23/09/2024
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যাবস্থাপনা
প্রথম পত্র
অধ্যায় - ০২ (ব্যবসায় পরিবেশ)
প্রশ্নঃ পরিবেশ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে মানুষ বসবাস করে এবং যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনধারাকে প্রভাবিত করে তাকেই তার পরিবেশ বলে।
প্রশ্নঃ ব্যবসায় পরিবেশ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে একটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।
ব্যাবসায় পরিবেশের উপাদানগুলোকে আমরা প্রাথমিকভাবে ৬টি ভাগে ভাগ করতে পারি
১. প্রাকৃতিক পরিবেশ
২. অর্থনৈতিক পরিবেশ
৩. সামাজিক পরিবেশ
৪. রাজনৈতিক পরিবেশ
৫. আইনগত পরিবেশ
৬. প্রযুক্তিগত পরিবেশ
প্রাকৃতিক পরিবেশ
কোন দেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, মৃত্তিকা, নদ-নদী, সাগর-সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত, দেশের আয়তন, অবস্থান ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
অর্থাৎ, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট উপাদানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
• প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ নিম্নরূপ-
১. ভূ-প্রকৃতি
২. মৃত্তিকা
৩. জলবায়ু
৪. নদ-নদী
৫. সাগর-সমুদ্র
৬. পাহাড়-পর্বত
৭. দেশের আয়তন
৮. দেশের অবস্থান
৯. প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ
(খণিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, প্রাণিজ সম্পদ, জলজ সম্পদ ইত্যাদি)
ব্যবসায়ের উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিভিন্ন ধরণের। ভূপ্রকৃতি, মৃত্তিকা, জলবায়ু, দেশের অবস্থান, আয়তন প্রভৃতির পার্থক্যের কারণে এরূপ ভিন্নতা দেখা দেয়। অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাবসায় গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন- পাট চাষের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশে পাট শিল্পের প্রসার ঘটেছে। অনুরূপভাবে নরওয়েতে মৎস শিল্প, কুয়েতে পেট্রোলিয়াম শিল্প গড়ে উঠার পিছনেও প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলো প্রভাব বিস্তার করেছে।
আবার, প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাবসায় গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করে থাকে। যেমন- নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশ ভূবেষ্টিত হওয়ায় এখানে কোনো সমুদ্র বন্দর নেই। ফলে এসকল দেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে সুবিধা করতে পারছে না।
মূলত,প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন দেশের ব্যাবসায় কার্যকলাপও ভিন্নতর হয়ে থাকে। কোন দেশে কোন শিল্প গড়ে উঠবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর। অর্থাৎ, ব্যাবসায় গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
অর্থনৈতিক পরিবেশ
কোনো দেশের আয় ও সঞ্চয়, মূলধন ও বিনিয়োগ, অর্থ ও ঋণ ব্যাবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে।
অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান
১. আয় ও সঞ্চয়
২. মূলধন ও বিনিয়োগ
৩. অর্থ ও ঋণ ব্যাবস্থা
৪. আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ
৫. মুদ্রাবাজার
৬. শেয়ারবাজার
৭. দক্ষ উদ্যোক্তা
৮. মানবসম্পদ
৯. মুদ্রা ও রাজস্বনীতি
১০. চাহিদা ও ভোগ
ব্যবসায়ের উপর অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রভাব
যেকোনো ব্যাবসায় গঠন, পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। অর্থ হচ্ছে ব্যাবসায়ের মূল চালিকাশক্তি। যেকোনো ব্যাবসায় স্থাপনের জন্য মূলধন তথা অর্থের প্রয়োজন হয়। ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ মূলধন গঠনে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মানসিকতাও মূলধন গঠনে অবদান রাখে। এসকল উপাদানের প্রাপ্যতা অর্থনৈতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। একটি সমৃদ্ধ ও অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ যেকোনো দেশের ব্যাবসায়ের দ্রুত অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে।
উদাহরণস্বরূপ আমরা সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নতির কথা বলতে পারি, যাদের উন্নয়নের পিছনে অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
সামাজিক পরিবেশ
কোনো দেশের জনসংখ্যা, জাতীয়তা, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যাবস্থা, মূল্যবোধ, আচার-আচরণ দেশের ঐতিহ্য ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে।
