19/01/2026
আমাদের একাডেমির আঙিনার কোথাও দানবক্স নেই। গুরাবা ফান্ড নেই। কোনো নথিপত্রে "এতিমখানা" শব্দের উল্লেখ নেই। ইতোমধ্যে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের প্রত্যেকই নির্ধারিত হারে ভর্তি ফি ও বেতন পরিশোধ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। কেউ কম, কেউ বেশি, কেউ বা একেবারে দেয় নি—এমনটা হয় নি মোটেও। সবাই সমান হারে সব ধরনের চার্জ পরিশোধ করেছেন। লেজার শীটে সবার নামের বিপরীতে একই হারের প্রদেয় অর্থের উল্লেখ রয়েছে। সবাই যেন অর্থ ও সামর্থ্যে সমান।
আদৌ সমান?
না, মোটেও নয়। কারোর আর্থিক স্বচ্ছলতা আছে, কেউ আছেন মোটামুটি চলনশীল পর্যায়ে, কেউ বা আছেন একেবারে অসহায় পর্যায়ে। আমরা সব স্তর-বিন্যাস ভেঙে সমতল করেছি ভিন্ন এক উপায়ে, যাতে কেউ-ই মানসিকভাবে কাতর না হয়ে পড়ে। তুমি স্পেশাল, তুমি রেগুলার, তুমি ফ্রি বোর্ডিং-এর কার্ডধারী—এমন মার্জিন দিয়ে তাদেরকে আলাদা করতে চাই না। তারা সবাই আমাদের কাছে স্পেশাল ও অনন্য।
তাহলে আমরা করি কী?
আমরা প্রথমে চাহিদাপত্র নিই। কে কতো টাকা দিতে পারবেন, কে একেবারেই টাকা দিতে পারবেন না সেটার একটা খসড়া করি। আমরা গুনে দেখি এমন কতজন হল। আংশিক অনুদান কতজনের লাগবে, আর পুরো অনুদান কতজনের লাগবে তা নির্ণয় করার পর আমরা আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে ফাইন্যান্সিয়াল গার্ডিয়ান বা আর্থিক অভিভাবক খুঁজি। তারপর সেই চাহিদাসম্পন্ন ছাত্র/ছাত্রীর সারা বছরের খরচ নির্বাহের ভার দিয়ে দিই ওই দাতা এফজি বা ফাইন্যান্সিয়াল গার্ডিয়ানকে। তিনিই তাঁর নামে বরাদ্দকৃত ছাত্র/ছাত্রীর পুরো বছরের যাবতীয় খরচ বহন করবেন। এটা করি আমরা পুরোপুরি সংগোপনে—লিল্লাহিয়াত অক্ষুণ্ণ রেখে।
এই কৌশল অবলম্বন করার ফায়দা আমরা ভোগ করছি আলহামদুলিল্লাহ। আগত দিনে ইনশাআল্লাহ ব্যাপক উপকার পাব। একদিকে সাধারণ মানুষ জানে এই প্রতিষ্ঠানে ফ্রি পড়া যায় না, অন্যদিকে একেবারে অসহায় মানুষের সন্তান পড়ে এফজি সুবিধা গ্রহণ করে টোটালি আর্থিক চাপমুক্ত হয়ে।
এখানে আমরা পুরোপুরি ব্যতিক্রম।