকৃতি হল মুখাপেক্ষিতা। তাই সে নিজ কাজ-কর্ম সম্পাদন করতে এবং প্রয়োজন পুরা করতে অন্যের শরণাপন্ন হয়ে থাকে। তন্মধ্যে মুমিন বান্দা তার সকল কাজ সম্পাদনে নিজের সকল প্রয়োজনে কেবল আল্লাহর তা‘আলার দরবারেই প্রার্থনা করে। এতে অন্য কারো মধ্যস্থতা সে গ্রহণ করে না। কেননা মানুষের সকল প্রয়োজন আল্লাহ তা‘আলার কাছে রোনাজারি ও দু‘আর মাধ্যমেই পুরা হয় এতে কারো মধ্যস্থতার দরকার হয় না। এছাড়া হাদীসে এসেছে দু‘আ হল একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। অন্য হাদীসে এসেছে, দু‘আ ইবাদতের মগজ। তাই দু‘আর মাধ্যমে মনোবাঞ্ছা পূরণ হওয়ার সাথে সাথে এতে রয়েছে আরো বিশেষ ফায়দা। প্রত্যেক দু‘আর বিনিময় আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা সওয়াব লাভ হয়।
দু‘আর এই ফযিলত ও ফায়দা লাভ করতে হলে কিছু শর্ত ও আদাব রক্ষা করা জরুরী। সে সব শর্ত ও আদাবের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয় এবং দু‘আর দ্বারা পূর্ণ সুফল লাভ হয়। তন্মধ্য থেকে কিছু শর্ত ও আদাব এবং দু‘আ কবুল হওয়ার বিশেষ সময়ের কথা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
=================
দু‘আ কবুল হওয়ার কিছু শর্ত
=================
১. দু‘আকারীর পানাহার পোশাক-পরিচ্ছদ ও বাসস্থান হালাল হওয়া। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে এলোমেলো চুল ও ধূসর দেহ নিয়ে আসমানের দিকে দু’ হাত তুলে বলতে থাকেঃ হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ সবই হারাম অতএব তার দু‘আ কিরূপে কবুল হবে?” (সহীহ মুসলিম: ১০১৫)
২. বাহ্যিকভাবে কবুল হতে বিলম্ব হচ্ছে মনে হলে অধৈর্য্য না হওয়া। এবং এ কথা না বলা যে, আমি দু‘আ করেছিলাম কিন্তু তা কবুল হয়নি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের দু‘আ কবুল হবে যদি না তোমরা তাড়াহুড়া করো। এবং এ কথা না বলো যে, আমি দু‘আ করলাম কিন্তু তা কবুল হল না।” (মুসলিম: ২৭৩৫)
৩. প্রার্থিত বিষয় নাজায়েয কিছু না হওয়া। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোনো মুসলমান যখন কোনো দু‘আ করে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে হয়ত তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি দান করেন অথবা তার থেকে অনুরূপ অনিষ্টতা দূর করে দেন, যদি না সে কোনো গুনাহের জন্য অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দু‘আ করে।” (তিরমিযী: ৩৪৬৮, মুসনাদে আহমদ: ১১১৩৩)
৪. দু‘আ কবুল হওয়ার জন্য এও শর্ত যে, মুসলিম উম্মাহর মাঝে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ বিদ্যমান থাকা। কেননা ব্যাপকভাবে এ আমল বন্ধ হয়ে গেলে দু‘আ কবুল হওয়ার প্রতিশ্রুতি বলবৎ থাকে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে বলেছেন, তোমরা সৎকাজের আদেশ করো এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো এমন সময় আসার পূর্বে যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো না। তোমরা আমার নিকট কিছু চাইবে কিন্তু আমি তা পূর্ণ করবো না। তোমরা শত্রুর বিরুদ্ধে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে কিন্তু আমি তোমাদেরকে সাহায্য করবো না।” (সহীহ ইবনে হিব্বান: ২৯০)
===========
দু‘আর আদব সমূহ
===========
১.উযুর সাথে মুনাজাত করা। (সহীহ মুসলিম: ২৪৯৮)
২.কিবলামুখী হয়ে মুনাজাত করা। (সহীহ বুখারী: ৩৯৬০, সহীহ মুসলিম: ৮৯৪)
৩. মুনাজাতের সময় সিনা বরাবর হাত তোলা এবং মুনাজাত শেষে চেহারায় হাত মোছা। (মুসনাদে আহমাদ: ১১০৯৩, আবু দাউদ: ১৪৮৫)
৪. দু‘আর পূর্বে কোনো নেক আমল করা। (সহীহ মুসলিম: ২৭৪৩)
