Obam

Obam শিক্ষা উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী।

19/02/2025

চর্বিত মানচিত্র
ওবায়দুল্লাহ আমীন

আমি দেখেছি, কি ভয়ংকর ভাবে
প্রকৃতি হচ্ছে বিনাশ,
আমি দেখেছি, উজার হয়ে যাওয়া
বনানীতে খেচরের আর্ত চিৎকার।

আমি দেখেছি, পচন ধরা অর্ধগলিত আক্কেল,
যেখানে গৃধ্র, গোবাঘারা কি করে
খুবলে খুবলে খেয়ে নিঃশেষ করে দিচ্ছে,
সমাজ, দেশ ও জাতীকে।

আমি দেখেছি, সজ্জন নামক হীনতর মস্তিষ্ক
সংস্কৃতমনা বেশ ধারন করা মতলব বাজদের।
দেখেছি তাদের মুখে হাক ডাক গলাবাজী
সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতিকে কুর্নিশ করতে।

আমি দেখেছি, দেশ প্রেমের দোহায় দিয়ে
কি ভাবে একটা দেশ একটা ভুখন্ডকে
চুষে, চর্বণ পেষণ করে
গোটা দেশটা গিলে খাওয়া যায়।

আমি দেখেছি, দূঃখী মায়ের আর্তচিৎকার,
শুনেছি গগনবিদারী শেষ নিশ্বাসের আর্তনাদ।
দেখেছি পাহাড়ের চূড়ায় রক্তে রাঙ্গানো বাংলা।
গিরিখাতে বয়ে যাওয়া রক্ত নদী।

আমি দেখেছি, রাজা! মহারাজা!
তার উজির নাজির আর উচ্ছিষ্টভোজী দের।
দেখেছি মায়ের রক্তচুরির টাকায় ভিনদেশে বেগমপাড়া।
দেখেছি কি করে চিবিয়ে চিবিয়ে খাওয়া যায় মানচিত্র।

১৬/০৬/২১

19/02/2025

কৌতূহল

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

কত প্রশ্ন মাথায় ঘুরে বারংবার।
সর্বজনে শুধায় ফিরি
দেয় না জবাব তার।
বলে সবে পাগলামি করিসনাতো আর,
আজে বাজে প্রশ্ন করে
বকিস না, বলছি খবরদার!

এমন করে ধমকে দিলে,
চমকে উঠে আমার পিলে!
কেমন করে শিখবো আমি সব?
ভাববে সবে আমি একটা মুর্খ, গো গর্দভ।।
মনের পিপাশা মিঠে নারে ভাই,
বার বার তাই নিজেকে নিজেই শুধাই।

কেউ কি জানো দিনের বেলায়,
ঘুমেরা সব কোথায় পালায়?
বর্ষা কালে ব্যঙের গলে,
কোথা থেকে অত জোর তোলে?
গাধার কেনো শিং থাকে না?
উটপাখির কেন নেই পাখনা?

ফোরন দিলে গরম তেলে,
লাফায় কেন তাধেই ধেই খেলে?
সোডার বোতল খুললে পরে,
ফুসফুসিয়ে কেনো রাগ করে?
ভূত যদি না থাকে ভবে,
কোথা থেকে হয় ভূতের ভয় তবে?

মাথায় গোল বেঁধেছে যাদের,
পাগল কেনে বলছো তুমি তাদের?
আকাশ পানে তারা রা কেমন করে ঝুলে?
কোথা থেকে সুবাস আসে সকল ফুলে ফুলে?

০৮/০৯/২০২১.

