14/06/2025
Repetition Rewire System এই কথাটা শুনলেই মনে হতে পারে এটা হয়তো কোনো সাইকোলজির জটিল টার্ম, কিন্তু আসলে এটা খুবই সহজ একটা বাস্তব নিয়ম। মানুষ যেটা বারবার করে, ব্রেইন সেটাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলে। যে জিনিসটা রোজ একবার করে করা হয়, সেটা একসময় স্বাভাবিক মনে হতে থাকে। যেটা একবার করতে ইচ্ছা করে না, সেটাও যখন রোজ করা শুরু করি (even for 2 minutes) তখন একসময় সেটা আমাদের brain system এর অংশ হয়ে যায়। এটা খুবই powerful একটা বিষয়।
আমরা অনেকেই ভাবি, “আমার ইচ্ছাশক্তি নেই” অথবা “আমি নিজেকে বদলাতে পারি না”। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি একবার চেষ্টা করে ছেড়ে দেন, নাকি আপনি রিপিট করেন যতক্ষণ না সেটা আপনাকে বদলে দেয়?
আমাদের ব্রেইন একটা রিপিটিশন মেশিন। আপনি ব্রেইনে বারবার যেটা করেন, ব্রেইন সেটাকে স্বাভাবিক ধরে নেয়। ঠিক এই পয়েন্টেই শুরু হয় Repetition Rewire System।
ধরুন আপনি আজানের আওয়াজ শুনলেন, কিন্তু সাথে সাথে উঠলেন না। আপনি দিন দিন অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আজানের প্রতি ignore mode এ থাকা। এখন যদি আপনি প্ল্যান করেন, আজান শোনামাত্র ২ মিনিটেই শুধু দাঁড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস করবেন (even if it's only to make the niyyah of salah) তাহলেই আপনার ব্রেইন ধীরে ধীরে এই সিগনাল নিতে শুরু করবে। আর কিছুদিন পর, আজান মানেই আপনি automatically দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। এটাকেই বলে ব্রেইনের rewiring হয়ে যাওয়া।
এখন যদি বলা হয় ফোন অ্যাডিকশন, আমরা অনেকেই এই জিনিসটা কাটাতে চাই, কিন্তু পারি না। কারণ আমাদের ব্রেইন অটো রিওয়ার্ড সিস্টেম বানিয়ে ফেলেছে। একটু অলস লাগলেই আমরা ফোন হাতে নিই, একটু মন খারাপ হলেই ভিডিও দেখি, কিছু না পেলেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ঢুকে যাই। এটা আরেকটা সিস্টেম, নেগেটিভ হ্যাবিটের রিপিটিশন সিস্টেম। আপনি যতবার এই কাজ করেন, আপনার ব্রেইন ততবার সেটাকে রিওয়ার্ড হিসেবে রেজিস্টার করে। আপনি একটা WhatsApp মেসেজ দেখলেন, dopamine boost পেলেন। একটা রিলস দেখলেন, আরেকটা দেখার ইচ্ছা হলো। এভাবে মাইন্ড rewired হয়ে গেছে, ফোনেই শান্তি।
কিন্তু আপনি যদি চান এটা বদলাতে, তাহলে আপনাকেও ওই একই অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে repetition। ধরা যাক, আপনি ঠিক করলেন প্রতিদিন ১৫ মিনিট ফোন অফ রেখে শুধু নিজের সাথে থাকবেন। প্রথম ২ দিন আপনার ভিতরে resistance আসবে। তৃতীয় দিনে বিরক্ত লাগবে। চতুর্থ দিনে আপনাকে আপনার ব্রেইন বলবে “আজকে বাদ দাও, কাল আবার শুরু করো।” আপনি যদি শুধু এটুকু কন্ট্রোল করেন — না, আজও ১৫ মিনিট ফোন বন্ধই রাখবো, তাহলে এক সপ্তাহ পর আপনার ব্রেইন সেটা রেজিস্টার করে ফেলবে। এরপর আস্তে আস্তে আপনি নিজেই চমকে যাবেন, “কীভাবে সম্ভব যে আমি এই ১৫ মিনিটে এত শান্তি পাচ্ছি!”
