26/05/2026
বাংলা সংখ্যা ব্যবহার করে ক্যালকুলেটর তৈরির এক দীর্ঘ গবেষণার অংশ হিসেবে বিশেষ এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরিকল্পনা করেন ড. মাহমুদ হাসান। ডিজিটাল স্ক্রিনে সাধারণত ইংরেজি সংখ্যা প্রদর্শনের জন্য ৭-সেগমেন্ট ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলা সংখ্যার গঠন তুলনামূলকভাবে জটিল হওয়ায় প্রচলিত ৭-সেগমেন্ট প্রযুক্তিতে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ড. মাহমুদ হাসান উদ্ভাবন করেন ১২-সেগমেন্ট ডিসপ্লে প্রযুক্তি। এই নতুন পদ্ধতিতে ১২টি পৃথক সেগমেন্ট ব্যবহার করে বাংলা সংখ্যা ০ থেকে ৯ পর্যন্ত নির্ভুলভাবে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইংরেজি সংখ্যাও প্রদর্শন করা যায়, যা একটি “গোপন ফিচার” হিসেবে যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। তবে এর ব্যাপক ব্যবহার তিনি উৎসাহিত করতে চাননি।
গবেষণার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে এই উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের কাছে ৫০ হাজার টাকার অনুদান আবেদন করেন। তবে তৎকালীন সময়ে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে একা নিজের উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যান তিনি।
প্রায় ৩৬ বছর পর, ২০২৫ সালে ড. মাহমুদ হাসান নিজ উদ্যোগে তৈরি করেন বাংলা ক্যালকুলেটর ‘ধারাপাত’। তাঁর লক্ষ্য ছিল—কম খরচে, সহজ প্রযুক্তিতে এবং দেশীয়ভাবে একটি কার্যকর বাংলা সংখ্যা-ভিত্তিক ক্যালকুলেটর তৈরি করা, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে সহজলভ্য হবে।
ড. মাহমুদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
তথ্যসূত্রঃ TBS
18/05/2026
এই প্রথম পুরোপুরিভাবে দেহ থেকে এইডস সরাতে সক্ষম হয়েছে জীবপ্রযুক্তি।
এইডস হয় এইচআইভির (ভাইরাস) সংক্রমণে।এর কোনো প্রচলিত চিকিৎসা নেই।এইচআইভি নিজস্ব ডিএনএর উপাদানগুলো মানুষের ডিএনএর ভেতর সহজেই একীভূত করতে পারে।ফলে এদেরকে সমূলে দেহ থেকে বিতাড়িত করা কঠিন।তাছাড়া আমাদের দেহের টি-সেল, ম্যাক্রোফেজের মতো 'নিরাপত্তা কোষ' ইউনিটকে সরাসরি অ্যাটাক করতে পারে এইচআইভি, যার ফলে দেহেরও নিজে থেকে কিছু করার থাকে না।
কিছু বছর আগে এমানুয়েল কারপেন্টার এবং জেনিফার ডুডনা নামের দুজন বিজ্ঞানী 'CRISPR/Cas9' নামে একটা জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার করেন।'জিনের কেচি' নামে পরিচিত এই আবিষ্কারের জন্য তারা ২০২০ সালে নোবেল পেয়েছিলেন।সম্প্রতি বারসেলোনার আরেক বিজ্ঞানী ড. এলিনা হেরেরাএই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এইচআইভির মতো ধূর্ত ভাইরাসকে খুঁজে খুঁজে দেহ থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও বিশ্বে ৬ লাখ মানুষ মারা গেছে এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে।নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ১৩ লাখেরও বেশি (WHO)।
প্রতিবেদনঃ বিজ্ঞানপ্রিয়।
10/05/2026
রকেট ইঞ্জিনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর পরিবর্তনগুলোর একটি জটিলতা থেকে সরলতা।
আর এই ছবিটি দেখাচ্ছে, কীভাবে SpaceX-এর Raptor ইঞ্জিন মাত্র কয়েক বছরে “মেশিন” থেকে প্রায় “ইঞ্জিনিয়ারিং আর্ট”-এ পরিণত হয়েছে।
র্যাপ্টর ১ ছিল পাইপ, ভালভ আর সিস্টেমে ভরা এক বিশাল পরীক্ষাগার। র্যাপ্টর ২-এ অপ্রয়োজনীয় অংশ কমানো হয়। আর র্যাপ্টর ৩? অবিশ্বাস্যভাবে ক্লিন, শক্তিশালী এবং দ্রুত পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজাইন। কম পার্টস, কম ওজন, কিন্তু আরও বেশি thrust। এটাই আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে বড় সত্য “More power doesn’t always mean more complexity.”
