Matiranga Students Helpline- MASH

Matiranga Students Helpline- MASH সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তার জন্য পেজটি খোলা হয়েছে ❤❤

 #এদের_থেকে_সাবধান   ...n
02/10/2024

#এদের_থেকে_সাবধান

...n

দুনিয়া বদলে দেয়া ১০০ বইয়ের মধ্যে আপনি কতগুলো পড়েছেন?বিবিসির জরিপে পৃথিবী ‘বদলে দেওয়া’ ১০০ সাহিত্যকর্ম২০১৮ সালের এপ্রিলে ...
01/10/2024

দুনিয়া বদলে দেয়া ১০০ বইয়ের মধ্যে আপনি কতগুলো পড়েছেন?

বিবিসির জরিপে পৃথিবী ‘বদলে দেওয়া’ ১০০ সাহিত্যকর্ম
২০১৮ সালের এপ্রিলে বিবিসি কালচার পাঁচটি ফিকশনাল সাহিত্যকর্ম মনোনীত করার জন্য বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মাঝে এক জরিপ পরিচালনা করেছিল। মানুষের মানসিকতা বা ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে এমন সাহিত্যকর্ম বেছে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

জরিপে ৩৫টি দেশের ১০৮ জন লেখক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সমালোচক এবং অনুবাদকের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যায়। তাদের পছন্দের মধ্যে ছিল ৩৩টি ভাষার উপন্যাস, কবিতা, লোককাহিনী ও নাটক।

সে জরিপ থেকে করা শীর্ষ ১০০টি সাহিত্যকর্মের এ তালিকায় সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছেন শেক্সপিয়ার, ভার্জিনিয়া উলফ এবং ফ্রাঞ্জ কাফকা, যাদের ৩টি করে সৃষ্টি রয়েছে তালিকায়।
বিবিসি বলেছে, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা নয়। এটি স্রেফ একটা সূচনাবিন্দু। দেখে নিন ওই ১০০টি সাহিত্যকর্মের তালিকা।

