কাওমী ঘরানার আলেম
ইজহারুল ইসলাম কাউসারীর সুন্দর বিশ্লেষণ ।
বিদয়াতের সঠিক সংজ্ঞা না জেনে যারা এটা নিয়ে মাতামাতি করে এরা নানাভাবে সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা করে থাকে। কিন্তু তারা এই স্ববিরোধিতা উপলব্ধি করতে পারে না তাদের আক্বল ও ফাহামের দুর্বলতার কারণে।
যেমন, মডার্ণ এলিট সালাফিরা পূর্ববর্তী উলামাদের থেকে প্রচলিত আমলগুলোকে তাদের বস্তুবাদী পশ্চিমা রুচির কারণে অপছন্দ করে। বিভিন সময় এগুলো নিয়ে ট্রলও করে। কিন্তু এদেরকেই দেখবেন, একই কাজ একটু পশ্চিমা ধাচে করলে খুব খুশি হয়।
যেমন, আপনি যদি রবিউল আওয়াল মাসে সিরাত ওয়ার্কশপ করেন, পডকাস্ট করেন, সেমিনার করেন বা জাক-জমকপূর্ণ টিভি শো করেন, তাহলে এরা কোন আপত্তি করে না। এমনকি নিজেরা এগুলো করে। কারণ, এগুলো তাদের পশ্চিমা রুচি-বোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু আপনি যদি একই মাসে পশ্চিমা রুচির বাইরে মিলাদ - মাহফিল করেন, তাহলে বিদয়াত বিদয়াত বলে চিৎকার শুরু করে। অথচ মূলনীতির দিক থেকে দু'টোই এক।
যে রবিউল আওয়াল মাসে সীরাত মাহফিল করতেছে, সপ্তাহ ব্যাপী ওয়ার্কশপ করছে, আর যে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী মিলাদ করছে, মূলনীতির দিক থেকে উভয় কাজের কী পার্থক্য?
মিলাদকে বিদয়াত বলার মূল কারণটা কি তাহলে এদের কাছে? কোন মাস, দিন বা সপ্তাহকে নির্দিষ্ট করা যদি বিদয়াত বলার কারণ হয়, তাহলে একই কাজ তারা সিরাত মাফহিলেও করছে। রবিউল আওয়ালকে সামনে নিয়ে তারা সপ্তাহ ব্যাপী আয়োজন করছে। শরীয়াতের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নয়, এমন দিন, মাস, বা সপ্তাহকে নির্দিষ্ট করা যদি বিদয়াত হওয়ার মূল কারণ হয়, তাহলে এই মাসকে উপলক্ষ্য করে সিরাত ওয়ার্কশপ, সিরাত মাহফিল, অনলাইন লাইভ বা পডকাস্ট, সবই বিদয়াত হওয়ার কথা। আর যদি কোন দিন, সপ্তাহ বা মাসকে নির্দিষ্ট করাটা বিদয়াত বলার মূল কারণ না হয়, তাহলে প্রচলিত মিলাদ-মাহফিল বিদয়াত কেন হবে আর পশ্চিমা - স্টাইলের ওয়ার্কশপ, পডকাস্ট কেন বৈধ হবে? মাসব্যাপী বই-মেলা করাই বা বৈধ হবে কেন? নাকি যেসব কাজ পশ্চিমা রুচির সাথে মিলবে অথবা নিজেদের পকেট ভারী করবে সেগুলো জায়েজ আর এর বাইরে গরীবের জিলাপি খাওয়া বিদয়াত?
