Madrasatu Li-Ihyail UMMAH

Madrasatu Li-Ihyail UMMAH দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে উম্মাহের পুনর্জাগরণের সংকল্প

13/06/2026

একটি সত্য প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।
বাংলাদেশে কত শ্রমিক আছেন?
কোটির উপর।
তাদের কতজন সময়মতো মজুরি পান?
কতজন ন্যায্য মজুরি পান?
কতজন নিরাপদ কর্মপরিবেশ পান?
উত্তর আমরা সবাই জানি।
১৪০০ বছর আগে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন —
"أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ"
"শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দাও।"
— সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩
এই একটি হাদিস যদি বাংলাদেশের শ্রম আইনের মূলনীতি হতো —
তাহলে রানা প্লাজা ধসের পরে
শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করত না।
তাহলে পোশাক শ্রমিকরা
মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে রাস্তায় নামত না।
তাহলে কৃষক
ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কাঁদত না।
ইসলামী সংবিধানে শ্রমিকের অধিকার
কোনো দাতব্য বিষয় নয় —
এটি আল্লাহর আদেশ।
এটি রাসূলের নির্দেশ।
এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
আল্লাহ তাআলা বলেন —
"وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ"
"মানুষের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না।"
— সূরা হূদ: ৮৫
মালিক ও শ্রমিক —
উভয়েই আল্লাহর বান্দা।
একজনের ঘাম আরেকজনের মুনাফায় পরিণত হওয়া —
ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
বাংলাদেশের কোটি শ্রমিকের জন্য
একটাই সংবিধান দরকার —
যেখানে লেখা থাকবে —
শ্রমিকের মজুরি তার অধিকার।
মালিকের দয়া নয়।
এটাই ইসলামী সংবিধানের প্রতিশ্রুতি।

12/06/2026

১৯৭৪ সাল।
বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
মানুষ না খেয়ে মরছে।
সেই সময়ে একটি জেলায়
স্থানীয় কিছু আলিম ও ব্যবসায়ী মিলে
নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হলেন।
ধনীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করলেন সাহায্য।
দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করলেন।
কোনো সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা না করে।
এটাই যাকাত।
এটাই বায়তুল মাল।
এটাই ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র চিত্র।
এখন ভাবুন —
বাংলাদেশে প্রতি বছর
মুসলিমরা কত টাকা যাকাত দেন?
গবেষণা বলছে —
বাংলাদেশে যাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ
কমপক্ষে ১ লক্ষ কোটি টাকা।
যদি এই যাকাত সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বিতরণ হতো —
বাংলাদেশে একজন মানুষও না খেয়ে থাকত না।
কিন্তু এই বিশাল সম্পদ
আজ যাচ্ছে কোথায়?
কেউ জানে না।
কোনো হিসাব নেই।
কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা নেই।
১৪০০ বছর আগে
খলিফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু
বায়তুল মাল থেকে এত সম্পদ বিতরণ করেছিলেন যে
ইয়েমেনের যাকাত সংগ্রাহক মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু
ফিরে এসে বললেন —
"আমি যাকাত নিয়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে —
কারণ কোনো গরিব খুঁজে পাইনি।"
(উৎস: ইমাম বুখারি — আত-তারিখুল কাবির; ইবনে আবদুল বার — আল-ইস্তিআব)
এটা কি রূপকথা?
না।
এটা হয়েছিল কারণ —
রাষ্ট্র সঠিকভাবে যাকাত সংগ্রহ করেছিল।
সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
কোনো দুর্নীতি ছিল না।
আজ বাংলাদেশে যদি শুধু যাকাত ব্যবস্থাটুকু
সঠিকভাবে চালু করা যায় —
দেশ বদলে যাবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ"
"আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা ফরজ করেছেন — যা ধনীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।"
— সহিহ বুখারি: ১৩৯৫, সহিহ মুসলিম: ১৯
ইসলামী রাষ্ট্র সম্ভব কিনা?
জবাব হলো —
ইসলামী রাষ্ট্রের একটি টুকরোও
যদি বাস্তবায়ন করা যায় —
লক্ষ মানুষের জীবন বদলে যায়।
সম্পূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও
এই কাজ শুরু করা যায়।
আজই।
এখনই।
আপনার যাকাত কি সঠিক জায়গায় যাচ্ছে?
এই প্রশ্নটি নিজেকে করুন।

