24/09/2026
কর্তব্যক্তিরা ৯ম পে-স্কেল স্ক্যামকে শক্তিশালী করতে Divide and Rule (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) থিওরি অবলম্বন করে কর্মচারীদের সহজে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু বৈষম্য ও অসঙ্গতি রেখেছেন কিনা যথেষ্ট ডাউট ও শক্তপোক্ত যুক্তি আছে! আমার এ কথাগুলো অনেকের মাথার উপর দিয়ে যেতে পারে! তাই বিষয়টি একটু খোলাসা করে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলছি।
প্রথমে Divide and Rule (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) - থিওরিটির ধারণা সংক্ষেপে পরিষ্কার করা দরকার। Divide and Rule (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) এর বাংলা অর্থ হলো “বিভক্ত করো এবং শাসন করো”।
এটি এমন একটি কৌশল, যেখানে কোনো বড় জনগোষ্ঠী বা সংগঠনকে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে তাদের মধ্যে মতভেদ, প্রতিযোগিতা বা বিরোধ সৃষ্টি করা হয়, যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হয়।
সহজ উদাহরণ
ধরুন, ১০০ জন কর্মচারী একসঙ্গে একটি দাবি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হলো। তাদের দাবি আদায়ের শক্তি তখন তুলনামূলক বেশি। কিন্তু যদি তাদের— গ্রেড অনুযায়ী আলাদা করা হয়, একদলকে অন্য দলের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়, কিছুজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়,
বিভিন্ন সংগঠন বা নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হয়,
তাহলে ঐক্য দুর্বল হতে পারে। এ ধরনের কৌশলকে “Divide and Rule” বলা যেতে পারে, যদি উদ্দেশ্যই হয় বিভক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে “Divide and Rule” নীতির আলোচনা বিশেষভাবে যুক্ত, যদিও কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা এই নীতির উদাহরণ কি না—তা নির্ভর করে ঐতিহাসিক প্রমাণ ও ব্যাখ্যার ওপর।
এক কথায়: ঐক্য ভেঙে শক্তি কমানো এবং সেই দুর্বলতার সুযোগে নিয়ন্ত্রণ করা = Divide and Rule থিউরি!
প্রসঙ্গত, নতুন পে-স্কেলে এক বাসা ভাড়া ইস্যুতে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীগণ এখন দুইভাগে ভাগে বিভক্ত বললে ভুল হবে না। উল্লেখ্য, ১-১০ গ্রেড চিরকালই আলাদা (কর্মকর্তা) গোষ্ঠী যারা এলিট শ্রেণি হিসেবে বিবেচিত এবং তারাই মূলত বাকী ১১-২০ গ্রেডের (কর্মচারীদের) রোলার। আর এখন বাসা ভাড়া ইস্যুতে ১১-১৫ ও ১৬-২০ গ্রেডে দু'দল বা পক্ষে বিভক্ত করার হীন চক্রান্ত চলছে! এক পক্ষ সন্তুষ্ট আবার আরেক পক্ষ চরম অসন্তুষ্ট। সৃষ্টি হচ্ছে পক্ষ-বিপক্ষ দ্বন্দ্ব, রেষারেষি ও ভুল বুঝাবুঝি!
আমরা যখন ১১-১৫ তম গ্রেডের বাসা ভাড়ার হার বৃদ্ধি করে সংশোধনের আওয়াজ তুলছি তখন ১৬-২০ তম গ্রেডের সহকর্মীরা মনে করছেন আমরা তাদের বেশি বেতনে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের বাসা ভাড়া নাকি কমাতে চাচ্ছি। অথচ, বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা তাদের প্রদত্ত হার কমাতে নয়, বরং বঞ্চিতদের ন্যায্য হার বাড়াতে চেষ্টা করছি মাত্র। তাই চরম বাস্তবতা না বুঝে বরং কর্তাব্যক্তিদের পাতানো ফাঁদে আমার ভাইয়েরা পা দিচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়! তাই আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ থেকে ৯ম পে-স্কেলের সকল বৈষম্য ও অসঙ্গতি দূরীকরণে সম্মিলিত আওয়াজ তোলা উচিত।
সাইরি বিন সুলতান (রিপন)
প্রেসিডেন্ট
আমরা সরকারি চাকরিজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ।