Itiqad Academy

Itiqad Academy

Share

ITIQAD Academy
An international-standard online education platform where students from 17 countries are learning with confidence.

Our highly qualified instructors prioritize students' psychology and needs, offering 13 specialized courses.
✉️for details!

23/05/2026

ইস্তেগফারের পর এই ১০টি সংকেত দেখলে বুঝবেন, আপনার সফলতা খুব নিকটেই! ইনশাআল্লাহ

১. আপনার ওপর আসা বিপদ ঠেকানোর কোনো মানবিক সমাধান নেই। এটি মূলত আল্লাহর একটি 'ছদ্মবেশী রহমত', যা আপনাকে দুনিয়ার মোহ থেকে সরিয়ে তাঁর সিজদায় নিয়ে এসেছে।

২. যখনই আপনি তওবা করে ঠিক পথে চলতে শুরু করবেন, মানুষ বা শয়তানের পক্ষ থেকে বাধা, ঠাট্টা বা কুমন্ত্রণা আসতেই থাকবে।

মনে রাখবেন, চোর কখনোই খালি বাড়িতে চুরি করতে যায় না; আপনার হৃদয়ে ঈমানের সম্পদ জমা হচ্ছে দেখেই শয়তান হানা দিচ্ছে।

৩. হারাম ছেড়ে দিলে সাথে সাথেই হয়তো হালাল রিযিক আসবে না। মাঝখানে একটি পরীক্ষার সময় আসবে, যখন মনে হবে সব আটকে গেছে। এটি আপনার সততার পরীক্ষা।

৪. কষ্টের সময় দীর্ঘ হতে হতে যখন আপনি প্রায় হাল ছেড়ে দেবেন, তখনই আল্লাহর সাহায্য আসার সময়। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ৯ বছরের জেলের পর মিশরের শাসনভার পাওয়ার ঘটনাটি এর বড় প্রমাণ।

৫. যখন দেখবেন নামায আর ভারী মনে হচ্ছে না, কুরআন তিলাওয়াত আপনার সঙ্গী হয়ে গেছে। বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে বড় নিয়ামত দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন।

৬. ইস্তিগফার করার কয়েক মাস পর আল্লাহ স্বপ্ন বা যে কোনো মাধ্যমে আপনাকে বা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করবেন।

৭. যে সব পাপে আপনি আগে আসক্ত ছিলেন, সেগুলোর প্রতি আপনার মনে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হবে। এই চারিত্রিক পরিবর্তনই বস্তুগত রিযিক আসার পূর্বশর্ত।

৮. আপনার বড় সমস্যাটি হয়তো এখনও সমাধান হয়নি, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়ে (যেমন- অসুস্থতা থেকে মুক্তি বা পারিবারিক শান্তি) আল্লাহর সাহায্য টের পাবেন। এটি আপনার দীর্ঘ সফরের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাথেয়।

৯. আপনি বুঝতে শুরু করবেন যে, রিযিক বা সফলতা কেবল মেধা দিয়ে অর্জন হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে, গাড়ি (নেয়ামত) দেওয়ার আগে আল্লাহ আপনাকে ড্রাইভিং (উপলব্ধি) শেখাচ্ছেন।

১০. আপনার চারপাশের চাটুকার বা হিংসুকদের আসল চেহারা আপনার সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে।

আল্লাহ তা'আলা চান আপনি যখন বড় সফলতার স্তরে পৌঁছাবেন, তখন যেন আপনার আশেপাশে কোনো মুনাফিক না থাকে।

বিজয় আসার সময়টি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে (কারও এক বছর, কারও পাঁচ বছর)।

তবে সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ‘বাধার পর্যায়’ এবং ‘শয়তানের আক্রমণ’। ৯০% মানুষ এই স্তরে এসে ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়। আপনি যদি এই বাধা পার হতে পারেন, তবে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত।

(আরবি থেকে অনূদিত)

~ সংগৃহীত

23/05/2026

🔴 তাকবীরে তাশরীক

اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

অনুবাদ : আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।

তাশরীকের দিনগুলোতে (৯ জিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চঃস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। আর নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যাতে নিজে শোনে।

~ ফতোয়ায়ে শামি : ২/১৭৮; কিতাবুন নাওয়াযেল : ১৪/৫৯৫।

22/05/2026

❝জিলহজ্জের দশকে জুমার দিন, অন্য সময়ের জুমার চাইতে উত্তম;
কারণ এতে দুই ফজিলত একত্র হয়।❞

- ইমাম ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহ
[ ফাতহুল বারীঃ ২/৪৬০ ]

