25/02/2023
"ভূইগড় বইমেলা - ২০২৩"
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সেই ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ৩ বার আয়োজন করা হয় "ভূইগড় বইমেলার"। নিজেরাই নিজেদের মত বাঁশ কাপড় দিয়ে ছোট্র একটা দোকান বানিয়ে তাতে এক টেবিল বই সাজিয়ে বসি। এখনো সেই একই রকম করেই আয়োজনটা করে যাচ্ছি আমরা শুধুমাত্র শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা যেনো বজায় থাকে সেই তাগিদ থেকে। বই বিক্রি হলো কি হলো না, তা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের লক্ষ্যটা শিশুদের বইমূখী করে তাদের ভেতরকার জ্ঞান আহরণের বাতিটা জ্বালিয়ে রাখা।
নিজেরাই প্রকাশনার সাথে যোগাযোগ করে, নিজেদের কাধে করে বই বইয়ে নিয়ে এসে একেবারেই নগণ্য আকার (নগণ্য আকার বলার কারণ আপনি হয়তো বইমেলা বলতে যা বোঝেন সেই অর্থে এর আকার একেবারে নগণ্যই হবে) করে হলেও এই আয়োজনটা নিয়ে শিশুদের কাছে বই পৌছে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
এবার বলি আয়োজনে দর্শনার্থী বা পাঠক সংখ্যা নিয়ে কথা।
এই ৩বার এর বাস্তব অভিজ্ঞতা যা হয়েছে তা আমাদের কল্পনার বাহিরেই ছিলো। যেখানটায় শুধুমাত্র মেলার আয়োজন হয় (মেলা বলতে আমরা সবাই বুঝতে পারছি হয়তো কোন মেলার কথা বলা হয়েছে) সেখানে বইমেলার মত আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়াটা ছিলো অনেকটা বাতাস এর প্রতিকূলে পাল তুলে চলার মত। কিন্তু আমরা ভুল প্রমাণিত হয়েছি এটা বলতেই হবে। আমরা যে রকম সাধারণ মানুষের সাড়া পেয়েছি তাতে আমরা সত্যিই অভিভূত হয়েছি। আমরা যদি দর্শনার্থীর সংখ্যাকে শতাংশে ভাগ করি তবে এর মধ্যে ৯৫ ভাগই ছিলো শিশু। এরা নিজেরাই এসেছে, নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত বই দেখেছে, পড়েছে পছন্দ করেছে এবং সর্বশেষ ক্রয় করে নিজেকে জয়ীর বেশে আনন্দ উৎসব করতে করতে বাড়ি ফিরেছে।
এরকম ছোট ছোট বহু স্মৃতি জমে আছে আমাদের যার সবকিছু লিখে বোঝানো বা প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভবই বলা চলে।
এই সকল হাঁসি আনন্দ আর ভালবাসা গুলো মিলেই আসলে বার বার নিজেদের সাধ্যানুযায়ী এই বইমেলার আয়োজনটা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রইলো সেই সকল নির্মল হাঁসিমাখা মুখগুলোর প্রতি।
পরিশেষ আন্তরিকভাবে আমাদের ডিঙি-পানসী খেলাঘর আসর এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি "দ্যু প্রকাশন এর কর্ণধার হাসান তারেক" ভাই এবং "অনার্য পাবলিকেশন্স লিঃ এর কর্ণধার সফিক রহমান" ভাই এর প্রতি। এছাড়া আরোও কৃতজ্ঞ থাকবো "বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং লেখক, শিক্ষক এবং একাধারে একজন সংগঠক সঙ্গীতা ইমাম" এর প্রতি। এই সকল ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান এর সহযোগিতা ছাড়া আমাদের এই ভূইগড় বইমেলার আয়োজনটা সম্ভব ছিলো না। এর সাথে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি সেই সকল খেলাঘর আসর এর শাখার বন্ধুদের যারা দূর থেকেও আমাদের পাশে ছিলেন। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ক্রান্তি খেলাঘর আসর এর রাজু এবং নিয়ম সেই সাথে সত্যাশ্রয়ী খেলাঘর আসর এর সান্ত এর প্রতি, যারা সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের এই ছোট্র আয়োজন স্থলে এসে উপস্থিত হয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
সবিশেষে, আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি হাজী পান্দে আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক মন্ডলীর প্রতি, দাতা সদস্য কবির হোসেন ভুইয়া, প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার বালা এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ রিপন স্যার এর প্রতি এবং সেই সাথে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দের নিকট।
আবার দেখা হবে আগামীর ভূইগড় বইমেলায়। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।
নিজে বই পড়ুন সাথে অন্যকে বই পড়তে উৎসাহী করে তুলুন।