৫. আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্বের পূর্ণ অনুভূতি নিয়ে অত্যন্ত বিনয় ও খুব কাকতি-মিনতি করে এভাবে দু‘আ করা যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দিয়েই দাও, আমার তো আর কোনো রব নেই, তুমি কবুল না করলে আমার কোনো উপায় নেই। এভাবে বিনয়ের সাথে বারবার বলতে থাকা। (সহীহ ইবনে হিব্বান: ৮৭১)
৬. আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরূদের মাধ্যমে দু‘আ শুরু করা। যেমন: এভাবে দু‘আ শুরু করা-
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰ لِه وَصَحْبِه اَجْمَعِيْنَ
অর্থ: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাথীবর্গের উপর। এ হলো হামদ (প্রশংসা) ও সালাতের (দুরূদের) সংক্ষিপ্ত বাক্য। আরো বিস্তারিত ও অনেক ফজীলতপূর্ণ হামদ ও সালাত রয়েছে। যখন সময় বেশি থাকে তখন সেগুলো পড়া উত্তম হবে।
হযরত ফাজালা ইবনে উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায পড়ে দু‘আ করতে লাগল। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো। আমার প্রতি দয়া করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি তাড়াহুড়া করেছ। তুমি যখন নামায পড়ে বসবে তখন প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে অতঃপর আমার প্রতি দুরূদ পড়বে তারপর দু‘আ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আরেকজন লোক এসে নামায পড়ল। আল্লাহর প্রশংসা করল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পড়ল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মুসল্লী! তুমি দু‘আ করো, তোমার দু‘আ কবুল করা হবে। (তিরমিযী, হাদীস:৩৪৭৬)
অন্য হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-
كُلُّ دُعَاءٍ مَحْجُوْبٌ حَتّٰى يُصَلّٰى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরূদ না পড়া পর্যন্ত সকল দু‘আ আটকে থাকে। (ত্ববারানী আউসাত, হাদীস: ৪৩৯৯)
এ ছাড়া আসমায়ে হুসনা ও ইসমে আ‘যমের মাধ্যমে দু‘আ করলেও দু‘আ কবুল হয়। যার বিবরণ মূল কিতাবে বর্ণিত হবে ইনশাআল্লাহ।
৭। দু‘আর শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা এবং ‘আমীন’ দ্বারা দু‘আ শেষ করা। (আবু দাউদ: ১৪৮১, তিরমিযী: ৩৪৭৬)
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ . اَللّٰهُمَّ آمِيْن
অর্থ: তারা যা দোষারোপ করে তা হতে আপনার প্রতিপালক মহা পবিত্র, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য। হে আল্লাহ! তুমি কবুল করো। (সূরা সফফাত, আয়াত: ১৮০-১৮২)
৮. এই ইয়াকীন ও বিশ্বাসের সাথে মুনাজাত করা যে, আমি যা চাইলাম আমার মাওলা নিশ্চিত আমাকে তা দিবেন। (বুখারী: ৬৩৩৯, মুসলিম: ২৬৭৮)
৯. মুনাজাতে কান্নাকাটি করা। কান্না না আসলে কান্নার ভান করা। (মুসলিম: ২০২, ইবনে মাজাহ: ৪১৯৬)
১০. সকল মুমিনের জন্য দু‘আ করা। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, “আপনি আপনার নিজের ভুলের জন্য ইস্তিগফার করুন এবং সকল মুমিন নর-নারীদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” (সূরা মুহাম্মদ: ১৯)। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “যে ব্যক্তি মুমিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রত্যেক নর-নারীর বদলায় তার আমলনামায় একটি করে নেকী লেখা হয়। (ত্ববারানী; মুসনাদুশ শামিয়্যীন: ২১৫৫, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/২১০)
১১. প্রথমে নিজেকে দিয়ে দু‘আ শুরু করা। হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কারো আলোচনা করে তার জন্য দু‘আ করতে চাইতেন তখন প্রথমে নিজের জন্য দু‘আ করতেন, এরপর আলোচিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করতেন। (আবু দাউদ: ৩৯৮৪, তিরমিযী: ৩৩৮৫)
১২. কোনো গুনাহের কাজ সম্পন্ন হওয়ার দু‘আ না করা। এরূপ নাজায়েয কোনো কিছুর জন্য দু‘আ না করা। এসব দু‘আ তো কবুল হয়ই না বরং ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। (তিরমিযী: ৩৫৬৮, মুসনাদে আহমদ: ১১১৩৩)