*দুই ফজিলত বলতে বুঝানো হয়েছে - জুমার দিনের ফজিলত এবং জিলহজ্জ প্রথম দশকের ফজিলত।

21/05/2026

আজকের সময়ে জ্ঞান বাড়ছে,প্রযুক্তি এগোচ্ছে কিন্তু নৈতিকতার ঘাটতি আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই যে বর্তমান সমাজে অপরাধ বেড়েছে বিশেষ করে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে।স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে এটা কেন হচ্ছে?
আইন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে বাইরে থেকে কিন্তু নৈতিকতা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে ভেতর থেকে। আইন বা শাস্তির ভয়ে মানুষ হয়তো কিছু সময়ের জন্য অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে এবং সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কখন সে অনৈতিক কাজটি করতে পারবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে। কিন্তু নৈতিকতা মানুষের মধ্যে বিবেকবোধ জাগ্রত করে আত্ন নিয়ন্ত্রন করতে শেখায়।
যাদের মধ্যে শক্ত নৈতিক ভিত্তি থাকে তারা সুযোগ পেলেও খারাপ কাজ থেকে নিজেকে আটকায়।নৈতিকতা ইন্টারনাল কন্ট্রোল সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।
শিশু বয়সই হলো নৈতিক শিক্ষা শেখানোর সবচেয়ে কার্যকর সময়।ছোটবেলার নৈতিক শিক্ষা ভেতরে এমন একটি ভিত তৈরি করে যা তাদের ভবিষ্যতে ভুল পথে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।আর অন্যদিকে বড় হলে মানুষের মধ্যে অভ্যাস ইতিমধ্যে স্থায়ী হয়ে যায় ফলে নতুন করে মূল্যবোধ গ্রহণ করতে গেলে প্রতিরোধ তৈরি হয়।

21/05/2026

“হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।” সূরা আল ইমরানের ৩৮ নং আয়াতাংশটি আমরা সন্তান চেয়ে প্রায়ই দুআ করে থাকি।
হযরত যাকারিয়া আ. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা সন্তান চাই, ভালো সন্তান চাই, নেক সন্তান চাই।
কিন্তু কখনো কি ভেবেছি, “উত্তম সন্তান” বলতে আসলে কী কী কোয়ালিটি আমরা চাই? শুধু কি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট? স্মার্ট ইংলিশ? নাকি শুধু বড় হয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া?

না বরং এর চেয়েও বেশি কিছুই।
একজন উত্তম সন্তান মানে এমন একজন মানুষ, যার হৃদয়ে আল্লাহভীতি আছে। যে তার সৃষ্টিকর্তার বিধিনিষেধ মেনে অন্যান্য সৃষ্টির প্রতিও দয়াশীল হয়। যে দুর্বল কাউকে আঘাত করে না। যে কাউকে অসম্মান করার আগে, ঠকানোর আগে, ক্ষতি করার আগে স্বীয় রবের ভয় করে। যে দায়িত্ব কর্তব্য রবের সন্তুষ্টির জন্য পালন করে।
যে অন্ধকার, একাকী ঘরেও জানে, “আমার রব আমাকে দেখছেন।”
আজ যখন চারপাশে এমন ভয়ংকর খবর দেখি, তখন শুধু আতঙ্ক না, এক ধরনের আত্মজিজ্ঞাসাও জাগে।
আমরা কেমন প্রজন্ম গড়ে তুলছি?
আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে তার আশপাশের মানুষের জন্য শান্তি হবে, নাকি কারো দুঃস্বপ্ন?
সঠিক অভিভাবকত্ব বা প্যারেন্টিং আসলে এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা একটা হৃদয় গড়ে তোলার কাজ।

একটা শিশুকে শেখানো, ক্ষমতা মানে জুলুম না।
পুরুষত্ব মানে আগ্রাসন না।
স্বাধীনতা মানে সীমালঙ্ঘন না।
আর মানুষ হওয়া মানে শুধু বেঁচে থাকা না, বরং অন্যকে নিরাপদ অনুভব করানো।
সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, এই তারবিয়াহ শুরু হয় ঘর থেকে। বাবা মায়ের নৈতিক মূল্যবোধ, সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি সংবেদনশীলতাই ধীরে ধীরে সন্তানদের মধ্যেও বিকশিত হতে থাকে।

