Sufia Nuria Fazil Madrasha

Sufia Nuria Fazil Madrasha

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sufia Nuria Fazil Madrasha, Education Website, Sufia Madrasha. Mithanala. Mirsarai, Mirsarai.

Photos from Sufia Nuria Fazil Madrasha's post 20/04/2026

দাখিল পরীক্ষা ২০২৬ – এক্সাম হল সংক্রান্ত তথ্য

সম্মানিত দাখিল পরীক্ষার্থীদের জানানো যাচ্ছে যে,
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মিরসরাই কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র (এক্সাম হল) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

📝 সকল পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কেন্দ্রে সময়মতো উপস্থিত থেকে সিট প্ল্যান অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

⏰ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।

সবার জন্য রইলো আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা 🤲
আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সফলতা দান করুন।

Sufia Nuria Fazil Madrasha

#দাখিল_পরীক্ষা_২০২৬ #দাখিল_পরীক্ষা #এক্সাম_আপডেট #পরীক্ষার_খবর #পরীক্ষা_প্রস্তুতি #এক্সাম_হল #সিট_প্ল্যান #মাদ্রাসা_শিক্ষা #শিক্ষা_সংবাদ #বাংলাদেশ_শিক্ষা .

07/04/2026

অত্র Sufia Nuria Fazil Madrasha এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মাশরুর ওয়াসিফ রাইয়ান (৯) মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল বেলা ইন্তেকাল করেছে । তার জানাযা বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০.০০ টায় মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির ছাদে উঠে আম পাড়ার চেষ্টা করছিল রাইয়ান। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ছাদের রেলিং থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। এ সময় ছাদের কলামের বেরিয়ে থাকা রড তার পেটে ঢুকে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত মিঠাছড়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

মিঠাছড়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুদুল করিম জানান, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়েছিল। তার শরীরে রড ঢোকার চিহ্ন ছিল এবং ইসিজিতে কোনো হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাফায়েত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত মাশরুর ওয়াসিফ রাইয়ান অত্র এলাকার হাজী বদরুল আলমের বাড়ির মুসলিম উদ্দিনের বড় ছেলে ।

আমরা সুফিয়া মাদ্রাসা পরিবার এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত । আল্লাহ যেন রাইয়ানের পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দেন । আমীন ।।

Photos from Sufia Nuria Fazil Madrasha's post 08/03/2026

সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন যারা তাদের জন্য।
অপ-সাংবাদিকতার মাধ্যমে কোন কিছু না জেনে-বুঝেই মীরসরাইয়ের স্বনামধন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে অপতথ্য ছাড়ানোদের প্রতি ধিক্কার।

(ঝ) নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য:

১) প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ রেকর্ড প্রদর্শন করেছেন। বিগত পরিদর্শনের পর নিয়োগ প্রাপ্ত ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ০৮ জন শিক্ষক এনটিআরসি এর মাধ্যমে এবং ০৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বিধি মোতাবেক শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে।

২) মহিলা কোটা পূরণ সংক্রান্ত: প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২১ জন শিক্ষক এর মধ্যে ০৪ জন মহিলা শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৪/০৫/২০০৯ খ্রিঃ তারিখের স্মারক নং- শিম/শা: ১১/৫-১(অংশ)/৫১৬ অনুযায়ী মফস্বল এলাকায় মহিলা কোটা ২০%। প্রতিষ্ঠানটির মহিলা কোটা পূরণকৃত। ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক মহিলা কোটা সংরক্ষণ করতে হবে।

(ঞ) স্টাফিং প্যাটার্ন সংক্রান্ত তথ্যঃ প্রতিষ্ঠানের স্টাফিং প্যাটার্ন যাচাই করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৩(১৩ জুলাই, ২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুসারে কামিল স্তরে (১ম-১৭শ) দাখিল ক্বারী (গ্রেড-১৬) পদ নেই। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৩(১৩ জুলাই, ২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুসারে কামিল স্তরে (১ম-১৭শ) অতিরিক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নাই। বর্তমানে এই জনবল কাঠামো অনুসরণ করে পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে।

08/03/2026

We've just reached 2K followers! Thank you for continuing support. We could never have made it without each and every one of you. 🙏🤗🎉

02/02/2026

সুফিয়ার মরহুমে ছালেছ পীর ছাহেব পীরে কামেল শাইখুল হাদিস শাহসূফী অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতী মাওলানা ছেরাজুল ইসলাম (রহঃ) [প্রকাশঃ ছোট হুজুর কেবলা) এর জীবনী