১. দ্য ওডিসি (হোমার, খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক)
২. আঙ্কল টম'স কেবিন (হ্যারিয়েট বিচার স্টো, ১৮৫২)
৩. ফ্রাঙ্কেনস্টাইন (মেরি শেলি, ১৮১৮)
৪. নাইটিন এইটি-ফোর (জর্জ অরওয়েল, ১৯৪৯)
৫. থিংস ফল অ্যাপার্ট (চিনুয়া আচেবে, ১৯৫৮)
৬. ওয়ান থাউজ্যান্ড অ্যান্ড ওয়ান নাইটস (বিভিন্ন লেখক, ৮ম–১৮শ শতক)
৭. ডন কিহোতে (মিগুয়েল দে সারভান্তেস, ১৬০৫–১৬১৫)
৮. হ্যামলেট (উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ১৬০৩)
৯. ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড (গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, ১৯৬৭)
১০. দ্য ইলিয়াড (হোমার, খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক)
১১. বিলভড (টনি মরিসন, ১৯৮৭)
১২. দ্য ডিভাইন কমেডি (দান্তে আলিগিয়ারি, ১৩০৮–১৩২০)
১৩. রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট (উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ১৫৯৭)
১৪. দ্য এপিক অফ গিলগামেশ (লেখক অজানা, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২২শ–১০শ শতক)
১৫. হ্যারি পটার সিরিজ (জে কে রাওলিং, ১৯৯৭–২০০৭)
১৬. দ্য হ্যান্ডমেইড'স টেল (মার্গারেট অ্যাটউড, ১৯৮৫)
১৭. ইউলিসিস (জেমস জয়েস, ১৯২২)
১৮. অ্যানিমেল ফার্ম (জর্জ অরওয়েল, ১৯৪৫)
১৯. জেন আয়ার (শার্লট ব্রন্টি, ১৮৪৭)
২০. ম্যাডাম বোভারি (গুস্তাভ ফ্লবেয়ার, ১৮৫৬)
২১. রোমান্স অব দ্য থ্রি কিংডমস (লুয়ো গুয়ানঝং, ১৩২১–১৩২৩)
২২. জার্নি টু দ্য ওয়েস্ট (উ চেং'এন, আনুমানিক ১৫৯২)
২৩. ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট (ফিয়দোর দস্তয়েভস্কি, ১৮৬৬)
২৪. প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস (জেন অস্টেন, ১৮১৩)
২৫. ওয়াটার মার্জিন (শি নাই'আন, ১৫৮৯)
২৬. ওয়ার অ্যান্ড পিস (লিও টলস্টয়, ১৮৬৫–১৮৬৭)
২৭. টু কিল আ মকিংবার্ড (হার্পার লি, ১৯৬০)
২৮. ওয়াইড সারগাসো সি (জিন রাইস, ১৯৬৬)
২৯. ঈশপ'স ফেবলস (ঈশপ, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬২০–৫৬০)
৩০. ক্যান্ডিড (ভলতেয়ার, ১৭৫৯)
৩১. মেডিয়া (ইউরিপিডিস, খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১)
৩২. মহাভারত (বেদব্যাস, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতক)
৩৩. কিং লিয়ার (উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ১৬০৮)
৩৪. দ্য টেল অফ গেনজি (মুরাসাকি শিকিবু, ১০২১-এর পূর্বে)
৩৫. দ্য সরোস অফ ইয়ং ওয়ের্থার (জোহান উলফগ্যাং ভন গোথে, ১৭৭৪)
৩৬. দ্য ট্রায়াল (ফ্রাঞ্জ কাফকা, ১৯২৫)
৩৭. রিমেমব্রেন্স অফ থিংস পাস্ট (মার্সেল প্রুস্ট, ১৯১৩–১৯২৭)
৩৮. উইদারিং হাইটস (এমিলি ব্রন্টি, ১৮৪৭)
৩৯. ইনভিজিবল ম্যান (রালফ এলিসন, ১৯৫২)
৪০. মবি-ডিক (হারম্যান মেলভিল, ১৮৫১)
৪১. দেয়ার আইজেস ওয়্যার ওয়াচিং গড (জোরা নীল হার্স্টন, ১৯৩৭)
৪২. টু দ্য লাইটহাউস (ভার্জিনিয়া উলফ, ১৯২৭)
৪৩. দ্য ট্রু স্টোরি অব আহ কিউ (লু সুন, ১৯২১–১৯২২)
৪৪. অ্যালিস'স অ্যাডভেঞ্চারস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড (লুইস ক্যারল, ১৮৬৫)
৪৫ আন্না ক্যারেনিনা (লিও টলস্টয়, ১৮৭৩–১৮৭৭)
৪৬. হার্ট অব ডার্কনেস (জোসেফ কনরাড, ১৮৯৯)
৪৭. মাঙ্কি গ্রিপ (হেলেন গার্নার, ১৯৭৭)
৪৮. মিসেস ড্যালোয়ে (ভার্জিনিয়া উলফ, ১৯২৫)
৪৯. ইডিপাস দ্য কিং (সফোক্লিস, খ্রিস্টপূর্ব ৪২৯)
৫০. দ্য মেটামরফোসিস (ফ্রাঞ্জ কাফকা, ১৯১৫)
৫১. দ্য ওরেস্টেইয়া (এস্কাইলাস, খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক)
৫২. সিন্ডারেলা (লেখক অজানা, তারিখ অজানা)
৫৩. হাউল (অ্যালেন গিন্সবার্গ, ১৯৫৬)
৫৪. লে মিজারেবল (ভিক্টর হুগো, ১৮৬২)
৫৫. মিডলমার্চ (জর্জ এলিয়ট, ১৮৭১-১৮৭২)
৫৬. পেদ্রো পারামো (হুয়ান রুলফো, ১৯৫৫)
৫৭. দ্য বাটারফ্লাই লাভারস (লোককাহিনী, বিভিন্ন সংস্করণ)
৫৮. দ্য ক্যানটারবরি টেলস (জিওফ্রে চসার, ১৩৮৭)
৫৯. পঞ্চতন্ত্র (বিষ্ণু শর্মা, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০)
৬০. দ্য পোস্টহিউমাস মেমোয়ার্স অফ ব্রাস কিউবাস (হোয়াকিম মারিয়া মাচাদো দে আসিস, ১৮৮১)
৬১. দ্য প্রাইম অব মিস জিন ব্রডি (মুরিয়েল স্পার্ক, ১৯৬১)
৬২. দ্য র‍্যাগেড-ট্রাউজারড ফিলানথ্রপিস্টস (রবার্ট ট্রেসেল, ১৯১৪)
৬৩. সং অফ লাউইনো (ওকোট পি'বিটেক, ১৯৬৬)
৬৪. দ্য গোল্ডেন নোটবুক (ডোরিস লেসিং, ১৯৬২)
৬৫. মিডনাইট'স চিলড্রেন (সালমান রুশদি, ১৯৮১)
৬৬. নার্ভাস কন্ডিশনস (টসিতসি ডাংগারেমবগা, ১৯৮৮)
৬৭. দ্য লিটল প্রিন্স (অঁতোয়া দ্য সেন্ট-একজুপেরি, ১৯৪৩)
৬৮. দ্য মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটা (মিখাইল বুলগাকভ, ১৯৬৭)
৬৯. রামায়ন (বাল্মিকি, খ্রিস্টপূর্ব ১১শ শতক)
৭০. অ্যান্টিগোন (সফোক্লিস, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪৪১)
৭১. ড্রাকুলা (ব্রাম স্টোকার, ১৮৯৭)
৭২. দ্য লেফট হ্যান্ড অফ ডার্কনেস (উরসুলা কে. লে গুয়িন, ১৯৬৯)
৭৩. আ ক্রিসমাস ক্যারল (চার্লস ডিকেন্স, ১৮৪৩)
৭৪. আমেরিকা (রাউল ওতেরো রাইখ, ১৯৮০)
৭৫. বিফোর দ্য ল (ফ্রাঞ্জ কাফকা, ১৯১৫)
৭৬ চিলড্রেন অফ গেবেলাওয়ি (নাগিব মাহফুজ, ১৯৬৭)
৭৭. ইল কানজনিয়েরে (পেত্রার্ক, ১৩৭৪)
৭৮. কেবরা নাগাস্ট (বিভিন্ন লেখক, ১৩২২)
৭৯. লিটল ওমেন (লুইসা মে অ্যালকট, ১৮৬৮–১৮৬৯)
৮০. মেটামরফোসেস (ওভিড, ৮)
৮১. ওমেরোস (ডেরেক ওয়ালকট, ১৯৯০)
৮২. ওয়ান ডে ইন দ্য লাইফ অফ ইভান ডেনিসোভিচ (আলেক্সান্ডার সলঝেনিৎসিন, ১৯৬২)
৮৩. অরল্যান্ডো (ভার্জিনিয়া উলফ, ১৯২৮)
৮৪. রেইনবো সার্পেন্ট (আদিবাসী অস্ট্রেলীয় গল্পচক্র, সাল অজানা)
৮৫. রেভল্যুশনারি রোড (রিচার্ড ইয়েটস, ১৯৬১)
৮৬. রবিনসন ক্রুসো (ড্যানিয়েল ডিফো, ১৭১৯)
৮৭. সং অফ মাইসেলফ (ওয়াল্ট হুইটম্যান, ১৮৫৫)
৮৮. দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ হাকলবেরি ফিন (মার্ক টোয়েন, ১৮৮৪)
৮৯. দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ টম সয়ার (মার্ক টোয়েন, ১৮৭৬)
৯০. দ্য আলেফ (হোর্হে লুইস বোর্হেস, ১৯৪৫)
৯১. দ্য ইলোকোয়েন্ট পিয়াজেন্ট (প্রাচীন মিশরীয় লোকগল্প, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০)
৯২. দ্য এম্পেরর'স নিউ ক্লোদস (হ্যান্স ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন, ১৮৩৭)
৯৩. দ্য জঙ্গল (আপটন সিনক্লেয়ার, ১৯০৬)
৯৪. দ্য খামরিয়াত (আবু নুওয়াস, ৮ম শতকের শেষ–৯ম শতকের শুরু)
৯৫. দ্য রাডেটজকি মার্চ (জোসেফ রথ, ১৯৩২)
৯৬. দ্য রেভেন (এডগার অ্যালান পো, ১৮৪৫)
৯৭. দ্য স্যাটানিক ভার্সেস (সালমান রুশদি, ১৯৮৮)
৯৮. দ্য সিক্রেট হিস্টরি (ডোনা টার্ট, ১৯৯২)
৯৯. দ্য স্নোই ডে (এজরা জ্যাক কেটস, ১৯৬২)
১০০. টোবা টেক সিং (সাদাত হাসান মান্টো)

👉 মূল লেখাটি বিবিসি কালচারে প্রকাশিত হয়েছে।
এই লেখাটি দ্যা টিবিএস ডেস্ক থেকে নেয়া হয়েছে।

© Md Salim

01/10/2024

Lesson from father
-------------------------------------------------
প্রত্যেক বাবা মায়ের পড়া প্রয়োজন।।

অর্থবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও আমি আমার একমাত্র ছেলেকে কখনো দশ টাকার বেশি টিফিন খরচ দেইনি। সে বরাবরই তার বন্ধুদের দেখিয়ে বলে বাবা দেখো আজ সে কতো ব্রাণ্ডেড ঘড়িটা পরে এসেছে। বাবা দেখো তার স্কুল ব্যাগটা ইম্পোর্টেট! সুন্দর না বাবা!!

আমি মাথা নাড়িয়ে শুধু সম্মতি জানাই,
আমার ছেলের সাহস কিন্তু হয়নি কখনো সেম জিনিসটা চাওয়ার। একদিন তার পায়ে সামান্য ব্যথা। স্কুল যাওয়ার সময় বললো বাবা আমাকে তোমার সাথে অফিসের গাড়িতে নিয়ে স্কুলে নামিয়ে দেবে??

আমি তার সমস্যার কথা বিবেচনা করে বললাম ঠিক আছে। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ সে আমার সাথেই গেলো। আমি চুপচাপ তাকে নামিয়ে দিতাম। আমার ছেলের এখন দেখছি হেঁটে যেতে ইচ্ছে করছেনা। পরেরদিন সকালে আমাকে বলার আগে আমিই বলে দিলাম অফিসিয়াল জিনিস ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ। বাড়ি থেকে স্কুল দশ মিনিটের পথ নির্দিষ্ট সময়ের আরোও কিছুক্ষণ আগে বের হবে হেঁটে যেতে পারবে।।

ছেলে আমার প্রচন্ড মন খারাপ করে বসে রইলো।
এদিকে আমার স্ত্রীও মন খারাপ করেছে। কেনো করি এমন! এর উত্তর জানা নেই।
আজ সন্ধ্যায় ছেলে আমার বাড়িতে এসেই বলেছে জানো আমার বন্ধু শহরের সবচেয়ে সেরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে। আমিও ………
বলার আগেই আমি তাকে থামিয়ে জানতে চাইলাম বাবা প্রতিষ্ঠান সেরা হয় নাকি ছাত্র?? ধরো আমি তোমায় সে স্কুলে দিলাম কিন্তু তুমি ফেল করলে কোনো সাবজেক্টে তাহলে আমি কি বলবো তুমি ফেল নাকি স্কুল??
ছেলে বললো বুঝেছি বাবা।
আমি তার মাথায় হাত দিয়ে বললাম এই পর্যন্ত তোমার ক্লাসের কোনো ছেলেই তোমাকে টপকে যেতে পারেনি। তুমিই ফার্স্ট বয়।।
সুতরাং তুমি যেখানে সেরাটা দেবে সেই স্থানই সেরা তোমার মতো।

এরপর সে আর এরকম কোনো কথা বলেনি।।
আজ বিকেলে ছেলে বলছে বাবা একজন এক্সট্রা টিউটর দরকার। আমার ম্যাথ ইংলিশে একটু সমস্যা হচ্ছে। আমি ছেলেকে বললাম বাবা একটু কষ্ট করতে হবে। আমি যখন রাত করে বাড়িতে ফিরবো ন'টা কিংবা দশটায় আমার কাছেই তোমাকে ম্যাথ আর ইংলিশ করতে হবে।
বাবা তুমি পরিশ্রম করে বাড়ি আসো তাই না??
আমি হেসে বললাম, না বাবা। আমার কাছে এতো সামর্থ্য নেই তোমাকে এক্সট্রা টিউটর দেওয়ার। আমি বরং একটু কষ্ট করি। কি বলো??
ছেলে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো ঠিক আছে বাবা।

স্ত্রী রাতেরবেলা জিজ্ঞেস করলেন তুমি এরকম দশটা টিউটর রাখতে পারো কিন্তু! !
কিন্তু আমি চাই আমার সন্তান বুঝুক আরাম করে কিছু পাওয়া যায় না। মানুষের জীবনে অভাব আসলে তা কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় সে বুঝুক ও সে শিখুক। কোনো কিছুই মন্দ নয় সে বুঝুক।।

আমার স্ত্রী চুপ হয়ে গেলেন।
মাঝেমাঝে আমার ছেলেকে নিয়ে আমি ফুটপাতে হাঁটি। পথশিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের সম্পর্কে জানাই। সে জানুক পৃথিবী শুধু চিন্তায় সুন্দর। বাস্তবে খুব কঠিন।
আমি চাওয়া মাত্রই তাকে কিছু দেইনি। একদিন সে বলেছিলো বাবা তুমি এরকম কেনো??
তাকে বলেছিলাম সময় হলে বুঝবে।।

দুই তিন আগে সে ইলিশ ও মাংস পোলাও খাবে।
তাকে বললাম টাকাতো কম। তোমার কাছে কিছু আছে? থাকলে ইলিশ আনা যাবে। ছেলে আমার পঞ্চাশটি দশ টাকার নোট বের করে দিল। আমি অবাক হয়ে বললাম তুমি খরচ করোনি??
সে মুচকি হাসি দিয়ে বললো, না বাবা। জমিয়েছি। আমার পরিচিত এক বন্ধু স্কুলে না খেয়েই আসে। কোনো টাকাও নেই তার কাছে। আসলে সে খুব অসহায় বাবা। আমি মাঝে তাকে ক্ষুধার্ত দেখে বুঝতে পারি সেদিনই তার সাথে খাই কারন তখন সে না করে না। অন্যান্য দিনগুলো টাকা খরচ করিনা। জমিয়ে রাখি কারন বাড়ি থেকে মা যা দেয় তাতো যথেষ্ট কারন কিছু মানুষ সামান্যটুকুও পায় না।।

আমি ছেলের দিকে তাকিয়ে আছি।
সেই গুছানো টাকা নিয়ে আরোও টাকা মিলিয়ে ইলিশ এনে ছেলেকে ইলিশ মাংস পোলাও খাওয়ালাম। ইচ্ছে করেই অভাব অনুভব করাই যাতে সে বুঝুক জীবনটা কঠিন। অনেক কঠিন।
পূজোর বাজারে গিয়ে তাকে বলেছি সাধ্যের মধ্যে নিতে, সে একটা প্যান্ট নিয়েছে শুধু।।
জানতে চাইলে বলে তোমার জন্য পাঞ্জাবি আর মায়ের জন্য শাড়ি নিয়েছি।।
আমি হাসলাম।
সে বুঝতে শিখেছে টাকা কিভাবে খরচ করতে হয়।।

একদিন বসে বসে বলছে বাবা সায়নটা আর মানুষ হলো না অথচ আংকেল তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। যা চেয়েছে সে, তার সবটাই তাকে দিয়েছেন। আমি ছেলেকে বললাম আমি কি তোমাকে কিছু দিতে পারিনি??
ছেলে আমার কোলে মাথা রেখে বললো প্রতিটা চাহিদা পূরন করে শিখিয়েছ অভাবে যেন স্বভাব নষ্ট না হয়। তুমি জীবনের যে শিক্ষা দিয়েছ বাবা তা সব কিছুর উর্ধে। তুমি শিখিয়েছ অভাবকে কিভাবে ভালবাসতে হয়। আমি এখনো জানি আমার বাবার আমি ছাড়া কিছু নাই। বাকীটা আমাকে করে নিতে হবে। সবকিছু ইউটিলাইজ করতে হবে। আমি সাধারণ জামাকাপড়েও হীনমন্যতায় ভুগি না বাবা। কারন আমি জানি আমি কে!!

তোমার দেয়া শিক্ষা আমি সারাজীবন ধরে রাখবো বাবা। চাওয়া মাত্রই পেয়ে গেলে আমি কখনো জানতামই না পঞ্চাশ দিন না খেয়ে টিফিন মানি জমালে পাঁচশো টাকা জমা হয়। তুমি আছো বলেই সম্ভব। আমি মানুষকে মানুষের চোখে দেখি। আমি বুঝি জীবন কতো কঠিন।
আমার স্ত্রী নিজের থেকেই আজ খুব খুশি, বুঝতে পেরেছেন আমার উদ্দেশ্যটা।।

প্রায় দশ বছর পর ছেলে প্রাইভেট কার কিনেছে নিজের রোজগারে। হাসতে হাসতে বলে বিগত পাঁচ বছরে টিফিনের টাকা আর বোনাসের টাকা জমিয়ে এটা কিনেছি।।
বুঝতে পেরেছিলাম ছেলে আমার সঞ্চয়ী হয়েছে, সাথে হয়েছে মানুষও।।

সপ্তাহখানিক পর যাবতীয় সম্পত্তি তার নামে লিখে দিয়ে বললাম সামলে রেখো। ছেলে দলিল আমার হাতে দিয়ে বললো তোমরা সাথে থেকো। আর কিছু লাগবে না।।