মায়ের সুনিপুণ ঘরকন্না দেখে। বাবার আচরণ দেখে। নামাজের জায়নামাজেই খেলায় মেতে ওঠে। একটু একটু করে আদব, লজ্জা, আল্লাহভীতি ছোট্ট প্রাণগুলোতে সঞ্চারিত হতে থাকে। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি হৃদয় নরম হয়। 'মানুষ' হয়ে ওঠে সৃষ্টির সেরা জীব। আমরা যেন এমন সন্তান গড়ে তুলতে পারি, যারা আমাদের জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হবে। আর আমরা নিজেরাও যেন আমাদের বাবা-মায়ের জন্য রহমতের কারণ হতে পারি।
এই সময়টায় তাই শুধু “শিক্ষিত” সন্তান না, “মানবিক” সন্তান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
ঘরে বসে নিরাপদ পরিবেশে, উপভোগ্য ক্লাসে আল্লাহ তায়া’লার কালাম কুরআন শিক্ষার এই যাত্রাকে সহজ করতে আপনার পাশে আছে ই'তিকাদ।
❝গল্পে গল্পে কুরআন ও নৈতিক শিক্ষা❞ কোর্সে ভর্তির জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর
★ নাম
★ বয়স
★ অবস্থানরত সিটির নাম জানিয়ে এখনই মেসেজ করুন!

20/05/2026

আমরা এমন এক সময় পার করছি যা বছরের সবচেয়ে বরকতময় এবং শ্রেষ্ঠতম দিনগুলো।এই দিনগুলোতে আমরা শুধুমাত্র আমল বাড়াতে পারি তা নয়, এই দিনগুলো আমাদের হৃদয়ের গভীরতম চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরার এক অপূর্ব সুযোগ নিয়ে এসেছে।
মনের মধ্যে চলতে থাকা অস্থিরতা, অশ্রু আর প্রত্যাশার সবটুকু রং দিয়ে রঙিন করে দু'আগুলো রবের সামনে বলার সময় এসেছে।যেখানে আপনার ও আপনার রবের মধ্যে কোনো পর্দা নেই বা কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।
মা-বাবা হিসেবে শ্রেষ্ঠতম এই বিশেষ দিনগুলোতে সবচেয়ে সুন্দর আমলগুলোর একটি হতে পারে সন্তানের জন্য দু'আ।

সন্তানের জন্য আপনি কতকিছুই না করেস,কত কষ্ট, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের উন্নত পরিবেশে রাখার জন্য, উচ্চতর শিক্ষার জন্য নিজের কত শখ বিসর্জন দিয়েছেন। এত সবকিছুর মধ্যেও একটি জিনিস আছে যা সবচেয়ে প্রভাব ফেলবে আপনার সন্তানের জীবনে, সেটা হলো দু'আ।
আপনি হয়তো সবসময় আপনার সন্তানকে সকল বিপদাপদ থেকে রক্ষা করতে পারবেন না কিন্তু আপনার দু'আ তাদেরকে হেফাজত করতে পারবে, আপনার দু'আর কারণে তাদের দুনিয়া এবং আখিরাত সুন্দর হতে পারে।
এই বরকতময় দিনগুলোতে আল্লাহ আপনাকে মূল্যবান আমানত হিসেবে সন্তান দান করেছেন সেই আমানাহটা যেন আপনার ভুলের কারণে পথ না হারায় সেই দু'আ করতে পারেন।
আকুতিভরা কন্ঠ নিয়ে বলুন, হে আল্লাহ আমার সন্তানদের ঈমানকে শক্তিশালী করুন।তাদেরকে সত্যের পথে পরিচালিত করুন, তাদেরকে এমন বান্দা বানিয়ে দিন যারা শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্য জীবন যাপন করে।
ইয়া রব,আমার সন্তানদের উত্তম চরিত্র এবং সুন্দর আখলাক দান করুন।তাদেরকে বিনম্র এবং সহানুভূতিশীল হিসেবে গড়ে তুলুন।
হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে কুরআন শেখার,পড়ার, বোঝার এবং তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন।
আমরা অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না কিন্তু আমরা দু'আ করতে পারি। আর দু'আ হচ্ছে মু'মিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
যিলহজ্জের এই ১০ দিনে সন্তানের জন্য বেশি বেশি দু'আ করুন।কেননা একজন নেক সন্তানই হতে পারে উত্তম সাদকায়ে জারিয়া যা আপনার মৃত্যুর পরও কাজে আসবে।

