গল্পসমগ্র GolpoSomogro

গল্পসমগ্র GolpoSomogro কল্পনার জগৎ আর স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া সব গল্পের ঠিকানা।

মেঘে বোনা বর্ণমালালেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি পর্ব ৯: আলো-ছায়ার আসরঅবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত শুক্রবার চলে এলো। চৌধুরী ভিলা আলো...
19/09/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি
পর্ব ৯: আলো-ছায়ার আসর
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত শুক্রবার চলে এলো। চৌধুরী ভিলা আলো ঝলমলে আলোয় সেজে উঠেছে। শহরের বড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছেন। বর্ণমালাকে একটি লাল বেনারসি শাড়ি পরিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মুখ ফ্যাকাশে, চোখে কোনো প্রাণ নেই, যেন একটি জীবন্ত লাশ। আবির স্যুট-বুট পরে বিজয়ের হাসি হেসে বর্ণমালার পাশে এসে দাঁড়াল। আশরাফ চৌধুরী ঘোষণা করলেন, "এবার আংটি বদলের পর্ব শুরু হবে।" ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমের বিশাল প্রজেক্টর স্ক্রিনটি হঠাৎ চালু হয়ে গেল। অনুষ্ঠানস্থলের সব আলো নিভে গেল। সবাই অবাক হয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনে কোনো রোমান্টিক ভিডিও নয়, বরং ভেসে উঠল আবির এবং আশরাফ চৌধুরীর সেই গোপন মিটিংয়ের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ড! পুরো হলরুমে আবিরের সেই অহঙ্কারী কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো—"বর্ণাকে আমার হাতে তুলে দিলেই আপনার ওই জাল দলিলের ফাইল আমি পুড়িয়ে দেব..." উপস্থিত অতিথিদের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। আশরাফ চৌধুরী আর লতিফ সাহেবের মুখ মুহূর্তের মধ্যে কালো হয়ে গেল। আবির চিৎকার করে বলল, "এইসব মিথ্যা! প্রজেক্টর বন্ধ করো!" ঠিক তখনই হলরুমের মেইন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল সুস্ময়, তার সাথে সাংবাদিক আরিফ এবং পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সুস্ময় সোজা গিয়ে বর্ণমালার পাশে দাঁড়াল এবং তার হাতটা নিজের হাতে নিল। আরিফ মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, "সুধী মণ্ডলী, আজ এখানে কোনো বিয়ের উৎসব হচ্ছে না, বরং একটা নোংরা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চুক্তি হচ্ছিল। লতিফ সাহেব এবং তার ছেলে আবির অবৈধভাবে চৌধুরী সাহেবকে ব্ল্যাকমেইল করে এই বিয়ে ঠিক করেছিলেন, যার সমস্ত প্রমাণ পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।"
পুলিশ কর্মকর্তা লতিফ সাহেব ও আবিরকে জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিলেন। নিমেষেই উৎসবের বাড়ি বিষাদে রূপ নিল, আবিরের পরিবার মাথা নিচু করে পুলিশ ভ্যানে গিয়ে উঠল।

চলবে.........