এই হচ্ছে সিস্টেম। Repetition হচ্ছে সেই চাবি যেটা দিয়ে আপনি আপনার পুরনো দরজা খুলে, নতুন দরজা তৈরি করতে পারেন।
এটা শুধু খারাপ জিনিস বাদ দেওয়ার জন্য না, বরং ভালো কিছু শুরু করার জন্যও কাজ করে।
ধরা যাক, আপনি চান প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করবেন। কিন্তু এখন আর আগের মত মন বসে না, সময় বের হয় না, guilt feeling তৈরি হয়। প্রথমেই লক্ষ্য ছোট রাখুন। বলুন, “আমি আজকে শুধু ৫ আয়াত তিলাওয়াত করবো।” যখন আপনি এটা করবেন, প্রথম দিন মনে হবে এতে কীই বা হবে। কিন্তু আপনি যদি রোজ এটা করেন, তাহলে আপনার ব্রেইন এটাকে accept করবে। এবং কুরআনের শব্দ, ধ্বনি, রিদম এসব যখন আপনার রুটিনে চলে আসবে, তখন সেটা আর effort লাগবে না, বরং soothing লাগবে।
একই কথা বই পড়ার ক্ষেত্রেও। আজকের দিনে বই পড়া যেন একটা হারিয়ে যাওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। TikTok, YouTube, Facebook এইসব আমাদের attention span কে শেষ করে দিয়েছে। এখন আপনি যদি ভাবেন, “আমি আজ থেকেই ১ ঘন্টা বই পড়বো” সেটা কাজে আসবে না। কিন্তু আপনি যদি ঠিক করেন প্রতিদিন ৫ মিনিট বইয়ের পাতা খুলে বসবেন (even if you just read one paragraph) তাহলে ব্রেইন সেটাকে ছোট expectation হিসেবে নিবে এবং rewiring হতে শুরু করবে।
বই পড়া, সালাত, তিলাওয়াত, মেডিটেশন বা দোয়া এসব কিছুই ছোট ছোট repetition এর মাধ্যমে রুটিনে আসে। আর যখন কোনো অভ্যাস রুটিনে আসে, তখন সেটা আমাদের আইডেন্টিটি হয়ে যায়। তখন আমরা বলি, “আমি একজন রিডার”, “আমি রেগুলার নামাজ পড়ি”, “আমি কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া দিন শুরু করি না” এই কথাগুলো তখন শুধু মুখের কথা থাকে না, বরং বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়।
আরেকটা ক্ষেত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ, ভালো কনটেন্ট শোনা। আজকাল ভালো mindful পডকাস্ট, ইসলামী লেকচার, মোটিভেশনাল অডিও এইসব পাওয়া যায় কিন্তু আমরা প্রিফার করি এমন কিছু শুনতে যেটা entertain করে, educate না। আপনি যদি দিনে একবার মাত্র ১০ মিনিট ভালো কিছু শোনার অভ্যাস করেন, সেটা ধীরে ধীরে আপনার taste বদলে দেবে। এক সময় আপনি নিজেই বলবেন, “আমি এখন meaningless কনটেন্ট শুনে আর আগের মত শান্তি পাই না।”
তবে এই পুরো সিস্টেমে একটা জিনিস দরকার consistency without perfection। অনেকেই ভাবে একটা দিন মিস হলে সব শেষ। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, একটা দিন মিস হলেও আবার শুরু করাই হচ্ছে real rewiring। “Miss one, never two” এই প্রিন্সিপলে চলুন। আপনি যদি একদিন বাদ দেন, পরের দিন আবার করুন। তবেই সিস্টেম তৈরি হবে।
Discipline is choosing what you want most over what you want now.
একটা সময়ে গিয়ে আপনার ব্রেইন নিজেই বলবে “না, এখন কুরআন না পড়লে incomplete লাগছে”, “আজ বই না পড়লে রাতে ঘুম আসবে না”, “আজ একটা পজিটিভ পডকাস্ট না শুনলে মন শান্ত হবে না” তখন আপনি বুঝবেন আপনি rewired হয়ে গেছেন। তখন আর এগুলো forced habit থাকবে না, বরং flow habit হয়ে যাবে।
সবার জন্য এই সিস্টেম কাজ করে, কারণ এটা হিউম্যান ব্রেইনের ন্যাচারাল প্রসেস। আপনি যদি স্টুডেন্ট হন, নিজের পড়াশোনার জন্য এই সিস্টেম ব্যবহার করুন। গৃহিণী হলে নিজের well-being আর deen এর রুটিন বানাতে রিপিটিশনকে বন্ধু বানান। কর্মজীবী মা হলে সময়ের ভেতরে ছোট ছোট good repetitions সেট করে নিজের দিকটা শক্ত করে তুলুন।
আমরা বড় কিছু একদিনে করে ফেলতে পারি না। কিন্তু ছোট কিছু রোজ করে, একদিন আমরা বড় কিছুতে পৌঁছে যাই।
You become what you repeat. So repeat who you want to become.
আজই একটিমাত্র habit বেছে নিন যেটা আপনি rewire করতে চান। ফোন কম ব্যবহার? সালাত সময়মতো পড়া? ৫ মিনিট বই পড়া?
শুরু করুন। দিন শেষে শুধু নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন Did I repeat it today?
যদি উত্তর হয় “Yes” তাহলে আপনি already winner।
আপনার rewire journey আজ থেকেই শুরু হোক।
Because the best version of yourself is waiting at the other end of repetition.
Selina Shilpee