কেউ কেউ আরেক হাস্যকর যুক্তি এনেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু এর মিলাদ থেকে যেহেতু আমাদের জন্য শিক্ষণীয় কিছু নেই, সিরাত থেকে শিক্ষণীয় আছে এজন্য আমরা মিলাদ না করে সিরাত করব।
এটাও খুবই মারাত্মক পর্যায়ের অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য। এমনকি অনেক সময় এধরণের বক্তব্য কুফুরী পর্যায়েও চলে যেতে পারে। নবীজীর আজমত ও মহব্বত স্বতন্ত্র ইবাদত। নবীজীর শুধু জন্ম বা পৃথিবীতে আগমন কেন, নবীজীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন কিছুর আলোচনা, তার প্রতি আজমত ও মহব্বত আমাদের ঈমানের অংশ। কেউ যদি মনে করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের ওই বিষয়গুলোই শুধু আলোচনা করা যাবে বা উচিৎ যেগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারব বা আমরা আমল করব, অন্য বিষয়ের আলোচনা করা উচিৎ নয় বা এগুলোর আলোচনা থেকে অনুৎসাহিত করে, তাহলে এটি কুফুরী হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিু ওয়াসাল্লামের পেশাব-পায়খানার আলোচনা নিয়েও কেউ যদি অপছন্দ বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তাহলে সেটিও কুফুরী হবে। এজন্য এর চেয়ে ধৃষ্ঠতাপূর্ণ কথা আর কী হতে পারে যে, সিরাত শিক্ষণীয় এজন্য সিরাতের আলোচনা করা যাবে আর মিলাদ থেকে শিক্ষার কিছু নেই, এজন্য এটা করা যাবে না। ইন্নালিল্লাহ।
পবিত্র কুরআনে বেশ কয়েক জায়গায় নবীগণের জন্মের দিনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে তাদের উপর সালাম দেয়া হয়েছে। শান্তি ও নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে।
যেমন হযরত ইয়াহইয়া আ: এর ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের আয়াত,
وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا
একইভাবে হযরত ঈসা আ: এর ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত,
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
বিভিন্ন তাফসীরে হাসান বসরী রহ: থেকে একটি বর্ণনা এসেছে,
وقال الحسن البصري: التقى يحيى وعيسى، فقال يحيى لعيسى: أنتَ خير مني، فقال عيسى ليحيى: بل أنت خير مني، سلَّم الله عليك، وأنا سلَّمتُ على نفسي. وقال سعيد بن جبير مثله، إِلا أنه قال: أثنى الله عليك، وأنا أثنيت على نفسي
অর্থাৎ হাসান বসরী রহ: বলেন, হযর ইয়াহইয়া ও হযরত ঈসা আ: পরস্পর সাক্ষাৎ করলেন। তখন হযরত ইয়াহইয়া হযরত ঈসা আ: কে বললেন, আপনি আমার চেয়ে উত্তম। উত্তরে হযরত ঈসা আ: বললেন, বরং আপনি আমার চেয়ে উত্তম। আপনাকে আল্লাহ তায়ালা সালাম জানিয়েছেন, আর আমি নিজে নিজের উপর সালাম জানিয়েছি।
সাইদ ইবনে জুবায়ের রহ: ও একই কথা বলেছেন। তবে শেষে বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আপনার প্রশংসা করেছেন আপনার জন্মের দিনে আর আমি নিজে নিজের প্রশংসা করেছি।
এখানে জন্মের দিনে সালাম দ্বারা আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি - নিরাপত্তা, শয়তানের ক্ষতি থেকে হেফাজত থাকা সহ বিভিন্ন অর্থ হতে পারে। তবে মূল বিষয় হলো, নবীগণের জন্মের দিনে তাদের উপর সালাম পেশ করা এটি সাধারণ কোন বিষয় নয়। একথা বলার সুযোগ নেই যে, জন্মের দিন থেকে তো আমাদের শিক্ষার কিছু নেই এজন্য আমরা সেটা নিয়ে আলোচনা, দুরুদ, সালাম কিছুই করি না। সিরাত থেকে যেহেতু শিক্ষণীয় বিষয় আছে, এজন্য সিরাত ওয়ার্কশপ করি। এধরণের কথা চরম মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।
ইসলামিক পোষ্ট বাংলাদেশ