20/05/2026

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের শ্রেষ্ঠত্ব হলো, আল্লাহ তা'আলা এই ফজিলতপূর্ণ রাতগুলোর শপথ করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
❝ঊষার শপথ এবং দশ রাতের শপথ।❞
[সূরা ফাজর,৮৯:১-২]
অধিকাংশ মুফাসসিরের মত অনুযায়ী উল্লেখিত দশ রাত দ্বারা জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য।
[তাফসিরে ইবনু কাসির: ৮/৩৯০]
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,“আল্লাহর নিকট জিলহজ্জের দশ দিনের ইবাদতের তুলনায় আর কোনো দিনের ইবাদতই অধিক প্রিয় নয়। এই দিনগুলোর প্রত্যেক দিনের সিয়াম এক বছরের সিয়ামের ন্যায় আর এর প্রত্যেক রাতের সালাতুত তাহাজ্জুদ লাইলাতুল কদরের শেষ রাতে আদায়ের ন্যায়।"

এই দশকে আমরা কী করতে পারি?

১। আল্লাহর যিকির
(ক) তাহলিল অর্থাৎ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পড়া
(খ) তাকবির অর্থাৎ اللَّهُ أَكْبَرُ
(আল্লাহু আকবার) পড়া
(গ) তাহমিদ অর্থাৎ ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ
(আলহামদুলিল্লাহ) পড়া
(ঘ) তাসবিহ অর্থাৎ سُبْحَانَ ٱللَّٰهِ
(সুবহানাল্লাহ) পড়া
(ঙ) ইস্তিগফার করা
(চ) রাসূল ﷺ এর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করা,

তাকবিরের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য:
জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে পুরুষদের তাকবির হবে সশব্দে। এই দশ দিনে তাকবির, তাহমিদ,তাহলিল এবং তাসবিহ পড়া হল সুন্নাহ।এই সময়ে ঘরে, বাইরে,মসজিদে, রাস্তায় যেখানেই আল্লাহর স্মরণ জায়িজ আছে সেখানেই সশব্দে আল্লাহ আযওয়াজালের যিকির এবং বড়ত্ব ঘোষণা করা হল উত্তম ইবাদত।

তাকবিরে যুক্ত হতে পারে এই শব্দগুলো:
اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

২। সাধ্যানুযায়ী সিয়াম পালন

৩। যথাসম্ভব সাদাকাহ করা
যদিও সারা বছর জুড়েই আমাদের সাদাকাহ করা উচিত তবে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে আমাদের প্রত্যেকের আরও বেশি করে আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ করা উচিত।

৪। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত

৫। অবিরত এবং অবিচলভাবে দুআ করতে থাকা
যে ব্যক্তি দুআ করে না,সে আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়ে যেতে পারে।কেননা রাসূল ﷺ বলেন,
❝যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার উপর নিজের ক্রোধ চাপিয়ে দেয়।❞

৬। কিয়ামুল লাইল

৭। আরাফার দিনের মর্যাদা এবং এই দিনের সিয়াম রাখা
রাসূল ﷺ বলেন,আল্লাহ তা'লা আরাফার দিনের তুলনায় অধিক সংখ্যক বান্দাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।তিনি কাছে আসেন এবং ফেরেশতাদের নিকট তাঁর বান্দাদের প্রশংসা করে বলেন,‘এরা কী চায়?'

৮। ১০ই জিলহজ্জ পশু কুরবানি
দশম দিনে কুরবানির আমলে রয়েছে বিরাট পুরষ্কার।কুরবানি অবশ্যই হতে হবে ঈদুল আযহার সালাতের পরে,আর হাতে সময় পাবে পরের তিনদিন(১৩ই জিলহজ্জ পর্যন্ত)।

৯।তাওবাহ
রাসূল ﷺ এর অনুসরণে প্রতিদিনই তাওবাহ করা উচিত।

১০। সাধারণ সুন্নাহ ও নফল সলাত
প্রতিদিন ১২ রাকাআত সুন্নাহ সলাতের জন্য আপনি জান্নাতে একটি প্রাসাদ পাবেন ইনশাআল্লাহ।

এই ১০ দিন আপনার রবের মৃদু বাতাসে নিজেকে উজার করে দিন।কারণ আল্লাহ যাকে চান তাঁর রহমতের বাতাসে সিক্ত করেন।আর যে এই স্পর্শ পায়,সে ইয়াওমুল হিসেবে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।আল্লাহ আমাদের নবি মুহাম্মদ ﷺ, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

[তথ্যসূত্র- বই: জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন,শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল হাফিজাহুল্লাহ]

19/05/2026

ইসলামে পবিত্র কুরআনের হাফিযদের মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন হাফিযদের সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে।প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সওয়াব(মর্যাদা) বাড়ানো হবে।

হিফয করলে কি শুধু আখিরাতেই অফুরন্ত পুরষ্কার পাওয়া যাবে,দুনিয়াবি কোনো লাভ আছে কি?
তাহলে চলুন জেনে নেই কুরআন মুখস্থ করলে দুনিয়াতে কী কী লাভ হবে?