06/09/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি
পর্ব ৮: ষড়যন্ত্রের জাল
সুস্ময় বুঝতে পারল শুধু আবেগ দিয়ে আশরাফ চৌধুরীর মতো একজন প্রভাবশালী মানুষের সাথে লড়াই করা সম্ভব নয়। তার দরকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এবং একটি মোক্ষম পরিকল্পনা। সুস্ময় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরিফ, যে একটি নামকরা জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী সাংবাদিক, তার শরণাপন্ন হলো। আরিফ সুস্ময়কে আশ্বস্ত করে বলল, "তুই চিন্তা করিস না সুস্ময়। এই আশরাফ চৌধুরী আর আবিরের বাবা লতিফ সাহেবের ব্যবসার পেছনে অনেক কালো অধ্যায় আছে। আমি কিছুদিন ধরে ওদের একটা কোল্ড স্টোরেজ স্ক্যামের ওপর ইনভেস্টিগেশন করছি। দেখি কী বের করা যায়।" পরের দুই দিন সুস্ময় আর আরিফ দিন-রাত এক করে দিল। আরিফ তার গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারল, আবিরের বাবা লতিফ সাহেব আসলে আশরাফ চৌধুরীকে ব্ল্যাকমেইল করছেন। আশরাফ চৌধুরীর একটি ব্যবসায়িক বড় জালিয়াতির প্রমাণ লতিফ সাহেবের কাছে আছে, যা ফাঁস হলে আশরাফ চৌধুরী দেউলিয়া হয়ে যাবেন। আর সেই জালিয়াতি ধামাচাপা দেওয়ার শর্তই হলো—বর্ণমালার সাথে আবিরের বিয়ে। অর্থাৎ, বর্ণমালাকে আসলে তার বাবা নিজের ব্যবসা বাঁচানোর জন্য বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন! সুস্ময় একটি ছোট পোর্টেবল ভয়েস রেকর্ডার এবং কিছু নথিপত্র জোগাড় করল লতার সাহায্যে, যে বর্ণমালার বন্দিদশা সহ্য করতে না পেরে সুস্ময়কে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। লতা লুকিয়ে আবির এবং আশরাফ চৌধুরীর একটি গোপন কথপোকথন রেকর্ড করে এনে দিল, যেখানে আবির স্পষ্ট বলছিল, "চৌধুরী, বর্ণাকে আমার হাতে তুলে দিলেই আপনার ওই জাল দলিলের ফাইল আমি পুড়িয়ে দেব, তার আগে নয়।" সব প্রমাণ এখন সুস্ময়ের হাতে। এবার আসল খেলা শুরু করার পালা।

চলবে.........

মেঘে বোনা বর্ণমালালেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি পর্ব ৭: বন্দি ক্যানভাস ও এক টুকরো আলোবাইরের দুনিয়ার সাথে বর্ণমালার সমস্ত যো...
05/09/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি

পর্ব ৭: বন্দি ক্যানভাস ও এক টুকরো আলো
বাইরের দুনিয়ার সাথে বর্ণমালার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তার স্মার্টফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়ালেও নিচে দারোয়ান পাহারা দেয়। বর্ণমালার দিন কাটতে লাগল ঘরের চার দেয়ালের মাঝে কান্না আর সুস্ময়ের স্মৃতির সাথে লড়াই করে। সে খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়ে দিল। তার একমাত্র সঙ্গী এখন তার রঙ-তুলি। সে ঘরের দেয়ালে, ক্যানভাসে শুধু সুস্ময়ের ছবি আঁকতে লাগল। একটি ছবিতে সে আঁকল—একটি খাঁচায় বন্দি পাখি বাইরের মুক্ত আকাশে উড়তে থাকা এক বাজপাখির দিকে ডানা বাড়িয়ে আছে। এদিকে সুস্ময়ের অবস্থা আরও শোচনীয়। তিন দিন ধরে বর্ণমালার কোনো খোঁজ না পেয়ে সে পাগলপ্রায়। চারুকলার বন্ধুদের মাধ্যমে সে জানতে পারল বর্ণমালাকে বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সুস্ময় চৌধুরী ভিলার সামনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকত, যদি একবারের জন্যও ব্যালকনিতে বর্ণমালার দেখা মেলে। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার কারণে সে ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ পাচ্ছিল না। চতুর্থ দিন রাতে, সুস্ময় যখন হতাশ হয়ে চৌধুরী ভিলার পেছনের গলিতে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন হঠাৎ উপর থেকে একটা ছোট কাগজের টুকরো এসে তার পায়ের কাছে পড়ল। সুস্ময় দ্রুত সেটা কুড়িয়ে নিল। আলোতে এনে দেখল, সেটা বর্ণমালার হাতের লেখা। বর্ণমালা তার ঘরের কাজের মেয়ে লতার মাধ্যমে এই চিরকুটটি পাঠিয়েছে। সেখানে লেখা: "সুস্ময়, বাবা আগামী শুক্রবার আবিরের সাথে আমার আংটি বদল ঠিক করেছেন। আমি আবিরকে কোনোদিন মেনে নিতে পারব না। ওরা আমাকে জোর করে বিয়ে দেবে। তুমি কিছু একটা করো। আমাদের ভালোবাসাকে এভাবে হেরে যেতে দিও না।" চিরকুটটি পড়ে তার চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু একই সাথে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, যেকোনো মূল্যেই হোক সে বর্ণমালাকে এই খাঁচা থেকে মুক্ত করবে।

চলবে.........

