11/02/2019
!!!!!!! কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তার কোথায় !!!!!!!!
Academically কাগজে-কলমে এবং Practically প্রশিক্ষণ (ইন্টার্ণী) প্রাপ্ত BMDC Recognized "A ক্যাটাগরীর MBBS ডাক্তার ও B ক্যাটাগরীর SACMO চিকিৎসক" নাকি তথাকথিত মাত্র ৩ মাসের ট্রেনিং প্রাপ্ত নন-মেডিকেল পারসোন যারা অাজ নব্য ডাক্তার (কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার) হিসেবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কে চিকিৎসার মতো একটা অতিব Sensitive স্বাস্থ্যসেবার প্রদানের জন্য নিয়োগ পাচ্ছে তারা কি সেই চিকিৎসা সেবা দেয়ার অাদৌ যোগ্য???
নাকি দেশে মহামারী অাকারে ডাক্তার সংকট চলছে যে, তাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে উপায় নাই? অথচ দেশে এখনো প্রায় 30-40 হাজার MBBS ডাক্তার এবং 50-70 হাজার SACMO ডাক্তার বেকার অাছে! কেউ কেউ বেকারত্বের ঘানি টানতে না পেরে অাত্মহত্যা পর্যন্ত করছে! তাহলে কোন দুঃখে? কোন যুক্তিতে? কাদের পরামর্শে এমন একটা সিদ্ধান্ত! নাকি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ লোক অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত গরীব বলে তাদের জন্য নামসর্বস্ব তথাকথিত ৩ মাসের ট্রেনিংপ্রাপ্ত ডাক্তার হলেই চলবে! নাকি গ্রামের লোক কিছু বুঝে না? নাকি প্রতিবাদ করতে জানে না?
So my question Who is best? Please answer me,,,,,
★ 100% Medical Person=MBBS Doctor
★ 50% Medical Person=SACMO Doctor
★ 0% Non Medical Person=HSC পাশ করেই যারা অাজ তথাকথিত "কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার নামক নব্য ডাক্তার! এরাই যে, কিছুদিন পর বহুত বড় ডাক্তার হয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বারোটা বাজাবে না তার গ্যারান্টি কোথায়????
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' কবির কথাটির তাৎপর্য যদি সত্যিই তাই হয় অর্থ্যাৎ জীব মাত্রই তার স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর হয়ে থাকে তাহলে নন-মেডিকেল লোক দিয়ে নয় বরং সম্ভব হলে এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে, যদি এটিও সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত মেডিকেল সাইন্সে ৪ টি বছর লেখাপড়া করা SACMO চিকিৎসকদের দিয়ে "কমিউনিটি ক্লিনিক" গুলোতে নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন তবুও প্লিজ 100% নন-মেডিকেল পারসোনদের কে নিয়োগ দিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সাথে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করবেন না। অন্তত একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অামি তাই মনে করি।
অামার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চাই:
১) নন-মেডিকেল পারসোনদের কে (মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা,,) মাত্র ৩ মাসের একটা ট্রেনিং দিলেই কি তারা ডাক্তার বনে যাবে মানে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে ??? যদি তাই হয় তাহলে অামরা যারা এমবিবিএস ডাক্তার অাছি, অামরা যারা এতোদিন কোয়ার্ক, পল্লী চিকিৎসকদের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করে ছেড়েছি তারাই বা এখন কি বলবেন??? তাহলে সেইসব পল্লী চিকিৎসকদেরই বা কি দোষ? তারাও তো কমপক্ষে ৬ মাস কিংবা ১ বছরের ট্রেনিং করে থাকে।
বিশ্বাস করুন অার নাই করুন এইসব পল্লী চিকিৎসক কিন্তু তথাকথিত ""কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারর"" দের তুলনায় অনেক অনেক অভিজ্ঞ। তারাও কিন্তু কমপক্ষে ৬ মাস কিংবা ১ বছরের ট্রেনিং করে অথচ এইসব হেলথ প্রোভাইডাররা মাত্র মাত্র মাত্র ৩ মাসের ট্রেনিং প্রাপ্ত!! কি হাস্যকর ব্যাপার.....
২) First choice হিসেবে MBBS ডাক্তারদের কে "কমিউনিটি ক্লিনিক" গুলোতে নিয়োগ দেয়া হোক। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে অটোমেটিক্যালি Second choice হিসেবে BMDC র B ক্যাটাগরীর চিকিৎসক যারা অাছে তাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে নন-মেডিকেল পারসোনদের কে কেন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে???