১৩. নিম্নস্বরে কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তোমরা তোমাদের প্রভুকে কায়মনোবাক্যে ও অনুচ্চস্বরে ডাকো, নিশ্চয় তিনি সীমা-লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” (আল আ’রাফ: ৫৫)
======================
দু‘আ কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু সময়
======================
১. প্রত্যেক ফরয নামাযের পর। (তিরমিযী: ৩৪৯৪)
বি.দ্র. প্রত্যেক ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। তবে এই মুনাজাত নামাযের অংশ নয় এবং এখানে ইমামের ইত্তেবা বা অনুসরণ নেই। সুতরাং যারা বলেন, ফরয নামাযের পর মুনাজাত করা আবশ্যক তাদের কথা যেমন সহীহ নয় তেমনি যারা দাবী করেন যে, ফরয নামাযের পর কোনো মুনাজাতই নেই তাদের কথাও সহীহ নয়। বিস্তারিত জানতে এ বিষয়ে আমার লেখা স্বতন্ত্র পুস্তিকা “ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাতের শরয়ী বিধান” কিতাবটি পড়ে নিতে পারেন।
২. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে। (আবু দাউদ: ৫২১, তিরমিযী: ২১২)
৩. রাতের শেষভাগে। (তিরমিযী: ৩৪৯৯)
৪. জুমআর দিন খুতবার মাঝে কিংবা আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে। (বুখারী: ৯৩৫, মুসলিম: ৮৫২)
৫. যমযমের পানি পান করার সময়। (মুসনাদে আহমদ: ১৪৮৪৯, ইবনে মাজাহ: ৩০৬২)
৬. শরী‘আত সম্মত যিকিরের মজলিসে থাকা অবস্থায়। (বুখারী: ৬৪০৮, মুসলিম: ২৭২৯)
৭. সিজদা অবস্থায়। মুমিন বান্দা এ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার অতি নিকটে চলে যায়। (সহীহ মুসলিম: ৪৮২)
৮. অসুস্থ ব্যক্তির নিকট দু‘আ করার সময়। কারণ তার নিকটে গিয়ে যা বলা হয় এর উপর ফেরেশতারা ‘আমীন’ বলতে থাকে। (সহীহ মুসলিম: ৯১৯)
৯. বৃষ্টির সময়। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ২/১১৪)
১০. জিহাদের ময়দানে যুদ্ধরত অবস্থায়। (আবু দাউদ: ২৫৪০, সুনানে দারেমী: ১২০০)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আর শর্ত ও আদাবের প্রতি লক্ষ্য রেখে দু‘আ কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলো সহ সব সময় বেশি বেশি দু‘আ করার তাউফীক দান করুন। আমীন।
==============
দু‘আ কবুলের বাধাসমূহ
==============
১। শিরকে লিপ্ত হওয়া।
২। কোনো মুসলমানের সাথে কলহ বিবাদে লিপ্ত থাকা।
৩। মদ্যপানে অভ্যস্ত থাকা।
৪। পিতা-মাতার নাফরমানিতে লিপ্ত থাকা।
৫। খাদ্য ও লেবাস-পোশাক হারাম হওয়া।
৬। কোন গুনাহের বিষয়ে দু‘আ করা।
৭। দু‘আ করে কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা। অর্থাৎ একথা বলা যে, আমি অনেক দু‘আ করলাম কিন্তু কবুল হতে দেখলাম না।
হাদীস শরীফে এসেছে, বান্দার দু‘আ সর্বদা কবুল হতে থাকে যতক্ষণ সে কোন গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দু‘আ না করে বা তাড়াহুড়া না করে। (মুসলিম, হাদীস: ২৭৩৫)
বি.দ্র. দু‘আ কবুল হওয়ার অর্থ হচ্ছে, দুনিয়াতেই প্রার্থিত বিষয় লাভ করা বা দু‘আর সওয়াব কিয়ামত দিবসের জন্য সঞ্চিত রাখা অথবা কোনো মুসীবত দূর করা অথবা গুনাহ মাফ করে দেওয়া। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস:৩৩৮১, ৩৬৭৭)
================================
মুনাজাতের শুরুতে পড়ার মতো কিছু হামদ ও সালাত
================================
মহান রব্বুল ‘আলামীন বান্দার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। বান্দার জন্য তাঁর রহমতের দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। তাঁর কাছে চাইলে তিনি খুশি হন, না চাইলে অসন্তুষ্ট হন। তাই তিনি নিজেই বান্দাকে শিখিয়েছেন যে, সে আল্লাহর কাছে কী চাবে, কীভাবে চাবে, কোন ভাষা ব্যবহার করবে? যার বিস্তারিত বিবরণ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে রয়েছে। তা থেকে নির্বাচিত কিছু দু‘আ এখানে উল্লেখ করা হল।
