08/05/2025
হজরত উমর রা, হিমস নগরী থেকে আগত প্রতিনিধিদলকে বললেন, তোমরা আমাকে হিমসের দরিদ্র মানুষের একটা তালিকা তৈরি করে দাও। আমি তাদের অভাব দূর করার চেষ্টা করব।
প্রতিনিধিদল একটা তালিকা তৈরি করে আমীরুল মুমিনীন হজরত উমর রা, এর নিকট পেশ করলো। তিনি তালিকাটা পড়তে লাগলেন।
তালিকার একেবারে নিচের দিকে একটি নামের উপর চোখ আটকে গেলো খলীফার। নামটি হচ্ছে, নবীজীর সা, সাহাবী, হিমসের গভর্ণর সাঈদ ইবনে আমের রা, এর।
বিস্মিত হয়ে উমর রা, জিজ্ঞেস করলেন, উনি কোন সাঈদ ইবনে আমের?
প্রতিনিধিদল বললো, ইনি আমাদের আমীর, যাকে আপনি গভর্ণর মনোনীত করে পাঠিয়েছেন।
হজরত উমর এবার আরও বিস্মিত হলেন। বললেন, তোমাদের আমীরও দরিদ্র? এ কিভাবে সম্ভব?
প্রতিনিধিদল বললো, আল্লাহর কসম কখনও এমনও দিন অতিবাহিত হয় যে, দারিদ্র্যের কারণে দিনের পর দিন চলে যায় কিন্তু আমাদের আমীরের চুলায় আগুন পর্যন্ত জ্বলে না।
হজরত উমর একথা শুনে অঝোর ধারায় কাদতে লাগলেন।
হজরত উমর রা, প্রতিনিধিদলের হাতে এক হাজার দীনারের একটি থলে দিয়ে বললেন, তোমাদের আমীর সাঈদ ইবনে আমেরের নিকট আমার সালাম পৌছাবে এবং বলবে, উমর ইবনে খাত্তাব এগুলো আপনার প্রয়োজন পূরণের জন্য পাঠিয়েছেন।
হিমসে প্রতিনিধিদলের নিকট থেকে দীনারের থলে পেয়ে সাঈদ ইবনে আমের রা, কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। আনন্দে নয়, ভয়ে৷ ব্যাকুল কন্ঠে বলতে লাগলেন, আমার আখেরাতকে ধ্বংস করার জন্য দুনিয়া চেপে বসেছে এবং ফিতনা এসে উপস্থিত হয়েছে।
সাঈদের স্ত্রী ঘরের ভেতর থেকে বললেন, ফিতনাকে সরিয়ে দেন, ঘর থেকে বের করে দিলেই তো হয়।
সাঈদ ইবনে আমের দীনারগুলো ভাগ করে অনেকগুলো থলেতে ভরলেন এবং হিমসের দরিদ্র মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন।
ঐতিহাসিকরা লিখেছেন, সাঈদ ইবনে আমের জুমাহী রা, এমন একজন ব্যাক্তি ছিলেন যিনি দুনিয়া বিক্রি করে আখেরাত ক্রয় করেছেন এবং সব সময় আল্লাহ ও তার রাসুলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। নিজের প্রয়োজন থাকা সত্বেও অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
اولئك آبائى فجئنى بمثلهم إذا جمعتنا يا جرير المجامع