31/12/2025
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
জেনারেল ও ইসলামী শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি যুগোপযোগী ও আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
জেনারেল ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
31/12/2025
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
29/11/2025
আল্লাহর গযব থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া (সহীহ মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি বেশি পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ
وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসন্তুষ্টি (গযব) থেকে আশ্রয় চাই।
তোমার ক্ষমার মাধ্যমে তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই,
আর তোমার থেকেই তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”
🕌 ২. আল্লাহর শাস্তি, ফিতনা, আগুন ও কবরের আযাব থেকে বাঁচার দোয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতে (তাশাহহুদের পরে) দোয়া করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ،
وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ،
وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ،
وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব,
কবরের আযাব,
জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
— (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
🕌 ৩. আল্লাহর গযব নামার সময়ের দোয়া
রাসূল ﷺ বলতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا،
وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি এই (ঘটনাবলীর) কল্যাণ এবং এর ভেতরের কল্যাণ চাই,
আর এর অমঙ্গল ও ভেতরের অমঙ্গল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।”
আযাবের আশঙ্কা দেখা দিলে এই দোয়া পড়া যেত।
🕌 ৪. মুমিনদের জন্য সাধারণ হাদীস
হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি নিয়মিত আল্লাহর কাছে গযব ও শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে,
আল্লাহ তাকে নিরাপদে রাখেন।”
(অর্থবহ বাণী – সহীহ হাদীসসমূহের মূল দোয়া থেকে নেওয়া)
19/11/2025
১️⃣ নবী ﷺ বলেন:
"ফিতনা দেখা দিলে ঘরে থাকা বাহিরে যাওয়ার চেয়ে উত্তম, আর দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে বসে থাকা উত্তম, আর বসে থাকার চেয়ে শুয়ে থাকা উত্তম।"
— সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম
🔸 অর্থ: ফিতনা ছড়িয়ে পড়লে যতটা সম্ভব দূরে থাকা, কম কথা বলা, কম চলাফেরা করা — এগুলোই নিরাপদ।
২️⃣ রাসূল ﷺ বলেন:
"আসন্ন ফিতনার সময় যে ব্যক্তি নিজেকে দূরে রাখবে, সে মুক্ত থাকবে। আর যে ব্যক্তি ফিতনা অনুসরণ করবে, সে ধ্বংস হবে।"
— আবু দাউদ
৩️⃣ নবী ﷺ দোয়া শিখিয়েছেন:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ফিতনার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই—সেগুলো প্রকাশ্য হোক বা গোপন।”
— মুসনাদ আহমদ
🟩 ফিতনা থেকে বাঁচার ফজিলত
১️⃣ ঈমান রক্ষা পায়
ফিতনা থেকে দূরে থাকা একজন মুসলিমের ঈমানকে দৃঢ় রাখে।
২️⃣ গুনাহ থেকে নিরাপত্তা
ফিতনা সাধারণত গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ, রক্তপাত, হিংসা সৃষ্টি করে। দূরে থাকলে এসব থেকে বাঁচা যায়।
৩️⃣ আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা
যারা ফিতনা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ নিরাপত্তা ও বরকত দেন।
৪️⃣ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা
ফিতনা না ছড়ানো এবং ফিতনায় অংশ না নেওয়া সমাজে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
🟦 ফিতনা থেকে বাঁচার করণীয়
✔ ফিতনা দেখা দিলে কম কথা বলা
✔ অপ্রয়োজনে বিতর্কে না জড়ানো
✔ গীবত–নিন্দা–গুজব থেকে দূরে থাকা
✔ দোয়া করা:
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিনাল-ফিতানি মা যাহারা মিনহা ওয়া মা বাতান।”