দু‘আর শুরুতে যেহেতু হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) ও সালাত (দুরূদ শরীফ) থাকা সুন্নাত তাই নমুনা স্বরূপ কয়েকটি হামদ ও সালাত উল্লেখ করা হল।
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰ لِه وَصَحْبِه اَجْمَعِيْنَ অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহ পাকের জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক এবং রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দারের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাথীগণের উপর।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ অর্থ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
ফায়দা: উপরোক্ত কালিমা দু‘টি যবানে উচ্চারণ করতে সহজ, কিয়ামত দিবসে ওযনে ভারী, করুণাময় আল্লাহর নিকট প্রিয়। (বুখারী, হাদীস নং-৭৫৬৩)
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ অর্থ: আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই। তিনি সবচেয়ে বড়।
ফায়দা: (ক) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরোক্ত ৪টি বাক্য সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি, এর যে কোনোটি দিয়েই তুমি শুরু করো তাতে কোন অসুবিধা নেই। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২১৩৭)
(খ) তিনি আরো ইরশাদ করেছেন, এই বাক্যগুলো আমার মুখে উচ্চারিত হওয়া সূর্য যে সমস্ত জিনিসের উপর উদিত হয়, সেই সমুদয় জিনিস অপেক্ষা অধিকতর প্রিয়। (অর্থাৎ দুনিয়ার সকল জিনিস অপেক্ষা এই বাক্যগুলো আমার মুখে উচ্চারিত হওয়া অধিকতর প্রিয়) (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৭০২২)
يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِيْ لِجَلَالِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيْمِ سُلْطَانِكَ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তোমার জন্য, তোমার মহান সত্ত্বা এবং সুবিশাল রাজত্বের জন্য যেমন প্রশংসা উপযুক্ত। (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩৮০১)
ফায়দা: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আল্লাহর কোনো এক বান্দা উপরোক্ত কালিমাগুলো পাঠ করলে দুইজন ফেরেশতা তার সওয়াব লেখা কঠিন মনে করে আল্লাহ তা‘আলার কাছে বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার এক বান্দা এই কালিমাগুলো পড়েছে, আমরা তার সওয়াব কীভাবে লিখব? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, বান্দা যা বলেছে তাই লিখে রাখো, আমার সাথে সাক্ষাতের সময় আমি নিজে তার পুরস্কার দিব। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩৮০১)
(যা দ্বারা কয়েক ঘণ্টা একাধারে নফল ইবাদতের সওয়াব লাভ হয়) (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭২৬)
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه عَدَدَ خَلْقِه وَرِضَا نَفْسِه وَزِنَةَ عَرْشِه وَمِدَادَ كَلِمَاتِه অর্থ: আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তোষ পরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর গুণাবলীর কথা লেখার কালি পরিমাণ।
৫ নং হামদ
اَللهُ اَكْبَرُ كَبِيْرًا، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَثِيْرًا، وَسُبْحَانَ اللهِ بُكْرَةً وَّ اَصِيْلًا. অর্থ: আল্লাহ সব থেকে বড়, অতি মহান। সর্বাধিক ও সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সকাল ও সন্ধ্যায় আমরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
ফযীলত: উক্ত হামদ পড়লে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। (যা দু’আ করা হয় তাই কবুল হয়) (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৯৯)