19/02/2025

সুপ্ত আশা।

ওবায়দুল্লাহ আমীন

আমি হারিয়ে যেতে চাই সেই ভুবনে
যেথায় নির্বিঘ্নে নিশুতি রাতে
জীর্ণ ছনের ডেরায়
নিশ্চিন্তে নির্ভাবনায় ঘুমাতে পারে মানুষেরা।

যেথায় মানুষেরা টাকা পয়সা অর্থকরীর
জমানো পাহাড় গড়ে না।
বিত্ত-ভৈবব সুখের দুর্ভাবনায়
আয়ু কমায় না।

যেথায় সরল মানুষেরা তুচ্ছ নিয়ে
হাসি মুখে তুষ্ট থাকে ভাই।
সকাল সন্ধা পরিশ্রমে পায়না
যারা, মুখে তৃপ্তিমাখা আহাড়।

অনাহারী থেকেও যাদের মনের কোণে
নেই দূর্ভাবনা নেই কোন গ্লানি।
যেথায় মানুষেরা কথিত সভ্যদের
ঘৃনার পাত্র হয়েও নেই মনে ক্লেশ।

মানুষ মানুষেরে যেথায়
বাসতে পারে ভালো
অন্যের ঘরে আধাঁর হলে
জ্বালায় আপন আলো।

যেথায় কান্না হাসির অন্তরালে
সুখ লুকানো ভাই।
মনের কোনে সুপ্ত আশা..
সেই জগতে হারিয়ে যেতে চাই।

০৮/০৯/২০২১.

19/02/2025

গহিন চরে।

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

নৌকা চলে নৌকা চলে
ছলাৎ ছলাৎ নৌকা চলে,
যমুনার ঐ কালো জলে।
ভুবন জোড়া অথৈ জলে
বৈঠা পরে তালে তালে
মাঝি ভাই কোথা গিয়ে
রশি টানো তোমার পালে?

যমুনার ঐ পলির টানে
জাগলো যে চর মধ্য খানে।
যাবো ঐ গহিন চরে
আলাপ হবে ফেরার পরে।
নেবে নাকি ভাই সাথে মোরে?
সোনার ফসল পাখপাখালি
জলে ডাঙ্গায় ঘুরে ফিরে।

দেখবো যে ভাই শস্য রবি,
কৃষক, জেলের জীবন ছবি।
কৃষাণীর হাতের জনজনানি
ঠাকুর মা, দিদির গুনগুনানি।
কি চমৎকার জীবন ছবি,
যুমনার ঐ ঘোলা জলে
দামাল ছেলের ডুবাডুবি।

হরেক রকম মাছের পিছে
জেলেরা সব ঘুরছে মিছে।
হুজুর মানে, দাদন টানে
ডরালু ঐ চোখের কোনে
জমা কত হয় যে নুনে।
মহাজনের মুখের ভাষায়
কতটা বিষ তারাই জানে।

১১/০৮/২০২১

19/02/2025

প্রোষিতভর্তৃকা !

ওবায়দুল্লাহ আমীন

মেয়ে তোমার বড় হইছে দিবা নাকি বিয়া?
পোলা বিদেশ থেকে, আইছে অনেক টাকা নিয়া।
মোহর দিবো, শাড়ী দিবো, দিবো আরো গয়না।
মহা সুখে থাকবো সেথায় তোমার আদরের ময়না।

নিম্নবিত্ত সংসার, অভাব অনটন ঘরে
কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা, ফিরায় কি করে?
প্রবাস থেকে ফিরছে পোলা, ব্যাংক ভার্তি ট্যাকা।
দুটি মাস ঘুরতেই কন্যা খায় ভেবাচেকা।

পতি ফিরে কর্মস্থলে রেখে তার জায়া,
অল্পতেই দুটি প্রাণে জেগে উঠে মায়া।
প্রতিটা দিন চেয়ে থাকে ঐ পথের ধারে।
মিছে আশা বুকে নিয়ে চোখের জল ছাড়ে।

রাত্তিরেতে নিন্দ্রা নাই দিনে হাহাকার,
ঘরে বায়রে রক্ত চক্ষু, থাকে নির্বিকার।
আর মাত্র কটা দিন, ফিরবে প্রাণের পতি,
ভাবতে গিয়ে ফিরে পায় চোখের পূর্ণ জ্যোতি।

বায়রে তে লোলুপ দৃষ্টি ভিতরে অবজ্ঞা
হায়েনার দল জো খুজে ফেলতে তাদের থাবা।
পতিমশাই দিন গোনে, উল্টায় পুঞ্জিকা,
আঁচল ভরে অশ্রু চাপা, জীবনের নাম প্রোষিতভর্তৃকা।

০৯/০৮/২০২১.

