05/07/2025
ক'দিন ধরে একটি ‘নিউজ’ নানা সোর্স থেকে সামনে ভেসে উঠছে—
❝নারীরা চাকরি শুরু করার পর থেকেই ‘ডিভোর্সের’ সংখ্যা বাড়ছে❞
অনেকেই এই ধরনের ‘শিরোনাম’ ব্যবহার করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।
এমন অনুধাবন ও বোধশক্তির অবক্ষয় দেখে আমি খুবই লজ্জিত ও মর্মাহত।
“মানুষের কাঙ্ক্ষিত জীবন গঠনে”—এই লক্ষ্য ও দায়বদ্ধতা থেকে, সত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ বিশ্লেষণের প্রয়াসে, আজ আমি—
❝নারীদের ডিভোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুরুষ ও ‘পৌরুষ’❞—
এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরতে চাই।
আপনাদের সদয় মনোযোগ কামনা করছি।
________________________________________
আমার মতে—
আমাদের চোখে ❝পৌরুষদের❞ দেখা উচিত ❝বাবা❞-দের মতো করে,
আর নারীদের দেখা উচিত ❝সন্তান❞-দের মতো করে—মমতা ও দায়িত্ববোধের আলোকে।
এবং ‘বাবা’ ও ‘সন্তান’-এর মধ্যে (দায়িত্ব ও ভুল) নিয়ে কোনো রকম প্রতিযোগিতা হওয়া কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়, এটা মানায়ও না।
‘সন্তান’-এর ভুলের কারণে—বারবার নিষেধ বা শাসনের পরেও, শেষ পর্যন্ত ‘বাবা’কেই ক্ষমার দৃষ্টিতে ‘সন্তান’কে দেখতে হয়।
কারণ, ‘সন্তান’ ভুল করবেই—
তাদের ভুলগুলোকে বিশেষভাবে বিচার না করে—
বরং দেখা উচিত এই দিকটি ‘বাবা’ তাঁর ‘সন্তানের’ প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালনে কতটা যত্নবান, সঠিক ভূমিকা রাখছেন কিনা! এটাই মুখ্য বিষয়।
তবে, যদি ‘সন্তান’ কোনো অনিয়ম, অনৈতিকতা বা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে—
তাহলে সেটি অবশ্যই সতর্ক ও বিচক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
যদি ‘বাবারা’—অর্থাৎ ‘পুরুষেরা’—
সন্তানের প্রতি যথাযথ বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতায় সঠিক ভূমিকা পালন করেন;
অর্থাৎ, তারা যদি সত্যিকার অর্থে ❝পৌরুষ❞ ধারণ করে,
❝পৌরুষ❞-এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী—‘নারীদের’ প্রতি সম্মান, দায়িত্ব ও নেতৃত্বে— জোরালো ও উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারেন—তাহলে ‘সন্তানদের’, অর্থাৎ ‘নারীদের’ ভুল বা বিচ্যুতির সংখ্যা—কোনভাবেই বাড়বে না।
অর্থাৎ—
নারীরা/মেয়েরা ‘হায়া’ হারাবে না,
আর “ডিভোর্সের সংখ্যা”—বাড়বে না।
এটাই সত্য।
আসুন, গভীরভাবে ভাবি—
আমরা কতটুকু ‘পৌরুষ’ ধারণ করছি,
আর কতটুকু দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছি?
সমাজ গঠনের প্রথম পাঠ—শুরু হোক নিজের বিবেক আর কর্তব্যবোধ থেকে।
কাজেই, আসুন...