জন্ম ও বংশ পরিচয়:
------------------
শামসূল উলামা, প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, মুহাদ্দিস,মুফাস্সির,ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ,ফকীহ ও মুফতী হযরত মাওলানা ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার পশ্চিম মিঠানালা (পূর্ব নাম রশিদাবাদ) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১ লা মার্চ,১৯২৮ ইংরেজি। তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা হচ্ছেন পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, ঐতিহ্যবাহী সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ও সুফিয়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল,মুফতীয়ে আজম নিযামপুর হযরত মাওলানা শাহসূফী আবদুল গণী (রহ:) । যিনি চট্টলার সুফিয়ার আউয়াল ছাহেব হুজুর হিসেবে পরিচিত। এবং তাঁর স্নেহময়ী মাতা মোছাম্মৎ বদরুন্নেসা (রহ:) ছিলেন ফুরফুরা শরীফের অন্যতম খলীফা হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান (রহ:) এর জ্যৈষ্ঠ কন্যা। পিতা ও মাতার দিক থেকে তিনি ছিলেন উচ্চ বংশীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব।

প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষা‌ :
-------------------
পিতার তত্ত্বাবধানে আরবী শিক্ষার হাতেখড়ি। পিতার প্রতিষ্ঠিত সুফিয়া নুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শুরু হয়। ক্রমে ক্রমে সুফিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৪৬ সালে আলিম এবং ১৯৪৮ সালে ফাজিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁরপর শ্রদ্ধেয় পিতার অনুমতি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা সরকারী আলীয়া মাদ্রাসায় কামিল হাদিস বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে কামিল হাদিস বিভাগে দশম স্থান অধিকার করে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

শিক্ষকতা জীবন :
--------------
কামিল পাশ করার পর ১৯৫০‌ সালের শেষ দিকে তিনি সর্বপ্রথম লাকসাম মনতলী রহমানীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার নায়েবে মোহতামীম তথা উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। এরপর চৌদ্দগ্রাম মৌকরা দারুস সুন্নাহ ফাজিল মাদ্রাসা মোদাররেসে আউয়াল হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে ১৯৫৭ সালের দিকে তিনি সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসায় চলে আসেন মুয়ীনে আউয়াল হিসেবে। এখানে প্রায় ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। মাঝে কিছুদিন চট্টগ্রাম ছোবহানিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় কামিল শিক্ষক সংকট থাকায় সেখানে গেষ্ট শিক্ষক ছিলেন। পুনরায় সুফিয়াতে পূর্বপদে বাহাল হন। তারপর অক্সিজেনস্থ গাউসিয়া মুয়ীনিয়া আহসানুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। সেখান থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শাইখুল হাদিস হিসেবে বরিত হন। অতঃপর চট্টগ্রাম নেছারীয়া আলীয়া মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সেখান থেকে এসে মাদরারহাট ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে আলিম পর্যন্ত উন্নতি করার জন্য ৬ মাস বিনা বেতনে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ০৫/০৮/১৯৮৪ ইংরেজি তারিখে বড় হুজুর রহ:) এর নিকট থেকে প্রিয় প্রতিষ্ঠান সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

শিক্ষকমন্ডলীদের নাম :
------------------
সুফিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়ন কালে তিনি শ্রদ্ধেয় পিতা আউয়াল সাহেব (রহ:) , মাওলানা সোলতান আহমদ (রহ:), হযরত মাওলানা হাকীম আবদুল ওয়াহিদ (রহ:) ,, হযরত মাওলানা নূর আহমদ (রহ:)প্রমুখের নিকট দ্বীনী শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা আলীয়ায় অধ্যায়ন কালে তিনি যাঁদেরকে উস্তাজ হিসেবে পেয়েছেন -
১| হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়েদ আমীমুল ইহসান (রহ:)।
২| হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান আল কাশগরী (রহ:) ।
৩| হযরত মাওলানা জাফর আহমেদ উসমানী (রহ:)।
৪| হযরত মাওলানা শফী হুজ্জত উল্লাহ আনসারী (রহ:)
৫| হযরত মাওলানা মোঃ জিয়াউল হক (রহ:)।
৬| হযরত মাওলানা আবদুস সাত্তার বিহারী (রহ:)।
৭| হয়রত মাওলানা মোঃ ওসমান গনি (রহ:)।
৮| হযরত মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী (রহ:)।
৯| হযরত মাওলানা মোঃ শাহজাহান (রহ:)।
১০| হযরত মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমদ (রহ) প্রমুখ।

ছাত্রবৃন্দ :