19/02/2025

ঋতু বরষা।

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

গ্রীষ্মের খরতাপ উষ্ণ প্রকৃতি,
আষার আসিলো দিতে ছড়িয়ে প্রীতি।
স্বাগত জানায় তরুলতা হেলেদুলে।
খুশিতে ময়ুর নাচে তাহার পেখম তুলে।

রুক্ষ মেজাজে গগন, করে তর্জন,
মেঘ মালা ছুটে চলে করে গর্জন।
জরজর করে বারি নামে জমিনে।
খুশিতে কোলা ব্যাঙ ডাকে রাতে দিনে।

আকাশ জমিনে মিলে করে হৃদ্যতা,
প্রকৃতি ফিরে পায় তার সজিবতা।
কদম, কেয়া, জুই, আর হাসনাহেনা,
ফুল ফুটে ছড়ায় আবেশ, যেনো চিরচেনা।

থৈথৈ করে পানি, নানান মাছের মেলা,
বিলের জলে পানকৌরি করে যায় খেলা।
বিলের জলে ভাসে কলমী, শালুক, শাপলা।
আহরনে যায় দামাল ছেলে চরে কলার ভেলা।

ভাটিয়ালী গান গেয়ে মাঝি নাও বেয়ে যায়,
জেলে ভাই জাল ফেলিতে মাছেরা লাফায়।
বহু রুপ বৈচিত্র নিয়ে প্রকৃতি সাজায় পশরা!
তোমার রুপে মুগ্ধ আমি, হে ঋতু বরষা।

০৬/০৮/২০২১

19/02/2025

আকাংখা।

ওবায়দুল্লাহ আমীন

হে রহমান পরম দয়ালু করুনাময় প্রভু,
শুকরিয়া তোমায়, নিরাশ করোনি কভু।
করেছো শ্রেষ্ট নবীর উম্মত মোরে।
লাখো কুটি শুকরিয়া জানাই প্রভু তোমার তরে।

নবী মোর ভালোবাসা, হৃদয়ের স্পন্দন,
তাহার সিরাত শুনে বুক ফেটে আসে ক্রন্দন।
কত মায়া, কত দয়া ভরা ছিলো তার বুক,
শত আঘাতেও হাস্যজ্জল ছিলো তাঁর মুখ।

উম্মত উম্মত করে কেঁদেছেন সারা জীবন ভর,
উম্মতের তরে আরো কাঁদবেন যেদিন রোজ হাশর।
কত সুন্দর অনুপম আখলাক দিয়েছো প্রভু তাকে,
দুনিয়াবী লোভ লালসা স্পর্শ করেতে পারেনি যাকে।

সহ্য করেছেন কত লান্চনা কত যে অপবাদ।
জীবনে কখনো কারো সাথে করেন নি বিবাদ।
সত্য আর সাম্যের ডাক দিয়েছেন প্রতিদিন।
শত্রুরাও ডাকতেন তাকে, সত্যবাদী আলআমীন।

বর্বরতা জাহেলিয়াতে যখন সবাই জর্জরিত
চার দিক হানা হানি অনাচার, অন্ধকারে নিমজ্জিত।
মা জাতীর ছিলনা অধিকার ছিলো না মর্যাদা,
ঠিক তখনই মরুর বুকে জালিয়েছেন আলোকবর্তীকা।

মানব জাতীর কান্ডারী প্রিয়ো মোহাম্মদ মস্তফা,
হে প্রভু আমার সালাম পৌছে দিয়ো তাহার রওজা।
শত কুটি দুরুদ ও সালাম প্রিয়ো নবিজীর তরে,
তাঁহার দীদার দিয়ো প্রভু, আমার মরার পরে।

০৫/০৮/২০২১.

