একজন মানুষের প্রতি সবসময় মুগ্ধতা ও তীব্র ভক্তি অনুভব করি। সায়্যিদুনা আব্দুল কাদির জিলানী রাহিমাহুল্লাহ।
শৈশবে পিতাকে হারালেন। এরপর কৃষি জমিতে অল্প কিছুদিনের কাজ করা। ক্ষেতের পশুর কথা বলা। সুদূর ইরানের জিলানে, বাসার ছাদে বসে দেখা আরাফাহর ময়দান। মায়ের অশ্রুসজল বিদায়। জ্ঞানের জন্য জ্ঞানের শহরের দিকে যাত্রা।
এরপর একের পর এক ইতিহাস রচিত হয়েছে তাঁর হাত ধরে। আমরা কি আসলে কিছু করি? নাকি আল্লাহ আমাদেরকে নির্বাচন করেন, সবকিছু প্রস্তুত করেন এরপর করান?
জ্ঞানী গুণীতে ঠাসা সেই বাগদাদ কিসের জন্য? আমার তো মনে হয় এমন একজন জ্ঞানান্বেষণে আসবেন বলেই। কিছুদিন আগে নিজামিয়া ছেড়ে ইমাম গাযালি নির্জনবাসে চলে গেছেন। কিন্তু হাম্মাদ আদ দাব্বাস রয়ে গেছেন। এই মানুষটি, যিনি কিনা পরবর্তীতে অসংখ্যবার আব্দুল কাদির জিলানীকে পরীক্ষা করবেন, নানান প্রশ্নের উত্তর দেবেন, আধ্যাত্মিক রহস্যের জগত তাঁর সামনে উন্মুক্ত করবেন, তিনি এখানেই কেন আছেন? কেন হেরাতে নয়, কেন মক্কায় নয়, কেন মিশরে নয়? আবু সাঈদ মুখাররিমি তিনিই বা কেন এখানে আছেন? কার জন্য আল্লাহ তায়ালা এদেরকে এখানে রেখেছেন?
কিছুই তো কাকতালীয় নয়।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষা। এমন অপেক্ষায় নির্জন খানকায় দরজা খুলে রেখে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেওয়া যায়।
তিনি এরপর আসলেন। শরিয়াত-মারেফাত সর্বোচ্চ জ্ঞানার্জন করলেন। অযুত নিযুত মানুষ তাঁর মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্ত হলো। তাঁর খলিফারা বাytuk maকদিs জয় করলেন। এমনকি শত শত বছর পরেও তাঁর ফায়দ বারাকার মাধ্যমে হিদায়াতের ধারা জারি থাকলো। তাঁর বংশধররা সারা দুনিয়া ছড়িয়ে গেলেন। আমাদের দেশে শাহ আমনত, শাহ মিরান প্রমুখ আসলেন। কি বিরাট দুনিয়াজোড়া এক সালতানাত।
আল্লাহ তায়ালা আধ্যাত্মিক জগতের এমন বাদশাহী দিলেন, যা আজও শেষ হয়নি। শেষ হবেও না।
দৈনিক আমল
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি উত্তম যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।
(আল কোরআন)।
অটোমানদের রাজ্যে সাড়ে চারদিন
চারদিনের ভ্রমণে তুর্কি গিয়েছিলাম। উসমানী খিলাফতের ঐতিহ্যবাহী রাজধানী ইস্তাম্বুল ও অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ কাপাদোকিয়া দেখেই সাড়ে চারদিন ফুরিয়ে গেছে।
একদা মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইস্তাম্বুল। গত শতকে কামাল পাশার আগ্রাসী ‘বি-ইসলামিকরণ’ ইসলামকে তুর্কি থেকে বিদায় করতে চেয়েছিল। কয়েক দশক ধরে ইসলামী ঐতিহ্য পুনর্জাগরণের চেষ্টা করে বেশ সফল হলেও তুর্কির চলনে-বলনে পশ্চিমা সংস্কৃতি খুব শক্তভাবেই গেঁথে আছে। দেশটি ঐতিহ্য ও পশ্চিমা আধুনিকতা, বা সুলতান আবদুল হামিদ ও কামাল পাশার আদর্শের মাঝে এখনও দুলছে।