আল্লাহ তায়লা মানব যাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার গোলামি করার জন্য। এসো হে মমিন আল্লাহর রাস্তায়,রাসুলের বাগিচায়।
#সৃষ্টির মূল নবী করীম ﷺ
অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেয আব্দুল জলিল رحمة الله عليه লিখিত "নূরনবী ﷺ" হতে
---------------------------------------------------------------------------
অনাদি ও অনন্ত সত্ত্বা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন যখন একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন, তখন তাঁর আত্মপ্রকাশের সাধ ও ইচ্ছা জাগরিত হলো। তখন তিনি একক সৃষ্টি হিসেবে নবী করিম [ﷺ]-এঁর নূর মোবারক পয়দা করলেন এবং নাম রাখলেন মুহাম্মদ [ﷺ] (কানজুদ্দাকায়েক -ইমাম গাযালী)। সেই নূরে মোহাম্মদী'র সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্বয়ং নবী করিম [ﷺ] মারফু মুত্তাসিল হাদীসের মাধ্যমে পরিষ্কার ব্যাখ্যা করে গেছেন। উক্ত হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে রাসূলে পাক [ﷺ]-এঁর একনিষ্ঠ খাদেম ও মদিনার ৬ নং সাহাবী হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) কর্তৃক। উক্ত হাদিসটি প্রথম সংকলিত হয়েছে "মোসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক" নামক হাদীস গ্রন্থে। মোহাদ্দেস আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন ইমাম বোখারী (رحمة الله عليه)-এঁর দাদা ওস্তাদ এবং ইমাম মালেক (رحمة الله عليه)-এঁর শাগরিদ। পরবর্তীতে উক্ত গ্রন্থ হতে অনেক হাদীস বিশারদ নিজ নিজ গ্রন্থে হাদীসখানা সংকলিত করেছেন। যেমনঃ ইমাম কাস্তুলানী (رحمة الله عليه) তাঁর রচিত নবী করিম [ﷺ]-এঁর জীবনী গ্রন্থ 'মাওয়াহেবে লাদুনিয়া'য় উক্ত হাদিসখানা সংকলন করেছেন। মিশরের আল্লামা ইউসূফ নাবহানী তাঁর রচিত 'আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া' নামক আরবি গ্রন্থেও উক্ত হাদিসখানা উল্লেখ করেছেন। কিতাবখানা নবী করিম [ﷺ]-এঁর সৃষ্টি সম্পর্কে স্ববিখ্যাত এবং বিস্তারিত। তাই বিজ্ঞ পাঠকের সামনে আমরা উক্ত হাদীসখানা অনুবাদসহ তুলে ধরছি। এ রেওয়ায়েত ছাড়া অন্যান্য রেওয়ায়েত অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট ও খন্ডিত এবং উসূলে হাদীসের মাপকাঠিতে অনির্ভরযোগ্য বা মারজুহ্।
হাদীসখানানিন্মরুপঃ
روىعبد الرزاق عن معمر عن ابن المنكدر عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال قلت يارسول الله بأبي انت وامي أخبرني عن اول شيئ خلقه الله تعالى قبل الاشياء قال ياجابر ان الله تعالى خلق قبل الاشياء نور نبيك من نوره فجعل ذلك النور يلدور بالقدرة حيث شاء الله تعالى ولم يكن في ذلك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا نار ولا ملك ولا سمماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جني ولا انسي. فلما اراد الله تعالى ان يخلق الخلق قسم ذلك النور اربعة اجزاء فخلق من الجزء الاول القلم ومن الثاني اللوح ومن الثالث العرش ثم قسم الجزء الرابع أربعة اجزاء فخلق من الجزء الاول حملة العرش ومن الثاني الكرسي ومن الثالث باقي الملائكة ثم قسم الجزء الرابع اربعة اجزاء فخلق من الاول السموات ومن الثاني الارضين ومن الثالث الجنة والنار ثم قسم القسم الرابع اربعة اجزاء فخلق من الاول نور ابصار المؤمنين ومن الثاني نور قلوبهم وهى المعربفة بالله تعالى ومن الثالث نور انسفهم وهو التوحيد لا اله الا الله محمد رسول الله. (الجزء المفقود من المنصنف).