সামাজিক পরিবেশের উপাদানসমূহ নিম্নরূপ-
১. জনসংখ্যা
২. জাতীয়তা
৩. ধর্মীয় বিশ্বাস
৪. সংস্কৃতি
৫. শিক্ষা ব্যাবস্থা
৬. মূল্যবোধ
৭. আচার-আচরণ
৮. দেশের সুনাম
৯. দেশের ঐতিহ্য
১০. সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহ
সামাজিক পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হলো-
১. ধর্মীয় পরিবেশ
২. সাংস্কৃতিক পরিবেশ
১.ধর্মীয় পরিবেশ-- ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় অনুভূতি, ধর্মীয় অনুশাসন ও আচার-আচরণ, ধর্মের চর্চা ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে ধর্মীয় পরিবেশ বলে।
একেক ধর্মের জনগণ একেক ধরণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কার দ্বারা প্রভাবিত হয়। সকল সমাজে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের আচার আচরণে প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে কিছু ব্যবসায়ের প্রসার লাভ করে আবার কিছু ব্যবসায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। যেমন- বৌদ্ধ ধর্মমতে- জীব হত্যা মহাপাপ। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৌদ্ধ ধর্ম প্রধান দেশগুলো পশুপালন শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারে না। আবার, ধর্মীয় কারণেই সৌদিআরব ধর্মীয় পণ্যসামগ্রী যেমন- আতর, জায়নামাজ, তসবি ইত্যাদির ব্যবসায়ে অগ্রসরমান। অর্থাৎ, যেকোনো ব্যবসায় গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রভাব সুস্পষ্ট।
২. সাংস্কৃতিক পরিবেশ-- সমাজের অভ্যন্তরে মানুষের মাঝে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা কিছু ধারণা, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আচরণ, রীতি, প্রথা ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশ বলে।
কোনো এলাকার সংস্কৃতি সে এলাকার সার্বিক কাজ কর্মের সাথে সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করে থাকে। অর্থাৎ, কোনো এলাকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন, দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি প্রভাবিত হয় ওই এলাকার সাংস্কৃতিক পরিবেশের দ্বারা। আর এগুলোর উপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়াও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ব্যবসায় গঠন ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যেমন- ঢাকার মসলিন, টাঙ্গাইলের চমচম, বগুড়ার দই, মিরপুরের বেনারশি ইত্যাদি ব্যবসায় তাদের পুরোনো ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও প্রবৃদ্ধি লাভ করছে।
রাজনৈতিক পরিবেশ
কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব, সরকার, সরকারি নীতিমালা, রাজনৈতিক দল, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে রাজনৈতিক পরিবেশ বলে।
রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ
১. সার্বভৌমত্ব
২. সরকার
৩. সরকারি নীতিমালা
৪. রাজনৈতিক দল
৫. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ
৬. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
৭. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
৮. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
ব্যবসায়ের উপর রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাব
সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ যেকোনো দেশের ব্যাবসায়ের অগ্রগতির অন্যতম নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে সেখানে ব্যবসায় বান্ধব নীতিমালা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশ পাওয়া যায়, যা যেকোনো দেশের ব্যবসায়কে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। যেমন- মালয়েশিয়ার ব্যবসায়িক উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে সেদেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ।
পক্ষান্তরে, অনুন্নত ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের ব্যবসায়ের অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ করে। ব্যবসায়ীগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। নতুন উদ্যোক্তারা উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলে। বহিঃবিশ্বে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ফলশ্রুতিতে বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস পায়। যেমন- মায়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে তারা ব্যবসায়ে পিছিয়ে রয়েছে।