10/06/2026

একটি সত্য ঘটনা।
৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ।
হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু
তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে
পরবর্তী খলিফা মনোনীত করলেন।
কিন্তু ঘোষণার আগে তিনি
সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন —
"আমি উমরকে তোমাদের খলিফা মনোনীত করতে চাই।
তোমরা কি রাজি?"
কেউ কেউ বললেন —
"উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কঠোর — আমরা ভয় পাই
ক্ষমতা পেলে আরও কঠোর হবেন।"
আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু
সবার কথা শুনলেন।
তাদের আশঙ্কার জবাব দিলেন।
তারপর বললেন —
"وَاللهِ لَأَجْتَهِدَنَّ رَأْيِي وَلَنْ آلُوَ عَنِ نُصْحِكُمْ"
"আল্লাহর কসম! আমি আমার সর্বোচ্চ বিবেচনা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণে কোনো ত্রুটি করিনি।"
(উৎস: ইমাম তাবারি — তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, খণ্ড ৩; ইবনে সা'দ — আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩)
এই ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ একজন ক্ষমতায় থাকা খলিফা
তাঁর উত্তরাধিকার নির্ধারণের আগে
জনগণের মত নিয়েছেন।
তিনি বলেননি —
"আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি — মানো।"
বলেছেন —
"আমি যা ভেবেছি তা বলছি —
তোমরা একমত কিনা জানাও।"
আজ বাংলাদেশে —
সংবিধান সংশোধন হয় মধ্যরাতে।
জরুরি অবস্থা জারি হয় ভোরবেলা।
জনগণকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ নেই।
অথচ ইসলামী সংবিধানে —
জরুরি ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সীমা আছে।
সংশোধনীর কঠোর পদ্ধতি আছে।
আল্লাহর বিধান কেউ পরিবর্তন করতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন —
"وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ"
"যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী শাসন করে না — তারাই জালিম।"
— সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৫
একটাই প্রশ্ন —
যে সংবিধান রাতের অন্ধকারে বদলে যায়
সে সংবিধানে কি জনগণের অধিকার আছে?
যে সংবিধানের ভিত্তি আল্লাহর বিধান —
সেটা কেউ বদলাতে পারে না।
না রাতের অন্ধকারে, না দিনের আলোতে।
এটাই আমাদের প্রস্তাব।
এটাই ইসলামী সংবিধানের নিরাপত্তা।

