11/02/2026
আজকাল একটা অদ্ভুত ট্রেন্ড চোখে পড়ে—কিছু তথাকথিত “অতি শিক্ষিত” অভিভাবক সুযোগ পেলেই সন্তানের শিক্ষককে নিয়ে ঠাট্টা করেন, ব্যঙ্গ করেন, অপমান করেন। নিজেদের জ্ঞান দেখাতে গিয়ে শিক্ষকের বেতন, উচ্চারণ, পোশাক, এমনকি শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে এই অবজ্ঞাটা আরও বেশি। যেন তারা মানুষ না—একটা সস্তা সার্ভিস! অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, আপনি যত ডিগ্রি অর্জন করুন না কেন, আপনার ৩–৪ বছরের সন্তানের হাতে প্রথম পেন্সিল ধরা, প্রথম ক্লাসে বসার সাহস দেওয়া, স্কুল নামক অচেনা জায়গাটাকে “নিরাপদ” মনে করানো—এই ভিত্তিটা সেই শিক্ষকই গড়ে দেন।
যে মানুষটা প্রতিদিন ২৫–৩০টা ছোট্ট শিশুকে সামলায়, হাসিমুখে তাদের প্রশ্ন শোনে, কান্না থামায়, টিফিনের দাগ মুছে দেয়, অসুস্থ হলে কপালে হাত রাখে—তার কাজ শুধু পড়ানো না, সে মানসিক আশ্রয় দেয়। এই ধৈর্য, এই মমতা কোনো সার্টিফিকেটে শেখানো যায় না। এটা পেশা না, এটা এক ধরনের মানবিকতা।
ফাইরুজকে যখন প্রথম স্কুলে দিই, আমার ভয় ছিল—ওকে আদর করবে তো? খেয়াল রাখবে তো? ওর ক্লাস টিচার আমেনা মিসকে বাইরে থেকে দেখলে হয়তো একটু কঠিন মনে হয়। কিন্তু একদিন এমন একটা দৃশ্য দেখলাম, যা আমার দৃষ্টিভঙ্গি চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছে। পাঁচ দিন জ্বরে ভুগে ফাইরুজ প্রথম দিন স্কুলে গেল। আমি নিজেই ক্লাসে দিয়ে একটু আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ও দৌড়ে গিয়ে বলল, “আমার অনেক জ্বর ছিল…”—মিস কিছু বললেন না, শুধু বুকের কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম, এই আদরের ভাষা কোনো ডিগ্রি শেখাতে পারে না; এটা শুধু একজন ‘মা–মতো’ শিক্ষকই পারেন।
যারা সন্তানের সামনে শিক্ষকের প্রতি অবজ্ঞা দেখান, তারা বুঝতেও পারেন না—সন্তান ঠিক সেই ভাষাটাই শিখে নিচ্ছে। আজ আপনি শিক্ষকের সম্মান কেড়ে নিচ্ছেন, কাল সেই সন্তান আপনার প্রতিও একই আচরণ করবে। কারণ আপনি তাকে শেখাচ্ছেন—“যাকে শ্রদ্ধা করতে বলা হয়, তাকেও অসম্মান করা যায়।”
শিক্ষক শুধু সিলেবাস শেখান না; তিনি শিশুর প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা, প্রথম আত্মবিশ্বাস, প্রথম বাইরের পৃথিবীর ছায়া। তাই সন্তানের সামনে শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখা মানে শুধু একজন মানুষকে সম্মান দেওয়া না—নিজের সন্তানের মূল্যবোধকে সুরক্ষিত রাখা। 🤍❤️
Collected