আয়া সোফিয়া দেখতে গেলাম। হাজার বছর ধরে ইস্তাম্বুল ছিল পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী। ৫৩৭ সালে এখানে নির্মিত হয় রোমানদের প্রধান ক্যাথিড্রাল আয়া সোফিয়া। ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মাদ অবিস্মরণীয় এক অভিযানে ইস্তাম্বুল বিজয় করলে আয়া সোফিয়া মসজিদে রূপান্তরিত হয়। ভেতরে গেলে বিশ্বাস হয় না, দেড় হাজার বছর আগে এত বিশাল, অসাধারণ স্থাপত্য মানুষ কীভাবে তৈরি করল! আকাশচুম্বী গম্বুজ, মার্বেলের দেয়ালে খোদাই করা খ্রিস্টান ধর্মের চিত্র, রঙিন মোজাইকের চোখধাঁধানো সব কারুকার্য, উসমানী আমলের মিনার–আয়া সোফিয়া মানুষের অপার সক্ষমতার এক জীবন্ত সাক্ষী।
ঘুরে দেখেছি তপকাপি প্যালেস। দীর্ঘ চারশ বছর এটি ছিল অটোমান সুলতানদের রাজপ্রাসাদ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। ১৮৫৬ সালে সুলতান আবদুল মাজিদ ভাবলেন, তপকাপি যথেষ্ট আধুনিক নয়। তাই তিনি ইউরোপীয় ডিজাইনে নতুন একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলেন, নাম দোলমাবাহচে প্যালেস। মুসলিম সুলতানদের বিলাসিতার গল্প আমার কাছে অসহ্য লাগে। কাড়িকাড়ি পয়সা ঢেলে আয়েশি প্রাসাদ না বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সময়োপযোগী অস্ত্র বানালে ইউরোপীদের কাছে এত সহজে ধরাশায়ী হতে হতো না।
প্রাসাদের প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ নেই। ইউরোপের বহু দেশে বহু রাজপ্রাসাদ আমি দেখেছি। তপকাপিতে গিয়েছি অন্য কারণে। তপকাপির একটি ভবনে আমাদের প্রিয় নবী ﷺ এর চুল, দাড়ি, লাঠি, তরবারি, জুতা সংরক্ষিত আছে। মোবারক স্মৃতিচিহ্নগুলোর সামনে দাঁড়ানোমাত্র পাপি চোখ পানিতে ভিজে গেল। মনে হচ্ছিল, এ আমার হৃদয়ের হৃদয়।
ইস্তাম্বুল দুই মহাদেশের মাঝে ছড়িয়ে আছে। মাঝখানে বয়ে চলছে বসফরাস প্রণালি। একপাশে তার এশিয়া, একপাশে ইউরোপ। বসফরাস থেকে উত্তরদিকে Golden Horn নামে এক শাখানদী বের হয়েছে। ১৪৫৩'র অভিযানকালে রোমান সৈন্যরা চেইন ফেলে
যারা নিজেকে বুযুর্গ মনে করেন কিন্তু বাস্তবে তাদের মধ্যে এর কিছুই নেই,তাদের উদ্দেশ্য মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী(রহ) কিছু কবিতার লাইন লিখে যান বাংলা অনুবাদ নিম্নরূপ-
১/আমাদের বাহ্যিক অবস্থা ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যার ভাষা চাকচিক্যময় অথচ অন্তর কলুষিত।
২/তার মধ্যে আল্লাহর তরফ থেকে মারিফতের নাম গন্ধ নেই,অথচ হযরত শীস ও আদম (আ) এর চেয়ে অধিক পরিমাণে দ্বীনি দাওয়াত ও তাবলীগ করে থাকে।
৩/(কাশফ)কারামতের অবস্থা এই যে শয়তানও কখনো নিজেকে স্বীয় আকৃতি দেখায় না, অথচ তার দাবী এই যে, আমি আবদাল,কুতুব (অলিদের উঁচুস্তর) হতেও অগ্রগামী।
৪/ বুযুর্গানেদ্বীনের অনেক বাণী চুরি করে নিজের করে নিয়েছে,যাতে সাধারণ মানুষ মনেকরে সে অনেক বড় বুযুর্গ।