09/06/2026

একটি সত্য ঘটনা।
ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হলেন
বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বিদায় দেওয়ার সময় বললেন —
"يَا مُعَاذُ إِنَّكَ سَتَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ... فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ بِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ... فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لَكَ بِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ"
"হে মুয়াজ! তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাবে। তাদের দাওয়াহ দাও... যদি তারা মেনে নেয় তাহলে জানিয়ে দাও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা... আর সাবধান — তাদের উত্তম সম্পদ নেওয়া থেকে বিরত থেকো।"
— সহিহ বুখারি: ১৪৫৮, সহিহ মুসলিম: ১৯
লক্ষ করুন —
রাষ্ট্রপ্রধান একজন গভর্নরকে বিদায় দিচ্ছেন।
তাঁকে শেখাচ্ছেন —
প্রথমত: মানুষের সাথে দাওয়াহ করো।
দ্বিতীয়ত: তাদের ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাও।
তৃতীয়ত: তাদের সম্পদ থেকে দূরে থেকো।
অর্থাৎ —
একজন স্থানীয় প্রশাসকের কাজ হলো —
সেবা করা, শোষণ করা নয়।
এখন বাংলাদেশের বাস্তবতায় আসুন।
একজন ইউএনও বদলি হন প্রতি বছর।
তিনি এলাকা চেনার আগেই চলে যান।
একজন জেলা প্রশাসক
স্থানীয় মানুষের ভোটে আসেন না।
ঢাকা থেকে পাঠানো হন।
স্থানীয় মানুষ
নিজেদের সমস্যার সমাধান
নিজেরা করতে পারে না।
অথচ ইসলামী শাসনে —
স্থানীয় মানুষই সিদ্ধান্ত নিত।
স্থানীয় যাকাত স্থানীয়দের মধ্যেই বিতরণ হতো।
স্থানীয় বিবাদ স্থানীয়ভাবেই মিটত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ"
"তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
— সহিহ বুখারি: ৮৯৩, সহিহ মুসলিম: ১৮২৯
এই হাদিসের মর্ম হলো —
গ্রামের মাতব্বর থেকে শুরু করে
রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত —
প্রত্যেকে জবাবদিহিতে বাধ্য।
কিয়ামতের দিন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন —
তোমার এলাকার মানুষ কেমন ছিল?
তুমি তাদের জন্য কী করেছিলে?
এই ভয়টুকু যদি
আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে
প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবার মনে থাকত —
বাংলাদেশ আজ অন্যরকম হতো। #স্থানীয়শাসন #বিকেন্দ্রীকরণ #মুয়াজ_ইবনে_জাবাল #ইসলামীপ্রশাসন #বাংলাদেশ #সংবিধান #দাওয়াহ #ইসলামিকগভর্ন্যান্স

08/06/2026

একটি সত্য ঘটনা।
মিশরের গভর্নর আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু।
পৃথিবীর অন্যতম সেরা সেনাপতি।
মিশর জয়ের নায়ক।
কিছুদিন পর খলিফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খবর পেলেন —
গভর্নরের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি তলব করলেন।
হিসাব চাইলেন।
আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করলেন।
বললেন — "ব্যবসায়িক লাভ।"
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন —
"তুমি আমাদের দেওয়া পদ ব্যবহার করে সুযোগ পেয়েছ।
তাই সম্পদের অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।"
আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু মাথা নত করলেন।
সম্পদের অর্ধেক জমা দিলেন।
(উৎস: ইমাম আবু ইউসুফ — কিতাবুল খারাজ; ইবনুল আসির — আল-কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড ৩)
এই ঘটনার পর আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন —
"উমর আমাদের কষ্ট দিয়েছেন এবং আমাদের পরবর্তী শাসকদের দুর্বল করে দিয়ে গেছেন।"
অর্থাৎ — এত কড়া জবাবদিহিতার পর
পরবর্তী কেউ আর সহজে দুর্নীতি করতে সাহস পাবে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُمْ عَلَى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَهُ كَانَ غُلُولًا يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ"
"আমরা যাকে দায়িত্বে নিযুক্ত করি, সে যদি একটি সুচও আত্মসাৎ করে — কিয়ামতের দিন সে তা বহন করে আসবে।"
— সহিহ মুসলিম: ১৮৩৩
আজকের বাংলাদেশে —
মন্ত্রী হলে কোটিপতি হওয়া যায়।
সরকারি কর্মকর্তা হলে বাড়ি-গাড়ি হয়।
ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না।
অথচ ইসলামী রাষ্ট্রে —
সরকারি পদ ছিল দায়িত্ব, সুবিধা নয়।
ক্ষমতা ছিল আমানত, সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার নয়।
খলিফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর শাসনের শেষে বলেছিলেন —
"اللَّهُمَّ كَبِرَتْ سِنِّي وَضَعُفَتْ قُوَّتِي وَاتَّسَعَتْ رَعِيَّتِي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مُضَيِّعٍ وَلَا مُفَرِّطٍ"
"হে আল্লাহ! আমার বয়স বেড়েছে, শক্তি কমেছে, প্রজা বেড়েছে — আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও এমন অবস্থায় যেন আমি কাউকে নষ্ট না করে থাকি, কোনো দায়িত্বে ত্রুটি না করে থাকি।"
(উৎস: ইবনে সা'দ — আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩;ইমাম তাবারি — তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক)