মেঘে বোনা বর্ণমালালেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি পর্ব ৬: ঝড়ের পূর্বাভাসবর্ণমালার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি সুস্ময়ের জীবনে এক নত...
02/09/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি

পর্ব ৬: ঝড়ের পূর্বাভাস
বর্ণমালার ভালোবাসার স্বীকারোক্তি সুস্ময়ের জীবনে এক নতুন বসন্ত নিয়ে এসেছিল। তাদের দিনগুলো কাটছিল এক মায়াবী কুয়াশায়। কখনো রিকশায় হুড ফেলে বৃষ্টি ভেজা, কখনো কাফেতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাত ধরে গল্প করা। সুস্ময়ের ক্যামেরায় এখন শুধুই বর্ণমালার হাসিমুখ, আর বর্ণমালার ক্যানভাস জুড়ে শুধুই সুস্ময়ের অবয়ব। কিন্তু এই সুখের দিনগুলো যে খুব ক্ষণস্থায়ী ছিল, তা তারা কেউই বুঝতে পারেনি। একদিন বিকেলে সুস্ময় আর বর্ণমালা যখন ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিল, ঠিক তখনই বর্ণমালার ফোনে একটা কল এলো। ফোনটা ধরতেই বর্ণমালার মুখের সমস্ত রঙ চটে গেল। ওপাশ থেকে তার বাবা, নামকরা ব্যবসায়ী আশরাফ চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন, "বর্ণা, তুমি এখন যেখানেই আছ, এক্ষুণি গাড়ি পাঠিয়েছি, বাড়ি চলে এসো। তোমার সাথে আমার বিশেষ কথা আছে।" বর্ণমালা ভয়ে কেপে উঠল। সুস্ময় তার হাতটা শক্ত করে ধরে বলল, "ভয় পেও না বর্ণা, আমি আছি তো।" বাড়ি ফেরার পর বর্ণমালা দেখল ড্রয়িংরুমে আবির এবং তার বাবা-মা বসে আছেন। আশরাফ চৌধুরী বর্ণমালাকে ডেকে সবার সামনে বললেন, "আগামী মাসে তোমার আর আবিরের এনগেজমেন্ট। আমি সব চূড়ান্ত করে ফেলেছি।"
বর্ণমালা আর চুপ থাকতে পারল না। সে চিৎকার করে বলে উঠল, "বাবা, আমি আবিরকে বিয়ে করতে পারব না! আমি সুস্ময়কে ভালোবাসি। ও একজন ফটোগ্রাফার।" 'ফটোগ্রাফার' শব্দটা শুনে আশরাফ চৌধুরী রেগে আগুন হয়ে গেলেন। তিনি টেবিল চাপড়ে বললেন, "একজন ছন্নছাড়া ক্যামেরাম্যানের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হবে না! আজ থেকে তোমার বাইরে যাওয়া বন্ধ। তোমার ফোন আমি কেড়ে নিলাম।" বর্ণমালার চোখের জল সেদিন তার বাবার পাথুরে মনকে গলাতে পারল না। তাকে তার নিজের ঘরে বন্দি করে ফেলা হলো।

চলবে....

গল্পঃ মেঘবতী ও চশমাওয়ালালেখকঃ শারমিন আক্তার মুন্নিঝুম বৃষ্টি আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা—রূপাই আর নীলার ভালোবাসার সমীকরণটা বর...
01/09/2026

