26/01/2026
সুফিয়ার মরহুমে ছানী পীর ছাহেব পীরে কামেল বাহরুল উলুম শাহসূফী মাওলানা মুফতী নুরুচ্ছালাম (রহ:) [প্রকাশ: বড় হুজুর কেবলা] এর জীবনী
হাজার হাজার আলেমের ওস্তাদ,হাজারো মুরিদের পীর ও মুর্শিদ, যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকীহ, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নুরুচ্ছালাম রহঃ ১৯১৩ সালের ৫ আগষ্ট চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্নেহময়ী পিতা হলেন পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, বানীয়ে সুফিয়ার মরহুম পীর ছাহেব মুফতিয়ে আজম নিজামপুর হযরত মাওলানা শাহ সুফি আবদুল গনি রহঃ। তিনি সুফিয়ার আউয়াল সাহেব হুজুর নামে পরিচিত। তাঁর মাতার নাম মরহুম বদরুন নেসা, দাদার নাম মুন্সী মাওলানা শেখ করম আলী ভূঁইয়া। নানা হলেন ফুরফুরার মোজাদ্দেদে জামান (রহ:) এর খলিফা মাওলানা গোলামুর রহমান (রঃ)। । পিতা ও মাতা উভয় দিক দিয়ে তিনি ছিলেন উচ্চ বংশীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব।
শিক্ষা জীবন:
-----------
পিতার হাতেই হুজুরের পড়াশোনার হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন। পিতার একান্ত তত্তাবধানেই তিনি সুফিয়া মাদরাসায় ইবতেদায়ী পাঞ্জম (বর্তমানে দশম শ্রেণী) পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। উচ্চশিক্ষা লাভ ও কর্মজীবন ১৯৩৩ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি দেওবন্দে গমন করেন। সেখানে গিয়ে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ দেওবন্দ দারুল উলুম মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখান এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটির অধীনে জাচি ইউপি ইসলামীয়া আলীয়া মাদরাসা থেকে থেকে ১৯৩৫ সালে কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদীস পাশ করেন। এরপর ১৯৩৮ সালে কামিল পাশ করেন। পাশাপাশি উর্দু ডিপ্লোমা কোর্স ও সমাপ্ত করেন।
কৃতিত্বপূর্ণ ছাত্রজীবন শেষ করে ১৯৩৮ সালে তিনি ভারতের যাচি শহরের 'খন্ড দরওয়াযা' নামক স্থানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪১ সালে এলাহাবাদ যাচি ইউপি ইসলামীয়া কামিল মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি করাচি শহরে অবস্থিত দারুল উলুম ইসলামীয়া নানু কোড়া বন্দর রোড মাদরাসার ১ বছর অধ্যাপনা করেন।
দেশে প্রত্যাবর্তন ও সুফিয়া মাদ্রাসায় কর্ম জীবন:
----------------------------------------
দীর্ঘ ১৪বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি ১৯৪৭ সালের ১লা ডিসেম্বর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এসময় তাঁর পিতা তাঁকে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে বিভিন্নভাবে পরীক্ষ নীরিক্ষা করেন। এতে তিনি শতভাগ উত্তীর্ণ হন। কোরআন, হাদীস, ফিকাহ্, উসূল আক্বাঈদ, ফারায়েযসহ দ্বীনি ইলমের সর্বত্র পুত্রের পান্ডিত্ব দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং সুফিয়া মাদরাসার মুদাররিসে আউয়াল হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন ১৯৪৮ সালের ১২/১৬ জানুয়ারী তিনি উক্ত পদে যোগদান করেন। তখন তাঁর বেতন ধার্য করা হয় ১২ টাকা। তখন থেকে আমৃত্যু তিনি সুফিয়া মাদরাসার খেদমত করে গেছেন। ১৯৫০ সালে উক্ত মাদ্রাসা আলীম শ্রেণী মঞ্জুরী প্রাপ্ত হলে তিনি হেড মৌলভীর দায়িত্ব পান এবং এই পদে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালে ফাজিল শ্রেণী মঞ্জুরী লাভ করে। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে ১৯৫৩সালে প্রথম দাখিল বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১৩জন ছাত্র এবং একই সালে প্রথম আলীম বোর্ড পরীক্ষায় ১০জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। একই বৎসর প্রথম ফাজিল বোর্ড পরীক্ষায় ৬জন ছাত্র অংশগ্রহণ করে। ১৯৫৩ সালে কামিল (টাইটেল) ক্লাস চালু করা হয়। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তা চালু ছিল। ১৯৬২ সালে তিনি সুপার পদে উন্নীত হন এবং ৭৯/৮২সালে অধ্যক্ষ পদ অলংকৃত করেন। ১৯৮৪ সালের ৪ঠা আগষ্ট তিনি সরকারীভাবে চাকুরী থেকে অবসর নেন। অবসর নেয়ার পর তিনি প্রাইভেট শিক্ষক হিসাবে আলীম ও ফাজিল শ্রেণিতে হাদিস শরীফের দারস প্রদান করেন। তিনি ১৯৫২সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দাওরায়ে হাদীসের সিহাহ সিত্তার তালিম প্রদান করেন। অনেক সময় দেখা গেছে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি মাদরাসায় উপস্থিত হয়েছেন। শেষ জীবনে ২০০২-২০০৩ সালে তিনি বাড়ি থেকে রওয়ানা করে মাদ্রাসা পর্যন্ত কয়েকবার পথে বিশ্রাম করে মাদরাসায় পৌঁছতেন।
আধ্যাত্মিক জীবন ও খেলাফত লাভ :
------------------------------
হুজুরের আধ্যাত্মিক জীবন ছিল অতি উচ্চাঙ্গের। হুজুর কেবলা নিজ পিতার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে কাদেরীয়া, চিশতিয়া, নকশেবন্দীয়া, মোজাদ্দেদীয়া এই চার তরীকার খিলাফত লাভ করেন। ১৯৭০ সালের দিকে তিনি দরবারের মানুষকে জাহেরী ও বাতেনী ইলমের সবক প্রদানের জন্য অনুমতি লাভ করেন। তাঁর হাতে হাত রেখে হাজার হাজার মানুষ বাইয়াতবদ্ধ জীবনযাপন করে দ্বীনি ও দুনিয়াবী কামিয়াবী হাসিল করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছোট ভাই পীরে কামেল শাইখুল হাদিস শাহসূফি মাওলানা মুফতী ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) কে দরবারের মানুষকে বায়াত নেওয়া নির্দেশ দেন। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর হিসেবে আছেন তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা শাহসূফী মাওলানা মুফতী আবদুল হক সিরাজী (মা.জি.আ)।
মুফতী হিসেবে:
------------
সুফিয়ার আউয়াল ছাহেব হুজুর (রহঃ) ছিলেন নিজামপুর পরগনার মুফতিয়ে আজম। তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে সুফিয়া মাদ্রাসার দারুল ইফতা বিভাগের যতগুলো ফতোয়ার প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন বড় হুজুর কেবলা। তাঁর পর শাহসুফী মাওলানা ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) ছোট হুজুর কেবলা ফতোয়া দিতেন এবং বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য ভাতিজা আল্লামা মুফতী মাওলানা আবদুল হক সিরাজী (মা.জি.আ) ফতোয়া দেন।
রচনা ও প্রকাশনা :
--------------
তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলো তৎকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পাঠ্যপুস্তক হিসেবে সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত ছিল। উর্দু ভাষায় রচিত সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শরহে মিশকাত, শরহে সুল্লমে উলুম, শরহে মুসাল্লেমে সবুত, হাললুল মুশকিলাত, নুরুল আনোয়ার ইত্যাদি। তার রচিত অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ (উর্দুতে লিখিত পান্ডুলিপি) অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি গ্রন্থ হচ্ছে আল ফতোয়া এ সুফিয়া। উল্লেখ্য, সুফিয়ার আউয়াল ছাহেব হুজুর (রহঃ) ছিলেন