#দুর্নীতিমুক্তবাংলাদেশ #ইসলামীশাসন ুল_খাত্তাব #জবাবদিহিতা #বাংলাদেশ #সংবিধান #দাওয়াহ #ইসলামিকগভর্ন্যান্স

07/06/2026

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দ। মদিনা।
খলিফা আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু সবে খলিফা নির্বাচিত হয়েছেন।
মসজিদে নববীতে প্রথম ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন।
তিনি বললেন —
"أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ وُلِّيتُ عَلَيْكُمْ وَلَسْتُ بِخَيْرِكُمْ فَإِنْ أَحْسَنْتُ فَأَعِينُونِي وَإِنْ أَسَأْتُ فَقَوِّمُونِي"
"হে মানুষেরা! আমাকে তোমাদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে — অথচ আমি তোমাদের মধ্যে সেরা নই। যদি ভালো করি তাহলে আমাকে সাহায্য করো। যদি ভুল করি তাহলে আমাকে সংশোধন করো।"
তারপর বললেন —
"أَطِيعُونِي مَا أَطَعْتُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِذَا عَصَيْتُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَلَا طَاعَةَ لِي عَلَيْكُمْ"
"আমি যতক্ষণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করি ততক্ষণ আমার আনুগত্য করো। যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হই — তখন আমার আনুগত্য তোমাদের উপর নেই।"
(উৎস: ইবনে হিশাম — আস-সিরাহ আন-নাবাওয়িয়্যাহ, খণ্ড ৪; ইবনে সা'দ — আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩)
ভাবুন একবার।
এটা কোনো কবিতা নয়।
এটা রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণের ভাষণ।
একজন রাষ্ট্রপ্রধান দাঁড়িয়ে বলছেন —
"আমি সেরা নই।"
"আমি ভুল করলে সংশোধন করো।"
"আমি যদি আল্লাহর বিরুদ্ধে যাই — আমার কথা মানার দরকার নেই।"
আজ পৃথিবীর কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান
এই কথা বলার সাহস রাখেন?
এটাই ছিল ইসলামী শূরার মূল চেতনা।
আইন তৈরি হতো পরামর্শে।
ভুল ধরিয়ে দেওয়া ছিল নাগরিকের অধিকার।
শাসককে সংশোধন করা ছিল দ্বীনি দায়িত্ব।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"الدِّينُ النَّصِيحَةُ... لِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ"
"দ্বীন হলো নসিহত... মুসলিম নেতাদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য।"
— সহিহ মুসলিম: ৫৫
অর্থাৎ —
নেতাকে সৎ পরামর্শ দেওয়া
শুধু নাগরিকের অধিকার নয় —
এটা ইবাদত।
বাংলাদেশে আমরা যে সংসদ দেখি —
সেখানে বিরোধী দল পোষ্য হয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন করলে হামলা হয়।
সত্য বললে মামলা হয়।
অথচ ইসলামী শূরায় —
ভিন্নমত প্রকাশ করা ছিল সাংবিধানিক অধিকার।
শাসককে সংশোধন করা ছিল ধর্মীয় দায়িত্ব।
এটাই আমরা চাই।
এটা সম্ভব।
ইনশাআল্লাহ।

