22/08/2026
প্রতিদিনের মতো আজকেও ক্লাসে ঢুকেই বোর্ডে একটা অনুচ্ছেদ লেখার কাজটা তুলে দিলেন আরিফ স্যার। "সবাই খাতা খোলো, ১০ মিনিটের মধ্যে লেখা শেষ করে আমার টেবিলে জমা দাও," গম্ভীর কিন্তু স্নেহমাখা গলায় বললেন স্যার।
শব্দটা শোনামাত্রই ক্লাসের এক কোণে খাতা-কলমের খসখস আওয়াজ শুরু হয়ে গেল। বাকিরা যখন সবে খাতা খুলে কলমের ক্যাপ খুলছে, ঠিক তখনই দেখা গেল ক্লাসের চিরচেনা সেই পাঁচজন—ইমাম, হাসান, আলামিন, রায়হান আর জুনুন—বিদ্যুৎবেগে কলম চালিয়ে যাচ্ছে। ওদের হাত যেন কাগজের ওপর দিয়ে উড়ে চলছিল।
ঠিক চার মিনিটের মাথায় ইমাম সবার আগে উঠে এসে খাতাটা আরিফ স্যারের টেবিলে রাখল। তার পেছনেই পরপর এসে দাঁড়াল হাসান, আলামিন, রায়হান আর জুনুন। পুরো ক্লাস তখন হা করে ওদের দিকে তাকিয়ে। বাকিরা ভাবছিল, এরা কি মানুষ নাকি রোবট! এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে লেখা শেষ করা সত্যি এক বিস্ময়।
আরিফ স্যার চশমাটা একটু ঠিক করে খাতাগুলোর দিকে তাকালেন। প্রতিটি খাতা উল্টেপাল্টে দেখলেন—কোনো কাটাকাটি নেই, হাতের লেখা যেন মুক্তোর দানা, আর উত্তরগুলোও একদম নিখুঁত। স্যারের মুখে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
"সবাই একটু লেখা থামাও," আরিফ স্যার হাত তুলে বললেন। "পড়াশোনা শুধু জানার বিষয় নয়, একাগ্রতা, সময়জ্ঞান আর গতিরও একটা সুন্দর মেলবন্ধন। ইমাম, হাসান, আলামিন, রায়হান আর জুনুন—এই পাঁচজন প্রতিদিন প্রমাণ করে যে মনোযোগ থাকলে যেকোনো কাজ কত দ্রুত আর সুন্দরভাবে করা সম্ভব। ওদের এই অসাধারণ একাগ্রতা আর গতির জন্য আজকের ক্লাসে আমি ওদের বিশেষ সম্মাননা জানাচ্ছি।"
আরিফ স্যার ড্রয়ার খুলে পাঁচটি আকর্ষণীয় ফাউন্টেন পেন বের করে ওদের হাতে তুলে দিলেন। পুরো ক্লাসরুম তখন একঝাঁক করতালিতে মুখরিত। বন্ধুদের অভিনন্দন আর আরিফ স্যারের প্রশংসায় পাঁচজনের চোখে-মুখে তখন এক অনন্য আত্মতৃপ্তির আলো।