02/06/2026
একটা বাচ্চা মেয়ে "মাসুদ রানা" সিনেমা দেখে নিজের মতামত দিয়েছে। তার পছন্দ হয়নি, সে সেটা বলেছে। এখানেই গল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে একটি শিশুর মতামতের চেয়ে তার পোশাক, চেহারা, হাঁটা-চলা আর তাকে নিয়ে কটূক্তি করাই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভিডিওর নিচের কমেন্টগুলো দেখলে প্রশ্ন জাগে—
আমরা আসলে শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ একটি ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি?
প্রিয় অভিভাবক, আপনার সন্তানকে ক্যামেরার সামনে আনার আগে শুধু ভাবুন, সে কি এই দেশের সোশ্যাল মিডিয়ার নির্মমতা সামলানোর মতো বয়সে পৌঁছেছে? আজকের একটি ভিডিও, একটি ক্লিপ বা একটি স্ক্রিনশট ইন্টারনেটে বছরের পর বছর থেকে যেতে পারে। আর তার মূল্য অনেক সময় শিশুটিকেই দিতে হয়।
আর গণমাধ্যমের বন্ধুদেরও একটা দায়িত্ব আছে। সব কনটেন্ট প্রকাশ করা যায় বলেই সব কনটেন্ট প্রকাশ করা উচিত নয়। একটি শিশুকে কেন্দ্র করে ভিডিও ভাইরাল হবে—এটা অনুমান করা কঠিন নয়। সেই ভাইরালিটির সঙ্গে ট্রল, বিদ্রূপ আর নোংরা মন্তব্যও যে আসবে, সেটাও জানা কথা।
একটা শিশু কোনো "কনটেন্ট" নয়।
ভিউ, রিচ আর এনগেজমেন্টের চেয়ে একটি শিশুর মানসিক নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু তাদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব আমাদের।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই দায়িত্বটাই আমরা বারবার ভুলে যাই।