25/05/2026
"মেহেরপুরে মাত্র ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধ"র্ষকের বিচার শেষ" শীর্ষক বেশ কিছু মিসলিডিং নিউজ হয়েছে, এতে প্রকৃত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুটি তার বাবাকে বাড়ির পাশের আবাদি মাঠে খাবার দিতে যাবার পথে শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় ধারালো অ"স্ত্র দিয়ে হ"ত্যার ভয় দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পাটখেতে নিয়ে ধ"র্ষণ করে। অর্থাৎ ঘটনা ঘটেছে প্রায় এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুন, শিশুটির পিতা ১৭ জুন থানায় মামলা করেন।
মূল বিষয় টি হলো, পুলিশ চার্জশিট দেয়ার ২৯ কার্যদিবসের মাথায় আজ ২৪ মে, ২০২৬ রায় হয়েছে নিম্ন আদালতে। কিন্তু ঘটনার দিন হতে পুলিশের চার্জশিট প্রদানেই প্রায় এক বছর সময় লেগেছে। মামলা হওয়া মাত্রই এটা বিচার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়, তাই মাত্র ২৯ দিনে বিচার সম্পন্ন হবার বিষয়টি সঠিক নয়। তবে হ্যা এটি সত্য যে এই প্রথম চার্জশিট দেয়ার পর এত দ্রুত রায় ঘোষণা করা হয়েছে নিম্ন আদালতে।
একই সাথে উল্লেখ্য যে, বিচার সম্পন্ন হওয়া মানে রায় কার্যকর হওয়া। তার মৃ"ত্যুদন্ডের রায় হয়েছে, এই রায় যেদিন কার্যকর হবে সেদিন বিচার সম্পন্ন হয়েছে এ কথাটি বলা যাবে। মামলা এখন নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, সেখান থেকে আপিল বিভাগ, আপিল বিভাগে রায়ের পর রিভিউ আপিল এরপর সর্বশেষ রাস্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনা! এই পুরো প্রক্রিয়া যদি আসামি মেইন্টেইন করে, এটি বাংলাদেশের স্বভাবিক বিচার প্রক্রিয়ায় এক যুগ পার হয়ে যায়।
যারা নিম্ন আদালতের এই রায় দেখেই উচ্ছসিত হয়ে শেয়ার করছেন ২৯ দিনে বিচার হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে, তাদের অনুরোধ করবো আত্মতুষ্টিতে না ভুগতে। এর আগে জনগনের চাপে আছিয়ার মামলার রায় ও অতি দ্রুত হয়েছিলো, কিন্তু এক বছরের বেশি হয়ে গেলেও সেটার আর অগ্রগতি হয়নি। বিচার হওয়া মানে রায় কার্যকর হওয়া। জনগণের চাপে দু একটি মামলার রায় নিম্ন আদালতে দ্রুত দেয়া লোকদেখানো বিচার প্রক্রিয়ার শামিল।
জনস্বার্থে