নিজামপুর পরগনার মুফতিয়ে আজম। তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে সুফিয়া মাদ্রাসায় যতগুলো ফতোয়ার প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন বড় হুজুর কেবলা। সেই ফতোয়ার সংকলনই হলো উক্ত গ্রন্থ। এছাড়াও তরীকত পন্থীদের জন্য লিখা তরীকত' শিক্ষা বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি গ্রন্থ। ১৩৯০ হিজরী মোতাবেক ১৯৭০ সালে প্রকাশিত উক্ত গ্রন্থে তরিকত পন্থিদের জন্য কতকগুলি আবশ্যকীয় ও বিশেষ ফায়েদার নামাজ যেমন তাহাজ্জুদ, এশরাক, আওয়াবীন, তাওবা ও সালাতুত তাসবীহর নিয়ত ও নিয়ম বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন তরিকায় ছাওয়াব রেছানীর নিয়ম এবং বিভিন্ন লতীফার মোরাকাবা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে দিয়ে তাঁর পিতা পীরে কামেল মুফতীয়ে আজম , রাহবারে শরিয়ত ওয়াত তরীকত আলহাজ্ব মাওঃ আবদুল গণি (রঃ) "তুহফাতুস সুফিয়া ফি মিলাদে খাইরিল বারিয়্যাহ" নামক একটি কিতাব লিখান যা আজো আমাদেরকে বিতর্কিত অনেক সমস্যার সমাধান প্রদান করে। একই মলাটে দুই খন্ডে লিখিত (১ম খন্ড-৭১ পৃঃ এবং ২য় খন্ড ৯২ পৃঃ) মূল বইটি ২৭ রমজান ১৩৭০ হিজরীতে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মূল বই থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সমূহ আলাদা করে খোলাছায়ে তুহফাতুস সুফিয়া প্রকাশ করা হয়। এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা হচ্ছে ৩৪। ১লা শাবান ১৩৭৯ হিজরী মোতাবেক ৩০ জানুয়ারী ১৯৬০ ইংরেজীতে খোলাছায়ে তুহফাতুস সুফিয়ার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করা হয়। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭১ (ওলামায়ে কেরামের মতামতের পৃষ্ঠা ছাড়া)।
উক্ত গ্রন্থটি তৎকালিন সময়ে প্রখ্যাত আলেমদের সমর্থন ও প্রশংসা পেয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন,
মাওলানা নেছার উদ্দিন আহম্মদ, পীর ছাহেব, শর্ষীনা,
মাওলানা আবু নসর মোহাম্মদ আব্দুল হাই, পীর সাহেব ফুরফুরা। মুফতি আমিনুল এহসান, বাংলাদেশ।
মাওলানা মোহাম্মদ ফোরকান মোহাদ্দেস, দারুলউলুম।
মাওলানা আব্দুর সাত্তার, ফেনী আলিয়া।
মাওলানা সুলতান আহাম্মাদ মাদ্রাসায়ে সুফিয়া।
মাওলানা ফজলুল করিম, সভাপতি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম নিজামপুর।
প্রফেসর নুরুল আবছার প্রমূখ।
তোহফাতুস সুফিয়া গ্রন্থে বড় হুজুর কেবলা প্রচলিত মিলাদ মাহফিল ও কিয়াম মোস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে তাফসিরে রুহুল বয়ান, মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া লাখনুভী, তাহকীকুল হক, সীরাত হলবিয়া, আল- উছিলাতুল উযমা, আল বায়েছ, আলমুসাখখাছ, কিয়ামুল মিল্লাত, মিয়াতে মাসায়েল। দুররুল মুনাজ্জাম, হাফতে মাসায়েল, ইকুদুল জাওয়াহির, মুলাখখাছ, ইশবাউর কালাম, আল উছিলা ইত্যাদি কিতাবের হাওয়ালা/রেফারেন্স দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বিনয় এবং নম্রতা :
---------------
বিনয় এবং নম্রতা তাঁর চরিত্রের অন্যতম ভূষণ। প্রতেকে সাক্ষাৎ প্রার্থীদেরকে তার মর্যাদানুযায়ী সম্মান করতেন। তিনি কোন কটু কথা বলেছেন বা কারো গীবত করেছেন এরকম কোন নথির নেই। তিনি কারো সমালোচনা করতেন না। তাঁর কাছে কেউ কোন কিতাব লিখে পাঠালে তাতে কোন ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট লেখককে পত্রের মাধ্যমে ভুলগুলো ঋন্ধ করে দিতেন। কথায় কথায় কাউকে কাফির ফতোয়া দিতেন না এবং এরকম ফতোয়া দেয়া পছন্দ করতেন না। শিরক বিদআতের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপোষহীন। জগত শ্রেষ্ট এই আলেমে দ্বীন ছিলেন সম্পূর্ণ নিরহংকারী। তিনি নিজেকে সুফিয়া মাদ্রাসার খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন।
