Sayekh Osman Goni Azadi

Sayekh Osman Goni Azadi

Share

Official page of Shaykh Osman Goni Azadi. Follow for authentic and enlightening discussions.

16/06/2026

দ্বীনের পথে চলতে পীর-মুরিদীর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা
হক্কানী পীরের সান্নিধ্য কেন প্রয়োজন?

আত্মশুদ্ধি বা তাজকিয়াতুন নফস
মানুষের অন্তরে বহু আধ্যাত্মিক রোগ (যেমন: রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত, কিবর বা অহংকার, হাসাদ বা হিংসা, হুব্বে দুনিয়া বা দুনিয়ার মোহ) থাকে, যা সে নিজে শনাক্ত করতে পারে না। একজন অভিজ্ঞ আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বা পীর এই রোগগুলো শনাক্ত করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। যেমনভাবে শারীরিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন, তেমনি আত্মিক চিকিৎসার জন্য একজন হক্কানী পীরের প্রয়োজন।

সুন্নাতের বাস্তব অনুসরণ
শুধু বই পড়ে বা বক্তৃতা শুনে সুন্নাতের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ কঠিন। একজন পীর তার নিজের জীবনের মাধ্যমে সুন্নাতের বাস্তব নমুনা পেশ করেন। তার প্রতিটি কাজ, কথা ও আচরণ মুরিদদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে কাজ করে। এই জীবন্ত উদাহরণ দেখে সুন্নাত মানা সহজ হয়।

দ্বীনি পরিবেশ ও সোহবত (উত্তম সঙ্গ)
ঈমান ও আমল ঠিক রাখার জন্য একটি ভালো পরিবেশ অপরিহার্য। পীরের খানকা বা মজলিস একটি দ্বীনি পরিবেশ প্রদান করে। সেখানে আল্লাহর যিকির, তালীম এবং অন্যান্য নেক আমলের চর্চা হয়। নেককার মানুষের সাহচর্য বা সোহবত মানুষের অন্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রসঙ্গে একটি প্রাসঙ্গিক হাদীস:
عَنْ أَبِي رَزِيْنٍ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى مِلَاكِ الْأَمْرِ الَّذِي تُصِيبُ بِهِ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ؟ عَلَيْكَ بِمَجَالِسِ الذِّكْرِ، وَإِذَا خَلَوْتَ فَحَرِّكْ لِسَانَكَ مَا اسْتَطَعْتَ»

হযরত আবু রাযীন (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন: “আমি কি তোমাকে এমন একটি মূল বিষয়ের সন্ধান দেব না, যার মাধ্যমে তুমি দুনিয়া ও আখেরাতের (সকল) কল্যাণ লাভ করতে পারবে? (তা হলো) তুমি যিকিরের মজলিসকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নাও। আর যখন তুমি একাকী থাকবে, তখনো সাধ্যমতো তোমার জিহ্বাকে (আল্লাহর যিকিরে) সচল রেখো। (শুয়াবুল ঈমান - ইমাম বায়হাকী, হাদিস নং: ৮৯৯২/৯০২৪)

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা
শয়তান একাকী ব্যক্তিকে সহজেই পথভ্রষ্ট করতে পারে। যখন একজন ব্যক্তি একটি জামা'আতের সাথে বা একজন রাহবারের অধীনে থাকে, তখন শয়তানের জন্য তাকে ধোঁকা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পীর তার মুরিদকে শয়তানের বিভিন্ন ফাঁদ সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং তা থেকে বেঁচে থাকার উপায় বাতলে দেন।

ইস্তিকামাত বা অবিচলতা
দ্বীনের পথে চলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইস্তিকামাত বা অবিচল থাকা। অনেক সময় উৎসাহ-উদ্দীপনায় আমল শুরু করলেও পরে তাতে ভাটা পড়ে। একজন মুরশিদ বা পীর মুরিদের আমলের তত্ত্বাবধান করেন, তাকে নিয়মিত উৎসাহিত করেন এবং তার পদস্খলন ঘটলে তাকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।

15/06/2026

অভিযোগ: পিতা-মাতাই সবথেকে বড় পীর: পিতা মাতা জীবিত থাকতে কি মুরিদ হওয়া যায় ?

