28/11/2019
ষোলঘর হাই স্কুলেরর ম্যানেজিং কমিটিতে গুটিকয় মানুষ কেন বার বার থাকতে চায়?
দৃষ্টিপাত: ২৮ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্প্রতিবার।
মুন্সীগঞ্জঃ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এ,কে, এস,কে হাই স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বহু উচ্চ পদস্থ কর্মাকর্তা, ডাক্তার, আইনজিবী ছিল এই স্কুলের শিক্ষার্থী। কিন্তু বর্তমানে স্কুলটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। মানহীন শিক্ষা, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসচ্ছতা এই সবই এই স্কুলের নিত্য নৈমিত্যিক ব্যাপার। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি দিনের জন্য ৫০/= টাকা হারে আদায় করা হয়, কিন্তু এই টাকা স্কুল ফান্ডে জমা হয়না, স্বচ্ছতা ছাড়াই চলে টাকা আদায় তাহলে এই টাকা কাদের পকেটে যায়? প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপের সাথে কোচিং এর নামে কোন মানি রিসিট ছাড়া ১০০০/= টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয় এবং এবারও আদায় করা হয়েছে, কিন্তু বিগত ম্যানেজিং কমিটি এইসব ব্যাপারে কখনোই কোন কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়নি বলে অভিভাবকরা জানিয়েছে। সুতরাং আগামী দিনের জন্য অভিভাবকরা পুতুল সর্বস্ব কোন ম্যানেজি কমিটি চায়না, অভিভাবকরা চায় একটি কার্যকর ম্যানেজিং কমিটি।
দাতা সদস্যের হিসাবে একজন ব্যাক্তি বিগত ২২ বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটিতে আছে, বললেন একজন অভিভাবক, এবারই প্রথম ইদ্রিস খান পিন্টু তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এর আগে স্থগিত নির্বাচনে দাতা সদস্য গাজী মাসুদ প্রার্থী হয়েছিলেন।
পত্রিকার রিপের্ট অনুযায়ী ৩৮ সদস্যের দাতা গ্রুপে ঐ ব্যাক্তির অনুগত তিন জন নতুন দাতা সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে অস্বচ্ছ ভাবে। কারন ব্যাক্তি ও তার অনুগত লোকজন বুঝতে পেরেছিল বিগত বছরের মতো এবার বিনা যুদ্ধে পাড় পাওয়া যাবেনা। তাই তারা এর আগে ঘোষিত তফসিলের নির্বাচন আপাতত স্থগিতের পর অবৈধ ভাবে তিন জন কে দাতা গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত করে রাখে। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন হলো স্থগিত হওয়া তফসিলে ৩৮ জন দাতা সদস্যের স্থানে নতুন তিন জন পুনঃতফসিল ঘোষণার পর ভোটার হতে পারবেন কিনা? উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এই ব্যাপারে কার্যকর ব্যাবস্থা নিবেন সবাই আশা করে।
মুন্সীগঞ্জের দৈনিক সভ্যতার আলো, দৈনিক সকালের সময় ও দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকায় ষোলঘর হাই স্কুলের নির্বাচন তিন জন দাতা সদস্যের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সবার মনের প্রত্যাশা ব্যাক্তির পদের ইচ্ছার কাছে যাতে একটি জ্ঞানালয় বলি না হয়, যোগ্য, শিক্ষিত এবং বিদ্যালয় ও শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এই রকম ম্যানেজিং কমিটিই অভিভাবক ও জনগণ দাবী করে। নির্বাচন নির্বাচন খেলায় কোন অশিক্ষিত ব্যাক্তি যাতে কমিটিতে আসতে না পারে তা দেখার দায়ীত্ব ভোটারদের।
নির্বাচন নিয়ে দাতা সদস্য প্রার্থী জনাব ইদ্রিস খান পিন্টুর ভাষ্য, নির্বাচনে ভোটাররা কাকে বেছে নিবেন সেটা ভোটারদের ইচ্ছা, কিন্তু আমি চাই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।