18/02/2025

রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

ওবায়দুল্লাহ আমীন

যুগের অধিক কাল কাটিয়ে দিলি সুদূর প্রবাসেতে,
সত্যি করে বলতো কত লাখ জমা আছে ব্যাংকেতে?
কত বিঘা জমি কিনেছস? ঢাকায় ফ্লাট ক খানা?
মিথ্যা কেন বলিস বন্ধু? নাকি সত্য বলা ভাবির মানা?

রকমারি প্রশ্ন শোনেনা এমন প্রবাসী কি আছে?
সত্য বললে ছোট হবে, আবার বলা যাবে না মিছে।
কেমন করে প্রবাসীদের দঃখ ব্যথা আপনাকে বুঝাই.
তাদের বুকের বোবা কান্না দেখার কেউ তো নাই।

বেকারত্বের জাতা কলে ভিটে মাটি বিক্রি করে
বহু অফিস ঘুরে ফিরে দালাল বাবুর চক্করে পরে।
বহু কস্টে পারি দিচ্ছে প্রবাস নামক জেলখানাতে,।
বিমানে বসে রিয়েল গুনে বাস্তবে নয় কল্পনাতে।

আশি কেজির তাবুক নিয়ে দশ তলাতে উঠে।
গরম ভাত কোন দিনও কপালে জোটে না মোটে।
বারো ঘন্টা ডিউটি শেষে ফিরে যখন রুমে,
খাবার রান্না করতে হবে, চোখ বুজে যায় ঘুমে।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রেমিট্যান্স পাঠায় যারা
কামলা বলে উপহাস সদা পেয়েই যায় তারা।
প্রবাস থেকে দেশে ফিরতে দশবার বসে ভাবে
নিজ দেশের বিমান বন্দরে সম্মান টুকু কি পাবে?

রেমিট্যান্টদের নিয়ে কত কথা, গরম সভা সেমিনার,
তার ফলটি পাবেন যখন বিমান বন্দর হবেন পার।
এ যেন বিমান বন্দর নয় সাক্ষাৎ ফুলসিরাতে পুল!
পাবেন প্রমান যখন করে বসেন, একটু খানি ভুল।

যাদের টাকায় টেক্স ফ্রি গাড়ী আনছো দেশে
তাদের একটা মোবাইল নিতে টেক্স বসালে শেষে?
একটা টিভি একটা মোবাইল,চিকন সোনার বালা,
স্বপ্ন গুলা দেখে তোমাদের চোখে, কতই না জ্বালা।

দেশ স্বাধীন করছেন মহৎ প্রাণ মুক্তি যোদ্ধারা।
সে দেশকে স্বাবলম্বি করছেন,দেশ প্রেমিক প্রবাসীরা।
চায় না তারা বাড়ি গাড়ি চায় না অনুদান।
চায় যে তাদের স্বীকৃতি আর একটু সম্মান।

প্রবাসীরা দিচ্ছে টাকা রাখছে দেশে অবধান।
বিপদে কেন পাবে না তারা একটু অনুদান?
দেশে নাকি উপছে উপছে পড়ছে রেমিট্যান্স!
প্রবাসের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা সত্যিই ননসেন্স।।

০৪/০৮/২০২১

18/02/2025

আপন ঠিকানা

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

তোমাকে ছাড়া থাকা যায় কি ভালো?
জীবনটাকে মনে হয় বিদঘুটে কালো।
চৌদ্দ টা বছর বেঁচে আছি তুমি হীন,
জীবনটা তোমাতে ছিলো কত রঙ্গীন।

হাজার ক্রোশ পারি দিয়ে হয়েছি পরাধীন,
মরুর দেশে স্বেচ্ছায় সেজেছি বেদুইন।
চাকচিক্য আর সুরম্য অট্টালিকার মাজে,
গরুর খুরের সুমিস্ট ধ্বনি কানে বাজে।