মানবসভ্যতার মহাকাশযাত্রা শুধু বড় রকেট বানানোর গল্প নয়। এটি বিলিয়ন ডলারের এক শিক্ষা: প্রকৃত অগ্রগতি তখনই ঘটে, যখন প্রযুক্তি একই সাথে শক্তিশালী এবং সরল হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র: SpaceX / wikipedia / Space.com
04/05/2026
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে মূলত নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়। lএতে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো ভারী মৌল ভেঙে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে।এই তাপই বিদ্যুৎ তৈরির মূল চালিকা শক্তি।
একটি ট্রান্সপারেন্ট ডায়াগ্রামে সাধারণত নিচের অংশগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়ঃ
রিঅ্যাক্টর কোরঃ এখানে ফুয়েল রডে ফিশন ঘটে।
কন্ট্রোল রডঃ বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্টিম জেনারেটরঃ তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে।
টারবাইনঃ বাষ্পের চাপ টারবাইন ঘুরায়।
জেনারেটরঃ টারবাইনের ঘূর্ণন থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
কনডেনসারঃ বাষ্পকে আবার পানিতে রূপান্তর করে।
কুলিং টাওয়ারঃ অতিরিক্ত তাপ অপসারণ করে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি ডায়াগ্রামে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হলে শক্তির প্রবাহ সহজে বোঝা যায় যেন শক্তি এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে ভ্রমণ করছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় নিউক্লিয়ার প্রকল্প হলো Ruppur Nuclear Power Plant।এটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।এই প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, যা শিল্প, কৃষি ও গৃহস্থালী খাতে বড় অবদান রাখবে।
03/05/2026
মানুষ কি কখনো কল্পনা করেছিল যে, সাহারা মরুভূমির ধুলো ৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ উড়ে গিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে আমাজন রেইনফরেস্টের মাটিতে গিয়ে পড়ে এবং আমাজনের মাটিকে উর্বর করে তোলে?
আমাজন বনভূমি প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে পুষ্টি উপাদান হারিয়ে ফেলে।আর সেই ঘাটতি পূরণ করে সাহারার এই ধুলো।ফলে বনটি সবুজ-শ্যামল থাকে।আমাজন রেইনফরেস্ট টিকে থাকার জন্য সাহারা মরুভূমির ধুলোর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল (বিশেষ করে পশ্চিম সাহারা ও পূর্ব আফ্রিকার অঞ্চল থেকে আসা ধুলো)।
শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ প্রতি বছর আনুমানিক ২৭.৭ মিলিয়ন টন ধুলো সাহারা থেকে আটলান্টিক পেরিয়ে আমাজন অববাহিকায় নিয়ে যায়।এই ধুলোর সঙ্গে যে ফসফরাস আসে, তা প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে।তার পরিমাণ বছরে প্রায় ২২,০০০ টন।যা প্রায় সমান সেই পরিমাণের, যা আমাজন বন প্রতি বছর বৃষ্টির কারণে হারায়।সুবহানাল্লাহ!!!
এতো নিখুঁত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রকৃতি কি স্রষ্টা ছাড়া এমনি এমনিই হওয়া সম্ভব?
একজন ঈমানদারের জন্য এগুলো তো আল্লাহর নিখুঁত সৃষ্টির একেকটি নিদর্শন।আল্লাহু আকবর!!!
#প্রকৃতি #বিজ্ঞান #পৃথিবী #আমাজন #সাহারা
01/05/2026
ইন্নালিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রযিউন
23/04/2026
পর্যায় সারণিতে ১৭টি 'বিরল মৃত্তিকা ধাতু' রয়েছে, যা প্রকৃতিতে খুবই কম পাওয়া যায়।
২০২৫ সালে যমুনা ও ধরলা নদীর বালুতে এসব বিরল ধাতুর সন্ধান পায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এর মধ্যে স্যামারিয়াম, ইউরেনিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামই বেশি।
গবেষকদের মতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির পললের সাথে এসব ধাতু আসতে পারে। দেশের সব নদীতেই এগুলো পাওয়া যাবে। কিন্তু কতটুকু উত্তোলন করা যাবে এবং দেশের ভেতর পাওয়া এসব বিরল ধাতুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটুকু, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
স্মার্টফোন, যুদ্ধাস্ত্রসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসই বিরল ধাতু ছাড়া তৈরি সম্ভব নয়। এলইডি, লেজার, রাডার, সোলার প্যানেল, জেট ইঞ্জিন, মিসাইল, উইন্ড টারবাইন, হাইব্রিড গাড়ি এমনকি কাঁচ ও সিরামিক শিল্পেও বিরল ধাতু ব্যবহার করা হয়।
বিরল খনিজের লড়াই একুশ শতকের ভূ-অর্থনৈতিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চীনে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এসব খনিজ। ২০২৫ সাল থেকে চীনের সকল পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক ধার্য করায় যুক্তরাষ্ট্রে বিরল ধাতু রপ্তানী বন্ধ রেখেছে চীন। এতে সংকট দেখা দিয়েছে অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট ও মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমে।
বিরল মৃত্তিকা উত্তোলনে দেশে এখনও কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই।
© বিজ্ঞানপ্রিয়।
22/04/2026
এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশতি।