27/10/2025
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনটা ধীরে ধীরে স্টেশন ছাড়ছে। কামরার জানালার পাশে বসে রূপা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। বাতাসে তার চুলগুলো উড়ে উড়ে মুখ ঢেকে দিচ্ছে, কিন্তু সে তাতে কর্ণপাত করছে না। চোখে যেন কিছু খুঁজছে— হয়তো অতীতকে, হয়তো ভবিষ্যৎকে।
ঠিক তখনই পাশের সিটে বসলো এক যুবক, বয়স বেশি না—চব্বিশ কি পঁচিশ। নাম তার আরিয়ান। হাতে একটা পুরনো নোটবুক, চোখে অদ্ভুত গভীরতা।
প্রথমদিকে কেউ কারও দিকে তাকায়নি।
ট্রেনের ছন্দে রাত এগিয়ে চলল।
হঠাৎ একটা তীব্র ব্রেক!
রূপা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, আরিয়ান দ্রুত হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলল তাকে। চোখে চোখ পড়লো দু’জনের। এক মুহূর্তের নীরবতা—কিন্তু মনে হলো সময় যেন থেমে গেছে।
রূপা হালকা হেসে বলল,
— “ধন্যবাদ... আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম।”
আরিয়ান শুধু বলল,
— “কখনো কখনো ভয় থেকেই গল্প শুরু হয়।”
তারপর থেকেই কথাবার্তা বাড়তে লাগল।
রূপা জানলো, আরিয়ান একজন ফটোগ্রাফার, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলতে যায়।
আর আরিয়ান জানলো, রূপা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, একা যাচ্ছে খালার বাসায়।
ট্রেনের জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকছিল। রূপা বলল,
— “চাঁদটা আজ খুব সুন্দর না?”
আরিয়ান হেসে বলল,
— “চাঁদ না, আলোটা সুন্দর—যার মুখে পড়েছে।”
রূপা চুপ করে গেল, কিন্তু তার গাল লাল হয়ে উঠল।
রাত গড়িয়ে ভোর হলো।
চট্টগ্রাম স্টেশনে নামার সময় রূপা ফিরে তাকিয়ে দেখলো—আরিয়ান নেই! শুধু তার সিটে পড়ে আছে একটা ছোট নোটবুক।
নোটবুক খুলে রূপা দেখলো প্রথম পাতায় লেখা—
> “যদি আবার দেখা হয়, আমি তোমার ছবি তুলবো—চাঁদের আলোয়।” 🌙
আর নিচে একটা ঠিকানা — কাপ্তাই লেকের ধারে।
রূপা আজও জানে না, সেই ঠিকানায় গিয়ে আরিয়ানকে সে সত্যিই পেয়েছিল কিনা…
কিন্তু প্রতি পূর্ণিমা রাতে সে এখনো কাপ্তাইয়ের লেকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে — হয়তো সেই ফটোগ্রাফার একদিন ফিরে আসবে তার গল্প শেষ করতে।
To be continued.....