হুজুর কেবলার উল্লেখযোগ্য কিছু ছাত্রদের নাম।
১/ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম রহ:। সাবেক অধ্যক্ষ, সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসা।
২/ মাওলানা আব্দুল আউয়াল ফোরকানী রহ:। সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
৩/ মাওলানা হাদিস আহমদ রহ:। সাবেক মুহাদ্দিস, সীতাকুণ্ড আলীয়া মাদ্রাসা।
৪/ মাওলানা রবিউল হোসেন রহ:। সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসা।
৫/ মাওলানা মহিউদ্দীন রহ:। মৌকরা দরবার শরীফ।
৬/ মাওলানা হাফেজ সাইফুর রহমান। পীর সাহেব, আগ্রাবাদ।
৭/ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। সাবেক অধ্যক্ষ,সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসা।
৮/মাওলানা ডঃ সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ আল মারুফ। অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থায়ী প্রতিনিধি, ওআইসি (জেদ্দাহ)।
৯/ মাওলানা মুফতী সৈয়দ অছিউর রহমান। সাবেক অধ্যক্ষ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
১০/ মাওলানা হাফেজ অহীদুল হক। অধ্যক্ষ, নোয়াখালী ইসলামীয় আলিয়া মাদ্রাসা।
১১/ মাওলানা ফজলুল বারী রহ:। সাবেক উপাধ্যক্ষ, সীতাকুণ্ড আলীয়া মাদ্রাসা।
১২/ মাওলানা জয়নুল আবেদীন। সাবেক অধ্যক্ষ( ভারপ্রাপ্ত) ,ছোবহানীয়া কামিল মাদ্রাসা।
১৩/ মাওলানা কাজী আব্দুল ওয়াজেদ। মুফতী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
১৪/ মাওলানা আলী হোসেন। সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসা।
১৫/ মাওলানা আব্দুল হাই নিজামী। বর্তমান অধ্যক্ষ, রামগড় গনীয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা।

আখলাক ও আদতঃ
--------------------------------
সুফিয়ার ছোট হুজুর (রহ:) ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজাসসাম নমুনার পূর্ণ অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।তাকওয়া-পরহেযগারী, বিনয়াবনতা, আমানতদারিতা, স্নেহময়ী আচরণ, আতিথেয়তা, শিষ্টাচারিতা, উস্তাদভক্তি, সংযত ভাষা ব্যবহার, সহানুভূতি, কর্তব্যপরায়ণতা, পশু পাখির প্রতি দয়া ইত্যাদি গুনের কারণে মানুষ তাঁর নিকট মধুমক্ষিকার মত ছুটে আসত।

ইবাদত-বন্দেগিঃ
---------------------------
সুফিয়ার ছোট হুজুর (রহ:)ফরজ ওয়াজিব ইবাদতের পাশাপাশি সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল সমূহকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করতেন। নিয়মিত জিকির-আযকার, মোরাকাবা-মোশাহাদা, তাহাজ্জুদ, এশরাক, আওয়াবিন, চাশত, হাজত নামাজ ইত্যাদি ছিলো তাঁর প্রতিদিনের আমল। তাঁর সোহবতে এসে বহু পথহারা মানুষ আলোর দিশা পেয়ে কামেল ওলীতে রূপান্তরিত হয়েছেন।

তাকওয়া-পরহেযগারীঃ
------------------------------------
হুজুর কেবলা র. শরীয়তের এতই পাবন্দি ছিলেন; বেপর্দা, বেনামাজি, সুদখোর, ঘুষখোর ইত্যাদি হারামকার্য্যে সম্পৃক্ত কোন মানুষের দাওয়াত ও হাদিয়া গ্রহণ করতেন না।

মুফতী হিসেবে:
------------
প্রথমে তিনি সুফিয়া মাদ্রাসার দারুল ইফতা বিভাগের নায়েবে মুফতী ছিলেন। তিনি বড় হুজুর রহ থেকে ১৯৮৫ সালে ফতোয়া প্রদানের জন্য অনুমতি লাভ করেন। বড় হুজুর রহ ইন্তিকালের পর তিনি প্রধান মুফতির ভূমিকা পালন করেন। অতঃপর জীবদ্দশায় আপন‌ সুযোগ্য সাহেবজাদা হযরত মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজীকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেন।

খতিব হিসেবে :
------------
তিনি পিতাজান কর্তৃক তাঁর জীবদ্দশাতে সুফিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন থেকে দীর্ঘদিন অবৈতনিক খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া বড় হুজুর রহ এর অব্যাহতির পরে তিনি ঈদ জামায়াতের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে এই দুটি দায়িত্ব তাঁর সাহেবজাদা হযরত মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজীকে অর্পণ করেন।