অনেকের অভিযোগ হলো, "পিতা-মাতাই তো সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় পীর। তাদের সেবা করলেই জান্নাত পাওয়া যায়, তাহলে আবার আলাদা করে পীরের কাছে যাওয়ার কী দরকার?

বাস্তবতা ও খণ্ডন: একজন হক্কানী পীর বা আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হলেন মুমিনের সর্বোত্তম শিক্ষক এবং রাহাবার। আমাদের জীবনে পিতা-মাতার স্থান যেমন অপূরণীয়, তেমনি একজন যোগ্য শিক্ষকের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।

পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় একজন সন্তান যদি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জ্ঞানার্জন করতে পারে এবং মক্তব থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত হাজারো শিক্ষকের সান্নিধ্যে যেতে পারে, তবে আত্মশুদ্ধির জন্য একজন পীরের নিকট শিক্ষা নিতে অসুবিধা কোথায়? জাগতিক এবং কিতাবী শিক্ষার জন্য যদি শিক্ষকের প্রয়োজন হয়, তবে মনের কলুষতা দূর করে আল্লাহর পথে চলার 'আধ্যাত্মিক শিক্ষা'র জন্যও একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজন আরও বেশি।
প্রকৃতপক্ষে, এই শিক্ষাগ্রহণে কোনো সুস্থ বিবেকের আপত্তি থাকার কথা নয়; এখানে আপত্তি শুধু শয়তানের। কারণ, শয়তান চায় না মানুষ কোনো কামেল পীরের দিকনির্দেশনায় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাক।

পিতা-মাতার চোখের সামনে তাদের সন্তান যদি একজন আদর্শ ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, তবে তা তাদের জন্য চরম তৃপ্তি ও আনন্দের বিষয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) স্বয়ং তাদের সন্তানদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাতে বায়াত করাতেন, যাতে তারা শুরু থেকেই সঠিক পথের দিশা পায়।

সুতরাং, পিতা-মাতার হক আদায় করার পাশাপাশি একজন হক্কানী পীরের সোহবতে থেকে নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল বৈধই নয়, বরং অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই প্রসঙ্গে একটি প্রাসঙ্গিক হাদীস:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ أَوْ ثَمَانِ سِنِينَ لِيُبَايِعَهُ، وَأَمَرَهُ بِذَلِكَ الزُّبَيْرُ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ رَآهُ مُقْبِلاً إِلَيْهِ ثُمَّ بَايَعَهُ‏. رواه مسلم

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন সাত বা আট বছর বয়সের বালক, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বায়াত হতে আসলেন। তার পিতা যুবায়ের (রা.) তাকে এর জন্য আদেশ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে (ছোট্ট বালককে বায়াত হতে) আসতে দেখলেন, তখন তিনি মুচকি হাসলেন এবং তাকে বায়াত করলেন। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল আদব- হাদিস নং: ৫৪৩১)।

21/12/2025

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার), ফুলপুর মোজাদ্দেদিয়া খানকা শরীফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশাল ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল। এই বরকতময় দ্বীনি মজলিসে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত।

29/01/2025

ঈসালে সওয়াবের আলোচনা || Isale Sawab Waz O Akherater Alochona -Shaykh Osman Goni Azadi 2025 (4K video)

28/12/2024

ঈসালে সওয়াবের আলোচনা || Isale Sawab Waz O Akherater Alochona -Shaykh M***i Osman Goni Azadi 2024 4K Waz

20/12/2024

(সম্পূর্ণ আলোচনা) মানুষকে যেভাবে কেয়ামতের দিন কবর থেকে উঠানো হবে || Sayekh M***i Osman Goni Azadi (আজাদী হুজুর)

19/12/2024

মানুষকে যেভাবে কেয়ামতের দিন কবর থেকে উঠানো হবে || Sayekh M***i Osman Goni Azadi (আজাদী হুজুর)

Want your school to be the top-listed School/college in Mymensingh?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Mymensingh
2250