আজ তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমার স্ত্রী নীলিমাকে বললাম দেখেছো আমি ভুল করিনি।। আমি আমার সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাটাই দিয়েছি যেমনটা আমার বাবা দিয়েছিলেন আমাকে। আমি অভাবে সন্তানকে লজ্জিত হওয়া নয় বরং দৃঢ় থাকতে শিখিয়েছি।

সংগৃহীত

শিহ্মনীয় গল্প_1) আইনস্টাইনের এক সহকর্মী একদিন তাঁর কাছে তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। তখন আইনস্টাইন একটি টেলিফোন বই খুঁজে...
29/09/2024

শিহ্মনীয় গল্প_
1) আইনস্টাইনের এক সহকর্মী একদিন
তাঁর কাছে তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন।
তখন আইনস্টাইন একটি টেলিফোন বই খুঁজে
বের করলেন এবং সেই বই থেকে তাঁর নম্বরটা
খুঁজতে লাগলেন। তখন সহকর্মী তাকে বললেন, ‘কী ব্যাপার, নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে
নেই আপনার।’ আইনস্টাইন বললেন, ‘না, তার দরকারই বা কী? যেটা আপনি বইতে পাবেন, সে
তথ্যটা মুখস্ত করে খরচ করবেন কেন ?’

2) আইনস্টাইন ছোটবেলায় তুলনামূলক অনেক
দেরীতে কথা বলতে শেখেন। একারণে তাঁর
বাবা মা অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। একদিন
রাতে খাবার টেবিলে বসে সকলে খাচ্ছেন
এমন সময় বালক আইনস্টাইন চিৎকার করে
বললেন, ‘এই স্যুপটা বড্ড গরম। তাঁর বাবা-মা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। ছেলের মুখে প্রথম কথা
শুনে বাবা-মা বেশ অবাক হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস
করলেন, ‘আগে তুমি কথা বলোনি কেন?’
উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, ‘কারণ এর আগে
তো সব ঠিকই ছিল।’

3) 1931 সালে কৌতুক অভিনেতা চার্লি
চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানান
তার একটি শো দেখার জন্য। তখন চ্যাপলিনের
সিটি লাইটস্ সিনেমার স্কিনিং চলছিল। পরে
তারা শহরের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন
চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন,
‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে, এজন্যই আমার
এতো জনপ্রিয়তা। কিন্তু মানুষ আপনাকে
কেন এতো পছন্দ করে বুঝলাম না।’ আইনস্টাইন
সহাস্যে প্রত্যুত্তরে জানালেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এই জনপ্রিয়তা’।

4) একবার আইনস্টাইন ট্রেনে চেপে যাচ্ছিলেন।
চেকার সকলের টিকিট চেক করার এক পর্যায়ে
আইনস্টাইনের কাছে এসে টিকিট দেখতে
চাইলেন। কিন্তু আইনস্টাইন তাঁর টিকিটটি
খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চেকার আইনস্টাইনকে
চিনতে পেরে বললেন, ‘স্যার আপনাকে আমি
চিনতে পেরেছি। আপনি নিশ্চয়ই টিকিট কেটে
উঠেছেন। আপনাকে টিকিট দেখাতে হবে
না।’ আইনস্টাইন কিছুটা চিন্তিত ভঙ্গিতে
বললেন, ‘না, না, ওটা আমাকে খুঁজে বের করতেই
হবে। না পেলে আমি জানব কি করে যে আমি
কোথায় যাচ্ছিলাম।’

5) আইনস্টাইনের কাছে একবার আপেক্ষিকতার
সহজ ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলো। উত্তরে
আইনস্টাইন বললেন, ‘আপনার হাত একটা জ্বলন্ত
চুল্লীর উপর ধরে রাখুন, মনে হবে এক ঘন্টা পার
হয়ে গেছে। কিন্তু একজন সুন্দরী মেয়ের
পাশে একঘন্টা বসে থাকুন, আপনার কাছে
মনে হবে মাত্র এক মিনিট পার হলো, এটাই
আপেক্ষিকতা।’

6) একবার আইনস্টাইন বাইরে থেকে বাড়িতে
ফিরে দরজায় কড়া নাড়লেন। ভেতর থেকে তাঁর
স্ত্রী ভাবলেন অন্য কেউ হয়তো আইনস্টাইনকে
খুঁজতে এসেছেন, তাই তিনি বেশ বিরক্ত হয়ে
চেচিয়ে বললেন, আইনস্টাইন বাড়িতে নেই।
ব্যস, চিন্তিত আইনস্টাইন কোন কথা না বলে
উল্টো হাঁটা ধরলেন।

আরো_একটি_ঘটনা:-
আইনস্টাইনের যিনি ড্রাইভার ছিলেন,
তিনি একদিন আইনস্টাইনকে বললেন - আপনি প্রতিটি সভায় যে ভাষণ দেন সেইগুলো শুনে শুনে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে ।" -আইনস্টাইন তো অবাক!!!

উনি তখন বললেন "বেশ তাহলে এর পরের মিটিংয়ে যেখানে যাবো তারা আমাকে চেনেন না, তুমি আমার হয়ে ভাষণ দিও আর আমি ড্রাইভার হয়ে বসে থাকবো।"

-এরপরে সেই সভায় তো ড্রাইভার হুবহু আইনস্টাইন-এর ভাষণ গড় গড় করে বলে গেলেন,,, উপস্থিত বিদ্বজ্জনেরা তুমুল করতালি দিলেন । এরপর তাঁরা ড্রাইভারকে আইনস্টাইন ভেবে গাড়িতে পৌঁছে দিতে এলেন ।

-সেই সময়ে একজন অধ্যাপক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলেন "স্যার, ঐ আপেক্ষিক এর যে সংজ্ঞাটা বললেন, আর একবার সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেবেন ?"-আসল আইনস্টাইন দেখলেন বিপদ, এবার তো ড্রাইভার ধরা পড়ে যাবে।কিন্তু তিনি ড্রাইভার-এর উত্তর শুনে তাজ্জব হয়ে গেলেন । ড্রাইভার উত্তর দিল।।
-"এই সহজ জিনিসটা আপনার মাথায় ঢোকেনি ? আমার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন সে বুঝিয়ে দেবে ।"

বিঃদ্রঃ-- জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে চলাফেরা করলে আপনিও জ্ঞানী হবেন। আপনি যেমন মানুষের সাথে ঘুরবেন তেমনই হবেন।

এই জন্যে কথায় আছে,
"সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস,
অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ"।

--- #সংগৃহীত---

23/09/2024

সর্বকালের সেরা পাঁচ সাহিত্যিক- ডানিয়েল এস বার্ট

(এটি কোন গবেষণা লব্ধ কর্ম নয়, লেখাটি লিখেছেন যিনি তিনি তাঁর নিজস্ব রেটিং অনুসারে লেখক বাছাই করেছেন।)

বিশ্ব সাহিত্যের উপর অজস্র লেখালেখি হয়েছে। বিশ্ব সাহিত্যের সেরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক রকম মত থাকাই স্বাভাবিক। তবে আলোচনাগুলোই একটা নকশা দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যার ওপর থেকে আমরা সহজে বিশ্বসাহিত্যের দিগগজদের বের করে আনতে পারি।