খেলাফত লাভ ও আধ্যাত্মিক জীবন:
-------------------------------
তাঁর পিতার ইন্তেকালের পূর্বে তাঁর তিন সাহেবজাদাদের খিলাফত প্রদান করেন। তাঁর পরে সুফিয়ার বড় হুজুর তথা তাঁর বড় ভাইজান দরবারের লোকদেরকে তরীকতের ছবক প্রদান করতেন। শেষ বয়সে বড় ভাইজানের নির্দেশে লোকদের নিকট থেকে বাইয়াত গ্রহণ করতেন এবং তরীকতের ছবক প্রদান করতেন। এছাড়া তিনি মুজাদ্দিদে জমান (রহ:) এর বড় সাহেবদাদা হযরত মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী ফুরফুরাবী (রহ:) থেকে খেলাফত লাভ করেন। তিনিও শেষ বয়সে দূর্বল হয়ে পড়লে তার সুযোগ্য সাহেবজাদা হযরত মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজীকে খিলাফত দিয়ে যান। বর্তমানে তিনিই দরবারে আসা লোকদের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং তরীকতের ছবক প্রদান করেন।

পবিত্র হজ্ব পালন:
---------------
হুজুর কেবলা রহ: ১৯৫৮,১৯৬৩,১৯৭৪,১৯৮৫,১৯৯৪ ও ২০০৭ সালে মোট ৭ বার পবিত্র হজ্ব পালন করেন।

পারিবারিক জীবন:
----------------
হুজুর কেবলা মীরসরাইয়ের মধ্যম মগাদিয়া গ্রামের বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা খাজা আহমদ (রহ:) এর জ্যৈষ্ঠ কন্যা মোছাম্মৎ দীল আফরোজ বেগমের সাথে ১৯৫২ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে বর্তমানে ১ কন্যা ও ৯ পুত্র সন্তান জীবিত আছেন। বর্তমানে সকলে স্ব স্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছেন।

হুজুর কেবলার রচিত কিতাব ও পান্ডুলিপিসমূহ:
----------------------------------------

হুজুর কেবলা অসংখ্য গ্রন্থ ও বিভিন্ন গ্রন্থের শরাফ রচনা করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোড়ন সৃষ্টিকারী কিতাব রুয়াতে হেলালে ঈদ ও রমজান। যা ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই কিতাবে ততকালীন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'তের বরেণ্য পীর মাশায়েখ ও আলেমগণ প্রশংসা ও সমর্থন করেন। এছাড়া অন্যান্যগুলো হলো-

১/ শরহে তাফসীরে কাশশাফ।
২/ জামেউল লু'লু আলা সুনানি সালাসা।
৩/ মুনহাসিরুল মা'লী ফী শরহে মুখতাসারুল মা'নী।
৪/ নাইলুশ শরফ ফী শরহে মুসতাতরাফ।
৫/ বানুরী শরহে উর্দু সিরাজী।
৬/ নুরুল ইলম শরহে আইনুল ইলম।
৭/ শরফে কাফিয়া ‌।
৮/ হুসুলুল ফিরাসাত শরহে দুরূসুল বালাগাত।
৯/ শরহে হেদায়া ।
১০/ শরহে ইতকান ওয়া ফাউজুল কাবীর।
১১/ তারিখুল ইসলাম।
১২/ শরহে সুনানে নাসায়ি।
১৩/ দুরূসুল বালাগাত।
১৪/ শরহে কুদুরি।
এছাড়া অসংখ্য লিখিত পান্ডুলিপি বিভিন্ন কারণে প্রকাশিত করা সম্ভব হয়নি।

হেদায়েত ও তাবলীগ:
------------------
চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলায় তাঁর হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান ছিলো, যারা তাঁর কাছ থেকে তরিকতের তালিম পেয়ে পুণ্য পথে চলার প্রত্যয় ও প্রেরণা পেতো; যেমন পরশ পাথরের স্পর্শ পেয়ে পাথরও পরিণত হয়ে পড়ে প্রকৃত সোনায়।

বাহাস ও মুনাজারা:
----------------
হুজুর কেবলা আকিদার ক্ষেত্রে শক্ত ছিলেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'তের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে প্রতিবাদ করতেন। ১৯৯৮ সালের ২০শে মার্চ মীরসরাই উপজেলার রহমতাবাদ গ্রামে ইখতেলাফে মুতালে বিষয়ে ''সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ উদযাপনকারী'' পক্ষের লোকদের সাথে একটি বাহাস করেন। এতে তারা হুজুর কেবলার উপস্থাপিত দলিল সমূহের কোন জবাব দিতে না পারায় পরাজয় স্বীকার করেন। এছাড়া ফেনী বড় মসজিদে মিলাদ ও কিয়াম বিরোধীদের সাথে একটি বাহাস অনুষ্ঠিত হ‌ওয়ার কথা ছিল। হুজুর কেবলা মিলাদ ও কিয়ামের পক্ষে অসংখ্য দলিল সহকারে একটি রিসালা রচনা করে ফেনী বড় মসজিদে উপস্থিত হলেও বিপক্ষে অবস্থান কারীরা উপস্থিত হয় নি। এছাড়া হুজুর কেবলা অসংখ্য বাহাস ও মুনাজারা করেন।