গল্পঃ মেঘবতী ও চশমাওয়ালা
লেখকঃ শারমিন আক্তার মুন্নি

ঝুম বৃষ্টি আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা—রূপাই আর নীলার ভালোবাসার সমীকরণটা বরাবরই এমন।বিকেলের আকাশটা মেঘে কালো হয়ে আসতেই রূপাই জানত নীলা কী করবে। ঠিক তা-ই হলো। কোনো ছাতা ছাড়াই নীলা এসে দাঁড়াল ওদের চেনা কফি শপের বারান্দায়। তার চুল বেয়ে টপটপ করে জল ঝরছে, আর চোখে একরাশ দুষ্টুমি।রূপাই নিজের ছাতাটা পাশে রেখে তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেল।"আবার ভিজলে? ঠাণ্ডা লাগবে তো!"—রূপাইয়ের কণ্ঠে কৃত্রিম শাসন।নীলা হেসেই খুন। সে রূপাইয়ের হাতটা টেনে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলে এল। এক ঝটকায় রূপাইয়ের চশমাটা জলবিন্দুতে ভরে গেল।"চশমাটা খোলো রূপাই। বৃষ্টির গন্ধটা চশমা দিয়ে দেখা যায় না, মন দিয়ে ছুঁতে হয়," নীলা ফিসফিস করে বলল।রূপাই চশমাটা পকেটে রেখে নীলার দিকে তাকাল। ঝাপসা দৃষ্টিতেও নীলার ভেজা মুখাবয়ব আর চোখের কাজল ধুয়ে যাওয়া রূপটা তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য মনে হলো। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। নীলার কোমরে হাত রেখে তাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল।চারপাশে তখন শ্রাবণের তুমুল বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির শব্দকে ছাপিয়ে রূপাই শুনতে পাচ্ছিল নীলার দ্রুত হওয়া হৃদস্পন্দন। নীলা আলতো করে মাথাটা রাখল রূপাইয়ের বুকে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন ওদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে ঝরে পড়ছিল।রূপাই নীলার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। চিরকাল এই বৃষ্টিতে নীলার হাত ধরে ভিজতে পারার এক অদ্ভুত শান্তি ছড়িয়ে পড়ল তার মনে।

মেঘে বোনা বর্ণমালালেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি পর্ব ৪: নীরব অভিমানদেখতে দেখতে কেটে গেল দুটো মাস। সুস্ময় আর বর্ণমালার বন্ধু...
30/08/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি

পর্ব ৪: নীরব অভিমান
দেখতে দেখতে কেটে গেল দুটো মাস। সুস্ময় আর বর্ণমালার বন্ধুত্ব এখন বেশ গাঢ়। প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা না বললে দুজনের কারও ঘুম হয় না। কিন্তু এই সম্পর্কের কোনো নাম নেই। একদিন বর্ণমালা সুস্ময়কে একটি আর্ট গ্যালারিতে ক্যাফেতে দেখা করতে বলল। সুস্ময় যখন পৌঁছাল, দেখল বর্ণমালার সাথে এক সুদর্শন যুবক বসে হাসাহাসি করছে। বর্ণমালা পরিচয় করিয়ে দিল, "সুস্ময়, এ হলো আবির। আমার কাজিন এবং বাবা চান ওর সাথেই আমার বিয়ে হোক।" আবিরের সামনে বর্ণমালা সুস্ময়কে শুধু একজন 'ভালো বন্ধু' হিসেবে পরিচয় দিল। সুস্ময়ের বুকের ভেতরটা হঠাৎ যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, সে বর্ণমালাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু 'বন্ধু' শব্দের বেড়াজালে সে আটকে গেছে। সেদিন খুব দ্রুত ক্যাফে থেকে বেরিয়ে এলো সুস্ময়। রাতে বর্ণমালার অনেকগুলো ফোন এলেও সে রিসিভ করল না।

পর্ব ৫: মেঘের চিঠি
পরের তিন দিন সুস্ময় সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল। বর্ণমালার মেসেজের কোনো উত্তর দিল না। সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল যে বর্ণমালাকে ভুলে যাওয়া দরকার। চতুর্থ দিন সকালে সুস্ময়ের দরজায় বেল পড়ল। দরজা খুলতেই সে অবাক! সামনে বর্ণমালা দাঁড়িয়ে, তার চোখ দুটো লাল, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে কেঁদেছে। সুস্ময় কিছু বলার আগেই বর্ণমালা তার বুকে আছড়ে পড়ল। — "কেন এমন করছ তুমি? আমার কী অপরাধ? তুমি কথা না বললে আমার দম আটকে আসে, এটা তুমি বোঝো না?" সুস্ময় নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, "তোমার তো আবির আছে, আমি তো শুধু একজন বন্ধু।" বর্ণমালা সুস্ময়ের বুক থেকে মাথা তুলে তার চোখের দিকে তাকাল। চোখে অভিমান আর ভালোবাসার জল। — "আবিরকে বাবা পছন্দ করেছে, আমি নই! আমার ক্যানভাসের সব রঙ যে শুধু তোমায় ঘিরেই আবর্তিত হয়, বোকা ছেলে, সেটা তুমি এখনও বোঝোনি?" বাইরে তখন আবার মেঘ ডাকছে। সুস্ময় বর্ণমালার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিল। এতদিনের মেঘ কেটে গিয়ে তাদের মাঝে যেন প্রথম ভালোবাসার রোদ উঠল।

চলবে....