১.কুরআন হিফয মানসিক প্রশান্তির উৎস।
বর্তমান সময়ে এই পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বড় অশান্তি হলো মানসিক অশান্তি।
সবার একই অভিযোগ, শান্তিতে নেই ভালো নেই।
কোন মানুষ যদি মানসিকভাবে শান্তিতে না থাকে, তাহলে তার কাছে পৃথিবীর কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এমনকি অনেক সময় এই মানসিক অশান্তির কারণে মানুষ নিজের জীবন পর্যন্ত শেষ করে দেয় বিভিন্ন মাধ্যমে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
অনেক মানুষ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিক সমস্যায় মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। হতাশা, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা তার অন্তরে গভীর ছাপ ফেলে।

এমনকি এই দুশ্চিন্তার কারণে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আর ঐ রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষের সর্বস্ব বিলীন হয়ে যায়।

এ অবস্থায় দৈনিক কুরআন হিফয ও তিলাওয়াত হৃদয়ে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দেয় যার স্বাদ প্রকৃতপক্ষে তিলাওয়াতকারীরাই অনুভব করতে পারে।
এ কথাটি আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন, সূরা রা‘দে
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।
সূরা রা‘দ: ২৮

অতএব, দৈনিক কুরআন হিফয ও তিলাওয়াত মানুষকে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখে,অন্তর কে প্রশান্ত রাখে।
এবং দুনিয়াবী অনেক ক্ষতি থেকে লোকসান থেকে হেফাজতে রাখে।

২.মেধা শক্তি বৃদ্ধি হয়।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা শুধু একটি ইবাদতই নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি অনুশীলন। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কুরআন হিফয করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে একজন হাফেজের চিন্তাশক্তি ও মনে রাখার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রখর হয়ে ওঠে।

৩.বর্তমান যুগে পিতা-মাতার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা
সন্তান অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে
খারাপ বন্ধুদের সাথে জড়িয়ে পড়ছে
নেশা, অশ্লীলতা ও গুনাহে জড়িয়ে যাচ্ছে
মোবাইল আসক্তি ও চরিত্রগত অবক্ষয়,
এ অবস্থায় তাকে যদি কোরআন মুখস্ত করার মধ্যে ব্যস্ত রাখা যায়, তাহলে সে অন্যান্য চরিত্র নষ্ট হবে এমন কাজের সাথে আর জড়িত হতে পারবেনা।

কেননা তিলাওয়াত মানুষের চরিত্র গঠন করে এবং তাকে সমস্ত খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে যেটা মা বাবার প্রশান্তির কারণ হয়।

৪.সম্মানিত হওয়ার কারণ।

কুরআন হিফয করার অন্যতম বড় একটি উপকারিতা হলো এটি তার হাফেজকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে। মানুষ পৃথিবীতে সম্মান, মর্যাদা ও পরিচয়ের জন্য কত কিছুই না করে
কেউ অর্থের পিছনে দৌড়ায়, কেউ পদমর্যাদার জন্য চেষ্টা করে, কেউ মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য জীবন ব্যয় করে। কিন্তু সত্যিকারের সম্মান সেই মানুষ পায়, যাকে আল্লাহ নিজে সম্মানিত করেন।
যেমন ছোট্ট একটি ঘটনা।
১. গোলাম থেকে গভর্নর ইবনে আবযার ঘটনা

একবার উমর ইবনুল খাত্তাব মক্কার পথে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি মক্কার দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাফি ইবনে আবদুল হারিস-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেনঃ
তুমি কাকে মক্কার দায়িত্ব দিয়ে এসেছো?
তিনি বললেন
ইবনে আবযা নামের এক ব্যক্তিকে।”

উমর (রা.) বললেনঃ
সে কে?
তিনি বললেনঃ
তিনি একজন মুক্তকৃত গোলাম।

তখন উমর (রা.) বললেন
তাকে কেন দায়িত্ব দিলে?
তিনি বললেন
কারণ তিনি কুরআনের হাফেজ ও বড় আলেম।
তখন উমর (রা.) বললেন
إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرين
নিশ্চয় আল্লাহ এই কুরআনের মাধ্যমে কিছু মানুষকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং কিছু মানুষকে অবনত করেন।
(সহিহ মুসলিম)
আরো এরকম অনেক ফায়দা আছে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কুরআন হিফজ করার ও তা অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।