জনপ্রিয় ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম সমারসেট মম এর লেখা টেন নভেলস এন্ড দেয়ার অথর্স বই এই কাঠামোর একটা শক্ত খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। বইটিতে মম তলস্তয়, দস্তয়ভস্কি, বালজাক, ফ্লবেয়ার, চার্লস ডিকেন্স, হারম্যান মেনভিল, স্তাঁদল, হেনরি ফিল্ডিং, জেন অস্টেন, এমিলি ব্রন্টির ওপর আলোচনা করেছেন। ১৯৫৪ সালে এ বই প্রকাশিত হয়। মম বোধ হয় তখনও বেঁচে ছিলেন এমন কোনও ঔপন্যাসিককে আলোচনায় আনতে চাননি। ফলে বিশ্বসাহিত্য নিয়ে মম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলেও তিনি বিশ্বসাহিত্যের সার্বিক চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেননি।

২০০১ সালে ডানিয়েল এস. বার্ট নামক এক আমেরিকান লেখক দি লিট্যারারি হান্ড্রেড নামে একটা বই প্রকাশ করেন। এই বইতে লেখক ১০০ জন সাহিত্যিককে সর্বকালের সেরা প্রভাবশালী সাহিত্যিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ওপরে যেই নকশার কথা বলা হয়েছে তা যেন এই বইটাতে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। বার্টের গবেষণা এত গভীর যে এই বইয়ে উল্লেখিত সাহিত্যিকরা যে বিশ্বসাহিত্যের সেরা মোড়ল, এ নিয়ে সমকালীন বিশ্বের কোনও সাহিত্য-বোদ্ধাকে তেমন কোনও বড় দ্বিমত পোষণ করতে দেখা যায়নি। উইলিয়াম সমারসেট মম যেখানে শুধু উপন্যাসকে বিচার করেছেন, এবং ইউরোপীয় ও আমেরিকান উপন্যাস থেকে দশটি উপন্যাস বেছে নিয়েছেন, বার্ট সেখানে সাহিত্যের সব শাখায় হাত দিয়েছেন এবং সারা পৃথিবীর সাহিত্যিকদের বিবেচনায় এনেছেন। বার্ট এর তালিকায় সর্ব কালের সেরা প্রভাবশালী সাহিত্যিকদের তালিকায় এক নম্বরে আছেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আছেন ৯০ নম্বরে।

বার্টের বিবেচনার সাথে একমত হয়ে এখানে সংক্ষেপে প্রথম পাঁচ জন সাহিত্যিকের সংক্ষিপ্ত জীবন ও শ্রেষ্ঠ বইগুলো নিয়ে আলোচনা করছি।

০১. উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। শেক্সপিয়ার যে সর্বকালের সেরা প্রভাবশালী সাহিত্যিক তা নিয়ে দ্বিমত করবেন এমন সাহিত্যবোদ্ধা হাজারে এক জন মিললেও মিলতে পারে। শেক্সপিয়ার এর জীবনের দৈর্ঘ ছিল ৫২ বছর। জন্ম ১৫৬৪ সালে। মৃত্যু ১৬১৬ সালে। ১৮ বছর বয়সে শেক্সপিয়ার ২৬ বছর বয়সের নারী এন হাথওয়েকে বিয়ে করেন। তাঁরা দুই কন্যা ও এক পুত্রের জন্মদান করেন। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী শেক্সপিয়ার হঠাৎ জ্বরে মারা যান। শেক্সপিয়ারের বৈবাহিক জীবন সুখের ছিল না। পরিপূর্ণ জীবনের বিশ বছর তিনি লন্ডনে একা বাস করেছেন। অনেক নারীর সাথে প্রেম করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কোনওদিন সুখ পেয়েছেন, এমন নজির নাই। তা ছাড়া তাঁর পুত্র হ্যামনেন্ট শেক্সপিয়ারের অকালমৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেয়েছেন। এই পুত্রকে নিয়ে তিনি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হ্যামলেট লিখেছেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। হ্যামলেটের এই নাটকটা আত্মজৈবনিক বলে অনেকে মত দিয়েছেন।

‘শেক্সপিয়ার এর সাহিত্যে মানুষ চারশ বছর আগে যেমন নিজের আবেগ খুঁজে পেত এখনও তেমনি পায়। বিলাতের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন, ব্যক্তির জীবনে অসুখী প্রেম, দাম্পত্য জটিলতা, কামনার শিল্পরূপ এই চারটি বিষয়কে উপজীব্য করে শেক্সপিয়ার সাহিত্য রচনা করেছেন। শেক্সপিয়ারের শিল্প প্রকাশের কৌশল ছিল নাটকীয়তা। সমালোচকরা এটাকে আতিশয্য বলতেই পারেন। তবে নাটকীয়তা ছাড়া শেক্সপিয়ারের সাহিত্য এত সুখপাঠ্য যে হত না, তা বলা যায়’

শেক্সপিয়ার ছিলেন নাট্যকার, কবি ও অভিনেতা। তাঁর লেখা ১৫৪ টা সনেট ইংরেজি ভাষায় রচিত সুন্দরতম পদ্যের অন্তর্গত। কবিতা ও নাটক দুটোর কারণেই অমর হলেও শেক্সপিয়ারের নাটকই তাঁকে সারা বিশ্বে খ্যাতিমান করে। তাঁর ৩৮ টা নাটকের মধ্যে বিখ্যাত দশটা নাটক হলো হ্যামলেট, ম্যাকবেথ, মিডসামার নাইট’স ড্রিম, কিং লিয়ার, টুয়েলফ্থ নাইট, দ্য টেম্পেস্ট, রোমিয়ো এন্ড জুলিয়েট, দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস, জুলিয়াস সিজার। এর অনেকগুলো নাটকেরই বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়।

শেক্সপিয়ার এর সাহিত্যে মানুষ চারশ বছর আগে যেমন নিজের আবেগ খুঁজে পেত এখনও তেমনি পায়। বিলাতের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন, ব্যক্তির জীবনে অসুখী প্রেম, দাম্পত্য জটিলতা, কামনার শিল্পরূপ এই চারটি বিষয়কে উপজীব্য করে শেক্সপিয়ার সাহিত্য রচনা করেছেন। শেক্সপিয়ারের শিল্প প্রকাশের কৌশল ছিল নাটকীয়তা। সমালোচকরা এটাকে আতিশয্য বলতেই পারেন। তবে নাটকীয়তা ছাড়া শেক্সপিয়ারের সাহিত্য এত সুখপাঠ্য যে হত না, তা বলা যায়। গত চার শতকে ইংরেজি ভাষার অনেক পরিবর্তন হলেও শেক্সপিয়ারের সৃষ্টির মানুষের মনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতার কোনও পরিবর্তন হয়নি।