ভাঙা চশমার কাঁচ ও একটি স্বপ্নলেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি পর্ব: ১ছোটবেলা থেকেই সুস্ময়ের পৃথিবীটা ছিল তার বাবাকে ঘিরে। বাবা...
30/08/2026

ভাঙা চশমার কাঁচ ও একটি স্বপ্ন
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি

পর্ব: ১
ছোটবেলা থেকেই সুস্ময়ের পৃথিবীটা ছিল তার বাবাকে ঘিরে। বাবা হরনাথ বাবু ছিলেন স্থানীয় একটি সাধারণ বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। মাসের শুরুতে যে সামান্য বেতন পেতেন, তা দিয়ে ঘরভাড়া, চাল-ডাল আর পরিবারের ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সুস্ময় তখন এত কিছু বুঝত না। স্কুলে কোনো বন্ধুর নতুন ব্যাগ, সুন্দর জ্যামিতি বক্স কিংবা বন্ধুদের দামী কোনো খেলনা দেখলে সে সোজা বাড়ি এসে বাবার কাছে বায়না ধরত।
হরনাথ বাবু কখনো ছেলের ওপর রাগ করতেন না। মলিন একটা হাসি দিয়ে সুস্ময়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, "হ্যাঁ, সামনের মাসে কিনে দেবো বাবা।" সুস্ময় লক্ষ্য করত, এই কথাটি বলার সময় বাবার চোখের কোণটা কেমন যেন ভিজে উঠত। মাসের পর মাস কেটে যেত, কিন্তু সেই 'সামনের মাস' আর আসত না। সুস্ময় রাগ করত, কখনো না খেয়ে অভিমানে ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্তু মাঝরাতে যখন তার ঘুম ভাঙত, সে দেখত তার বাবা টেবিল ল্যাম্পের আধো আধো আলোয় বসে খাতা দেখছেন, আর তার পুরনো ভাঙা চশমাটা সুতো দিয়ে বেঁধে কোনোমতে চোখে দিয়ে রেখেছেন। নিজের জন্য একটা নতুন চশমা কেনার সামর্থ্যও যে মানুষটার নেই, সে কীভাবে ছেলের সব শখ পূরণ করবে? সেই রাতে সুস্ময় প্রথম বুঝতে পেরেছিল—তার বাবার পকেট শূন্য হলেও, তার বুকভরা ভালোবাসা কখনো কম ছিল না। সেই রাতেই ১১ বছরের সুস্ময় নিজের চোখের জল মুছে মনে মনে এক শক্ত প্রতিজ্ঞা করেছিল—"আমি বড় হয়ে বাবার এই সব কষ্ট দূর করব।"

চলবে….

 #পঞ্চাশ শব্দের গল্প নুফা, সন্ধ্যা হয়ে গেলো ছাদ থেকে কাপড় গুলো নিয়ে আয়। যাচ্ছি মা বলে যখনই নুফা ছাদের সিঁড়ির দিকে প...
29/08/2026

#পঞ্চাশ শব্দের গল্প
নুফা, সন্ধ্যা হয়ে গেলো ছাদ থেকে কাপড় গুলো নিয়ে আয়। যাচ্ছি মা বলে যখনই নুফা ছাদের সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো , তখনি পিছন থেকে কেউ তার হাত টেনে ধরে বলল যাস না। ডাকটা আমিও শুনেছি।
হঠাৎ নুফার মনে হলো কিন্তু মা তো এক বছর হলো মারা গেছে,এবং বাড়িতে সে একা।

মেঘে বোনা বর্ণমালালেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি  পর্ব ১: অসময়ের বৃষ্টি:বিকেলের আকাশটা হঠাৎ করেই মেঘে ঢাকা পড়ল। সুস্ময় তার ক...
29/08/2026