Photos from Itiqad Academy's post 18/05/2026

🟥 পবিত্র জিলহজ্ব মাসের গুরুত্ব, ফযীলত ও বিশেষ আমল 🟥

রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা'য়ালার নিকট জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর অন্য কোনো দিনের আমল নয়। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে সিয়াম পালন করো এবং অধিক পরিমানে তাসবীহ তাহলীল, যিকির আযকার পাঠ করো। [মুসনাদে আহমাদ- ৫৪৪৬]

জিলহজ্ব মাস পবিত্র হজ্বের মাস,ত্যাগ ও কুরবানীর মাস।এক কথায় বলা চলে লাইলাতুল ক্বদরের মতোই মূল্যবান।তাই আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা দরকার এই পবিত্র মাসকে সর্বোত্তমভাবে কাটানোর।

🟥 জিলহজ্ব মাসের আমল:

১. জিলহজ্ব মাস কবে শুরু?

আরবী মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। ১৮ মে জিলক্বদ মাসের ২৯ দিন শেষ হবে ইন শা আল্লাহ। ঐ দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখতে হবে। কেননা, আরবী মাস কখনো ২৯ দিনে হয় আবার কখনো ৩০ দিনে হয়।

২. রোযা রাখবো কবে?

যদি ১৮ই মে রবিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায় তাহলে ঐ দিন রাতেই সাহরি খেয়ে ১৯ মে সোমবার থেকে জিলহজ্বের রোযা রাখা শুরু করতে হবে।
(সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে)
আর যদি ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ১৯ তারিখ রবিবার রাতে সাহরি খেয়ে ২০ তারিখ সোমবার থেকে রোযা রাখতে হবে।

৩. কতগুলো রাখবো?

রোযা মোট ৯ টা (১~৯ জিলহজ্ব)। সবগুলো রাখাই উত্তম।
সব না পারলে সাধ্যমত রাখা যাবে। অন্তত কিছু না হলেও শেষের দুটো রোযা (৮, ৯ যিলহজ্জ) বা শেষ (৯ যিলহজ্জ) একটা রোযা রাখা উচিত।
এগুলো নফল রোযা। কেউ না রাখলে গুনাহ হবে না।
কেউ আবার ভাববেন না যে রাখতেই হবে। আপনার ইচ্ছা, আপনি আপনার আখিরাত কেমন ভাবে গড়বেন।
যাদের রমজানের কাযা আছে তারা কাযা রোযার নিয়ত করতে পারেন।

৪. শুনেছি ঈদের আগের দিন রোযা রাখা হারাম?

ভুল শুনেছেন।
বছরের ৫ দিন রোযা রাখা হারাম। শাওয়ালের ১ তারিখ (রোযার ঈদের দিন), জিলহজ্বের ১০, ১১, ১২, ১৩ তারিখ (কুরবানি ঈদের দিন ও পরের ৩ দিন) মোট ৫দিন।

৫. আমি তো কুরবানী দিবো না তাহলে?

এই রোযা গুলো নফল।
কুরবানীর সাথে সম্পর্কিত না।আপনি রাখলে সওয়াব পাবেন। না রাখলে সমস্যা নেই।

৬. শুনেছি যারা কুরবানী করবে তারা নখ চুল ইত্যাদি কাটবে না?

জ্বি, যারা কুরবানী করবেন তাদের জন্য সুন্নত হলো যিলহজ্ব শুরুর পর থেকে কুরবানী না করা পর্যন্ত চুল, নখ, গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার না করা।
এজন্য জিলহজ্ব মাস শুরুর আগেই এই কাজ গুলো করে নিতে হবে।
যারা কুরবানী করবে না তারাও এই আমল গুলো করলে সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ।নারী পুরুষ ছেলে মেয়ে সবাই করতে পারবে এই আমল।
এই আমল করতে চাইলে ১৮ই মে জিলহজ্বের চাঁদ উঠার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যার আগেই সব কিছু পরিষ্কার করে নিতে হবে।সেই ভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে সবাইকে।

৭. রোযা রাখতে গিয়ে যদি সাহরি খেতে না পারি?

