16/05/2026
কচি তালের শাঁস বা বিচি গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা ও সজীব রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা প্রচুর পানি ও পুষ্টি উপাদান শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া, এটি লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও অরুচি দূর করে।
তালের শাঁসের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা:পানিশূন্যতা দূর করে: কচি তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ (৯২.৩%) থাকে, যা গরমে শরীরের পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি দূর করে।
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: এতে থাকা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
লিভার ও শরীর ঠান্ডা রাখে: কচি তাল লিভারের সমস্যা দূর করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী।
দৃষ্টিশক্তি ও ত্বক উন্নত করে: ভিটামিন এ, বি এবং সি-এর উপস্থিতির কারণে এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
খাবারে অরুচি ও বমি ভাব দূর করে: গরমের সময় মুখের অরুচি এবং বমি বমি ভাব দূর করতে কচি তালের শাঁস দারুণ কাজ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: এতে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
18/11/2025
সবাই জানে যে তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, কিন্তু খুব কম লোকই জানে যে একটি বেবি তিমিকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, তবে অন্যান্য স্থল স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে নয়, অন্যভাবে, স্ত্রী তিমি তার দুধ ফেলে দেয় জলে যখন তার সন্তান তার কাছে বুকের দুধ খেতে চায়। তিমির দুধে উচ্চ চর্বিযুক্ত উপাদান ৫০%, অতএব, দুধের আকার ঘন এবং আঠালো এবং জলে দ্রবীভূত হয় না, তাই বেবি তিমি দুধ ধরে খেতে পারে, এটি একটি নিখুঁত প্রজনন জ্যামিতি।
03/10/2025
গর্ভবতী অবস্থায় আবার গর্ভধারণ!
একজন নারী গর্ভবতী হলেন। দিন গুনছেন সন্তানের জন্য। হঠাৎ আলট্রাসাউন্ড করতে গিয়ে দেখলেন, তার গর্ভে যে দুটি শিশু বেড়ে উঠছে, তাদের মধ্যে একজনের চেয়ে অন্যজন কয়েক সপ্তাহের ছোট! তারা যমজ নয়, বরং দুটি ভিন্ন সময়ে তাদের গর্ভধারণ হয়েছে।
এই ঘটনাকে বলা হয় “সুপারফিটেশন (Superfetation)”।
এটা কীভাবে সম্ভব?
সাধারণত একজন নারী গর্ভবতী হলে তার শরীর কিছু হরমোন তৈরি করে যা ডিম্বাশয় থেকে নতুন ডিম্বাণু আসাকে (Ovulation) বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, জরায়ুর মুখে একটি শ্লেষ্মার প্রাচীর (Mucus Plug) তৈরি হয়, যা শুক্রাণুর প্রবেশ আটকে দেয়। এক কথায়, শরীর নতুন করে গর্ভধারণের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
কিন্তু অত্যন্ত বিরল কিছু ক্ষেত্রে,এই নিয়মও ভেঙে যায়। গর্ভবতী অবস্থাতেই কোনোভাবে একটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে দ্বিতীয় ভ্রূণ হিসেবে জরায়ুতে যুক্ত হয়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
১.
সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি সুপারফিটেশনের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিতে জায়গা পেয়েছে।
২.
সাধারণত আলট্রাসাউন্ড করার সময় যখন দেখা যায়, দুটি ভ্রূণের বৃদ্ধিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তখন ডাক্তাররা এই বিষয়টি সন্দেহ করেন।
৩.
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডেলিভারির সময় নির্ধারণ করা। কারণ, দুটি শিশুর বয়স ভিন্ন হওয়ায় একজন অপরিণত (Premature) অবস্থায় জন্মানোর ঝুঁকি থাকে। ডাক্তারদের তখন দুজনের অবস্থাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
11/07/2025
📍🌊 "Rip Current" বা "কাটা স্রোত" কি? এর থেকে বেঁচে আসার উপায়-ই বা কি?
সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি খবরে জানা গেলো, কক্সবাজারে সাঁতার কাটতে সৈকতের খুব কাছাকাছি পানিতে নেমেও, পর্যটকেরা হঠাৎ ভেসে চলে যাচ্ছেন গভীর সাগরে। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক-ই ফিরে আসতে পারছেন। বাকিদের কপালে লেখা থাকছে , নিশ্চিত মৃত্যু। এটা আসলে নতুন কোন ঘটনা নয়। অনাদিকাল থেকেই মানুষকে পরাজিত হতে হয়েছে সমুদ্রের বিশালতার কাছে।এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে হঠাৎ ভেসে যাওয়ার কারণটা আসলে কি? সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূলে থাকতে পারে -" Rip Current " বা " কাটা স্রোত"। এই বিষয়ে আমাদের জানাশোনা ও সচেতনতা দুটোই কম।
সহজ কথায়, Rip Current হলো , সমুদ্র সৈকতে আঁচড়ে পড়া পানি আবার সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া। যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুততর। সমুদ্রে কিন্তু আমরা কি কখনো ঢেউ-এর উল্টোদিকে আঁচড়ে পড়া দেখি? দেখিনা। তাহলে, সেই পানি ফিরে যায় কিভাবে? আসলে, সমুদ্রে ফেরার জন্য, কয়েকটি বড় ঢেউ-এর মাঝখানে একটি করে ফানেল বা টানেলের মতো গভীর স্রোতের সৃষ্টি হয়। সেখানকার পানি অপেক্ষাকৃত শান্ত ও গাঢ় নীল। আমাদের সমুদ্র সৈকতগুলোর পানি যেহেতু ঘোলাটে, তাই, সরু কিন্তু গভীর সমুদ্র পর্যন্ত পানির কোন অংশের গুরুগম্ভীর একটা ভাব দেখে আমাদের Rip Current area-কে চিনে নিতে হবে। এটা এতো শক্তিশালী ও দ্রুত যে, অলিম্পিক মেডেলপ্রাপ্ত কোন সাঁতারুর পক্ষে-ও এর বিপরীতে সাঁতার কেটে তীরের কাছাকাছি আসা অসম্ভব, যদি না সে এর থেকে উদ্ধার পাওয়ার কৌশল জানে। তাহলে চলুন জেনে নেই Rip Current-এর বৈশিষ্ট্য ও এর থেকে বাঁচার কৌশল :
Rip Current 🌊
📍 দৈর্ঘ্য: ১০০ মিটারের কাছাকাছি ( একটা ফুটবল মাঠ অথবা ৩০-তলা বিল্ডিং-এর সমান)
📍প্রস্থ: ৫-১০ মিটারের কাছাকাছি ( ৫ মিটার- একটা মিনিবাসের সমান , ১০ মিটার- ১ টি বাস্কেটবল কোর্টের সমান)
📍 উৎপত্তি: সাধারণত, ভেঙে পড়া দুটো স্রোতের মাঝখানে ।
📍দেখতে কেমন? : শান্ত ও গভীর ।
📍 বাঁচার উপায়? : Rip Current-এ পড়লেই, আপনি অনুভব করবেন, কোন একটা শক্তি শান্তভাবে আপনাকে সৈকত থেকে গভীর সাগরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই অনুভূতি স্বভাবতই ভয়ের। কিন্তু, সেই মুহূর্তে-ও মাথা ঠান্ডা রেখে কৌশলে এর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।প্রথমত, কোনভাবেই এর বিপরীতে সাঁতার কাটা যাবেনা। কেননা, এটা খুবই শক্তিশালী। অযথা, সাঁতারু এতে ক্লান্ত হয়ে যাবে। নিয়ম হলো, তখন সৈকতের parallel বা সমান্তরালে সাঁতার কাটা। তাহলে, কিছুটা গভীর পানিতে চলে গেলেও এর থেকে বের হওয়া যাবে। আর কেউ যদি সাঁতার কাটার আগেই একেবারে স্রোতে ভেসে গভীর সমুদ্রে পৌঁছে যায়, তখন শক্তি সঞ্চয় করার জন্য প্রথমে কিছু সময় ভেসে থাকতে হবে। অতঃপর, ধীরে ধীরে সৈকতের সমান্তরালে সাঁতার কেটে Rip Current থেকে মুক্ত হয়ে, সৈকতে ফিরে আসতে হবে। তখন আঁচড়ে পড়া ঢেউ-ও তাকে তীরে ফিরতে সাহায্য করবে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে আমাদের সকলের সাঁতার শেখাটা অত্যন্ত জরুরি। তার উপর আমাদের আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার, আমাদের পরিবার নিয়ে ছুটি কাটানোর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখন ভ্রমণে গিয়ে কেউ মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার হোক, এটা আমরা কেউ-ই চাইনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা সমুদ্র ও নদীতে সাঁতারের নিয়ম-কানুন নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। YouTube -এ Rip Current নিয়ে অনেকগুলো চমৎকার ভিডিও আছে। আমরা শিশু-কিশোরদের সেসব ভিডিও দেখিয়ে Rip Current নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারি।
প্রকৃতি হলো- "ভয়ংকর সুন্দর"! প্রকৃতিকে পরিবর্তন নয়, বরং প্রকৃতিকে সঠিকভাবে জেনে এর নিয়ম-কানুন মেনে চললেই আমরা প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে পারবো।
লেখা: Copied
01/12/2024
মাছ থেকে "মাছের স্বাদ" পেতে হলে মাছকে মাছ হিসেবে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
12/01/2024
জলাতঙ্ক কি?
জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক। এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন। এটি বেশিরভাগ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড, তাইওয়ান, জাপান এবং সাইপ্রাসের মতো দ্বীপগুলিতে জলাতঙ্ক নেই। এটি জুনোটিক রোগের অধীনে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে (জুনোটিক মানে প্রাণীদের সাথে সম্পর্কিত)।
জলাতঙ্ক রোগের কারণ
মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক একটি উন্মত্ত প্রাণীর কামড়ের কারণে হয়। প্রাণীর লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। খামারের প্রাণী যেমন কুকুর, গরু, ঘোড়া, ছাগল, খরগোশ এবং বন্য প্রাণী যেমন কাঁঠাল, বাদুড়, কোয়োটস, শিয়াল এবং হায়েনারা আক্রান্ত হলে জলাতঙ্ক ছড়াতে পারে। ভারতে, বিপথগামী কুকুরগুলি সংক্রমণের সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্স, কারণ পোষা প্রাণীদের টিকা দেওয়া হয়।
ল্যাবরেটরিতে জলাতঙ্ক ভাইরাস পরিচালনা করা, বাদুড় থাকতে পারে এমন গুহা অন্বেষণ করা বা বন্য প্রাণীর উপস্থিতি যেখানে বন্য প্রাণী রয়েছে সেখানে শিবির স্থাপন করা সাধারণ পরিস্থিতিতে যেখানে একটি উন্মত্ত প্রাণীর কামড় হয়।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ নথিভুক্ত করা হয়নি। যদি একটি উন্মত্ত প্রাণী একজন ব্যক্তির উপর একটি খোলা ক্ষত চাটতে পারে, তাহলে ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে। মাথা এবং ঘাড়ের ক্ষতগুলি আরও বিপজ্জনক কারণ সংক্রমণ দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে।
জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ
জলাতঙ্কের উপসর্গ এবং লক্ষণগুলি রোগের শেষ পর্যায়ে দেখা যায় না, এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এনসেফালাইটিস সৃষ্টি করে এবং এর পরেই মৃত্যু ঘটে।
জলাতঙ্কের একটি ইনকিউবেশন পিরিয়ড থাকে, যার অর্থ হল উপসর্গ এবং লক্ষণগুলি প্রকাশের আগে কিছু দিন এটি ব্যক্তির শরীরে সুপ্ত থাকে। প্রাথমিক উপসর্গগুলি হল মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, জ্বর এবং কামড়ের জায়গায় খিঁচুনি।
অত্যধিক লালা নিঃসরণ, গিলতে অসুবিধা, গিলতে অসুবিধার কারণে পানির ভয়, উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, অনিদ্রা এমনকি আংশিক পক্ষাঘাত এবং কখনও কখনও কোমার মতো লক্ষণগুলি জলাতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।