তুমি কত সুন্দর কত রুপের সমাহার।
ফুলে ফলে ভরা তোমার কানন বাহার।
উষা লগ্নে শাখীতে হাজার পাখির কলরব
গোধুলীর মেঠো পথ যেনো সর্পিল অবয়ব।

মেঠো পথের সেই গরুর পাল সেই ধুলিকনা।
সন্ধে নামতেই পথে শেয়ালের আনাগেনা।
লাঙ্গল জোয়াল কাঁধে শীর্ণ দেহি কৃষক ভাই,
ঘরে ফিরার তরে ছুটছে বেগে, ফুরসত তার নাই।

কিশোর তরুন মজে হরেক রকম খেলায়,
কেউবা পোড়ায় একগুচ্ছ বুট মশারী কলাই।
দারিয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, ডাংগুলি, কানামাছি
আঙিনায় শিশুরা হৈহুল্লুর করে খেলতো বৌচি।

নবান্নে জমে উঠতো গ্রামে মৌসুমী মেলা।
আবেগ আর স্মৃতিতে ঘেরা সোনালি ছেলেবেলা।
ধরিত্রীর কোন মাটিকে লাগে না এতো আপন,
প্রিয় গ্রামের মাটিতেই যেনো হয় আমার মরণ।

০৩/০৮/২০২১

18/02/2025

সীমানার বরই গাছ।

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

সীমানার ধার ঘেঁষা বরই গাছটি
দাড়িয়ে আছে ঠায়।
প্রতি বছর ডাল কেটে দেওয়া হয়,
যেনো সে নতুন রুপ পায়।

মাঝারি আকারের ডাল পালায় ঠাসা
বয়স হয়েছে, বেশ পুরনো গাছ খানা।
নাম জশ খ্যাতি সবই হয়েছে,
সু-মিস্ট তাই সবার কাছে ভালো জানাশোনা।

মায়ের মুখে শুনেছি আলোচনা
তাহার গুনকীর্তন বেশ।
মোর শশুড়ী পছন্দের বরই গাছ খানা
যত্নে রাখিস, করিস না নিঃশ্বেস।

বাবা বলতেন তোর দাদীর পছন্দের
বড়ই গাছ খানা রাখিস ধরে স্মৃতি
জানি একদিন থাকবে না সে,
যেতে হবে, নিদারুন খেলা প্রকৃতি।

তার সাথের কতজন মরে গেলো
অবশিস্ট নাই তাদের কোন চিহ্ন খান।
দাদীর পছন্দের সে গাছ খানা আজো
ফল দেয়, এ যেনো ভালোবাসার প্রতিদান।

গাছটি আজ বড় ই দুষ্টু শোনেনা সে কথা
ডাল গুলা ছড়িয়েছে পাশের টিনের চালায়
তার অপরাধ অনেক বড়!
একটু বাতাসে সে শব্দ করে জ্বালায়।

ফল তাহার অতিবো ছোট,আজকের যুগে
এমন ফলের আছে কি কোন দাম?
হাইব্রিডের যুগে কত বড় বড় ফল
সারা দুনিয়া জুরে কতই না সুনাম।

অপরাধ গুরুতর, শাস্তি তাহার পেতেই হবে
ডাল পালা তাহার দুষ্ট প্রচন্ড!
হাইব্রিডের যুগে নাই তার বেচে থাকার অধিকার
বিচারে তাহার একমাত্র শাস্তি - আমূলে মৃত্যুদন্ড।।

২৮/০৭/২০২১

18/02/2025

ঋতুরাজ

ওবায়দুল্লাহ আমীন।

ঋতু রাজ আসবে বলে
শীত তার ঘোমটা খুলে।
চাদর বিছিয়েছে বাংলার জমিনে
মহীরুহ উৎসবে মেতেছে প্রাণপণে।