৫/নিজের খ্যাতি বর্ধিত করার জন্য বায়েজীদ বোস্তামীর মতো ওলীদেরও ভূলত্রুটি খুঁজে বেড়ায়। তার অন্তর দর্শনে ইয়াযীদের মতো অন্তরও লজ্জিত হয়ে যায়। এই লেখাগুলো তাসাউফের মর্মকথা নামক কিতাব থেকে নেওয়া।
মুহররম ও আশুরা প্রসঙ্গে কয়েকখানা হাদীস
—হযরত মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী
সহযোগী অধ্যাপক আরবি বিভাগ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
عن أبي هريرة ، قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : أفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة جوف الليل ، وأفضل الصيام بعد شهر رمضان شهر الله الذي تدعونه المحرم.
-হযরত আবূ হুরায়রাহ (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লা কে বলতে শুনেছি ‘ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে ‘‘মধ্যরাতের নামায, আর রামাদ্বান মাসের রোযার পরে সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাসের রোযা যাকে তোমরা মুহাররম বলে থাক।’ [মুসলিম, আহমদ, হাকিম]
عن ابن سعد ، قال : أتى عليا رجل فقال : يا أمير المؤمنين ، أخبرني شهرا أصومه بعد رمضان قال : لقد سألت عن شيء ما سمعت أحدا يسأل عنه بعد رجل سأل عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : إن كنت صائما شهرا بعد رمضان فصم المحرم ؛ فإنه شهر الله ، وفيه يوم تاب قوم ويتاب على آخرين .
-হযরত ইবনে সা’দ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আলী (রা.) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, রামাদ্বান মাস ছাড়া এমন একটি মাসের কথা বলুন যে মাসে আমি [নফল] রোযা রাখতে পারি। তিনি বলেন, তুমি এমন একটি বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করেছো যে বিষয়ে কেবল একজনকেই রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। অত:পর তিনি বললেন, তুমি যদি রামাদ্বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহাররম মাসে রাখবে। কেননা এটি আল্লাহর মাস।’ [তিরমিযী , দারিমী]
মূসা (আ.)-এর মুক্তির খুশি প্রকাশ
عن ابن عباس ، قال : قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة واليهود تصوم يوم عاشوراء فقال : ما هذا اليوم الذي تصومونه قالوا : هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وأغرق آل فرعون فيه فصامه موسى شكرا ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : فنحن أحق بموسى منكم ، فصامه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر بصيامه
-হযরত ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, নবী (সা.) মদীনায় শুভাগমন করলেন, সে সময়ে ইহুদীরা আশুরার রোযা রাখত। তিনি (সা.) ফরমালেন এটা কোন দিন যে তোমরা রোযা রাখ? তারা বলল, ‘এটি একটি মহান দিন, এদিনে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ.)-কে [ফিরআওনের হাত থেকে] মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউনকে দলবলসহ (নীল নদে) ডুবিয়েছিলেন। মূসা (আ.) এদিনে শুকরিয়াস্বরূপ রোযা রেখেছিলেন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস
জেনে রাখা আবশ্যক, বোনের ফরাইজ দেয়া ভাইয়ের ওপর ফরজ ইফতারি নয়।পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানা একক থাকেনা।যেমন ছেলে মালিক তেমনি মেয়েও মালিক।তবে অংশে বেশকম আছে।সুরা নিসা ১১-১২।ফরাইজ অস্বীকার করলে ঈমান থাকবেনা।কারন আল্লাহর আইন অস্বীকার করা হবে।বোনের সম্মতি ছাড়া অথবা প্রতারনার মাধ্যমে বোনের হক্ব ভক্কন করলে হক্কুল ইবাদ আত্মসাতের দায়ে ভাই দায়ী থেকে মুক্তি পাবেনা।বান্দার হক আল্লাহ মাফ করেন না।এমনকি হজ্বে গিয়ে ক্ষমা চাইলেও ক্ষমা পাওয়া যাবেনা।
আমাদের দেশে একটি কুপ্রথা আছে যে, ফরাইজ দেয়া নেয়া নাকি অলক্ষন বা অশুভ।উত্তরাধীকারী আইন যেহেতু আল্লাহ প্রণিত তাই একে অলক্ষন বা অশুভ বলা পরোক্ষভাবে আল্লাহকে দোষারুপের নামান্তর।العياذ بالله কোরানে নির্ধারিত উত্তরাধিকারী প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রাপ্য পরিশোধ করে দায়মুক্ত হওয়া মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব।ইসলাম হচ্ছে পুর্নাঙ্গ জীবন বিধান।আল্লাহ সকলকে বুঝার ও আমল করার তাওফিক দান করুন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
❤💝❤
পুরান দিল্লী থেকে ফুলতলী
উপমহাদেশে খিদমতে কুরআনের সিলসিলা
উপমহাদেশে কুরআন শরীফের খিদমতে প্রথম যুগান্তকারী পদক্ষেপ (আমার জানামতে) যার হাত ধরে এসেছিল, তিনি হচ্ছেন ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.)। শাহ ছাহেবের অসংখ্য অসামান্য অবদানের মধ্যে একটি হচ্ছে, তিনি উপমহাদেশের মুসলমানদেরকে তাঁদের শেকড়ের দিকে ফেরানোর জন্য তৎকালীন প্রচলিত ভাষা ফারসিতে কুরআন অনুবাদ করেছিলেন। ঘটনাটি সম্ভবত ১৭৫০-এর দিকের। তখন কিছু ‘উলামা’ তাঁর কাজের প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছিলেন। এক পালোয়ানকে ভাড়া করা হয়েছিল তাঁকে লাঞ্চিত করার জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাঁর চেহারায় এমন এক ‘হাইবাত’ তৈরি করেছিলেন যে, ফতেহপুরি মসজিদে তাঁকে লাঞ্চিত করতে আসা সেই পালোয়ান তাঁকে দেখেই পালিয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে কুরআনের খিদমতের এই সিলসিলাকে এগিয়ে নেন শাহ ছাহেবের সন্তানরা। কুরআন শরীফের প্রথম উর্দু তরজমা করেছিলেন শাহ ছাহেবের দুই সন্তান, শাহ আব্দুল কাদির ও শাহ রফীউদ্দীন। শাহ রফীউদ্দীনের তরজমা ছিল শাব্দিক, আর শাহ আব্দুল কাদিরের তরজমা ছিল প্রচলিত পরিভাষামিশ্রিত। একইভাবে কুরআন শরীফের প্রথম উর্দু তাফসীর লিখেছেন শাহ ছাহেবের বড় সন্তান শাহ আব্দুল আযীয। মোটকথা, উপমহাদেশে কুরআন শরীফকে পড়া ও বুঝার যে খিদমত আজ অবধি চলে আসছে, তার বুনিয়াদ তৈরি হয়েছে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর খান্দানের মধ্যে।
বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য খিদমতে কুরআনের অপর একটি ধারা তৈরি হয়েছে ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ’র রূহানী সন্তান, আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)-এর হাত ধরে, ১৯৫০-এর দশকে। এই খিদমত হচ্ছে, বিশুদ্ধ কিরাত শিক্ষার খিদমত। শাহ ছাহেবের মতো তাঁর রূহানী সন্তান ফুলতলী ছাহেবকে নির্যাতিত হতে হয়েছিল, ১৯৮০ সালে। তবে এতে তাঁর হিম্মত দমে যায়নি। তাঁর সুদীর্ঘ আট দশকের সেই খিদমত আজ সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ লক্ষ-লক্ষ মানুষের যবানে কুরআনের বিশুদ্ধ কিরাত জারি করেছেন। শাহ ছাহেবের সন্তানদের অনুকরণে ফুলতলী ছাহেবের রূহানী-জিসমানি সন্তানরা কুরআন শরীফের খিদমতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
“আল-কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জালো” স্লোগান দেওয়া সহজ। কিন্তু কুরআনের একটি সুদুরপ্রসারি খিদমত জারি করা সহজ নয়। ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ করতে পেরেছেন, আল্লামা ফুলতলীও করতে পেরেছেন। আল্লাহ পাক তাঁদের কবরকে নূর দিয়ে পরিপূর্ণ করে দিন। আমীন।।
নতুন মোড়কে নতুন নামে জাহান্নামের কুকুর খারেজিদের চিন্তা চেতনা খারিজিয়্যাত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার জন্য জানপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলাম নামধারী হাদীসের লেভেলধারী বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো মৌদুদীবাদ তথা জামায়াত,শিবির। এরা ১৪শত বছর পূর্বের জাহান্নামের কুকুরদের (খারিজি) হুবুহু ফটোকপি। তাদের চিন্তা ভাবনার অন্যতম একটি হল, আল্লাহর ভুল হয়,নবীগনের ভুল হয়, সাহাবায়ে কেরামের ভুল হয় কিন্তু মাওলানা মওদুদী, সাঈদী, আজহারীসহ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কারো জবানে কলমে কোন কালেও ভুল হয় নি এবং ভুল হতেও পারে না। এদের ভুল হবে এইটা কল্পনা করাও ইসলাম বিদ্বেষের নামান্তর। যেই তাদের ভুল ধরবে সে হিংসুক এবং ইসলাম বিদ্বেষী।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে বাংলাদেশে উলামা ও ইসলামপন্থিদের তুলনা অন্য কোনো গোষ্ঠীর সাথে করা সম্ভব নয়। কিন্তু যখনই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন আসে, কেন জানি ইসলামপন্থিরা বরাবরই ‘অন্যদের’ কাছে হেরে যান!
প্রবাদসম জনপ্রিয়তা থাকার পরও উলামা ও ইসলামপন্থিরা এ দেশের সমাজ ও রাজনীতির মূল প্রভাবক বা নিয়ন্তা নন। বাংলাদেশের সৃষ্টি এবং পরবর্তী পথচলা প্রসঙ্গে যে ‘বয়ান’ আছে, তা শতভাগ সেক্যুলারদের তৈরি করা; এবং এর বড় অংশ মিথ্যা ও একপেশে। তবুও দেশের ইসলামপন্থিরা এই ‘সেক্যুলার বাংলাদেশের গল্প’র ভেতরে নিজেদেরকে ‘ফিট’ করার অবিরাম চেষ্টা করেন। কিন্তু তা সফল হয় না। কারণ, অন্যের ঘরে আপনি আপনার বিছানা কীভাবে পাতাবেন?