ব্যক্তি শব্দ, আলো এবং এমনকি বাতাসের ঠান্ডা স্রোতে অসহিষ্ণু। বাতাসের ভয় (এরোফোবিয়া) দেখা যায়।
জলাতঙ্ক রোগ নির্ণয়
যদি আপনি একটি বিপথগামী কুকুর বা বন্য প্রাণী দ্বারা কামড়ায়, এটা বুদ্ধিমানের কাজ যে প্রাণীর জলাতঙ্ক আছে এবং ব্যক্তি তার জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে টিকা দেওয়া উচিত. যদি প্রাণীটি একটি পোষা প্রাণী হয় এবং এটি মালিক বা পশুচিকিত্সকের কাছ থেকে যাচাই করা যেতে পারে যে প্রাণীটি র্যাবিড নয়, শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিটিকে টিকা দেওয়া হয়নি৷
একজন ব্যক্তিকে কামড়ানোর পরে প্রাণীটিকে সুরক্ষিত করা বা ক্যাপচার করা অত্যন্ত সহায়ক কারণ প্রাণীটির জলাতঙ্ক আছে কিনা তা নির্ধারণ করতে স্থানীয় সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে।
আপনার ডাক্তার আপনাকে পশুর আচরণ বর্ণনা করতে বলবেন (এটি বন্ধুত্বপূর্ণ বা রাগান্বিত ছিল) কারণ বন্য প্রাণী মানুষের পক্ষে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বা তিনি এটিও নিশ্চিত করবেন যে আপনি কীভাবে কামড় পেয়েছেন এবং প্রাণীটির কী হয়েছিল – এটি কি পালিয়ে গেছে বা এটি ধরা পড়েছে? যদি প্রাণীটিকে ধরা হয় তবে এটি জলাতঙ্কের লক্ষণগুলির জন্য পরীক্ষা করা যেতে পারে এবং যদি এটি সুস্থ পাওয়া যায় তবে শিকারটিকে টিকা দেওয়ার শটগুলি থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।
জলাতঙ্কের তদন্ত
ইমিউনোফ্লোরেসেন্স নামক একটি পদ্ধতিতে ত্বকের একটি ছোট টিস্যু ব্যবহার করে রেবিস অ্যান্টিজেন সনাক্ত করা যায়। সংক্রামিত রোগীর লালা থেকে ভাইরাসটি আলাদা করা যেতে পারে।
30/10/2023
স্বামী মারা গেলে কেন ৩ মাস ইদ্দত পালন করতে হবে:
একজন ইহুদি ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ (যিনি একজন ধর্মীয় পণ্ডিতও ছিলেন) খোলাখুলি বলেছিলেন যে, পৃথিবীতে মুসলিম নারীর চেয়ে পবিত্র ও বিশুদ্ধ নারী অন্য কোন ধর্মে নেই।
পুরো ঘটনাটি ঘটেছিল যখন আলবার্ট আইনস্টাইন ইনস্টিটিউটের (Albert Einstein Institution) সাথে যুক্ত একজন ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ, ইহুদি পেশাদার রবার্ট, তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। যার একমাত্র কারণ ছিল, কুরআনে উল্লেখিত তালাক প্রাপ্ত নারীর ইদ্দতের আদেশ সম্পর্কিত আয়াত এবং ইদ্দতের জন্য তিন মাসের সীমা নির্ধারণের পেছনের রহস্য ও হিকমত সম্পর্কে অবগতি।
আল্লাহ তায়ালা কোনো তালাক প্রাপ্ত নারীকে দ্বিতীয় বিয়ের পূর্বে তিন মাসের একটি গ্যাপ রাখতে বলেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন,
وَٱلْمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٍۚ
অর্থাৎ 'তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক পর্যন্ত অপেক্ষা করবে' (সূরা আল-বাকারাহ ২২৮:২)
এই আয়াতটি একটি আধুনিক জ্ঞান ডিএনএ এর উদ্ভাবনের রাস্তা সুগম করেছে এবং দেখা গেছে যে একজন পুরুষের বীর্যে থাকা প্রোটিন অন্য পুরুষের থেকে ৬২% পৃথক ও ভিন্ন থাকে।
আর একজন নারীর শরীর একটি কম্পিউটারের মত। যখন একজন পুরুষ তার সাথে ইন্টারকোর্স করে তখন সেই নারীর শরীর সব ব্যাকটেরিয়াকে শোষণ করে এবং তার শরীরে তা ধারণ করে।
