17/03/2026
আস সালামু আলাইকুম।
জনাব,
Tarique Rahman,
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
বিষয় - নদী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
জনাব, তারেক রহমান আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ।
তবে দেশের বাস্তব সমস্যার তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে একটি নদীমাতৃক দেশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও কোনো সরকার নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষায় পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়নি।
ফলে— উজান থেকে পলিমাটি জমে নদীর গভীরতা কমে গেছে
বিশেষ করে ভারতের উজানে বাঁধ নির্মাণ ও শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহারের কারণে নদীর গতি কমে গেছে বর্ষাকালে হঠাৎ পানি ছেড়ে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয় স্বাধীনতার পর ভূমিদস্যুদের দখলে নদীর তীর সংকুচিত হয়েছে এই সব কারণে প্রতি বছরই বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
ভারত বা চীনের মতো উজানের দেশগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। আন্তর্জাতিক আইন দেখিয়েও তাদের এ নীতি পরিবর্তন করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশের উচিত নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।
সমাধান:
নদী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় গঠন-
দেশের নদ-নদী ও খাল ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র নদী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় গঠন করা অত্যাবশ্যক। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রস্তাবিত করণীয়সমূহ-
১. নদী ও খালের পুনরুদ্ধার -
ব্রিটিশ আমলের নদী ও খালের মূল খাত চিহ্নিত করতে হবে। দখল হওয়া খাল ও নদী পুনরুদ্ধার করতে হবে। খাল ও ছোট নদীর ওপর দেওয়া বাঁধ অপসারণ করতে হবে। বাঁধের পরিবর্তে সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।
২. ব্যাপক ড্রেজিং কার্যক্রম-
নদী ও খালের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। বর্ষাকালে ড্রেজিং করলে স্রোতের মাধ্যমে মাটি সহজে সাগরে চলে যাবে। ড্রেজিং করা মাটি নদীর পানিতে মিশিয়ে দিলে তা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে নতুন চর সৃষ্টি করবে। এতে দেশের ভূমির পরিমাণ বাড়বে। পাইপের মাধ্যমে পানির চাপ দিয়ে নদীতল ভেঙে মাটি সরানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট ড্রেজার দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
৩. পানির আধার নির্মাণ-
নদীর দুই তীরে বড় আকারের পানির রিজার্ভার তৈরি করতে হবে।
বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করতে হবে। এসব আধারে মাছ চাষ করা যাবে। বর্ষার আগে জমে থাকা পলি অপসারণ করতে হবে।
৪. প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ-
নদী ও আধার নির্মাণের জন্য সরকারি জমি যথেষ্ট না হলে
ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ন্যায্য মূল্যে অধিগ্রহণ করতে হবে।
৫. সামগ্রিক সুফল-
বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে
নদীর নাব্যতা ও প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে। সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে
মৎস্য উৎপাদন বাড়বে। ব্যয়বহুল বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন কমে যাবে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় নদী ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্রীয়ভাবে গুরুত্ব না দিলে বন্যা ও নদীসংকট থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। তাই একটি কার্যকর ও শক্তিশালী নদী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি।
সংযুক্তি -
Dr. Mahbubur Rahman Liton
BNP Media Cell
Bangladesh Nationalist Party-BNP