11/05/2026
আমার ছাত্র আদিল।
খুব প্রিয়, খুব আদরের ছাত্র।
একটু চঞ্চল বলে অনেকে তাকে দুষ্ট বলে। এমনকি তার আব্বুও মাঝে মাঝে বলেন,
“হুজুর, ও একটু বেশি দুষ্ট। মনে হয় আপনাদের কষ্ট দেয়।”
কিন্তু আমি তাকে কখনও দুষ্ট বলি না।
তার এই চাঞ্চল্য, ছুটে চলা, দৌড়ঝাঁপ— আমি উপভোগ করি।
ভাবি, এই চঞ্চলতা কি সে নিজে বানিয়ে নিয়েছে?
আল্লাহ তাকে একটু বেশি প্রাণবন্ত করেই সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান সময়ে অনেক শিশুই এমন হয়।
অনেকে বাচ্চাদের দুষ্টুমি একদম সহ্য করতে পারেন না।
কিন্তু আমি একটা বিষয় ভাবি—
আমাকে কিংবা আমার বয়সি কাউকে যদি মাসে বেতন দিয়েও বলা হয়, “সারাদিন ছোট্ট বাচ্চাদের মতো দৌড়াও, লাফাও, ছুটোছুটি করো”— আমরা কি পারব?
মনে হয়, শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে আসা কেউই তা পারবে না; টাকা দিলেও না।
তাহলে ছোট্ট বাচ্চাগুলো যে কাজগুলো আনন্দে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে করে যাচ্ছে— সেগুলোই তো তাদের বয়সের সৌন্দর্য।
এই তফাতটা বুঝতে পারলে বাচ্চাদের দুষ্টুমিতে আর চোখ জ্বালা করবে না।
তবে এর মানে এই নয় যে, সোনামণিদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা তুলে দিয়ে বলা হবে—
“যাও বাবা, যা ইচ্ছা করো; সব ভেঙে ফেলো।”
শাসন অবশ্যই জরুরি।
বরং বর্তমান সময়ে তো আরও বেশি জরুরি।
তবে সেই শাসনে যদি জেদ না থাকে, কঠোরতার বাড়াবাড়ি না থাকে; বরং থাকে আন্তরিকতা, প্রজ্ঞা এবং ইসলাহের নিয়ত— তাহলে সে শাসন পরিবর্তন আনে, কল্যাণ বয়ে আনে।