12/06/2026
বাজেটে শিক্ষাখাতে ৯২ হাজার কোটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কিন্তু ৪০ হাজার কওমি মাদরাসা ২০ লক্ষাধিক ছাত্রদের জন্য কোনো বরাদ্দ নাই।
কাল এমন একটা ফটোকার্ড গেছে সাধারণ আলেম সমাজ থেকে। কমেন্টে লক্ষ্য করলাম অনেকে বলছে, সরকার থেকে কিছু না নেয়াটাই হচ্ছে আমাদের দেওবন্দি চেতনা।
আসলেই কি তাই?
দেওবন্দের উসুলে হাশতেগানায় যে মূলনীতি আছে, সেটা মাদরাসার পরিচালনা কেন্দ্রিক। অর্থাৎ মাদরাসার প্রশাসনিক স্বাধীনতা, পাঠ্যক্রম, নীতিনির্ধারণ ও পরিচালনা রক্ষার জন্য এই উসুল প্রণীত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্র ও শাসকের প্রভাবমুক্ত থেকে দ্বীনি শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কওমি শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজ তাদের নাগরিক অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সব সুযোগ থেকে দূরে থাকবে।
মাদরাসার পরিচালনাগত কাঠামোর বাইরেও কওমিদের অনেক স্বার্থ আছে, সেগুলোকে উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বাজেটে সেটার প্রতিফলন না ঘটলে প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। এসব প্রশ্নকে উসুলে হাশতেগানা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।
কওমি মাদরাসা সরকারের অনুদানে পরিচালিত না হলেও, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তো বাংলাদেশের নাগরিক। তাদেরও রাষ্ট্রীয় সম্পদ, করের অর্থ এবং উন্নয়ন বাজেটে ন্যায্য অংশীদারিত্ব রয়েছে।
সুতরাং নাগরিক হিসেবে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তি, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ন্যায্য অংশীদারিত্ব দাবি করতেই পারে।
যেমন -
- কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় শিক্ষা ও মেধাবৃত্তি, দরিদ্র শিক্ষার্থী বৃত্তি ও গবেষণা বৃত্তি থাকতে পারে।
- আইটি, ভাষা শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কওমিদের বাজেট বরাদ্দ থাকতে পারে।
- কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সরকারি উদ্যোগে কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ইন্টার্নশিপ, চাকরি প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং চালু হতে পারে।
- ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা, ইতিহাস, আইন, সামাজিক গবেষণা ও নীতি গবেষণায় কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা অনুদান ও ফেলোশিপ চালু হতে পারে।
- ডিজিটাইজেশন, ই-লার্নিং, অনলাইন রিসোর্স ও প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে, যা মাদরাসার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে না।
- চিকিৎসা সহায়তা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ তহবিল গঠন করা যেতে পারে।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসা ও শিক্ষার্থীদের জন্য পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
- সমমানের স্বীকৃতির বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় ব্রিজ কোর্স ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কওমি শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজার তৈরি করা যেতে পারে।
- ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, মুফতি, শিক্ষক ও দাঈদের জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি থাকতে পারে।