#শূরা #ইসলামীসংসদ #আবুবকর_সিদ্দিক #বাংলাদেশ #সংবিধান #দাওয়াহ #ইসলাম #সংবিধান

07/06/2026

আলা বাসীরাহ
তাম্বীহ — ৬
নবীর কথায় ঈমান রাখার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে যে কাহিনীটি বলা ঠিক নয়
দাওয়াত ও তাবলীগের বয়ানে, মজলিসের আলোচনায়, ঈমানের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে একটি কাহিনী প্রায়ই শোনা যায়।
বলা হয় — একবার মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথোপকথনের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে এক আবেদ বললেন, আল্লাহকে জিজ্ঞেস করুন, আমার জন্য কোন জান্নাত প্রস্তুত আছে? এরপর এক পাগলের সাথে দেখা হলে সে বলল, জিজ্ঞেস করুন আমি কি জাহান্নামে যাব? আল্লাহ উত্তর দিলেন — আবেদ জাহান্নামে যাবে, পাগল জান্নাতে। ফেরার পথে মূসা আলাইহিস সালাম একটি অদ্ভুত ঘটনা দেখলেন — একটি বাঘের তাড়ায় এক রাখাল বদনার মধ্যে ঢুকে নল দিয়ে বের হয়ে গেল। তিনি এই ঘটনা পাগলকে বললে পাগল বলল, আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। কিন্তু আবেদকে বললে আবেদ বলল, এমনটি সম্ভব নয়। তখন বোঝা গেল — পাগল নবীর কথায় বিশ্বাস করেছে, আবেদ করেনি।
কাহিনীটি বলার উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে ভালো — নবীর কথায় বিনা প্রশ্নে ঈমান আনার গুরুত্ব বোঝানো। কিন্তু আলকাউসারসহ বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম নিশ্চিত করেছেন যে এটি একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট কাহিনী, কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব নেই।
তাহলে সহীহ কথা কী?
নবীর কথায় নিঃশর্ত ঈমান রাখার বিষয়টি কুরআন ও সহীহ হাদীসে অত্যন্ত জোরালোভাবে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন — "হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে কর্তৃত্বসম্পন্নদের আনুগত্য কর।" (সূরা আন-নিসা, ৪:৫৯)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন — "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।" (সূরা আল-হাশর, ৫৯:৭)
এই দলিলগুলো এতটাই শক্তিশালী যে, বানোয়াট কাহিনীর কোনো প্রয়োজনই নেই। বরং বানোয়াট কাহিনী একদিন ধরা পড়লে মানুষের মনে পুরো দাওয়াত সম্পর্কেই সংশয় তৈরি হয়। সহীহ দলিলের উপর দাঁড়ানো দাওয়াতই চিরস্থায়ী।
আলা বাসীরাহ — দলিলের আলোয় পথ চলি।

#আলা_বাসীরাহ #তাম্বীহ #এটি_হাদীস_নয় #ঈমান #দাওয়াত_ও_তাবলীগ #সহীহ_হাদীস #ভিত্তিহীন_কাহিনী #ইসলামিক_সচেতনতা #বাংলাদেশ #ইসলামেরপথ