17/11/2025
ঈমান একজন মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি। এটি এমন একটি আলো, যা মানুষকে অন্ধকার পথ থেকে সরল পথে নিয়ে যায়। ঈমান শুধু মুখের কথা নয়—এটি হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাস, জিহ্বার স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলে প্রকাশ।
ঈমানের গুরুত্ব
ঈমান ছাড়া কোনো আমল কবুল হয় না।
ঈমান মানুষকে সব ধরনের ভয়, দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দেয়।
ঈমান শক্ত হলে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়।
ঈমান মানুষকে আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা ও নির্ভরতা করতে শেখায়।
কুরআনে ঈমানের উল্লেখ
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই সফল হলো মোমিনরা।” (সূরা মুমিনূন, ১)
এখানে বোঝা যায়, প্রকৃত সফলতা ঈমানদার মানুষেরই।
আরেক জায়গায় বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—তাকে আমি সুখময় জীবন দান করবো।” (সূরা নحل, ৯৭)
ঈমানের ফল
হৃদয়ে প্রশান্তি
জীবনে বারকত
দোয়ার কবুল
মৃত্যুর সময় সু-পরিণতি
আখিরাতে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
ঈমান শক্ত করার উপায়
আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা
কুরআন তিলাওয়াত ও বুঝে পড়া
নবীজির সুন্নাহ মেনে চলা
নিকৃষ্ট গুনাহ থেকে দূরে থাকা
নেক মানুষের সাথে মেলামেশা করা
যার হৃদয়ে ঈমান থাকে, তার জীবন বদলে যায়।
সে মানুষ, দুনিয়া এবং আখিরাত—সবকিছুই সুন্দরভাবে পায়।
16/11/2025
🌅 ফজরের নামাজের পর আমল ও তার ফজিলত
✅ ১. মসজিদে বসে আল্লাহর যিকির করা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে, তারপর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকিরে মগ্ন থাকে, তারপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে—সে পূর্ণ একটি হজ ও উমরার সওয়াব পায়।”
(তিরমিজি)
📌 অর্থাৎ—ফজরের নামাজের পর বসে থাকা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-যিকির করা—এতে অসীম নেকি।
✅ ২. সূর্য উঠার পর দুহা (ইশরাক) নামাজ পড়া
—এর সওয়াব হজ ও উমরার সমান।
—রিজিক বৃদ্ধি হয়।
—শরীর-মন সুস্থ থাকে।
✅ ৩. “আয়াতুল কুরসি” পড়া
হাদীসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে শুধু মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।”
(নসাঈ)
✅ ৪. ফজরের পর ১০০ বার ‘তাসবিহ’ করা
“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি”
—এটি ১০০ বার পড়লে গুনাহ মাফ হয়, সাগরের ফেনার চেয়েও বেশি।
✅ ৫. ফজরের পর দোয়া গ্রহণের বিশেষ সময়
ফজর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত সময়টা দোয়া কবুলের সময়।
মানুষের রিজিক এ সময় লেখা হয়—এ সময়ের যিকিরে বরকত থাকে।
✅ ৬. সূর্য ওঠার আগে ঘুমিয়ে না পড়া
রাসুলুল্লাহ ﷺ দোয়া করেছেন—
“হে আল্লাহ! আমার উম্মাহর সকালবেলার সময়টাতে বরকত দান কর।”
(আবু দাউদ)
📌 অর্থাৎ—সকালে কাজ শুরু করলে বরকত বেশি।
🌥️ সংক্ষেপে ফজরের নামাজের পর আমল
কুরআন তিলাওয়াত
তাহলিল, তাসবিহ, দুরুদ
আয়াতুল কুরসি
ইশরাক নামাজ
দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা
নেক কাজের নিয়ত করা
SURA FALAK
13/11/2025
🌿 হাদীস ১:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় বলবে —
‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ (আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই শয়তান ধিকৃতের কাছ থেকে),
আল্লাহ তা’আলা তাকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম, হাদীস: ২৭০৯)
🌿 হাদীস ২:
নবী করিম ﷺ প্রতিদিন দোয়া করতেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি,
ওয়াল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি,
ওয়ালা দোইনিদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।”
অর্থঃ