০২. দান্তে আলিগিয়েরি

বার্ট এর গবেষণায় সর্বকালের সেরা ১০০ প্রভাবশালী সাহিত্যিক এর তালিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন ইতালির দান্তে আলিগিয়েরি। তাঁর জন্ম ফ্লোরেন্স শহরে, ১২৬৫ সালে, আর মৃত্যু ১৩২১ সালে। ৫৬ বছরের জীবন। জ্ঞানী মানুষ হিসাবে দান্তের অনেক পরিচয় আছে। কিন্তু তিনি যে জন্য বিখ্যাত তা হলো ১৪,২৩৩ লাইনের একটা কবিতা। যেটাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন কমেডি। বিশ্ব সাহিত্যের আর এক মহারথি, তিনিও ইতালিয়ান, জোভানি বোকাচিও এই কবিতাটার নামের আগে ডিভাইন শব্দটি যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত এই বৃহৎ কবিতাটা তিনটি খন্ডে বিভক্ত করে প্রকাশিত হয়। প্রথমটার নাম ইনফার্নো বা দোজখ। দ্বিতীয়টার নাম পারগাটরি বা আত্মার শুদ্ধিস্থান। তৃতীয়টার নাম প্যারাডাইস বা বেহেশত। কবিতার ঘটনাটা এ রকম: এক দিন দান্তে সহসা নিজেকে একটা জঙ্গলের মধ্যে খুঁজে পান। আসলে সেটা পরকাল। তিনি সেখানে তাঁর গুরু এবং আর এক ইতালিয়ান মহারথি কবি ভার্জিলের দেখা পান। ভার্জিল তাঁকে পুরো দোজখ আর আত্মার শুদ্ধিস্থানের বেশির ভাগ ঘুরিয়ে দেখান। তারপর ভার্জিল দান্তেকে তরুণী বিয়াত্রিচের কাছে সমর্পণ করেন যিনি দান্তেকে আত্মার শুদ্ধিস্থান এর বাকি অংশ আর বেহেশতের বেশির ভাগ ঘুরিয়ে দেখান। তারপর দান্তেকে বেহেশতের অবশিষ্ট অংশ ঘুরিয়ে দেখান সন্ত বার্নাড। খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্ম বিশ্বাসে পরকালের যে বর্ণনা আছে দান্তে এই কবিতার মধ্য দিয়ে পাঠককে তার পুরোটা দেখিয়ে দেন। রূপকার্থে কবিতাটা মূলত ঈশ্বরের দিকে আত্মার যাত্রা পথের বিবরণ দেয়। তবে দান্তের বর্ণনা অনেক ব্যাপক, অকৃত্রিম আর অন্তর্ভেদী। কবিতায় বর্ণিত পরকালে দান্তে ইতিহাসের সব বিখ্যাত চরিত্রের দেখা পান এবং আরও দেখা পান তাঁর শহর ফ্লোরেন্সের অনেক বাসিন্দার। দান্তে তাঁর সময়কার ফ্লোরেন্সের স্থানীয় ভাষায় তাঁর কবিতা লেখেন যা বর্তমানে সমগ্র ইতালির সাহিত্যের ভাষা। বার্ট এর বর্ণনায় এক নম্বর প্রভাবশালী সাহিত্যিক শেক্সপিয়ার এর রচনাবলীর দৈর্ঘ মোটামুটি শরৎ রচনাবলীর দৈর্ঘের সমান। আর দান্তের ডিভাইন কমেডির তিন খন্ড আনুমানিক রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতার সমান।

০৩. হোমার

বার্ট এর তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন হোমার। হোমার এর জন্ম ১২০০ থেকে ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের যে কোনও সময়ে হতে পারে। হোমার সম্পর্কে দ্বিতীয় বড় যে কথাটা জানা যায় তা হলো তিনি অন্ধ ছিলেন। আর তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বড় যে কথাটা আমরা জানি তা হলো তিনি ইলিয়াড আর অডিসি মহাকাব্যের রচয়িতা। তবে এক জন কবিই মহাকাব্য দুটি রচনা করেছেন নাকি তা অনেক চারণের রচণার সামষ্টিক ফল, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এমনকি শেক্সপিয়ার নিয়েও এমন একটা বিতর্ক আছে, যদিও তা অনেক সীমিত পর্যায়ে।

‘তলস্তয়ের সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস হলো আনা কারেনিনা যা প্রেমের উপন্যাস, যা বেশি বিখ্যাত হয়েছে পরকিয়া প্রেম এর গল্প হয়ে। আনা কারেনিনা উপন্যাসের মধ্যে দুটি সমান্তরাল গল্প আছে। একটি আনা বা আন্নার অশান্ত প্রেম। আর একটি লেভিন নামক এক জমিদারের শান্তিপূর্ণ গ্রামীণ জীবন। লেভিনের কাহিনি তলস্তয়ের জীবনের চিত্র বলা যেতে পারে’

হোমারের জন্ম আধুনিক তুরস্কের পশ্চিম অংশে, এক সময় যা গ্রিসের অধীন ছিল। হোমারের জন্ম যখন হয়েছিল বলে ধারণা করা হয় তখনও তুরস্কের ওই অংশ, অ্যানাতোলিয়া, গ্রিসের অধীনে আসেনি। আমি ধারণা করি গ্রিকরা হোমার এর পদ্যকে তাঁদের ভাষায় রূপান্তরিত করে নেন, যেই ভাষা ক্লাসিক্যাল গ্রিক ভাষা হিসাবে পরিচিত। ইলিয়াড-এর কাহিনি হলো গ্রিকদের সাথে ট্রয় নামক রাষ্ট্রের দশ বছর ব্যাপী যুদ্ধ, যে যুদ্ধের নাম ত্রোজান যুদ্ধ, যে যুদ্ধে গ্রিকরা অনেক কষ্টে জয়ী হয়। আর অডিসি হলো ত্রোজান যুদ্ধ ফেরত বীর অডিসিয়াসের ঘরে ফেরার কাহিনি যে ভ্রমণ চলেছে দশ বছর ধরে। দুটো কাহিনিই পৌরাণিক যদিও এখন কেউ কেউ বিশ্বাস করেন ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব ছিল।

কোনও বিতর্কে না গিয়ে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায় তা হলো সাহিত্যে ইলিয়াড আর অডিসির প্রভাব। আড়াই হাজারেরও বেশি সময় ধরে এ দুটি মহাকাব্য বিশ্ব সাহিত্যকে প্রভাবিত করে এসেছে, এমনকি আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপরও তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সাহিত্যের উত্তরাধুনিক কালে, যার বয়স এখন ষাট কি সত্তর বছর, রচিত কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষামূলক নাটক, উপন্যাস, ছোট গল্প ছাড়া সমস্ত গদ্য সাহিত্যের গঠনে রয়েছে ইলিয়াড আর অডিসির আদল।

গ্রিক মিথোলজি বা গ্রিক পুরাণ যাঁদের হয়ে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে তাঁদের মধ্যে হোমার সবচেয়ে বিখ্যাত। বিখ্যাত সব গ্রিক দেব-দেবী যেমন জিউস, পসাইডন, আথিনা, আফ্রোদিতে, অ্যাডোনিস, সবাইকে আমরা হোমারের চোখে তথা ইলিয়ড ও অডিসির বর্ণনায় দেখি।

০৪. লিয়ো তলস্তয়

রাশিয়ার ঔপন্যাসিক ও ছোট-গল্পকার তলস্তয়ের জন্ম ১৮২৮ সালে আর মৃত্যু ১৯১০ সালে। ৮২ বছরের দীর্ঘ জীবন তাঁর এমন এক সময়ে যখন পৃথিবীতে মানুষের গড় আয়ু ছিল ২০ বছরের মতো। তলস্তয় ছিলেন জমিদার। তখনকার রাশিয়াতে জমিদার আর প্রজা এই দুই শ্রেণির মানুষ ছিলেন। আর স্বল্পসংখ্যক মানুষ, ৫% এরও কম, ছিলেন বিভিন্ন পেশাজীবী।