06/06/2026

একটি সত্য ঘটনা।
মিশরের গভর্নর আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু।
পৃথিবীর অন্যতম সেরা সেনাপতি।
মিশর জয়ের নায়ক।
কিছুদিন পর খলিফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খবর পেলেন —
গভর্নরের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি তলব করলেন।
হিসাব চাইলেন।
আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করলেন।
বললেন — "ব্যবসায়িক লাভ।"
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন —
"তুমি আমাদের দেওয়া পদ ব্যবহার করে সুযোগ পেয়েছ।
তাই সম্পদের অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।"
আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু মাথা নত করলেন।
সম্পদের অর্ধেক জমা দিলেন।
(উৎস: ইমাম আবু ইউসুফ — কিতাবুল খারাজ; ইবনুল আসির — আল-কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড ৩)
এই ঘটনার পর আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন —
"উমর আমাদের কষ্ট দিয়েছেন এবং আমাদের পরবর্তী শাসকদের দুর্বল করে দিয়ে গেছেন।"
অর্থাৎ — এত কড়া জবাবদিহিতার পর
পরবর্তী কেউ আর সহজে দুর্নীতি করতে সাহস পাবে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُمْ عَلَى عَمَلٍ فَكَتَمَنَا مِخْيَطًا فَمَا فَوْقَهُ كَانَ غُلُولًا يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ"
"আমরা যাকে দায়িত্বে নিযুক্ত করি, সে যদি একটি সুচও আত্মসাৎ করে — কিয়ামতের দিন সে তা বহন করে আসবে।"
— সহিহ মুসলিম: ১৮৩৩
আজকের বাংলাদেশে —
মন্ত্রী হলে কোটিপতি হওয়া যায়।
সরকারি কর্মকর্তা হলে বাড়ি-গাড়ি হয়।
ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না।
অথচ ইসলামী রাষ্ট্রে —
সরকারি পদ ছিল দায়িত্ব, সুবিধা নয়।
ক্ষমতা ছিল আমানত, সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার নয়।
খলিফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর শাসনের শেষে বলেছিলেন —
"اللَّهُمَّ كَبِرَتْ سِنِّي وَضَعُفَتْ قُوَّتِي وَاتَّسَعَتْ رَعِيَّتِي فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مُضَيِّعٍ وَلَا مُفَرِّطٍ"
"হে আল্লাহ! আমার বয়স বেড়েছে, শক্তি কমেছে, প্রজা বেড়েছে — আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও এমন অবস্থায় যেন আমি কাউকে নষ্ট না করে থাকি, কোনো দায়িত্বে ত্রুটি না করে থাকি।"
(উৎস: ইবনে সা'দ — আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৩; ইমাম তাবারি — তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক)
এই অংশটি আবার পড়ুন।
একজন শাসক — যিনি বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছে
মৃত্যুর আগে কাঁদছেন এই ভয়ে —
"আমি কি কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি?"
এটাই ইসলামী নেতৃত্বের আসল চেহারা।
বাংলাদেশ কি এমন নেতৃত্ব দেখতে চায়।
#দুর্নীতিমুক্তবাংলাদেশ #ইসলামীশাসন ু

05/06/2026

মদিনার মসজিদে নববী।
খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন —
"আজ থেকে মহরের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হলো।
কেউ এর বেশি মহর দিতে পারবে না।"
সবাই চুপ।
হঠাৎ মসজিদের পেছন থেকে একজন নারী উঠে দাঁড়ালেন।
উচ্চস্বরে বললেন —
"হে উমর! তুমি কি আল্লাহর কিতাবের চেয়ে বেশি জানো?"
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থামলেন।
নারীটি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করলেন —
"وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا"
"যদি তোমরা স্ত্রীকে প্রচুর সম্পদও মহর দিয়ে থাকো, তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিও না।"
— সূরা আন-নিসা: ২০
মসজিদে পিনপতন নীরবতা।
তারপর উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মিম্বর থেকে নেমে বললেন —
"أَصَابَتِ امْرَأَةٌ وَأَخْطَأَ عُمَرُ"
"নারীটি সঠিক বলেছে, উমর ভুল করেছে।"
এবং তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন।
(উৎস: ইমাম ইবনে কাসির — তাফসিরুল কুরআনিল আযিম, সূরা নিসা: ২০-এর তাফসির; ইমাম বায়হাকি — আস-সুনানুল কুবরা: ১৩৯৩৬)
ভাবুন একবার —
একজন সাধারণ নারী।
নাম ইতিহাসে সংরক্ষিত নেই।
কিন্তু তিনি তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রপ্রধানকে —
মসজিদে দাঁড়িয়ে সংশোধন করেছিলেন।
এবং সেই রাষ্ট্রপ্রধান মাথা নত করে স্বীকার করেছিলেন —
"আমি ভুল করেছি।"
এটাই ইসলামী রাষ্ট্রে নারীর মর্যাদা।
আজ যারা বলেন —
"ইসলামী আইনে নারীর অধিকার নেই"
তাদের জন্য শুধু একটাই কথা —
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَالِ"
"নারীরা পুরুষদের সমকক্ষ অর্ধাংশ।"
— সুনানে আবু দাউদ: ২৩৬
১৪০০ বছর আগে যে সভ্যতা নারীকে
সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে,
মতামতের অধিকার দিয়েছে,
বিবাহে সম্মতির অধিকার দিয়েছে,
খলিফাকে সংশোধন করার অধিকার দিয়েছে —
সেই সভ্যতাকে নারীবিদ্বেষী বলার আগে
ইতিহাসটা একটু পড়ুন।
📖 ধারাবাহিক আলোচনা চলছে —
"শরিয়ার আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান — একটি নতুন পাঠ"
আজকের বিষয়: নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার
শেয়ার করুন —
কারণ এই সত্য ইতিহাস
আমাদের মায়েদের, বোনদের
জানা দরকার।
#নারীরঅধিকার #ইসলামেনারী ুল_খাত্তাব #আয়িশা #বাংলাদেশ #সংবিধান #দাওয়াহ #ইসলামিকগভর্ন্যান্স #ইসলামীনারীমর্যাদা