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুঃখ ও চিন্তা থেকে,
অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভয় থেকে,
ঋণের ভার ও মানুষের জুলুম থেকে।”
📚 (সহিহ বুখারী, হাদীস: ৬৩৬৯)
🌿 হাদীস ৩:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, আল্লাহ তাকে আশ্রয় দেন।”
📚 (সহিহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৭৭)
🌿 হাদীস ৪:
নবী ﷺ ঘুমানোর আগে এই দোয়া পড়তেন:
“বিস্মিকা আল্লাহুম্মা আহইয়া ওয়া বিস্মিকা আমুত।”
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি বাঁচি, তোমার নামেই আমি মরি।”
📚 (সহিহ বুখারী, হাদীস: ৬৩১৪)
12/11/2025
১️⃣ মৃত্যুর সময় ঈমানের গুরুত্ব:
যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে মারা যায় — অর্থাৎ, মৃত্যুর সময় তার অন্তরে আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে, সে জান্নাতে যাবে।
👉 হাদীস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল এবং সেই অবস্থায় মারা গেল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৪৩৬; সহীহ মুসলিম)
২️⃣ মৃত্যুর পূর্বে ঈমান হারানো ভয়াবহ:
যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে জীবন কাটায়, কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে ঈমান হারায় (যেমন শিরক বা কুফরি কথা বলে), তবে সে কাফের গণ্য হবে। তাই মৃত্যুর আগে ঈমানের রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
👉 কুরআন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলাম ছাড়া মৃত্যু বরণ করো না।”
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২)
৩️⃣ মৃত্যুর সময় ঈমান রক্ষার উপায়:
সবসময় আল্লাহর স্মরণে থাকা।
ফরজ নামাজ ও আমল নিয়মিত করা।
গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
মৃত্যুর আগে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারণ করা।
রাসূল ﷺ বলেন:
“যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(আবু দাউদ, হাদীস: ৩১১৬)
৪️⃣ কবর ও পরকালে ঈমানের সুফল:
যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত মৃত্যুবরণ করে—
তার কবর হবে জান্নাতের বাগানের একটি বাগান।
কিয়ামতের দিন সে নিরাপদে থাকবে।
আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতের ছায়ায় রাখবেন।
৫️⃣ দোয়া (ইমানসহ মৃত্যুর জন্য):
اللَّهُمَّ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
“আল্লাহুম্মা তাওাফফানী মুসলিমান, ওয়ালহিকনী বিস্সালিহীন।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে মুসলমান অবস্থায় মৃত্যু দান করো এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দাও।
(সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০১)
11/11/2025
১. ফরজ নামাজ শেষ করে ৩ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাজ শেষ করার পর তিনবার বলতেন:
“أستغفر الله”
(আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই)
সূত্র: সহীহ মুসলিম
–––––––––
২. এরপর দোয়া করা:
“اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام”
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতা আস্-সালামু ওয়া মিনকা আস্-সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি শান্তির মালিক, শান্তি আপনার পক্ষ থেকেই আসে। আপনি বরকতময়, হে গৌরব ও সম্মানের অধিকারী।
সূত্র: সহীহ মুসলিম
–––––––––
৩. ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করা
হাদীস:
“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা নেই।”
সূত্র: সুনান আন-নাসায়ী, সহীহুল জামী’
–––––––––
৪. তাসবিহ (৩৩+৩৩+৩৪) করা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
৩৩ বার “সুবহানাল্লাহ”
৩৩ বার “আলহামদুলিল্লাহ”
৩৪ বার “আল্লাহু আকবার”
পড়বে।
সূত্র: সহীহ মুসলিম
–––––––––
৫. সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়া (বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের পরে)
