25/04/2026
“ নার্সিসিস্ট পার্টনার ”!? সেতো সম্পর্কে এক নীরব যুদ্ধ!!
কখনো কি এমন কারও সাথে সম্পর্কে ছিলেন,
যেখানে সব দোষ যেন আপনারই?
আপনি যতই চেষ্টা করেন, তবুও আপনি “ভুল”!
হ্যাঁ, এই অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই আছে
কিন্তু আমরা অনেকে এটার নামট জানি না।
এটাই হতে পারে নার্সিসিস্টিক সম্পর্কের বাস্তবতা।
নার্সিসিস্টরা কেমন হয়???
- সবসময় নিজেকে ঠিক ভাবে
- আপনার অনুভূতিকে ছোট করে দেখে
- আপনার কষ্টকে “নাটক” বলে উড়িয়ে দেয়
- ভালোবাসার নামে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে
- আর সবচেয়ে বড় কথা—
কখনো নিজের ভুল স্বীকার করে না, সবসবয় ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নিজের করা অন্যায় কাজ/ কথা আপনার উপর চাপিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের অনেক সম্পর্কেই এটা “স্বাভাবিক” ভেবে মেনে নেওয়া হয়।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে,
আপনি নিজের উপর বিশ্বাস হারাতে থাকেন,
আপনি কথা বলার আগে ভয় পান, কথা বলব কি-না, বললে ঝগড়া হবে কি-না
ধীরে ধীরে নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলেন
একসময় আপনি চুপ হয়ে যান
অথবা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
কারণ কথা বললেও তো লাভ হয় না
বরং উল্টো আপনাকে চরমভাবে অপমানিত হতে হয়
তাদের সব থেকে বড়ো শক্তিশালী একমাত্র অস্ত্র হলো
"দোষারোপ করা"!!
এরা আপনাকে যেকোনভাবে দোষী সাব্যস্ত করবেই।
কারন এদের নিজের কোনো যোগ্যতা ই নেই আপনার মুখোমুখি হওয়ার।।।
নার্সিসিস্টরা চতুরভাবে দোষ আপনার উপর চাপিয়ে দেয়,
“তুমি এমন না হলে আমি রাগ করতাম না”
“সবকিছু তোমার জন্যই খারাপ হচ্ছে”
“তুমি আমাকে বুঝো না”
"তোমার জন্যই এতকিছু হচ্ছে "
এমনকি তারা এমনভাবে কথা বলে,
যাতে আপনি নিজের বাস্তবতাকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন
এটাকে বলা হয় Gaslighting বা মানষিক শোষণ।
যেখানে আপনি ভাবেন, “সমস্যা কি আসলেই আমার?
এতকিছুর পরও কেন আপনি নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না? কারন-
- আপনি আশা করেন,একদিন সে বদলাবে
- আপনি পুরোনো ভালো সময়গুলো আঁকড়ে থাকেন
- সমাজ, পরিবার, বাচ্চা,সবকিছু আপনাকে আটকে রাখে
- আর সবচেয়ে বড় কথা,
আপনি নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করেন
কিন্তু সত্যিটা হলো,
আপনি সমস্যার মূল নন।
আপনার অনুভূতি অমূল্য।
আপনার কষ্ট বাস্তব।
মনে রাখবেন, একটি সুস্থ সম্পর্ক কখনো আপনাকে
-ছোট করবে না
-চুপ করাবে না
-নিজের পরিচয় ভুলিয়ে দেবে না
-কারণে অকারণে আপনার দিকে আঙুল তুলবে না
কী করতে পারেন?
- নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
- বিশ্বাসযোগ্য কারও সাথে কথা বলুন
- প্রয়োজনে পেশাদারের সহায়তা নিন
- নিজের সীমারেখা (boundaries) তৈরি করুন।
-নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করুন
ভালোবাসা মানে একটা শান্তির জায়গা, নিরাপদ আশ্রয়। মেনে নেওয়া মানে একটা বন্দি জীবনের মত,, তাই যেখানে সম্মান নেই , গুরুত্ব নেই সেখানে আর যাই হোক শান্তি থাকে না।