16/05/2013
মহাসেন আপডেট
ঘূর্ণিঝড় মহাসেন কিছুটা দুর্বল
হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, মহাসেন এ
মুহূর্তে নোয়াখালী, সীতাকুণ্ড ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে।
এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী তিন থেকে পাঁচ
ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারউপকূলীয় এলাকা অতিক্রম
করবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম, আজ সকাল
থেকে এটি যে পরিমাণ গতি নিয়ে আসছিল ...প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার
কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনিবলেন, সকাল থেকে যে জোয়ার শুরু
হয় তার আগেই প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। এর কারণে ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমান্বয়ে দুর্বল
হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় যদি এটি উকূলের
কাছে চলে আসতো তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হত।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে পটুয়াখালীর
খেপুপাড়া উপকূলে আঘাত হানে মহাসেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত
কর্মকর্তা সহকারী আবহাওয়াবিদ বিজয় দে জানান,
পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার পর এর গতি বেড়ে গেছে।
এটি এখনঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
দিকে ধেয়েআসছে। দুপুর ১২টার দিকে এটি ওই দুুই জেলার উপকূলীয়
এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ
গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার
আকারে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটারপর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের
কাছে সাগর খুব উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৭ নম্বর সতর্কসংকেত
দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম,
নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী,
বরিশাল জেলা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর
সতর্কসংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর
সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও
তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৫ নম্বর সতর্কসংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী,
লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল,
পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরাও তাদের
অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১০
ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ অতিক্রম করার সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম,
নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা,
বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয়
ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার
বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরাজেলা এবং তাদের
অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০
থেকে ৯০ কিলোমিটার
বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে চট্টগ্রামবিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের
কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার
এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত
নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।