তাই অাবারও কবির ভাষায় অামি বলতে চাই, "বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
কবির চরণটি মতে, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা প্রদানকারী (ক্ষুদ্র পরিসর হোক অার বৃহৎ পরিসরেই হোক) যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ডাক্তাররা চিকিৎসা দিবে এটাই স্বাভাবিক এবং 100% যুক্তিক ও কাঙ্খিত। But এই মুহূর্তে সারা বাংলাদেশের প্রায় ১৩০০০ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কি কোনো BMDC Recognized এমবিবিএস ডাক্তার অাদৌ অাছে?? অামি নিজেই একজন BMDC Recognized ডাক্তার হিসেবে সর্বোপরি প্রত্যন্ত এক গ্রামের সন্তান হিসেবে মনে প্রাণে চাইব যে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে এমবিবিএস ডাক্তাররা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কে চিকিৎসা দিক। কিন্তু বাস্তবতার অালোকে সেটা কি এই মুহূর্তে এই মুহূর্তে অাদৌ সম্ভব? যেখানে সদর হাসপাতাল ও উপজেলা লেভেলেই পর্যাপ্ত ডাক্তারের অভাব অাছে সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ের এইসব কমিউনিটি ক্লিনিকে এখনেই এমবিবিএস ডাক্তার পাওয়া যাবে এমনটা ভাবা দুরাশা ছাড়া কিছুই না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব একটি প্রকল্পের নাম কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা এখন ১৩ হাজার ৮৬১টি। ২০২২ সালের মধ্যে সারাদেশে ১৭ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ সংক্রান্ত সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
কিন্তু এতকিছুর মহাযোগ্যের পর প্রশ্ন একটি থেকেই যায়, এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কি সেবা দিচ্ছে কোন ডাক্তার? নাকি নন-মেডিকেল তথাকথিত ডাক্তার???
বাস্তবতা হচ্ছে এই কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে সেবা দিচ্ছে HSC সমমান আটর্স, কমার্স,কারিগরি,মানবিক যেকোন বিভাগের ছাত্ররা। তাদের নাম দেওয়া হয়েছে, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার। যাদের মাত্র ৩ মাসের একটি ট্রেনিং দিয়ে এখানে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাবলেও গা শিওরে উঠে, সারাজীবন কারিগরি পড়ে ৩ মাসের একটি সাধারন কোর্সেই সে পেয়ে যাচ্ছে ড্রাগ লেখার লাইসেন্স।
হয়তোবা উপস্থিত কিছু সফলতা পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপূরণীয় ক্ষতি হবে যার ফলে জনমনে তৈরী হবে শঙ্কা! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে! অথচ BMDC Recognized A অথবা B ক্যাটাগরীর ডাক্তারদের নিয়োগ দিলে স্বাস্থ্যসেবার মান অনেকগুণ বেড়ে যেতে বাধ্য।
এভাবে চলতে থাকলে এই মেগা প্রকল্পটি অতি দ্রুতই জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সঙ্কা করছি।। মান নিয়ে বিশ্লেষণমূলক একটা পরিসংখ্যান দিচ্ছি। অাশা করি, বুঝতে খুব একটা সমস্যা হবার কথা না।
প্রথমত, কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে যেসব "কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার" অাছে তাদের কেউবা বিজ্ঞান বিভাগের ছিলেন, কেউবা মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী। অামার বিশ্বাস গুটি কতক ছাড়া অধিকাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা B, A- কিংবা A গ্রেড। এছাড়াও মামা-খালু কিংবা অবৈধ টাকার জোরে নিয়োগ প্রাপ্তের সংখ্যাও অাছে।
দ্বিতীয়ত, ম্যাটস থেকে পাশকৃত চিকিৎসকরা তাদের তুলনায় মেধাবী। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা বিষয়ক ট্রেনিং স্কুলে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ ৪৮টি মাস সরাসরি এমবিবিএস নামক ডাক্তারদের তত্তাবধায়নে লেখাপড়া করে। তারপরে তারা BMDC র B ক্যাটাগরীর চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হয়। তারাও যে মেধাবী তার একটা নমুনা দিচ্ছি।
অামার কর্মস্থল এর পাশেই "নোয়াখালী ম্যাটস"। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানতে পারলাম যে, 2010-11 সেশনে 102 জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এরমধ্যে 42 জন A+ ধারী। 2 জন গোল্ডেন A+ ধারী, বাকী সবগুলো A গ্রেডধারী। সর্বনিম্ন 4.06 ছিল একজন।
দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাই মনে অাজ প্রশ্ন জাগছে এদেশে অাদৌ কি মেধার মূল্য অাছে? যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে 48 টি মাস মেডিকেল সাইন্সে লেখাপড়া করেও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকুরী পায় না অথচ তুলনামূলক খারাপ রেজাল্ট নিয়েও সর্বোপরি নন মেডিকেল পারসোন হয়েও এইসব ছেলেমেয়ে গুলোকে ডিঙিয়ে তারাই অাবার ""কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার"" নামে নিয়োগ পায়! ব্যাপারটি যতোটা না হাস্যকর তারচেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক।
এখনই যদি সরকার সঠিক পদক্ষেপ না নিতে পারে, তবে সত্যিকারের জনগণের দাড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেবার যে স্বপ্ন নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যাত্রা শুরু করেছিল। সেই যাত্রার বাস্তবায়ন কোনদিনই সম্ভব হবেনা।
এমতাবস্থায় এই মেগা প্রকল্পটির সঠিক ব্যাবস্থাপনায় আনা সময়ের দাবী রাখে। এখানে সত্যিকারের ডাক্তারদেরই নিয়োগ দিতে হবে। না হলে কোনদিনই এই প্রকল্পটি মানুষের আস্থা অর্জন করে উঠতে পারবেনা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আমাদের দেশের ডাক্তারদের তো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ঠিকমতো খুজে পাওয়া যায়না। তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ দিলে কিভাবে যাবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই, বিকল্প সমাধান হতে পারে ডিপ্লোমা চিকিৎসকরা। যাদের মেডিকেলের ১৪ টি বিষয়ের উপর ৩ বছরের তাত্ত্বিক এবং ১ বছরের ইন্টার্নশিপ সহ মোট ৪ বছরে তারা ডিএমএফ(DMF) ডিগ্রি অর্জন করে। এছাড়া ডিগ্রি শেষে তাদের বিএমডিসি রেজিঃ দেওয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে বৈধ চিকিৎসক হিসাবে বিএমডিসি রেজিস্টেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস, বিডিএস এবং ডিএমএফ দেরই দেওয়া হয়।
এছাড়া তাদের সাব এসিসট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার(SACMO) হিসাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে দীর্ঘকাল থেকে তারা সুনামের সাথে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে আসছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর চিত্র আমাদের বর্তমানে সকলেরই জানা। এখানে বড় বড় ডাক্তারদের নিয়মিত খুজে পাওয়া না গেলেও এই ডিপ্লোমা চিকিৎসকরাই যে গ্রাম ৬০-৭০ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে এ সম্পর্কিত খবরগুলো প্রায়সই বিভিন্ন পত্রিকার পতায় নজরে আসে। তবে শেষ এক দশকেরও বেশী সময় ধরে তাদের নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সেক্টরে বেকারত্বের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে । বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজারের বেশী ডিপ্লোমা চিকিৎসক বেকারত্বে ভুগছে।
এ অবস্থায় নন-মেডিকেল পারসোন বাদ দিয়ে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের এই প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারাটা হবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন। যদি এই প্রকল্পটিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তবে তারা এমবিবিএস ডাক্তারদের সহায়ক হিসেবে জনগণের দোরগোড়ায় প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারবে বলে অামি দৃঢ়ভাবে মনে করি এবং বাংলাদেশ সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য সেবায় রোল মডেল হিসাবে বিবেচিত হবে। যেটি হবে এই প্রকল্পের সত্যিকারের উদ্দেশ্য সাধন! অামি কোনো পক্ষ নিয়ে এ লেখাটি লিখলাম না বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যগত স্বার্থের কথা চিন্তা করে বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। কারো খারাপ লাগতেই পারে। তাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে শব্দ চয়ন ও বানান ভুলগুলো দেখবেন। সবাইকে অামার সালাম "অাসসালামু অালাইকুম"
=========== ব্যাক্তিগত মতামত============
ডাঃ মোঃ মাহ্ফুজ্জামান (দীপ)
এমবিবিএস, ডিএমইউ, এফসিজিপি, সিসিডি
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক,
মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, কেন্দ্রীয় কমিটি।