অর্থঃইমাম আব্দুর রাজ্জাক (ইমাম বোখারীর দাদা ওস্তাদ) মোয়াম্মার হতে, তিনি ইবনে মুনকাদার হতে, তিনি হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেছেনঃ
"হযরতজাবের (رضي الله عنه) বলেন- আমি আরয করলাম, হে আল্লাহ’র রাসূল [ﷺ]! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গীত হোক, আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কোন বস্তু সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে নবী করিম [ﷺ] বললেন- "হে জাবের, আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর 'নিজ নূর হতে' তোমার নবীর নূর পয়দা করেছেন। তারপর আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছানুযায়ী ঐ নূর (লা-মকানে) পরিভ্রমণ করতে থাকে। কেননা ঐ সময় না ছিল লাওহে-মাহফুয, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোযখ, না ছিল ফেরেশতা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জ্বীনজাতি, না ছিল মানবজাতি। অতঃপর যখন আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্থ করলেন, তখন আমার ঐ নূরকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে কলম, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে লাওহে-মাহফুয এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে কুরসি এবং তৃতীয় অংশ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। দ্বিতীয় চার ভাগের এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে আকাশ, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে জমিন (পৃথিবী) এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে বেহেস্ত ও দোযখ সৃষ্টি করলেন। তৃতীয়বার অবশিষ্ট একভাগকে পুনরায় চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে মু’মিনদের নয়নের নূর - (অন্তর্দৃষ্টি), দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে মু’মিনদের কলবের নূর - তথা আল্লাহর মা'রেফাত এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে মু'মিনদের মহব্বতের নূর - তথা তাওহীদী কলেমা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর্ রাসুলুল্লাহ' সৃষ্টি করেছেন।" (২৫৬ ভাগের এক ভাগ থেকে অন্যান্য সৃষ্টিজগত পয়দা করলেন)। - মাওয়াহেবে লাদুনিয়া ও মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক - (আল জুয্উল মাফকুদ অংশ, হাদিস নং ১৮, বৈরুত থেকে প্রকাশি ২০০১)।
ব্যাখ্যাঃউক্ত হাদীসে বর্ণিত (من نوره) বা তাঁর 'নিজ নূর' হতে শব্দটির ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী (رحمة الله عليه) মিশকাত শরীফে লিখেছেন - "আয়-মিন লামআতে নূরিহী' - অর্থাৎঃ আল্লাহ তা'আলা আপন যাতি নূরের জ্যোতি দিয়ে নবীজীর নূর পয়দা করেছেন।
মুজাদ্দেদআলফেসানী (رحمة الله عليه) মাকতুবাত শরীফের ৩য় খন্ডে ১০০ নম্বর মাকতুবে বলেছেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁকে স্বীয় খাস নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।"
যারকানী(رحمة الله عليه) ”من نوره” এর ব্যাখ্যায় বলেছেন- "মিন নূরিন হুয়া যাতুহু" অর্থাৎ- "আল্লাহর যাত বা সত্ত্বা হলো নূর - সেই যাতী নূরের জ্যোতি হতেই নূরে মোহাম্মদী পয়দা" (যারকানী)। দেওবন্দী মৌলবি আশরাফ আলী থানবীও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার 'নশরুত ত্বীব' গ্রন্থের পঞ্চম পৃষ্ঠায়।
অন্যএক হাদীসে, হযরত আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী (رضي الله عنه) তাঁর পিতা ও দাদারসুত্রে নবী করিম [ﷺ] থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী করিম [ﷺ] এরশাদ করেছেন-
كنتنورا بين يدي ربي قبل خلق أدم بأربعة عشر ألف عام
অর্থঃ"আমি ( নবী) আদম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বৎসর পূর্বে আমার প্রতিপালকের নিকট নূর হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম।" (ঐ জগতের এক দিন পৃথিবীর এক হাজার বৎসরের সমান। অংকের হিসাবে ৫১১, ০০, ০০০০০ (পাঁচ শত এগার কোটি) বৎসর হয়। (বেদায়া ও নেহায়া এবং আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া গ্রন্থসূত্রে এই হাদীসখানা উদ্ধৃত করা হয়েছে।
তাফসীরেরুহুল বয়ানে সূরা তাওবার ১২৮ নং আয়াত لقد جاءكم رسول من انفسكم অর্থঃ "তোমাদের নিকট এক মহান রাসূলের আগমন হয়েছে।")