সাহরি খাওয়া সুন্নাত। ইচ্ছা করে ত্যাগ করা যাবে না।
যদি ঘুমের কারনে টের না পাওয়া যায় তাহলে কিছু না খেয়ে শুধু নিয়ত করে রাখলেই রোযা হবে।
নফল রোযা রাখছি বললেই হবে।অন্যদিকে রোযা রাখার জন্য সাহরি করলেই নিয়ত হয়ে যাবে (ইনশা আল্লাহ) মুখে না বললেও চলবে।

৮. আরাফার দুআ ও তাকবীরে তাশরীক কি?

আরাফার দুআ আরাফার দিনে পড়তে হয়। তবে সেটা অন্যান্য যে কোন সময়ও পড়া যাবে।
দুআ টি হলোঃ
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

৯. নীচের তাসবীহটি বেশী বেশী পড়বেন।

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ

একবার "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি" পাঠ করা হলো আল্লাহর রাস্তায় পাহাড় পরিমান স্বর্ণ দান করার চেয়েও উত্তম। (সহীহ আত তারগীব ১৫৪১, তাবারানি ফিল কাবির ৭৭৯৫)

১০. দৈনন্দিন সকাল সন্ধ্যার জিকিরগুলো পড়া সাথে অন্যান্য জিকিরগুলো কাজের ফাকে, হাটতে চলতে করতে থাকা।
যেমনঃ সুবাহানআল্লাহ,আলহামদ­লিল্লাহ,আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইত্যাদি বেশি বেশি পাঠ করা

উম্মু হানি (র.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ, আমি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে গিয়েছি, আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যা আমি বসে বসে পালন করতে পারবো।
তিনি বলেনঃ "তুমি ১০০ বার "সুব'হানআল্লাহ" বলবে তাহলে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে।
তুমি ১০০ বার "আলহামদুলিল্লাহ" বলবে, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে।
তুমি ১০০ বার "আল্লাহু আকবার" বলবে, তাহলে ১০০টি মাকবুল উট কুরবানির সমপরিমাণ সাওয়াব তুমি পাবে।তুমি ১০০ বার "লা-ইলাহা ইল্লাহ" বলবে, তাহলে তোমার সাওয়াবে আসমান ও জমীন পূর্ণ হয়ে যাবে (এবং তোমার কোন পাপই বাকি থাকবেনা)।”~(মুসনাদে আহমাদ ৬/৩৪৪, সুনানু ইবনু মাজাহ ২/১২৫২,নং ৩৮১০, নাসাঈ, কুবরা ৬/২১১, মুসতাদারাক হাকিম ১/৬৯৫, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/৯২; আলবানী সহীহাহ ৩/৩০২,৩৯০,নং ১৩১৬)

১১. প্রতিদিন কুরআন শরিফ থেকে একশটি আয়াত পড়া।
তাহলে সারারাত্রিতে টানা তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করার সওয়াব পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ।~ (সহিহুল জামে ৬৪৬৮)
(সূরা কদর থেকে সর্বশেষ সূরা নাস পর্যন্ত পড়া যায়।
কম সময়ে অতি সহজে ১০০ আয়াত পূর্ন হয় এতে)

১২. প্রতিদিন কুরআন শরিফ থেকে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করা। তাহলে আমলনামায় কিন্তার পরিমান সাওয়াব লিখা হবে।
কিন্তার হল পৃথিবী ও তার মধ্যস্থ সকল কিছুর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
~(সহিহ তারগিব ৬৩৮)

১৩. সূরা ইখলাস যতক্ষণ পারা যায় পড়তে থাকা।

তিনবার সূরা ইখলাস পড়লে আমলনামায় পুরো এক খতম কুরআন পড়ার সাওয়াব লেখা হবে। ~(সহীহ বুখারি ৫০১৫)

বেশি বেশি দুরুদ পড়া(দরুদে ইব্রাহিম সর্বোত্তম দরুদ) “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" শুধু এতটুকু পড়লেও দুরুদ পড়া হয়।

১৪.বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা।
ছোট্ট একটা ইস্তেগফার হলোঃ "আস্তাগফিরুল্লাহি ওয়াতুবু ইলাইহি"।
অথবা শুধু “আস্তগফিরুল্লাহ”

১৫. এই ১০ দিনের প্রতিদিন কমপক্ষে ১ টাকা করে হলেও দান করা।তাতে পবিত্র মাসে দানকারী হিসেবে আমলনামায় নাম লেখা হবে।সরাসরি দেয়ার ব্যবস্থা না থাকলে আলাদা একটা বক্সে নিয়্যাত করে রেখে দেয়া। পরে সুযোগ মতো হকদারকে সেটা দিয়ে দেয়া যায়।