বাংলাদেশ সেক্যুলারদের দেশ নয়; কোনোকালেই ছিল না। কিন্তু গুটিকয়েক মানুষের তৈরি করা মিথ্যা বয়ানের কারণে বাংলাদেশের গল্পকে ‘সেক্যুলার গল্প’ হিসেবে দেখানো হয়। পুরো দুনিয়ায় বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে সেক্যুলারদের তৈরি করা বয়ানের আলোকেই বিচার করা হয়। এটি ভাঙ্গা জরুরি৷ নিজেদের বয়ান, নিজেদের গল্প তৈরি করা জরুরি। কারণ যে গল্প বলে, সে-ই সমাজকে শাসন করে।
দেশে এত এত ‘ইসলামী সমাবেশ’ হয়। আশা করি, এইসব জনসমুদ্র থেকে অন্তত কিছু মানুষ বের হবে। সেক্যুলারদের মিথ্যা গল্প ভেঙ্গে তাঁরা ইসলাম ও মুসলমানদের গল্প নির্মাণ করবে। বিশ্ব বাংলাদেশকে সেক্যুলারদের মিথ্যা বয়ান দিয়ে বিচার করবে না। বরং মুসলমানদের তৈরি করা গল্প-ই হবে আগামীর বাংলাদেশের গল্প।
এক হাদিসে অলির পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে—সাঈদ ইবনে জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞাসা করেছে, ‘হে আল্লাহর রাসুল ﷺ, আল্লাহর অলি কারা? রাসূল ﷺ বলেছেন, "যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।"
উল্লেখ্য যে এই হাদিস টি আমার উস্তাদের কাছ থেকে শুনেছি।
(ইবনে মাজাহ ও ইবনে কাসির।)
সায়্যিদা আমিনা স্বপ্ন দেখছেন, একটি নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে। যে নূরের প্রখরতায় তিনি শামদেশের লাল প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছেন। পূর্বাকাশ উজ্জ্বল করে ঝলমলে একটি তারকা উদিত হয়েছে। পণ্ডিতদের মতে, তারকাটি সর্বশেষ নবীর জন্মের সুসংবাদ নিয়ে এসেছে। দুনিয়াজুড়ে ঘটতে শুরু করেছে আশ্চর্যকর সব ঘটনা। পারস্যের সাসানিদের কিছু প্রাসাদ ধ্বসে পড়েছে। হাজার বছর ধরে জ্বলতে থাকা মাজুসিদের অগ্নিকুণ্ড ধপ করে নিভে গেছে। সহসা শুকিয়ে গেছে সাওয়া হৃদ। আকাশ থেকে শীতের পাতার মতো কিছু নক্ষত্র খসে পড়েছে।
সায়্যিদা আমিনার প্রসববেদনা উঠেছে। তবে ব্যথার তীব্রতা কম। তিনি শশুরকে খবর পাঠিয়েছেন। আবদুল মুত্তালিব পায়চারি করছেন কাবার পাশে। পুত্রবধূর জন্য তিনি উৎকণ্ঠিত। কিছুক্ষণ পর খবর এলো, এক নাতি জন্মগ্রহণ করেছেন।
আবদুল মুত্তালিব দৌড়ে গিয়ে নাতিকে দেখলেন। পুতঃ দেহখানি দীপ্তি ছড়াচ্ছে, চেহারা থেকে ঠিকরে বেরুচ্ছে নূর, চোখে কুদরতি কুহুল। চারপাশে জান্নাতি আবহ; হয়তো মালাইকার আনাগোনা। দাদার মুগ্ধতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নাতিকে নিয়ে তিনি কাবায় প্রবেশ করলেন। এত বড় নিয়ামতের কী শুকরিয়া তিনি আদায় করবেন! কৃতজ্ঞতায় মহান রবের ঘরে দাঁড়িয়ে রইলেন দীর্ঘক্ষণ।
আবদুল মুত্তালিব নাতির আকীকায় লোক জড়ো করে আনন্দের সাথে আপ্যায়ন করলেন। নাতির নাম রাখলেন– মুহাম্মদ।
মুহাম্মদ– ওই নাম মুবারকের প্রতি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, জিন, ইনসান এবং সমগ্র মাখলুকাতের শত-সহস্র, অযুত-নিযুত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
ইয়া নাবী সালামু আলাইকা
ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা
ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা
সালাওয়াতুল্লাহি আলাইকা ❤️❤️❤️
Click here to claim your Sponsored Listing.