26/06/2026
ভাল আছি ভাল থেকো
তুমি আমি আমরা-মানে গারোরা কেমন আছে???
অভিবাসিত দেশ বাদ দিলে গারোরা বাংলাদেশ এবং ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা, বনাফাইড সিটিজেন। ইন্দিয়ান গারোদের বৃহস্প্রতি এখন তুঙ্গে।কেন্দ্রীয় সরকার থেকে আচিক ( গারো ভাষা) অন্যতম ভাষার স্বীকৃতি, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, পার্লামেন্টের স্পীকার এবং পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের (রাজ্য সভা) সাংসদ গারো। সিডিউল ট্রাইব হিসেবে গারোরা কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকারের বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত।সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মসংস্থান অনেক, রয়েছে নিজের আয়ত্বে থাকা জমি। সম্প্রতি তুরাতে বিশবিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, এয়ারপোর্ট এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্স হয়েছে।
মেঘালয়, আসাম, নাগাল্যান্ড বা ত্রিপুরায় থাকা গারো ৯৮% ভাগ খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষিত। এখানেও দিয়েও বাড়তি সাপোর্ট পায় তারা। তবে বাকী ২% অ-খ্রীষ্টান গারো এনেমিস্ট ( প্রকৃতি পূজারী) যাদের অনেকেই সাংসারেক বলে।তারা বেশীর ভাগ লোকালয়ের বাইরে থাকে, সপ্তাহে একবার বাজারে আসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য।তাদের সিংহ ভাগ আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, ভূমিভিত্তিক এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতি নিয়ে ব্যস্ত। মিশ্র অর্থনীতিতে ফেরার কোন আলামত/ইন্ডিকেটর নেই।প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার তারা।
১৯৮৭ সালের ইন্দো-পাক পার্টিসান, ১৯৬৪ সালের কমিউনাল রায়ত, ১৯৭১ সালের স্বাদহীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী ইন্সারজেন্সীতে বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে থেকে গেছে, লোকাল মেঘালিয়ানরা তাদের এখনো রিফুজি বলে।এই রিফুজিরাই মেঘালয় গারোদের চালিকা শক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতা তাদের হাতে।
বাংলাদেশের গারোরা ১৯৪৭ বা ১৯৭১ সালের অবস্থানে নেই। নানা ঘাত প্রতিঘাতে তারা পরিবর্তিত পরিবেশ এবং বিশ্বব্যবস্থায় এডপ্টেশন এবং এডাপ্টেশনের সাথে যুক্ত।কঠিন অবস্থায় কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে ( টার্ন এরাউন্ড স্ট্রেটেজি) হয়, তার কলাকৌশল তারা রপ্ত করেছে।তাই আজ বাংলাদেশের গারোরা পৃথিবীর উন্নত এবং পরাক্রমশালী দেশে বিভিন্ন অভিবাসিত।সেখানেও গড়ে উঠেছে অঘোষিত গারো পাড়া।
গারোদের এখন মিশ্র অর্থনীতির যুগ-সেকেন্ড বা থার্ড সোর্স অব কিউমিউলিটিভ ইনকাম তাদের হাতে।প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য হারে উচ্চ শিক্ষা এবং অভিবাসন-এক সাথে যুক্ত হচ্ছে। তাহলে আপনি বলুন, গারোরা কেমন আছে?
সুনামগঞ্জ থেকে বকশীগঞ্জ-বর্ডারের বিস্তীর্ন এলাকা ঘুরলে দেখা যায় গারোদের দৃশ্যমান পরিবর্তন।আগের মাটির ঘর এবং খড়ের ছাউনি উধাও হয়ে গেছে, ক'দিন পরে যাদুঘরে খুঁজতে হবে। চেহারাতেও আসছে পরিবর্তন।কারন মিশ্র বিবাহ, সাজুগোজুতে আসক্তি, কেতাদুরন্ত ভাবসাব।
কভিডের সময় আমার ছেলেকে যৌক্তিক কারনে ধোবাউড়াতে ভ্যাক্সিন দিতে গেলাম, হ্যালথ কমপ্লেক্সের নার্সিং ইন-চার্জ আমার আত্মীয়।সে জানালো ধোবাউড়া হ্যালথ কমপ্লেক্সে ১৮ জন গারো চাকরীজীবী।ময়মনসিংহে বিশপ পল পনেন কুবি জানালেন মউমনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালে ১০০ জনের বেশী গারো কর্মজীবী।শহরে আরো শতাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোমেও গারো আছে।এক সপ্তাহ আগে মধুপুর উপজেলাতে গেলাম।কার্যশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফটো তুলতে চাইলেন।যিনি একাজে সহায়তা করলেন, তিনি গারো।জানা গেলো-ইউ এন ও অফিসে তিনজন, বি আর ডি বি অফিসে দু'জন, এসি ল্যান্ড অফিসে দু'জন, জেলা প্রশাসকের অফিসে দু'জন এবং টাংগাইল আদালতে তিনজন। কেমন বুঝলেন?
দেশের বড় বড় বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে গারোদের রাজত্ব।তারা এ সেবামূলক কাজে দক্ষ, প্রশিক্ষিত।কাজ শিখে এখন ২০০ জনের মতো গারো নারী বিউটি পারলারের মালিক, যাদের পারলারে ৫-২০ কর্মী রয়েছে।ঢাকার একটি বিশেষায়িত এলাকা আছে যেখানে হাজার বিশেক গারো বসবাস করে।তারাও দখল করে আছে এম্ব্যাসী, হাই কমিশন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি, ইন্টারন্যাশনাল এবং মাল্টিন্যাশনাল কর্মীদের আবাসিক ভবন।দেশের অনেক বড় শহরের পারলারের মালিক গারো।
ঢাকার বাবু পাড়া বলে খ্যাত এলাকায় কোন গারোকে জিজ্ঞাসাঃ কেমন আছে??? উত্তর আসে, নাম্মি দংআ (ভাল আছি)। যদি সবাই বলে ভাল আছি, তাহলে সত্যিকার ভাবে হয়তো তুমি আমি আমরা ভাল আছি।
------------------------------------------
লেখক- মৃগেন হাগিদক, সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দল (ফেসবুক পোস্ট থেকে)