আমরা—‘পুরুষরা’—❝পৌরুষ❞ ধারণ করি।
আমাদের ❝পৌরুষ❞-এর অবস্থানে—অটল, অবিচল ও সৎভাবে দৃঢ় থাকি।
আমরা যদি—
আমাদের ❝পৌরুষ❞-কে যথাযথভাবে বুঝে,
ধারণ করে— দায়িত্ব, মূল্যবোধ ও আচরণে সত্যের ভিত্তিতে দৃঢ় থাকি— তবে, নারীরা—even যদি কোনো ভুল করেন বা “ডিভোর্স”-এর সিদ্ধান্ত নেন, তবুও সেই ‘ভুল’ বা ‘ডিভোর্স’-এর সংখ্যা—কখনোই বাড়বে না—
এটাও সত্য।
অতএব, আসুন—
আমাদের শক্তি দিয়ে সুরক্ষা দিই— দম্ভ দিয়ে নয়।
আমাদের মনে রাখা উচিত—❝পৌরুষ❞ শুধু ব্যক্তিগত যোগ্যতা নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান।
ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত—❝পৌরুষ❞ এর নিখুঁত প্রতিচ্ছবি—
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের সংখ্যা সর্বমোট ছিল ১১ জন (মতান্তরে কেউ কেউ ১২ বা ১৩ জনও উল্লেখ করেছেন)।
কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো—তাঁর একজন স্ত্রীও কখনো তাঁকে ‘তালাক’ দেননি।
এটি কেবল একটি পারিবারিক তথ্য নয়, বরং ❝পৌরুষ❞-এর এক পরিপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
কারণ কী?
কারণ, তিনি ছিলেন এক পূর্ণাঙ্গ ❝পৌরুষ❞-এর অধিকারী—তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, সহনশীল, দায়িত্বশীল, সৎ এবং নারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা প্রদানের জীবন্ত উদাহরণ।
তিনি কখনো নিজের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেননি, বরং দায়িত্ব ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন।
সারকথা—
❝পৌরুষ❞ মানে শুধু ‘পুরুষ’ হওয়া নয়;
বরং, ‘পুরুষ’ হয়ে একজন সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা।❞
এটিই আমি এতক্ষণ ধরে বোঝাতে চেয়েছি।
চলুন, ভাবি...
আমরা যদি সত্যিকারের ❝পৌরুষ❞ ধারণ করি,
তবে সমাজে পরিবার ভাঙার চেয়ে—
মানবতা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সম্পর্ক গঠনের নজিরই বাড়বে।
আসুন—
যেহেতু আমাদের ভাবতে হবে, পর্যবেক্ষণও করতে হবে, সেহেতু—ইতিবাচকভাবে ভাবি, মনোযোগসহকারে পর্যবেক্ষণ করি।
আর সেই ভাবনা ও পর্যবেক্ষণের গভীরতা—নিয়ে যাক আমাদের আরও গভীরে—মানবিকতা, বিবেক ও দায়িত্ববোধের শুদ্ধ কেন্দ্রে।
চলুন—
আমরা ❝পৌরুষ❞ ধারণ করি—
আমাদের নারীদের প্রতি উজাড় করে দিই—
সম্মান, ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সহমর্মিতা।
বিধাতা পরম দয়াময়—
আমাদের—উভয়-উভয়ের প্রতি
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির পরিপূর্ণতায় পূর্ণ করুন।
স্বামী-স্ত্রীর মধুর বন্ধনগুলো—চির অটুট, সুখময় ও মধুময় রাখুন—এই বিশেষ প্রত্যাশা ও হৃদয় নিংড়ানো প্রার্থনা। আমীন।
বি.দ্র.
❝পৌরুষ❞ সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও বোধশক্তি থেকে যা উপলব্ধি করেছি—
তা কমেন্ট বক্সে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখা : ২৩-২৪ মে ২০২৪-ইং।
___________________________________________❞
সকলের প্রতি—
বিনীত শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ভালোবাসা জানিয়ে,
“মানুষের কাঙ্ক্ষিত জীবন গঠনে”—এই লক্ষ্য ও দায়বদ্ধতা থেকে, সত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ বিশ্লেষণের প্রয়াসে—
আজকের ❝নারীদের ডিভোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুরুষ ও পৌরুষ❞— বিষয়ক আলোচনা এখানে শেষ করছি।
আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ধন্যবাদ।
—দীপু আহমেদ রাসেল
“মানুষের কাঙ্ক্ষিত জীবন গঠনে”
একনিষ্ঠ 'গবেষণা'র অপার প্রচেষ্টায়—