অতএব, বিবাহ বিচ্ছেদের পরপরই, যদি একজন মহিলা অন্য পুরুষকে বিয়ে করেন বা একই সাথে বেশ কয়েকজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে, তাহলে তার শরীরে বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ জমা হয় যা বিপজ্জনক ভাইরাসের রূপ নেয় এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টির কারণ হয়।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখে যে, প্রথম মাসিক আসার পর একজন মহিলার শরীর থেকে ৩২% থেকে ৩৫% পর্যন্ত প্রোটিন শেষ হয়ে যায়, এবং দ্বিতীয় মাসিক আসার পর তার শরীর থেকে ৬৭ থেকে ৭২% ডিএনএ ধ্বংস হয়ে যায়। এবং তৃতীয় মাসিকের পর ৯৯.৯% পর্যন্ত প্রোটিন নির্মূল হয়ে যায়। এরপর জরায়ু আগের ডিএনএ থেকে সম্পন্নরূপে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই নতুন ডিএনএ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।
একজন গণিকা অনেক মানুষের সাথে সঙ্গম করে, যার ফলে বিভিন্ন পুরুষের ব্যাকটেরিয়া তার জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ধরণের ডিএনএ তার মধ্যে জমা হয় এবং সে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলো, তার ইদ্দত তালাকপ্রাপ্ত মহিলার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪ মাস ১০ দিন।
এর কারণ হলো দুঃখ ও দুশ্চিন্তার কারণে তার শরীর থেকে প্রাক্তন ডিএনএ দ্রুত শেষ হয় না, এটি শেষ হতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, আর এ জন্য মহিলাদের ইদ্দত চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًاۖ
অর্থাৎ 'তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন বিরত রাখবে।' (আল-বাকারাহ, ২৩৪)
এই সত্যের মুখোমুখি হয়ে, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভিন্ন স্থানে গবেষণা পরিচালনা করেন।
এক. আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মুসলমানরা যে মহল্লায় থাকেন, সেই সব নারীর ভ্রূণের মধ্যে মাত্র একজন স্বামীর ডিএনএ পাওয়া গেছে।
দুই. অন্য মহল্লা যেখানে আসল আমেরিকান মহিলারা থাকেন, তাদের ভ্রূণের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ দুই বা তিন জনের বেশি পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে।
অতঃপর যখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তার নিজ স্ত্রীর ভ্রূণ পরীক্ষা করলেন, তখন তিনি একটি মর্মান্তিক সত্য দেখতে পান যে, তার স্ত্রীর মধ্যে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ডিএনএ আছে। যার অর্থ হলো তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারণা করছিল এবং তার তিন সন্তানের মধ্যে কেবল মাত্র একজন ছিল তার নিজ সন্তান, বাকিরা ছিল অন্য পুরুষ থেকে।
ডাক্তার তখন নিশ্চিত হন যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীদের নিরাপত্তা এবং সমাজের সম্প্রীতির নিশ্চয়তা দেয়। এবং এই বিষয়েও নিশ্চিত হন যে, একমাত্র মুসলিম নারীরাই পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন, বিশুদ্ধ ও সতী।
والله ورسوله اعلم عزوجل وصل الله عليه وسلم
ইসলামে একজন মহিলার জন্য একই সময়ে একাধিক বিয়ে বা একাধিক স্বামী রাখার অনুমতি দেয়া হয়নি কেন!
অবশেষে বিজ্ঞানও আল কুরআনের বিধানের নির্ভুল ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হলো: -------------------------------------------------
(সংগৃহীত)