১৬. আরাফার রোযা কবে?
আরাফার রোযা ৯ই যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিন। বাংলাদেশে ঈদ সৌদির একদিন পরে হয়।
তাই আলেমগণ বলেন ঈদের আগের দুই দিন রোযা রাখতে।

রাসূল সল্লল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, এতে তিনি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। -[সহিহ মুসলিম হাদিস নং- ২৬৩৬]

১৭)তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা।প্রত্যেক বালেগ পুরুষ ও নারীর উপর ফরয নামায শেষ করে ১ বার উচ্চস্বরে পড়া ওয়াজিব। নারীরা নিজে শুনতে পারবে এমন ভাবে পড়বে বেশি উচু স্বরে পড়বে না।
তাকবীর হলঃ

اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أكْبَرُ،
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ،
وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ
ﻭ ﻟِﻠّﻪ الحَمْد

🟥কবে কখন পড়তে হবে -
০৯ জিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১০ জিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১১ জিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১২ জিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর মাগরিব ইশা
১৩ জিলহজ্জ = ফজর যোহর আছর..

সকল ওয়াক্তে ফরয নামাযের সালামের পরপর ১ বার পুরুষেরা উচ্চ স্বরে পড়বেন আর নারীরা নিজের কানে শোনার মত করে পড়তে হবে।এভাবে মোট ২৩ ওয়াক্ত।
সুন্নাত নফল ওয়াজিব নামাযে পড়া লাগবে না।

১৮. এ সময় কি যাকাত দেওয়া যাবে?
জ্বি, যাবে। যাকাত যে কোন সময় দেওয়া যায়।
যার যাকাত যখন ফরয হয় তখন দিয়ে দেওয়াই উত্তম।

২০. যার উপর কুরবানী ওয়াজিব,তাঁর কুরবানী করা।
মহিলাদের ক্ষেত্রেও কুরবানীর শর্ত পূরণ হলে তাঁকেও কুরবানীর ওয়াজিব আদায় করতে হবে।

(সংগৃহীত ও পরিমার্জিত)

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন।সওয়াবের উদ্দেশ্যে পোস্ট টা কপি/শেয়ার করে নিজের আমলনামায় সওয়াবে জারিয়াহ এর ব্যবস্থা করতে পারেন ইন শা আল্লাহ।

18/05/2026

আজ ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৭ । ১৮ই মে ২০২৬। আজ জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্তই নখ-চুল কেটে ফেলার শেষ সময় ⚠️

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
কেউ যদি কুরবানি দিতে চায়, তাহলে জিলহজ মাস আসার পর যেন সে আর তার নখ-চুল না কাটে।
~[মুসলিম শরীফ, হাদীস ৫২৩৩]

আরেকটি হাদীসে আছে, একজন সাহাবী একবার হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে চেয়েছেন,

'আমার একটি মাত্র দুধের বকরি আছে। আমি কি তা কুরবানি করে দেব?'

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'না, তুমি বরং তোমার নখ-চুল কাটো, গোফ ছোট করো আর লজ্জাস্থানের লোম পরিস্কার করো। আল্লাহ পাকের নিকট এটাই তোমার কুরবানির পূর্ণতা হিসেবে বিবেচিত হবে।'
~[আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১]


17/05/2026

ঈদুল আযহা মানে কি কেবল হাটে যাওয়া আর গরু কেনা? না, কুরবানির আসল শিক্ষা এর চেয়েও অনেক গভীর।
এটি ত্যাগের গল্প, আনুগত্যের গল্প, আল্লাহর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প।
আর এই শিক্ষার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল ছোট্ট ইসমাঈল আ.। ছোট্ট বয়সেই তিনি দেখিয়েছেন আল্লাহর আদেশের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য। অন্যদিকে হযরত ইব্রাহিম আ. দেখিয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটিও ত্যাগ করা যায়।

এই মহান শিক্ষা শিশুদের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে আমাদের এই সপ্তাহের আয়োজন:

❝কুরবানির মহান শিক্ষা: ছোট্ট ইসমাঈল আ. এর আত্নত্যাগ ও আনুগত্যের গল্প।❞
⏰সময়: 7:15 PM
📅তারিখ: ১৯ মে ২০২৬(মঙ্গলবার)

আপনার ছোট্ট সোনামণির হৃদয়ে ঈমানের বীজ বুনে দেওয়ার এ সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না। ইব্রাহিম আ. ও ইসমাঈল আ. এর অমর ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে তাদের যুক্ত করে দিন Kids Improvement Conference এর সাথে।

Want your school to be the top-listed School/college in Mirpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

16/5
Mirpur
1216