অর্থাৎ, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যবসায় দ্রুত প্রসার লাভ করে। আর প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যবসায়ের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
আইনগত পরিবেশ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন যেমন- বাণিজ্যিক আইন, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন, শিল্প আইন, শ্রম আইন, ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইন, ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে আইনগত পরিবেশ বলে।
আইনগত পরিবেশের উপাদানসমূহ
১. বাণিজ্যিক আইন
২. পরিবেশ সংক্রান্ত আইন
৩. শিল্প আইন
৪. শ্রম আইন
৫. ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইন
৬. আমদানি-রপ্তানি নীতি ইত্যাদি।
ব্যবসায়ের উপর আইনগত পরিবেশের প্রভাব
যেকনো দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সেদেশের প্রচলিত আইনগত বিধি-বিধান মেনে চলতে হয়। আইনগত কারণেই একজন ব্যবসায়ী তার ইচ্ছা মতো বা মন মতো যেকোনো কাজ করতে পারে না। তাকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। যেমন- শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, শ্রম বিরোধ মীমাংসা সংক্রান্ত বিধি-বিধান বর্ণিত রয়েছে শ্রম আইনে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ও উদ্ভোত সমস্যার সমাধান অবশ্যই এই আইন অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে।
অনুরূপভাবে, মজুরি আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত আইন, শিল্পনীতি, বিনিয়োগনীতি, ইত্যাদিও ব্যবসায়-বাণিজ্য স্থাপন ও পরিচালনার সুবিধার্থে প্রণীত হয়, যা ঐ দেশের ব্যবসায়ের কার্যাবলীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে থাকে। এসব আইন যদি যুগোপযোগী ও সহজ প্রকৃতির হয়, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। অন্যথায়, ব্যবসায় পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পরে।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তির আমদানির সুযোগ ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে।
প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদানসমূহ
১. বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা
২. গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানসমূহ
৩. প্রযুক্তির ব্যবহার
৪. প্রযুক্তির আমদানির সুযোগ ইত্যাদি।
ব্যবসায়ের উপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের প্রভাব
বর্তমানকালে ব্যবসায়ের উপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। প্রযুক্তিগত পরিবেশ ব্যবসায়ের ধারা ও গতি-প্রকৃতিকে দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানের মাধ্যমে নতুন নতুন তত্ত্ব ও জ্ঞানের আবিষ্কার ঘটে। আর এই তত্ত্ব ও জ্ঞানকে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ সৃস্টি করে এই প্রযুক্তি।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কম খরচে উন্নতমানের নতুন নতুন পণ্য সেবার উৎপাদন ও সরবরাহ সম্ভব হয়। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্য দ্রুত প্রসার লাভ করে। চীন, জাপান, ব্রিটেনসহ অন্যান্য উন্নত দেশের ব্যবসায়িক সাফল্যের মুলেও রয়েছে এই প্রযুক্তিগত পরিবেশের প্রভাব।
প্রশ্নঃ ব্যবসায়ের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাববিস্তারকারী পরিবেশের উপাদানসমূহ আলোচনা কর।
প্রতিষ্ঠানের অব্ভন্তরীন ও বাহ্যিক যে সকল উপাদান বা শক্তিসমূহ প্রতিষ্ঠানের কাজের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে তাদেরকে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান বলে। এ ধরণের উপাদানসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (ব্যাষ্টিক- Micro)
খ. বাহ্যিক পরিবেশ (সামষ্টিক- Macro)
অভ্যন্তরীণ পরিবেশ
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিদ্যমান অবস্থা ও বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তাকে অভ্যন্তরীন পরিবেশ বলে। অভ্যন্তরীন পরিবেশের উপাদানসমূহ নিম্নরুপঃ
১. মালিক বা শেয়ারহোল্ডার
২. পরিচালনা পর্ষদ
৩. শ্রমিক-কর্মী
৪. প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি
৫. প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সুযোগ সুবিধা ইত্যাদি।
বাহ্যিক পরিবেশ
প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিভিন্ন অবস্থা ও পক্ষসমূহের কর্মকান্ড ও আচরণ যা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে তাকে বাহ্যিক পরিবেশ বলে। বাহ্যিক পরিবেশের উপাদানসমূহ নিম্নরুপঃ
১. প্রতিযোগী
২. ক্রেতা বা ভোক্তা
৩. সরবরাহকারী
৪. মধ্যস্ত ব্যবসায়ী
৫. কৌশলগত মিত্র
৬. সরকারি সংস্থা ইত্যাদি।