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজর ও মাগরিব নামাজের পরে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়তেন।
সূত্র: সুনান আত-তিরমিযী (সহীহ বলা হয়েছে আলবানী দ্বারা)
–––––––––
৬. ব্যক্তিগত দোয়া করা
ফরজ নামাজের পর এটা দোয়ার গ্রহণযোগ্য সময়। নিজের ভাষায় মন থেকে যত দোয়া চাই, চাইতে পারো।
–––––––––
সংক্ষেপে এক লাইনে পূর্ণ আমল তালিকা:
নামাজ শেষে → ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ → দোয়া: আল্লাহুম্মা আনতা আস-সালাম → আয়াতুল কুরসী → সুবহানাল্লাহ ৩৩, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩, আল্লাহু আকবার ৩৪ → প্রয়োজন হলে সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস → ব্যক্তিগত দোয়া।
10/11/2025
কবর মানুষের প্রথম ধাপ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
"কবর আখিরাতের প্রথম ঘর। যদি কেউ সেখানে নাজাত পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যায়। আর যদি সেখানে সফল না হয়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো আরো কঠিন হবে।"
(তিরমিযী, হাকিম)
মুমিনের রূহ জান্নাতের বাগানে
হাদীসে এসেছে:
"মুমিনের রূহ জান্নাতের পাখির মতো হয়ে যায় এবং জান্নাতের বাগানগুলোতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে।"
(সহীহ মুসলিম)
কাফির ও গুনাহগারের কবর সংকুচিত হয়
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"কাফিরের কবর তার জন্য এমন সংকুচিত হবে যে তার পাঁজরের হাড্ডিগুলো একে অপরের সাথে চেপে যাবে।"
(তিরমিযী)
মৃত্যুর পর তিনটি জিনিস সাথেই থাকে
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া:
(১) সদাকায়ে জারিয়া,
(২) উপকারী জ্ঞান,
(৩) নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।"
(সহীহ মুসলিম)
মৃতকে কবরের প্রশ্ন করা হবে
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"মৃত ব্যক্তির কাছে দুইজন ফেরেশতা আসবে এবং জিজ্ঞেস করবে:
তোমার প্রভু কে?
তোমার দ্বীন কী?
তোমার নবী কে?"
(আবু দাউদ)
মুমিন সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবে এবং শান্তিতে থাকবে।
কিন্তু কাফির ও গুনাহগার বলবে:
"আমি জানতাম না"
এবং সে কষ্টে পড়বে।
09/11/2025
মুস্তাজাবুদ দু‘আ বলতে বোঝানো হয়:
যে দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করেন, বা যাদের দোয়া বেশি গ্রহণযোগ্য।
১) মাজলুমের দোয়া
রাসুল ﷺ বলেন:
"মাজলুমের দোয়া থেকে বাঁচো, কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।"
— সাহিহ বুখারি: ২৪৪৮, মুসলিম: ১৯০৫
২) পিতামাতার দোয়া
রাসুল ﷺ বলেন:
"তিনজনের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না: রোজাদারের দোয়া, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া এবং পিতামাতার দোয়া সন্তানদের জন্য।"
— তিরমিজি: ১৯০৫
৩) মুসাফিরের দোয়া
রাসুল ﷺ বলেন:
"মুসাফিরের দোয়া কবুল হয়।"
— তিরমিজি: ৩৪৪৮
৪) রোজাদারের ইফতারের সময় দোয়া
রাসুল ﷺ বলেন:
"রোজাদারের জন্য দোয়ার একটি বিশেষ সময় আছে যা প্রত্যাখ্যান করা হয় না।"
— ইবনু মাজাহ: ১৭৫৩
৫) পবিত্র হৃদয়ের দোয়া
রাসুল ﷺ বলেন:
"আল্লাহ সেই দোয়া গ্রহণ করেন যা হৃদয় উপস্থিত থাকে এবং মনোযোগী থাকে।"
— তিরমিজি: ৩৪৭৯
মুস্তাজাব (গ্রহণযোগ্য) দোয়ার কিছু সময়
তাহাজ্জুদ / শেষ রাতে
আযানের পর
ইকামত ও সালাতের মাঝে
সিজদার মধ্যে
জুমার দিন আসরের পরে
বৃষ্টির সময়
হাদীস:
"তোমরা সিজদায় বেশি দোয়া করো, কারণ সিজদা অবস্থায় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।"
— মুসলিম: ৪৮২
সংক্ষেপে বলতে গেলে
যার অন্তর নরম, বিনয়ী, আল্লাহর উপর ভরসা করে — তার দোয়া মুস্তাজাব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আর যাদের দোয়া নিশ্চিত কবুল হয়:
মাজলুম
পিতামাতা
সিয়ামরত ব্যক্তি
মুসাফির
ন্যায়পরায়ণ শাসক