রাজাকে করবে আহবান
পুরাতন বস্ত্র করেছে পরিত্রাণ।
গায়ে দিয়ে সবুজের সমাহার
রাজার সিংহাসন সাজায় বারবার।

উষা থেকে গোধুলি কোকিলের কলতান,
চারিদিকে চলছে রাজার জয়গান।
গগন সেজেছে পলাশ শিমুলের রক্তিম রঙে।
বাসন্তী সুবাসে উতলা মনের আগল যায় ভেঙে।

মুকুলে অলঙ্কৃত হয়েছে সহকার,
সুগন্ধে বিমোহিত হয় মন বারংবার।
বসন্ত মাধুরী ভাসে পলাশের বাহারে,
মগডালে বসে কোকিল, ডাকে শুধু তাহারে।

অলিরা ঘুরে বেড়ায় ফুলেরো থোকায়।
মৌমাছি গুন গুন গান গেয়ে যায়।
মধুমাসে চারিদিক উৎসবের ঘ্রান,
ঋতুরাজ বসন্তে জেগে উঠে প্রাণ।

০১/০৮/২০২১.

18/02/2025

বাথানের রাখাল

ওবায়দুল্লাহ আমীন

গোধুলির লগ্নে রাখাল গরুর পাল হাকে,
চারি দিকে শিয়াল মামা হুক্কা হুয়া ডাকে।
বাথানের চার পাস জলাধারে ঘেরা,
মাঝ খানে রাখালদের ছোট ছোট ডেরা।

সকালে সোনালী কিরণ পূব দিকে ভাসে,
ভাঙ্গা ডেরার ফাঁক দিয়ে মুচকি মুচকি হাসে।
রাখালের কপোলেতে চুমু এটে কহে-
বেড়িয়ে এসো, দেখো, ঈশান বায়ু বহে।

শীর্ণ দেহী রাখাল বালক, দেহে পায় না বল।
সত্বর বেড়িয়ে আসে গুছিয়ে তার তল।
দ্রুত পায়ে ছুটে আসে আথালের ধারে,
আহারে! গাই গুলা কস্টে আছে ওলানের ভারে।

বাথানে চরে গরু সবুজ ঘাস খায়,
জালি নিয়ে নদীতে রাখাল মাছ ধরিতে যায়।
ঠেলা জালি ঠেলে রাখাল ইচা মাছ ধরে।
সিদ্ধ করে ভর্তা করবো, ভাত খাবো পেট ভরে।

গাইয়ের পিছে বাছুর ছানা তিড়িং বিড়িং নাচে,
আনমনে রাখাল ভাবে মোর ময়না কেমন আছে?
মায়না পাবো ঘরে ফিরবো, বাকি মাস চার-
ময়নার সাথে দেখা হবে পদ্ম পুকুর পার।

ঐ দূরে ছই নাও পাল তুলে ভাসে,
ভাটিয়ালী গান গেয়ে গঞ্জ থেকে আসে।
নাও হতে মাঝি কহে, রাখাল ভাই আছোনি আয়েশে?
মোর পরান তো যায় যায় কঠিন পিয়াসে।

আশ্বাস পেলে তোমার পাড়ে নোঙ্গর ফেলতে চাই,
বেশি না, তোমার কাছে এক সের দুধ যদি পাই।
মাঝি ভাই, দুধ বিক্রি তো মহাজনের হাতে,
মোর ভাগ্যের টুকু ডালতে হবে রাতে ভাতের পাতে।

কি আর করা? তৃষ্ণা নিয়ে নদী দিবো পাড়ি।
গঞ্জ থেকে আনছিলাম কিছু রঙ্গিন ফিতা চুড়ি।
তাহলে ভায়া রাত্রিটা না হয় কাটিয়ে দিবো অনাহারে,
সুখ বদনে দেখতে চাই, মোর পরান পাখি ময়নারে।

২৭/০৭/২০২১.

Address

Narayangonj

Telephone

+8801316846183

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Obam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Obam:

Shortcuts

  • Want your school to be the top-listed School/college?

Share