17/07/2026
ছাত্রদের থেকে পাওয়া ভালোবাসা।
দীর্ঘ এক বছর…
একটা মাদরাসার আঙিনায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলাম,
খেদমতের নামে, দায়িত্বের আড়ালে,
আর অজান্তেই গড়ে উঠেছিল এক অদ্ভুত মায়ার বন্ধন।
আমি জানতাম,
আমি ছিলাম তাদের সবচেয়ে অপ্রিয় উস্তাদ…
হয়তো সত্যিই তাই..
কারণ আমিই ছিলাম সবচেয়ে কড়া,
আমিই সবচেয়ে বেশি বকা দিতাম,
ভুল করলে শাসন করতাম, কখনো কঠিন হতাম..
আর স্বাভাবিকভাবেই,
কঠিন মানুষকে তো কেউ সহজে ভালোবাসে না…
তাই ভেবেছিলাম,
আমার বিদায়ে হয়তো তারা স্বস্তি পাবে.
ভাববে, “অবশেষে বাঁচা গেল"
কিন্তু বিদায়ের সেই মুহূর্তটা,
আমার সব ধারণা ভেঙে চুরমার করে দিল…
যেদিন চলে আসছিলাম,
ওরা যখন একে একে আমার হাতে উপহার তুলে দিল, আমি ফিরিয়ে দিতে পারিনি।
আমি জিনিস দেখিনি
আমি দেখেছি ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ, নির্মল ভালোবাসা… ❤️
আর তারপর,
যখন ওরা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো,
সেই কান্না ছিল না শুধু বিদায়ের,
সেই কান্না ছিল এক অদৃশ্য সম্পর্ক ছিঁড়ে যাওয়ার..
আমি,
আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি…
আমার মতো শক্ত মনের মানুষও—
সেদিন শিশুর মতো কেঁদে ফেলেছিলাম… 😢
আমি অবাক হয়েছিলা..
ভেবেছিলাম আমি চলে গেলে ওরা খুশি হবে,
কেউ আর বকা দেবে না, কড়াকড়ি করবে না,
কিন্তু বাস্তবটা ছিল একেবারেই উল্টো
আজ বুঝি,
কঠোরতার আড়ালেও ভালোবাসা থাকে,
আর সেই ভালোবাসাই একদিন অশ্রু হয়ে ফিরে আসে.
বাসায় ফিরে এসেও,
মাঝে মাঝে নিজেকে সেই মাদরাসার মাঝেই খুঁজে পাই অজান্তেই সেই একই অভ্যাস, একই ডাক
কারণ ওদের সাথে যে সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে—
সেটা ভুলে যাওয়ার নয়..কখনোই নয়.. 🤍
আমার ছোট্ট ছাত্ররা!!
তোমাদের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত
আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
দোয়া করি
আল্লাহ যেন এই এক বছরের সব খেদমত কবুল করেন,
তোমাদের পিছনে করা আমার প্রতিটা মেহনত
নাজাতের অসিলা বানিয়ে দেন।
আর তোমাদের জন্য আমার অন্তরের গভীর দোয়া
আল্লাহ তোমাদেরকে বিশ্ব সেরা হাফেজ,
হাক্কানী আলেম হিসেবে কবুল করুন।
বিদায় না,
এটা শুধু দূরত্ব
ভালোবাসা ঠিকই থেকে যাবে.. চিরদিন।
শেষের হাদিয়া টা বেশিই সুন্দর ।