07/02/2024
উচ্চ ক্যারিয়ার গঠনে
নারী - পুরষের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের তুলনাঃ
পরিপ্রেক্ষিত : বাংলাদেশ
...........................
স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীর অনুপাত প্রায় সমান। অংকের হিসাবে সেটা ছাত্র : ছাত্রী =১:১ প্রায় এমনই।গতকাল ময়মনসিংহ শহরের একটি কো এডুকেশন আছে এনম উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।জিজ্ঞেস করলে প্রধান শিক্ষক বললেন ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা একটু বেশি। আমি কোন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের রেফারেন্স ছাড়াই গাণিতিক তথ্য উপস্থাপন করে এ অনুপাতের ধারণা দিলাম। আশা করি খুব বেশী ভুল হবে না। আবার নবম গ্রেডের নীচের চাকুরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বা চাকুরী প্রাপ্তির অনুপাতও প্রায় ১:১ এমনই হবে।
কারণ এইচএসসি পাসের সার্কুলারের চাকুরিতে ( ১০- ১৭ গ্রেড) বিয়ে সাদীর আগে প্রবেশের অনেকের সুযোগ থাকে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছাত্রীদের অনুপাতও প্রায় ১:১ এমনই হবে।
কিন্তু বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র ছাত্রীর অনুপাত একেবারেই হতাশাজনক।কারণ মেয়েরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে প্রিলিমিনারী পরীক্ষা দিতে পারে না। যে কারণো প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার খুবই কম।লিখিত পরীক্ষার হলের কোন একটি রুমে ৮৬ জনের মধ্যে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা যথাক্রমে ৭৪ ও ১২। অনুপাতটি দাড়ায় ৬:১ ( প্রায়) ।
অন্য একদিন আরেকটি রুমে প্রোফেসনাল বিষয়ের ৯৫ জনে ১৪ জন মহিলা।ছাত্র ছাত্রীর অনুপাত আগের মতোই ৬ঃ১ ।স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান থাকে।
এমনটি হওয়ার কারণ কি? ছাত্রীদের স্কুল,কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট বা সেকেন্ড ইয়ার থেকেই বিয়ে সাদী শুরু হয়ে যায়। অনার্স পাস বা গ্রাজুয়েশন করার পর ছাত্রীদের বিয়ে হওয়ার তেমন কেউ বাকী থাকে না।ছেলেদের বিয়ে সাদীর বিষয়টি একেবারেই উল্টো।বিয়ের পর মেয়েরা সংসার সামলানো ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শ্বশুর বাড়িতে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য মনোযোগ দেয়।অনেক সময় তাদের সন্তদিও হয়ে যায়। অন্যদিকে ছেলেরা জীবন ধারণের জন্য টুকটাক টিউশন করে ভবিষ্যত ভালো একটা ক্যারিয়ার গঠনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।বেকারত্ব দূর করার বিষয়ে ছেলেরা যতটুকু সিরিয়াস মেয়েরা ঠিক ততটুকুই পিছিয়ে। তুলনামূলকভাবে ছেলেদের মধ্যে একজনের থেকে আরেকজনের ভালো ক্যারিয়ার গঠনের প্রতিযোগিতা বেশী। কারণ তারা বাহিরের জগতের সাথে বেশী পরিচিত থাকে। তারা দেখে ও পর্যবেক্ষণ করে- লেখাপড়া শেষ করে কে কেমন Better and dignified life lead করছে। ছেলেরা মনে করে ভবিষ্যতে তাকে তার বাবা, মা,ভাই, বোনদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের ঋণ শোধ করতে হবে। ভবিষ্যতে তার নিজের সংসারও সামলাতে হবে। এসব কিছু চিন্তা করে একজন ছেলে ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি ছাড়া সে আর অন্য কিছু ভাবতে পারে না। কম পারলেও একজন ছেলে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে থাকে। সে মনে করে পড়লে একদিন না একদিন পারবেই।
মেয়েরা যে পড়াশোনা, বিষয়জ্ঞান, পরিশ্রম, মেধা, দক্ষতায় পিছিয়ে এমনটা মোটেও ঠিক নয়। যদি সুযোগ থাকে তাহলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখে। কারণ ত্যাগ স্বীকার করার দৌড়ে অবশ্যই ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা কম এগিয়ে নয়।---
এ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর - কথাগুলোতো জ্ঞানী গুণীজনগণ অনেক আগেই বলে গেছেন।