মেঘে বোনা বর্ণমালা
লেখক: শারমিন আক্তার মুন্নি

পর্ব ১: অসময়ের বৃষ্টি:
বিকেলের আকাশটা হঠাৎ করেই মেঘে ঢাকা পড়ল। সুস্ময় তার ক্যামেরার লেন্সটা পরিষ্কার করতে করতে কফিশপের কাচের জানালার বাইরে তাকাল। পেশায় সে একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার, ছবির মাঝে জীবন খোঁজা তার স্বভাব। ঠিক তখনই ঝুম বৃষ্টি নামল।কফিশপের দরজা ঠেলে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল এক তরুণী। তার হাতে একটি ভেজা ক্যানভাস আর কাঁধে শান্তিনিকেতনি ঝোলা ব্যাগ। বৃষ্টির ছাঁটে তার মুখের ওপর কিছু চুল লেপ্টে আছে। মেয়েটি কাউন্টারে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে রুমাল দিয়ে তার ক্যানভাসটা মুছতে লাগল। সুস্ময় খেয়াল করল, মেয়েটির পুরো মনোযোগ তার ভেজা ছবিটার দিকে, নিজের ভেজা কাপড়ের দিকে কোনো খেয়ালই নেই। সুস্ময় সম্মোহিতের মতো নিজের ক্যামেরাটা তুলল। 'ক্লিক'—ক্যানভাস হাতে এক অদ্ভুত সুন্দর মেয়ের ছবি ফ্রেমবন্দি হয়ে গেল। মেয়েটি চমকে সুস্ময়ের দিকে তাকাল। তার ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে সুস্ময়ের মনে হলো, এই মেয়েটির নাম হওয়া উচিত কোনো কবিতার মতো।
পর্ব ২: নামের আড়ালে বসন্ত:
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে সুস্ময়ের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। — "অনুমতি না নিয়ে কারও ছবি তোলা কি ভদ্রতা?" সুস্ময় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল, "দুঃখিত। আসলে বৃষ্টির মধ্যে আপনার ক্যানভাস বাঁচানোর লড়াইটা এতো জীবন্ত ছিল যে লোভ সামলাতে পারলাম না। বাই দ্য ওয়ে, আমি সুস্ময়।" মেয়েটি কিছুক্ষণ সুস্ময়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। রাগটা গলে গিয়ে সেখানে এক চিলতে হাসি ফুটল। — "আমি বর্ণমালা। চারুকলার ছাত্রী।" সুস্ময় মনে মনে হাসল, তার ধারণাই ঠিক। মেয়েটির নাম আসলেও কবিতার মতো। কফিশপের এক কোণায় বসে সেদিন বৃষ্টি থামার আগ পর্যন্ত চলল তাদের আড্ডা। সুস্ময় জানল বর্ণমালার রঙের দুনিয়ার গল্প, আর বর্ণমালা শুনল সুস্ময়ের লেন্সের পেছনের জীবনের গল্প। বিদায় নেওয়ার সময় কেউ কাউকে ফোন নাম্বার চাইল না, শুধু রেখে গেল এক অদ্ভুত ভালোলাগা।
পর্ব ৩: ক্যানভাসে সুস্ময়:
সপ্তাহখানেক পর। চারুকলার বার্ষিক প্রদর্শনীতে এসেছে সুস্ময়। হরেক রকম ছবির ভিড়ে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটি ছবির সামনে এসে তার পা থমকে গেল। একটি কফিশপের জানালার পাশে বসে এক যুবক ক্যামেরার লেন্স মুছছে, আর বাইরে মেঘলা আকাশ। ছবির মানুষটি আর কেউ নয়, স্বয়ং সুস্ময়! — "ছবিটা কেমন হয়েছে?" পেছন থেকে চেনা কণ্ঠস্বর। সুস্ময় ঘুরে দেখল বর্ণমালা দাঁড়িয়ে আছে। তার পরনে হালকা নীল শাড়ি। সুস্ময় মুগ্ধ হয়ে বলল, "অসাধারণ! কিন্তু আপনি আমার ছবি আঁকলেন কেন?" বর্ণমালা একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামাল, "সেদিন আপনি আমার অজান্তে ছবি তুলেছিলেন, আমি না হয় জেনেশুনেই আঁকলাম। শোধবোধ!" দুজনের হাসিতে প্রদর্শনী হলের সেই কোণটা যেন আলো হয়ে উঠল। সেদিন বিকেলে তারা একসঙ্গে ফুচকা খেল, রিকশায় ঘুরল। এবার আর ভুল হলো না, দিনশেষে দুজনের ফোন নাম্বার বিনিময় হয়েই গেল।

চলবে.....

Address

Meherpur
Meherpur
7110

Telephone

+8801750335155

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গল্পসমগ্র GolpoSomogro posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to গল্পসমগ্র GolpoSomogro:

Shortcuts

Share