31/08/2025
প/র/কী/য়া শুধুই ‘বিনা লাইসেন্সে শরীর ভোগ’-এর ছাড়পত্র
প/র/কী/য়া মানে শুধু “অন্যের শরীরের স্বাদ নেওয়া” নয়, এটা আসলে একটা চরিত্রহীনতার ছাপ, আত্মার উপর কালো দাগ।
অন্যের স্বামীর গায়ের গন্ধ, বা অন্যের স্ত্রীর নিঃশ্বাস—এই নেশা এতটাই ভ/য়ংকর হতে পারে যে একজন মানুষ নিজের সংসারটাকেই আগুনে ফেলে দেয়। বাইরে থেকে হয়তো এই সম্পর্কটা খুব রোমাঞ্চকর মনে হয়, কিন্তু ভেতরে আছে শুধু প্রতারণা, অন্ধকার আর ভাঙনের স্রোত।
সমাজ খুব সহজেই দোষ চাপায় বাইরের মানুষের ঘাড়ে। “ওই মেয়েটা সংসার ভাঙল” বা “ওই ছেলেটা অন্যের বউকে নিয়ে পালাল”—এমন কথা আমরা কত শুনি! কিন্তু আসল সত্যিটা অন্য জায়গায়। যে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, বাইরের মানুষ সে দরজা খোলার সাহসই পেত না যদি ঘরের মানুষ নিজে তা না খুলত। তাই তৃতীয় মানুষটা হয়তো প্রলুব্ধ করেছে, কিন্তু বিশ্বাসঘাতক আসলে সেই, যে নিজের হাতের মুঠো নিজেই ছেড়ে দিয়েছে।
ভাবুন তো, যে স্বামী দিনের বেলা পরিবারের পাশে থেকে রাতের অন্ধকারে অন্যের ঘরে শরীর খুঁজে বেড়ায়, সে কি আদৌ আপনার স্বপ্নের “নায়ক”? কিংবা যে স্ত্রী নিজের সংসারের ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে অন্য কারও কাছে আশ্রয় নেয়, সে কি সত্যিই “অসহায় নায়িকা”? না, ওরা আসলে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারক। যে একবার বিশ্বাস ভাঙতে পারে, সে কাল আরেকবারও তা-ই করবে। কারণ ওদের চরিত্রেই আছে বেইমানি।
পুরুষের দিকটা দেখুন—অনেকে ভাবে পরকীয়া মানে দায়িত্বহীন শরীরী আনন্দ। সংসারে যে দায়িত্ব, যে বেঁধে রাখা আছে, তা তো ঘরেই চলছে, বাইরে শুধু একটু বাড়তি স্বাদ নিলেই হলো! আপনাকে হয়তো সে ফুলের মালা গলায় পরাবে, ভালোবাসার কথা বলবে, কিন্তু সংসারের স্বীকৃতি দেবে না। কারণ আপনার জন্য ওর জায়গা নেই—আপনি শুধু ওর কাছে উত্তেজনা, ক্ষণিকের আনন্দ, যেটা শেষ হয়ে গেলে ফেলে দেওয়া যায়।
নারীর দিকেও একই রকম গল্প। কেউ হয়তো একঘেয়ে জীবনে রঙ খুঁজতে, কেউ হয়তো স্বামীর প্রতি অভিমান থেকে এই পথে যায়। কিন্তু শেষমেশ এও সাময়িক খেলা ছাড়া আর কিছু নয়।
তাহলে দোষ কার? প্রতারকের, নাকি সেই তৃতীয় মানুষের, নাকি আমাদের সমাজের?
আসলে তিনজনেই দায়ী। প্রতারক দায়ী প্রথমে, কারণ সে তার সঙ্গীর বিশ্বাস ভেঙেছে। আপনি দায়ী, কারণ আপনি সেই মিথ্যার খেলায় সঙ্গ দিয়েছেন। আর সমাজ দায়ী, কারণ সম্পর্কের ভাঙন কেন হয়, কেন দূরত্ব তৈরি হয়, তার সমাধান না খুঁজে বাইরের মানুষকে গালি দেওয়া সহজ মনে করে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, শেষে যে মানুষটা একা হয়ে যায়, সে হলেন আপনি। প্রতারক পুরুষ বা নারী আবার নিজের সংসারে ফিরে গিয়ে “ভালো স্বামী” বা “ভালো স্ত্রী” সাজার অভিনয় করে বাঁচবে। আর আপনার কপালে জুটবে সমাজের গালি, অপমান, আর বুকের ভিতরে রক্তক্ষরণ।
তাই আজও সময় আছে ভেবে দেখার। অন্যের ভাঙা সংসারের টুকরো কুড়িয়ে আপনি নিজের সুখের প্রাসাদ গড়তে পারবেন না। যে মানুষটা তার নিজের নয়, সে আপনারও কোনোদিন হবে না। আজকের নিষিদ্ধ উত্তাপ কাল আপনাকেই পুড়িয়ে ছাই করে দেবে না তো—উত্তরটা আপনার নিজের আয়নায় দাঁড়িয়ে আছে।