হুজুর কেবলার কারামত :
---------------------
হুজুর কেবলার অসংখ্য কারামত রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হুজুর কেবলা ইন্তেকালের ২ দিন পূর্বে হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে ১১ দ্বারা কিছু বুঝাচ্ছেন, তাৎক্ষনীক কেউ না বুঝলেও। ইন্তেকালের পর সন্তানরা বুঝতে পারলো ১১ দ্বারা ১১ ওয়াক্ত নামাজ তিনি পড়তে পারবেন না তা বুঝিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

ইন্তিকাল:
--------
হুজুর কেবলার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ৭ মার্চ ১২টা ১০ মিনিটে পাঁচলাইশস্থ পলি হসপিটাল ভর্তি করা হয়। ১০ই মার্চ, সোমবার,২০২০ইং (৯ই মার্চ দিবাগত রাত) ২টা ৩০ মিনিটের সময় এই মহান অলী আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। ইন্তিকালের সময় হুজুর কেবলার বয়স ছিল ৯২ বছর।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় সুফিয়া মাদ্রাসার মাঠ প্রাঙ্গনে সুফিয়া দরবার শরীফের খেলাফতপ্রাপ্ত পীর ও সুযোগ্য সাহেবজাদা হযরত মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজীর ইমামতিতে সালাতুল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মাদ্রাসার উত্তর পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Sufia Nuria Fazil Madrasha

Photos from Sufia Nuria Fazil Madrasha's post 30/01/2026

মাহফিলের প্রস্তুতি চলছে....

Sufia Nuria Fazil Madrasha

#মাহফিল২০২৬ #সুফিয়ামাদ্রাসা২০২৬

Photos from Sufia Nuria Fazil Madrasha's post 29/01/2026

ইন-শা-আল্লাহ, আগামি কাল ইছালে সাওয়াবের মাহফিলে আগত মেহমানদের জন্য দুপুর ও রাতের তবারুকের আয়োজন রয়েছে।
সবাইকে মাহফিলে আসার জন্য দাওয়াত রইলো।

Sufia Nuria Fazil Madrasha

#মাহফিল২০২৬

29/01/2026

ফাজিল ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪ এর ফলাফল সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে।
দুপুর ২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট লিংক (http://result.iau.edu.bd) এ পাওয়া যাবে।

Sufia Nuria Fazil Madrasha

#ফাজিল_রেজাল্ট২০২৬

26/01/2026

সুফিয়ার মরহুমে ছানী পীর ছাহেব পীরে কামেল বাহরুল উলুম শাহসূফী মাওলানা মুফতী নুরুচ্ছালাম (রহ:) [প্রকাশ: বড় হুজুর কেবলা] এর জীবনী

হাজার হাজার আলেমের ওস্তাদ,হাজারো মুরিদের পীর ও মুর্শিদ, যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকীহ, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নুরুচ্ছালাম রহঃ ১৯১৩ সালের ৫ আগষ্ট চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্নেহময়ী পিতা হলেন পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, বানীয়ে সুফিয়ার মরহুম পীর ছাহেব মুফতিয়ে আজম নিজামপুর হযরত মাওলানা শাহ সুফি আবদুল গনি রহঃ। তিনি সুফিয়ার আউয়াল সাহেব হুজুর নামে পরিচিত। তাঁর মাতার নাম মরহুম বদরুন নেসা, দাদার নাম মুন্সী মাওলানা শেখ করম আলী ভূঁইয়া। নানা হলেন ফুরফুরার মোজাদ্দেদে জামান (রহ:) এর খলিফা মাওলানা গোলামুর রহমান (রঃ)। । পিতা ও মাতা উভয় দিক দিয়ে তিনি ছিলেন উচ্চ বংশীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব।

শিক্ষা জীবন:
-----------
পিতার হাতেই হুজুরের পড়াশোনার হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। পিতার একান্ত তত্তাবধানেই তিনি সুফিয়া মাদরাসায় ইবতেদায়ী পাঞ্জম (বর্তমানে দশম শ্রেণী) পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। উচ্চশিক্ষা লাভ ও কর্মজীবন ১৯৩৩ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি দেওবন্দে গমন করেন। সেখানে গিয়ে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ দেওবন্দ দারুল উলুম মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখান এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটির অধীনে জাচি ইউপি ইসলামীয়া আলীয়া মাদরাসা থেকে থেকে ১৯৩৫ সালে কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদীস পাশ করেন। এরপর ১৯৩৮ সালে কামিল পাশ করেন। পাশাপাশি উর্দু ডিপ্লোমা কোর্স ও সমাপ্ত করেন।
কৃতিত্বপূর্ণ ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৩৮ সালে তিনি ভারতের যাচি শহরের 'খন্ড দরওয়াযা' নামক স্থানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪১ সালে এলাহাবাদ যাচি ইউপি ইসলামীয়া কামিল মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি করাচি শহরে অবস্থিত দারুল উলুম ইসলামীয়া নানু কোড়া বন্দর রোড মাদরাসার ১ বছর অধ্যাপনা করেন।