তলস্তয়ের সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস হলো আনা কারেনিনা যা প্রেমের উপন্যাস, যা বেশি বিখ্যাত হয়েছে পরকিয়া প্রেম এর গল্প হয়ে। আনা কারেনিনা উপন্যাসের মধ্যে দুটি সমান্তরাল গল্প আছে। একটি আনা বা আন্নার অশান্ত প্রেম। আর একটি লেভিন নামক এক জমিদারের শান্তিপূর্ণ গ্রামীণ জীবন। লেভিনের কাহিনি তলস্তয়ের জীবনের চিত্র বলা যেতে পারে।

তলস্তয়ের আর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ওয়ার এন্ড পিচ। যা নেপোলিয়ন এর রাশিয়া আক্রমণের কাহিনি। এই উপন্যাসটা এ যাবৎ প্রকাশিত বৃহৎ উপন্যাসগুলোর একটি। তবে বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে আর দুটো উপন্যাস আছে যাদের দৈর্ঘ ওয়ার এন্ড পিচ এর চেয়ে বড়। একটা হলো মার্চেল প্রাউস্ত এর ইন সার্চ অব লস্ট টাইম আর অন্যটা হলো স্যামুয়েল রিচার্ডসন এর ক্লারিসা। তবে শিল্প মূল্যের বিচারে ক্লারিসা উপন্যাসটা অন্য দুটোর ধারে কাছে নাই। বড় হলেও উপন্যাসটা বেশ সুখপাঠ্য। এর কারণ হলো তলস্তয়ের গল্প বলার প্রতিভা। প্রতি প্যারায় টেনশন আর নাটকীয়তার উপস্থিতি। আর তলস্তয়ের চরিত্র সৃষ্টির অনন্যসাধারণ ক্ষমতা।

তলস্তয়ের তৃতীয় বৃহৎ উপন্যাস হলো রিসারেকশন। এই তিনটি বাদ দিলে তলস্তয়ের অন্য লেখাগুলোর পরিধি ছোট। অনেকটা বড় গল্পের আকার। তলস্তয় অনেক ছোট গল্পও লিখেছেন। শেষ বয়সে এসে তলস্তয় পরিবার ছেড়ে দেন আর কিছু শিক্ষামূলক লেখা লেখেন যেগুলো তেমন মানসম্পন্ন লেখা নয়, অন্তত তলস্তয়ের অমর সৃষ্টিগুলোর তুলনায়। বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে পড়া তলস্তয়ের মৃত্যু হয় এক রেল স্টেশনে, রেল কর্মচারির বাড়িতে। আনা কারেনিনা আর ওয়ার এন্ড পিচ এর পর তলস্তয়ের যে লেখাটা আমার দৃষ্টিতে শিল্পমানে অসাধারণ তা হলো একটা বড় গল্প যার নাম দ্য ডেথ অব ইভান ইলিচ।

জমিদার হয়েও তলস্তয় সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন। তলস্তয়ের মৃত্যু হয় নোবেল প্রাইজ প্রচলনের দশ বছর পর। বার বার নামটা বিবেচনায় আসার পরও তলস্তয়কে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়নি। সাহিত্যে প্রথম নোবেল প্রাইজ পান ফ্রান্সের কবি সুলি প্রধোম। এই কবির কবিতা এখন আর পড়া হয় না।

নোবেল পুরস্কার বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এই পুরস্কার নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, সমালোচনা আছে। অনেক নিচু মানের সাহিত্যিককে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়েছে আবার অনেক বড় সাহিত্যিক তা পাননি। তলস্তয়কে নোবেল প্রাইজ দিয়ে সুইডিশ অ্যাকাডেমি নিজেদের সম্মানিত করে রাখতে পারত। তলস্তয়ের লেখা সারা পৃথিবীতে পড়া হয় এবং তাঁর জনপ্রিয়তায় কখনও ভাটা পড়েনি।

০৫. জেফ্রি চ’চার

ইংরেজ কবি জেফ্রি চ’চার এর জন্ম ১৩৪২ কি ৪৩ সালে আর মৃত্যু ১৪০০ সালে। তাঁর লেখা দি ক্যান্টারবেরি টেলস এর চব্বিশটা গল্প বার্টের বিবেচনায় চ’চারকে সর্বকালের সেরা সাহিত্যিকদের মধ্যে পঞ্চম স্থান প্রদান করেছে।

চ’চার সর্বপ্রথম সাহিত্যে ইংরেজি ভাষাকে জনপ্রিয় করেন। তখন পর্যন্ত খোদ বিলাতেও লাতিন, ইতালীয় আর ফরাসি ভাষায় সাহিত্য চর্চা হতো। চ’চারের পিতা ও পিতামহ ইংল্যান্ডের রাজ পরিবারে মদ সরবরাহ করতেন আর সেই সুবাদে চ’চার প্রথমে রাজ পরিবারের ভৃত্য এবং পরে রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ডের ব্যক্তিগত পাচক ও খানসামা হিসাবে কাজ করেন। ক্রমে তিনি সরকারি কর্মচারি হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে ফ্রান্স ও ইতালিতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে শুল্কবিভাগের উচ্চ পদে বসেন। তৃতীয় এডওয়ার্ডের পর রাজা হন দ্বিতীয় রিচার্ড আর চ’চারও চাকরি হারান। ফলে তাঁর হাতে সময় আসে ক্যান্টারবেরি টেলস লেখার।

দি ক্যান্টারবেরি টেলস এর গ্রন্থ পরিকল্পনা: লন্ডন থেকে ৫৪ মাইল দূরে ক্যান্টারবেরির গির্জার উদ্দেশে বের হওয়া ৩০ জন তীর্থযাত্রী পথে ট্যাবার্ড ইন নামক এক সরাইখানায় জড়ো হয়ে গল্প বলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আসা ও যাওয়ার পথে প্রত্যেক তীর্থযাত্রীর মুখ থেকে ৪ টা করে মোট ১২০ টা গল্প তৈরির পরিকল্পনা ছিল চ’চারের। তবে তিনি মাত্র চব্বিশটা গল্প শেষ করেন। আর তাতেই তিনি মধ্যযুগের ইউরোপের জীবনের এক বৃহৎ চিত্র উপস্থাপন করেন যেখানে ধনীর গল্প, গরিবের গল্প, অনুমোদনবিহীন প্রেমের গল্প, ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের গল্প সব বলা হয়ে গেছে।

দি ক্যান্টারবেরি টেলস চ’চারের লেখা ভাষায় পড়া আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। দি ক্যান্টারবেরি টেলস এর গল্পগুলোকে অনেকে আধুনিক ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। পেঙ্গুইন কর্তৃক প্রকাশিত নেভিল কগিল এর অনুবাদটা সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছে। চ’চার দি ক্যান্টারবেরি টেলস ছাড়াও আরও দশ কি এগারোটা কাব্য রচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্যে মধ্যযুগের ইউরোপের যে নিখুঁত চিত্র পাওয়া যায় তার তুলনা নাই।

