09/09/2026
১৯৬৪ সালে তিন তরুণীকে Engineering পড়তে নিরুৎসাহিত করেছিল আজকের BUET।
তাঁদের একটাই প্রশ্ন ছিল,
“মেয়েরা Engineering পড়তে পারবে না, এমন কথা কোথায় লেখা আছে?”
এরপর যা ঘটেছিল, সেটাই বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করে। ❤️
তিন তরুণীর নাম খালেদা শাহরিয়ার কবির (ডোরা), মনোয়ারা বেগম এবং শিরীন সুলতানা (চুমকি)।
তখন BUET-এর নাম ছিল East Pakistan University of Engineering and Technology বা EPUET।
সে সময় Architecture বিভাগে নারী শিক্ষার্থী থাকলেও অন্যান্য Engineering বিভাগে মেয়েদের ভর্তি নেওয়ার প্রচলন ছিল না। বিশেষ করে Civil Engineering-কে মেয়েদের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হতো।
কারণ Civil Engineering-এ fieldwork, survey এবং সাভারে প্রায় এক মাসের residential survey camp ছিল। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় কর্তৃপক্ষ মনে করত, মেয়েদের জন্য এসব কঠিন হবে।
কিন্তু তিন তরুণী পিছিয়ে যাননি।
খালেদা ও শিরীন তখন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। মনোয়ারা পড়তেন হলিক্রস কলেজে।
তাঁদের দাবি ছিল খুব সহজ,
“অন্তত ভর্তি পরীক্ষায় বসতে দিন। যোগ্য হলে আমরা নিজেরাই প্রমাণ করব।”
শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
তিনজনই উত্তীর্ণ হন।
এভাবেই তাঁরা EPUET-এর প্রথম নারী Engineering students হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।
কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়।
দ্বিতীয় বর্ষে বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খালেদা ও শিরীন Civil Engineering পড়তে চাইলেন।
আবারও আপত্তি।
এবার কারণ ছিল residential survey camp।
তাঁরা পরিবারের সম্মতি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বোঝান যে এই camp-এ অংশ নিতে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই।
শেষ পর্যন্ত দুজনই Civil Engineering পড়ার অনুমতি পান।
মনোয়ারা বেছে নেন Chemical Engineering।
তারপর আসে ১৯৬৮ সাল।
খালেদা শাহরিয়ার কবির ও শিরীন সুলতানা Civil Engineering-এ স্নাতক হন।
তাঁরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নারী Civil Engineer হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন।
মনোয়ারা বেগম পরে ১৯৭০ সালে Chemical Engineering-এ স্নাতক হন।
কিন্তু খালেদা শাহরিয়ার কবিরের গল্প এখানেও শেষ হয়নি।
১৯৬৯ সালে একটি Engineering consulting firm-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
১৯৭০ সালে তিনি East Pakistan Water and Power Development Authority-তে Assistant Engineer হিসেবে যোগ দেন।
পাকিস্তান সরকারের অধীনে নিয়োগ পাওয়া পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রকৌশলী ছিলেন তিনি।
১৯৭৫ সালে Asian Institute of Technology, Thailand থেকে Water Resource Engineering-এ Master's সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনে Executive Engineer, Superintending Engineer ও Chief Engineer হওয়ার পর ২০০২ সালে Bangladesh Water Development Board-এর Additional Director General হন।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান নকশাকারদের একজন ছিলেন খালেদা শাহরিয়ার কবির।
২০০৪ সালে তিনি অবসর নেন।
২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই পথিকৃৎ প্রকৌশলী।
আজ BUET-এর campus, classroom কিংবা laboratory-তে নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক।
কিন্তু এই স্বাভাবিকতার পেছনে আছে ১৯৬৪ সালের তিন তরুণীর একটি সাহসী প্রশ্ন।
“কেন পারব না?”
কখনো কখনো ইতিহাস বদলানোর জন্য বিশাল কিছু দিয়ে শুরু করতে হয় না।
একটি প্রশ্নই যথেষ্ট। ❤️
এখন তোমার পালা।
তুমি যদি Engineering পড়ার সুযোগ পাও, তোমার Dream Department কোনটি?
Civil | CSE | EEE | Mechanical | অন্য কিছু?
কমেন্টে শুধু Department-এর নামটা লিখে যাও। 👇