পবিত্র হজ্ব পালন
হুজুর কেবলা জীবনে সর্বমোট ৯ বার হজ্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালেই তিনি সর্বপ্রথম হজ্বে গমন করেন। এর পর ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৮৮ সালে হজ্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৩সালে স্ব-স্ত্রীক হজ্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে পবিত্র হজ্ব পালন করেন।
শাহজাদাদের পরিচিতি:
-------------------
বড় শাহজাদা : এ.এন.এম আনোয়ারুল হক নিজামী
মেঝ শাহজাদাঃ মাওলানা মোঃ অহিদুল হক নুরী
ছোট শাহজাদা : মাওলানা মোঃ নেছারুল হক নুরী
অসুস্থতা শুরু:
-----------
দীর্ঘ আট বছর যাবত তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়িতেই অবস্থান করতেন। বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। এ অবস্থায়ও তিনি কোনদিন তাহাজ্জুদ নামাজ ছেড়ে দেননি। যিকির আযকারও নিয়মিত করতেন। তাঁর স্মরণ শক্তিতেও কোনরূপ কমতি আসেনি। মৃত্যুর দেড় বছর পূর্বে তাঁর দু'নয়নের দৃষ্টি শক্তিও হারিয়ে যায়। সর্বশেষ গাত ২৯ আগষ্ট ২০১০ রোজ রোববার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের সময় আসরের নামাযের ওয় করে চেয়ারে বসার সময় হঠাৎ তিনি পা ছিটকে পড়ে যান এবং পায়ের গোড়ায় প্রচন্ড ব্যথা পান। পরদিন সকালে স্থানীয় মাতৃকা হাসাপাতালে এনে পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় তাঁর বাম পায়ের গোড়ার হাড় ভেঙ্গে দু'টুকরা হয়ে গেছে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর ১০ জুমাবার তাঁকে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার জন্যে বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁকে নেয়া হলেও কোন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তাঁর কাছ থেকে কোন ফি গ্রহণ করেননি। এমনকি মাতৃকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পর্যন্ত নেননি। শারীরিক অবস্থার এতটুকু অবনতি ঘটলেও তিনি তায়াম্মুম করে শুয়ে নামায আদায় করেছেন এবং রোযা রেখেছেন। এমনকি যতদিন পূর্ণ হুশ ছিল তাহজ্জুদের নামাযও আদায় করেছেন।
ইন্তেকাল ও জানাযা
-----------------
২১ অক্টোবর ২০১০ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন, বহু প্রতিভার অধিকারী ইলমে দ্বীনের নিঃস্বার্থ খাদেম, হাজার হাজার আলেমের উস্তাদ, প্রচারবিমুখ আল্লাহর ওলী পীরে কামেল আলহাজ্ব মাওঃ মুফতী মুহাম্মদ নুরুচ্ছালাম (রঃ) ইন্তেকাল কবেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন"। সেদিন ছিল আরবী ১৩ জিলক্বদ ১৪৩১ হিজরী। ৬ই কার্তিক ১৪১৭ বাংলা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টা। পরদিন ২২ অক্টোবর বিকাল ৩টায় সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজার হাজার ছাত্র, ভক্ত,মুরীদান ও মুসল্লির ঢল নামে। জানাজা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন উত্তর পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজ পড়ান হুজুরের মেঝ ছাহেবজাদা মাওলানা মোঃ অহিদুল হক নূরী এবং জানাজা শেষে দোয়া পরিচালনা করেছেন সুফিয়ার মরহুমে ছালেছ পীর ছাহেব পীরে কামেল শাহসুফী মাওলানা মুফতী ছেরাজুল ইসলাম (রহ:) [ছোট হুজুর কেবলা]