দেশে প্রত্যাবর্তন ও সুফিয়া মাদ্রাসায় কর্ম জীবন:
----------------------------------------
দীর্ঘ ১৪বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি ১৯৪৭ সালের ১লা ডিসেম্বর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এসময় তাঁর পিতা তাঁকে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে বিভিন্নভাবে পরীক্ষ নীরিক্ষা করেন। এতে তিনি শতভাগ উত্তীর্ণ হন। কোরআন, হাদীস, ফিকাহ্, উসূল আক্বাঈদ, ফারায়েযসহ দ্বীনি ইলমের সর্বত্র পুত্রের পান্ডিত্ব দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং সুফিয়া মাদরাসার মুদাররিসে আউয়াল হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন ১৯৪৮ সালের ১২/১৬ জানুয়ারী তিনি উক্ত পদে যোগদান করেন। তখন তাঁর বেতন ধার্য করা হয় ১২ টাকা। তখন থেকে আমৃত্যু তিনি সুফিয়া মাদরাসার খেদমত করে গেছেন। ১৯৫০ সালে উক্ত মাদ্রাসা আলীম শ্রেণী মঞ্জুরী প্রাপ্ত হলে তিনি হেড মৌলভীর দায়িত্ব পান এবং এই পদে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালে ফাজিল শ্রেণী মঞ্জুরী লাভ করে। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে ১৯৫৩সালে প্রথম দাখিল বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৩জন ছাত্র এবং একই সালে প্রথম আলীম বোর্ড পরীক্ষায় ১০জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। একই বৎসর প্রথম ফাজিল বোর্ড পরীক্ষায় ৬জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। ১৯৫৩ সালে কামিল (টাইটেল) ক্লাস চালু করা হয়। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তা চালু ছিল। ১৯৬২ সালে তিনি সুপার পদে উন্নীত হন এবং ৭৯/৮২সালে অধ্যক্ষ পদ অলংকৃত করেন। ১৯৮৪ সালের ৪ঠা আগষ্ট তিনি সরকারীভাবে চাকুরী থেকে অবসর নেন। অবসর নেয়ার পর তিনি প্রাইভেট শিক্ষক হিসাবে আলীম ও ফাজিল শ্রেণিতে হাদিস শরীফের দারস প্রদান করেন। তিনি ১৯৫২সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দাওরায়ে হাদীসের সিহাহ সিত্তার তালিম প্রদান করেন। অনেক সময় দেখা গেছে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি মাদরাসায় উপস্থিত হয়েছেন। শেষ জীবনে ২০০২-২০০৩ সালে তিনি বাড়ি থেকে রওয়ানা করে মাদ্রাসা পর্যন্ত কয়েকবার পথে বিশ্রাম করে মাদরাসায় পৌঁছতেন।

আধ্যাত্মিক জীবন ও খেলাফত লাভ :
------------------------------
হুজুরের আধ্যাত্মিক জীবন ছিল অতি উচ্চাঙ্গের। হুজুর কেবলা নিজ পিতার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশেবন্দীয়া, মোজাদ্দেদীয়া এই চার তরীকার খিলাফত লাভ করেন। ১৯৭০ সালের দিকে তিনি দরবারের মানুষকে জাহেরী ও বাতেনী ইলমের সবক প্রদানের জন্য অনুমতি লাভ করেন। তাঁর হাতে হাত রেখে হাজার হাজার মানুষ বাইয়াতবদ্ধ জীবনযাপন করে দ্বীনি ও দুনিয়াবী কামিয়াবী হাসিল করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছোট ভাই পীরে কামেল শাইখুল হাদিস শাহসূফি মাওলানা মুফতী ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) কে দরবারের মানুষকে বায়াত নেওয়া নির্দেশ দেন। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর হিসেবে আছেন তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা শাহসূফী মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজী (মা.জি.আ)।
মুফতী হিসেবে:
------------
সুফিয়ার আউয়াল ছাহেব হুজুর (রহঃ) ছিলেন নিজামপুর পরগনার মুফতিয়ে আজম। তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে সুফিয়া মাদ্রাসার দারুল ইফতা বিভাগের যতগুলো ফতোয়ার প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন বড় হুজুর কেবলা। তাঁর পর শাহসুফী মাওলানা ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) ছোট হুজুর কেবলা ফতোয়া দিতেন এবং বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা আল্লামা মুফতী মাওলানা আবদুল হক সিরাজী (মা.জি.আ) ফতোয়া দেন।