05/06/2026

ধারা ২৪ — নারীর পারিবারিক অধিকার
মূল বিধান:
বিবাহে নারীর সম্মতি অপরিহার্য। জোরপূর্বক বিবাহ বাতিল ও শাস্তিযোগ্য। নারী বিবাহ বিচ্ছেদের (খুলআ) অধিকার রাখেন। সন্তানের হেফাজতে নির্ধারিত বয়স পর্যন্ত মায়ের অগ্রাধিকার স্বীকৃত।
হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ"
"বিধবা নারীকে তার মতামত না নিয়ে বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি না নিয়ে বিবাহ দেওয়া যাবে না।"
— সহিহ বুখারি: ৫১৩৬, সহিহ মুসলিম: ১৪১৯
খুলআর ঐতিহাসিক নজির:
সাহাবিয়া হযরত হাবিবা বিনতে সাহল রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁর স্বামীকে পছন্দ না করায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বিচ্ছেদ চাইলেন। নবীজি ﷺ মহর ফেরত নিয়ে তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন — কোনো প্রশ্ন ছাড়াই।
(উৎস: সহিহ বুখারি: ৫২৭৩; সুনানে আবু দাউদ: ২২২৭)
ধারা ২৫ — নারীর শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার অধিকার
মূল বিধান:
নারীর শিক্ষাগ্রহণ ফরজ — পুরুষের মতোই। কোনো পরিবার বা প্রতিষ্ঠান নারীর শিক্ষার পথ রোধ করতে পারবে না।
ঐতিহাসিক নজির:
হযরত আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস — তাঁর থেকে ২২১০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বড় বড় সাহাবিরা তাঁর কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করতেন। ইমাম যুহরি বলেছেন —
"لَوْ جُمِعَ عِلْمُ عَائِشَةَ إِلَى عِلْمِ جَمِيعِ النِّسَاءِ لَكَانَ عِلْمُ عَائِشَةَ أَفْضَلَ"
"যদি আয়িশার জ্ঞানকে সকল নারীর জ্ঞানের সাথে একত্র করা হয়, তবুও আয়িশার জ্ঞান শ্রেষ্ঠ হবে।"
(উৎস: ইমাম হাকিম — আল-মুস্তাদরাক, খণ্ড ৪; ইমাম যাহাবি — সিয়ারু আলামিন নুবালা)

Address

219/A South Pirerbag
Mirpur
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Madrasatu Li-Ihyail UMMAH posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category