উক্তআয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে নবী করিম [ﷺ] কোথা হতে আসলেন- সে সম্পর্কে হযরত আবু হোরায়রা (رضي الله عنه) থেকে নিন্মোক্ত হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে।
عنأبي هريرة أنه عليه السلام سأل جبريل عليه السلام فقال ياجبريل كم عمرك من السنين-فقال يارسول الله لست أعلم غير أن في الحجاب الرابع نجما يطلع في كل سبعين ألف سنة مرة-رأيته إثنين وسبعين ألف مرة فقال يا جبريل وعزة ربي أنا ذلك الكوكب
অর্থঃ"একদিন নবী করিম [ﷺ] কথা প্রসঙ্গে হযরত জিব্রাইল (عليه السلام) কে তাঁর বয়স সম্পর্কে এভাবে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? তদুত্তরে হযরত জিব্রাঈল (عليه السلام) বললেন- আমি শুধু এতটুকু জানি যে, নূরের চতুর্থ হিজাবে একটি উজ্জ্বল তারকা ৭০ হাজার বছর পর পর একবার উদিত হত। (অর্থাৎ- সত্তর হাজার বৎসর উদিত অবস্থায় এবং সত্তর হাজার বৎসর অস্তমিত অবস্থায় ঐ তারকাটি বিরাজমান ছিল) আমি ঐ তারকাটিকে ৭২ হাজার বার উদিত অবস্থায় দেখেছি। তখন নবী করিম [ﷺ] বললেন- "খোদার শপথ আমিই ছিলাম ঐ তারকা।" (তাফসীরে রুহুল বয়ান ৩য় খন্ড ৫৪৩ পৃঃ সূরা তাওবা এবং সীরাতে হালবিয়া ১ম খন্ড ৩০ পৃষ্ঠা)
নবীকরিম [ﷺ]-এঁর এই অবস্থানের সময় ছিল ঐ জগতের হিসাবে এক হাজার আট কোটি বৎসর। পাঁচ শত চার কোটি বৎসর ছিলেন উদীয়মান অবস্থায় এবং পাঁচ শত চার কোটি বৎসর গায়েবী অবস্থায়। দুনিয়ার হিসাবে কত হাজার কোটি বৎসর হবে - আল্লাহই জানেন। হযরত জিব্রাইল (عليه السلام) শুধু দেখেছেন হুযূরের বাহ্যিক রূপ। বাতেনী দিকটি ছিল তাঁর অজানা।
রাসূলেকরীম [ﷺ]-এঁর সৃষ্টি রহস্য এত গভীর যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেহই এঁর প্রকৃত স্বরূপ জানে না। দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাশেম নানুতবী সাহেব নবী করিম [ﷺ]-এঁর বাহ্যিক আবরণের ভিতরে যে প্রকৃত নূরানী রূপটি লুক্কায়িত ও রহস্যাবৃত রয়েছে, তা মুক্ত কন্ঠে স্বীকার করেছেন এভাবে-
رہاجمال پہ تیرے حجاب بشریت،
اورنہنہ جانا کسے نے تجہے بجز ستار-
অর্থঃ"হে প্রিয় নবী [ﷺ]! আপনার প্রকৃত রূপটি তো বাশারিয়তের আবরণে ঢাকা পড়ে আছে। আপনাকে আপনার প্রভূ (ছাত্তার) ছাড়া অন্য কেহই চিনতে পারে নি।"
এখানেস্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, রাসূলে করীম [ﷺ]-এঁর রূপ বা অবস্থা তিনটি যথাঃ- ছুরতে বাশারী, ছুরতে মালাকী ও ছুরতে হক্কী। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ও তাফসীরে কাদেরী)।
সাধারণমানুষ শুধু দেখতে পায় বাশারী ছুরতটি। অন্য দুটি ছুরত বা অবস্থা খাস লোক ছাড়া দেখা ও অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
21/03/2025
21/12/2024
সত্য কথা
বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে জুমু'আর দিনের মাগরিবের আগ পর্যন্ত প্রতিটি সেকেন্ড নেকি ও সওয়াবের একেকটি ভান্ডার।
অতএব (পুরো সময়টাতে যত বেশি সম্ভব) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি দরুদ পাঠ করুন।
— ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ
🟢 একজন সাহাবি রাসূলকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর উপর সর্বদা দরুদ পাঠ করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেছিলেন,
‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’
[তিরমিযি: ২৪৫৭, হাকিম: ২/৪৫৭, হাদিসটি সহিহ]
বস্তুত দরুদ শরিফ পাঠ করলে সহজে দোয়া কবুল হয়ে যায়। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, নিশ্চয় বান্দার দোয়া-মোনাজাত আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলানো থাকে, তার কোনো কিছু আল্লাহপাকের নিকট পৌঁছে না যতক্ষণ না বান্দা তাঁর নবী (ﷺ) এর প্রতি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজী শরিফ)।
🔹 শ্রেষ্ঠ দরুদ - দরুদে ইব্রাহিম যা আমরা নামাজের শেষ বৈঠকে পড়ি
🔹 সবচেয়ে ছোট দরুদ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আসুন আমরা বেশি বেশি দরুদ পাঠ করি এবং ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বের নির্যাতিত সকল মুসলিম ভাইবোন ও মুজাহিদদের জন্য দুআ করি।
রাতে গোপনে তাকেই ডাকুন,যিনি আপনার সকল চাহিদা পুরন করবে।
নামাজ এমন একটি ইবাদত,,যা আদায় করলে সরাসরি রব্বিয়েকারিমের সাথে কথা হয়।সুবহানআল্লাহ
Click here to claim your Sponsored Listing.