রচনা ও প্রকাশনা :
--------------
তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলো তৎকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পাঠ্যপুস্তক হিসেবে সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত ছিল। উর্দু ভাষায় রচিত সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শরহে মিশকাত, শরহে সুল্লমে উলুম, শরহে মুসাল্লেমে সবুত, হাললুল মুশকিলাত, নুরুল আনোয়ার ইত্যাদি। তার রচিত অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ (উর্দুতে লিখিত পান্ডুলিপি) অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি গ্রন্থ হচ্ছে আল ফতোয়া এ সুফিয়া। উল্লেখ্য, সুফিয়ার আউয়াল ছাহেব হুজুর (রহঃ) ছিলেন নিজামপুর পরগনার মুফতিয়ে আজম। তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে সুফিয়া মাদ্রাসায় যতগুলো ফতোয়ার প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন বড় হুজুর কেবলা। সেই ফতোয়ার সংকলনই হলো উক্ত গ্রন্থ। এছাড়াও তরীকত পন্থীদের জন্য লিখা তরীকত' শিক্ষা বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি গ্রন্থ। ১৩৯০ হিজরী মোতাবেক ১৯৭০ সালে প্রকাশিত উক্ত গ্রন্থে তরিকত পন্থিদের জন্য কতকগুলি আবশ্যকীয় ও বিশেষ ফায়েদার নামাজ যেমন তাহাজ্জুদ, এশরাক, আওয়াবীন, তাওবা ও সালাতুত তাসবীহর নিয়ত ও নিয়ম বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন তরিকায় ছাওয়াব রেছানীর নিয়ম এবং বিভিন্ন লতীফার মোরাকাবা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে দিয়ে তাঁর পিতা পীরে কামেল মুফতীয়ে আজম , রাহবারে শরিয়ত ওয়াত তরীকত আলহাজ্ব মাওঃ আবদুল গণি (রঃ) "তুহফাতুস সুফিয়া ফি মিলাদে খাইরিল বারিয়্যাহ" নামক একটি কিতাব লিখান যা আজো আমাদেরকে বিতর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান প্রদান করে। একই মলাটে দুই খন্ডে লিখিত (১ম খন্ড-৭১ পৃঃ এবং ২য় খন্ড ৯২ পৃঃ) মূল বইটি ২৭ রমজান ১৩৭০ হিজরীতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মূল বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সমূহ আলাদা করে খোলাছায়ে তুহফাতুস সুফিয়া প্রকাশ করা হয়। এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা হচ্ছে ৩৪। ১লা শাবান ১৩৭৯ হিজরী মোতাবেক ৩০ জানুয়ারী ১৯৬০ ইংরেজীতে খোলাছায়ে তুহফাতুস সুফিয়ার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করা হয়। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭১ (ওলামায়ে কেরামের মতামতের পৃষ্ঠা ছাড়া)।
উক্ত গ্রন্থটি তৎকালিন সময়ে প্রখ্যাত আলেমদের সমর্থন ও প্রশংসা পেয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন,
মাওলানা নেছার উদ্দিন আহম্মদ, পীর ছাহেব, শর্ষীনা,
মাওলানা আবু নসর মোহাম্মদ আব্দুল হাই, পীর সাহেব ফুরফুরা। মুফতি আমিনুল এহসান, বাংলাদেশ।
মাওলানা মোহাম্মদ ফোরকান মোহাদ্দেস, দারুলউলুম।
মাওলানা আব্দুর সাত্তার, ফেনী আলিয়া।
মাওলানা সুলতান আহাম্মাদ মাদ্রাসায়ে সুফিয়া।
মাওলানা ফজলুল করিম, সভাপতি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম নিজামপুর।
প্রফেসর নুরুল আবছার প্রমূখ।
তোহফাতুস সুফিয়া গ্রন্থে বড় হুজুর কেবলা প্রচলিত মিলাদ মাহফিল ও কিয়াম মোস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে তাফসিরে রুহুল বয়ান, মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া লাখনুভী, তাহকীকুল হক, সীরাত হলবিয়া, আল- উছিলাতুল উযমা, আল বায়েছ, আলমুসাখখাছ, কিয়ামুল মিল্লাত, মিয়াতে মাসায়েল। দুররুল মুনাজ্জাম, হাফতে মাসায়েল, ইকুদুল জাওয়াহির, মুলাখখাছ, ইশবাউর কালাম, আল উছিলা ইত্যাদি কিতাবের হাওয়ালা/রেফারেন্স দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

বিনয় এবং নম্রতা :
---------------
বিনয় এবং নম্রতা তাঁর চরিত্রের অন্যতম ভূষণ। প্রতেকে সাক্ষাৎ প্রার্থীদেরকে তার মর্যাদানুযায়ী সম্মান করতেন। তিনি কোন কটু কথা বলেছেন বা কারো গীবত করেছেন এরকম কোন নথির নেই। তিনি কারো সমালোচনা করতেন না। তাঁর কাছে কেউ কোন কিতাব লিখে পাঠালে তাতে কোন ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট লেখককে পত্রের মাধ্যমে ভুলগুলো ঋন্ধ করে দিতেন। কথায় কথায় কাউকে কাফির ফতোয়া দিতেন না এবং এরকম ফতোয়া দেয়া পছন্দ করতেন না। শিরক বিদআতের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপোষহীন। জগত শ্রেষ্ট এই আলেমে দ্বীন ছিলেন সম্পূর্ণ নিরহংকারী। তিনি নিজেকে সুফিয়া মাদ্রাসার খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন।
পবিত্র হজ্ব পালন
হুজুর কেবলা জীবনে সর্বমোট ৯ বার হজ্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালেই তিনি সর্বপ্রথম হজ্বে গমন করেন। এর পর ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালে হজ্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৩সালে স্ব-স্ত্রীক হজ্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে পবিত্র হজ্ব পালন করেন।
শাহজাদাদের পরিচিতি:
-------------------
বড় শাহজাদা : এ.এন.এম আনোয়ারুল হক নিজামী
মেঝ শাহজাদাঃ মাওলানা মোঃ অহিদুল হক নুরী
ছোট শাহজাদা : মাওলানা মোঃ নেছারুল হক নুরী

অসুস্থতা শুরু:
-----------
দীর্ঘ আট বছর যাবত তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়িতেই অবস্থান করতেন। বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। এ অবস্থায়ও তিনি কোনদিন তাহাজ্জুদ নামাজ ছেড়ে দেননি। যিকির আযকারও নিয়মিত করতেন। তাঁর স্মরণ শক্তিতেও কোনরূপ কমতি আসেনি। মৃত্যুর দেড় বছর পূর্বে তাঁর দু'নয়নের দৃষ্টি শক্তিও হারিয়ে যায়। সর্বশেষ গাত ২৯ আগষ্ট ২০১০ রোজ রোববার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের সময় আসরের নামাযের ওয় করে চেয়ারে বসার সময় হঠাৎ তিনি পা ছিটকে পড়ে যান এবং পায়ের গোড়ায় প্রচন্ড ব্যথা পান। পরদিন সকালে স্থানীয় মাতৃকা হাসাপাতালে এনে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় তাঁর বাম পায়ের গোড়ার হাড় ভেঙ্গে দু'টুকরা হয়ে গেছে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর ১০ জুমাবার তাঁকে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার জন্যে বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁকে নেয়া হলেও কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তাঁর কাছ থেকে কোন ফি গ্রহণ করেননি। এমনকি মাতৃকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পর্যন্ত নেননি। শারীরিক অবস্থার এতটুকু অবনতি ঘটলেও তিনি তায়াম্মুম করে শুয়ে নামায আদায় করেছেন এবং রোযা রেখেছেন। এমনকি যতদিন পূর্ণ হুশ ছিল তাহজ্জুদের নামাযও আদায় করেছেন।

ইন্তেকাল ও জানাযা
-----------------
২১ অক্টোবর ২০১০ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, বহু প্রতিভার অধিকারী ইলমে দ্বীনের নিঃস্বার্থ খাদেম, হাজার হাজার আলেমের উস্তাদ, প্রচারবিমুখ আল্লাহর ওলী পীরে কামেল আলহাজ্ব মাওঃ মুফতী মুহাম্মদ নুরুচ্ছালাম (রঃ) ইন্তেকাল কবেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন"। সেদিন ছিল আরবী ১৩ জিলক্বদ ১৪৩১ হিজরী। ৬ই কার্তিক ১৪১৭ বাংলা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টা। পরদিন ২২ অক্টোবর বিকাল ৩টায় সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজার হাজার ছাত্র, ভক্ত,মুরীদান ও মুসল্লির ঢল নামে। জানাজা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন উত্তর পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজ পড়ান হুজুরের মেঝ ছাহেবজাদা মাওলানা মোঃ অহিদুল হক নূরী এবং জানাজা শেষে দোয়া পরিচালনা করেছেন সুফিয়ার মরহুমে ছালেছ পীর ছাহেব পীরে কামেল শাহসুফী মাওলানা মুফতী ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) [ছোট হুজুর কেবলা]

Photos from Sufia Nuria Fazil Madrasha's post 26/01/2026

২০২৬ সালের দাখিল পরিক্ষার সময়সূচি
পরিক্ষা শুরু সকাল ১০.০০ টা থেকে।

Sufia Nuria Fazil Madrasha
#দাখিল২০২৬

Want your school to be the top-listed School/college in Mirsarai?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Sufia Madrasha. Mithanala. Mirsarai
Mirsarai