কালেকশন ফ্রম পুঁথিতীর্থ

23/09/2024

   #রাগ সংবরণ
23/09/2024


#রাগ সংবরণ

রাগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছোট একটি শিক্ষণীয় গল্প।

ছোট একটি ছেলে খুব রাগী।

বাবা কিছুতেই ছেলের #রাগ নিয়ান্ত্রণে আনতে পারছেন না।

একদিন বাবা ছেলেকে স্নেহের পরশে কাছে ডাকলেন।

একটি পেরেকভর্তি ব্যাগ দিয়ে বললেন,যতবার তুমি রেগে যাবে, ততবার একটি করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে। এটি তোমার প্রতি আমার আদেশ।

প্রথম দিনেই ছেলেটিকে ৩৭টি পেরেক মারতে হয়েছে।

কারণ, সে এদিন ৩৭বার রেগে গিয়েছিল। ক্রমশ সে উপলব্ধি করছিল, তার রাগ অনেক বেশি-৩৭বার পেরেক মারতে হয়েছে।

আরও ভাবল, কষ্ট করে পেরেক মারার চেয়ে রাগ কমিয়ে দেওয়া সহজ।

ছেলেটি পেরেক মারার কষ্ট লাঘব করতে করতে রাগ নিয়ন্ত্রণে আনা শিখে গেল। ধীরে ধীরে পেরেনক মারা কমতে থাকল এবং অবশেষে একদিন তাকে আর একটি পেরেকও মারতে হলোনা।

বাবা বুঝলেন, তার প্রিয় সন্তান রাগ নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

এবার তিনি তাকে প্রতিদিন বাগানের বেড়ার একটি করে পেরেক তুলে ফেলতে বলতেন। বাবার আদেশ পালন করল ছেলেটি।

পেরেক তুলা শেষ হয়ে গেলে তার বাবা তাকে বাগানে নিয়ে গিয়ে কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললেন- দেখ, কাঠে পেরেকের গর্তগুলো এখনো রয়ে গেছে। কাঠের বেড়াটি কখনো আগের অবস্থায় আনা যাবেনা।

যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো,তখন তার মনে ঠিক এমন একটা আঁচড় লেগে যায়-যা কখনোই আর মুছে যায়না বেটা।

তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখো।

মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের চেয়েও ভয়ংকর! 🙂

  বিড়ম্বনার আরেক নাম ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার। এই মিটার ব্যবহার করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই বিরক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অত্যন্ত বাজ...
07/09/2024



বিড়ম্বনার আরেক নাম ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার। এই মিটার ব্যবহার করতে গিয়ে ইতিমধ্যেই বিরক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
অত্যন্ত বাজে অভিজ্ঞতা।
১. ধরুন আপনি ৫/৭দিনের জন্য বাড়ির বাইরে আছেন এখন টাকা শেষ হয়ে গেলো। তো আপনার ঘরের ফ্রিজে থাকা সকল দ্রুব্য পচে যাবে।
২. ধরুন এমন সময়ে আপনার টাকা শেষ হয়ে গেলো তখন আপনার হাতে টাকা নেই। হয়তো দুই/তিন দিন পরে আপনার টাকা হবে। তাহলে এই দুই/তিন দিন কিভাবে চলবে? হয় আপনাকে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে, নতুবা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে কারো কাছে টাকা ধার করতে হবে। এতে আপনার পারসোনালিটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩. ধরুন আপনার মিটারে মধ্যরাতে টাকা শেষ হয়ে গেলো তখন আপনার বিকাশে/নগদে টাকা নেই। বাকি রাতে আপনি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। গরমে ঘুম হলো না। পরেরদিন আপনার ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল কাজের ব্যাঘাত ঘটবে।
অন্ধকার রুমে আপনি বাথরুম খুজে পাওয়া, দরজা খুজে পাওয়া কষ্টকর হবে। এমনকি কোথাও ধাক্কা খেয়ে আহতও হতে পারেন।
৪. ধরুন আপনার বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন। তাদের বিকাশে বা দোকানে টাকা রিচার্জ করার অভিজ্ঞতা নেই বা সুযোগ কম। তাহলে তাদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
৫. রিচার্জ করার সাথে সাথে একটা বিরাট অংশ সার্ভিস চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া কেটে নেয়। এতো টাকা কেনো একজন গ্রাহককে দিতে হবে? এটা অন্যায্য। অন্যায়। জুলুম।
একটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের প্রধান ম্যানেজমেন্ট এভাবে নিরীহ মানুষের উপরে জুলুম করতে পারে না।
তাদের সেই অধিকার নেই। এমন অন্যায্য একটা বিষয় আইনগত ভাবে অধিকার থাকাও অনুচিত।
এটা অন্যায়।
এটা জুলুম।

সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখর। স্নাতক শেষ করেছেন মাত্র ১৯ বছর বয়সেই।তিনি সত্যিকারের প্রডিজি। তার চাচা সি.ভি. রমন ছিলেন তখনকার...
07/09/2024

সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখর।
স্নাতক শেষ করেছেন মাত্র ১৯ বছর বয়সেই।
তিনি সত্যিকারের প্রডিজি। তার চাচা সি.ভি. রমন ছিলেন তখনকার সময়ে ভারতবর্ষের প্রথম নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী।

১৯৩০ সালে চন্দ্রশেখর জাহাজে করে ইংল্যান্ডে যাচ্ছিলেন, কেমব্রিজে পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে।
জাহাজে বসেই কাগজ-পেন্সিল নিয়ে হিসেব করতে গিয়ে বের করলেন, কোনো নক্ষত্রের ভর যদি সূর্যের থেকে দেড়গুন বেশি হয়, তাহলে তার সব জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে মহাকর্ষ বলের কারণে পরমানুগুলো পর্যন্ত ভেঙ্গেচুরে নক্ষত্রটি ছোট একটি বিন্দুর মত হয়ে যায়। যে বিন্দুর ঘনত্ব হয় অসীম!
তার এত বড় এই আবিষ্কারের পরেও কেমব্রিজে গিয়ে তিনি দেখলেন সেখানকার কারো এটা নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই!

১৯৩৩ সালে তিনি পিএইচডি শেষ করলেন। তখন তাকে কেমব্রিজে ফেলোশিপ দেয়া হলো।
স্যার আর্থার স্টেনলি এডিংটন মাঝে মাঝেই চন্দ্রশেখরের গবেষণার খোঁজখবর নিতেন।
এডিংটন ছিলেন তখনকার সময়ের এক নামকরা প্রবীন পদার্থবিজ্ঞানী।

আইনস্টাইন তার জেনারেল থিওরী অব রিলেটিভিটিতে বলেছিলেন কোনো স্থানে বা জায়গায় (space) যদি একটা ভর থাকে, তাহলে সেই ভর সেই জায়গাটাকে বাঁকিয়ে ফেলতে পারে! তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন, সূর্যের ম্যাসিভ ভরের কারণে তার পাশের জায়গাটুকু বাঁকা হয়ে যাবে। তাই অন্য একটি নক্ষত্রের আলো সেখান দিয়ে সোজাসুজি আসতে পারবে না। আলোটা বাঁকা হয়ে আসবে।

১৯১৯ সালে একটা পূর্ণ সূর্য গ্রহনের সময় এডিংটন রীতিমতো অ্যাডভেঞ্চার করে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে গিয়ে সূর্যের আলোকচিত্র নিয়ে দেখালেন আইনস্টাইনের ভবিষ্যদ্বাণী আসলেই সত্যি!

সেই বিখ্যাত বিজ্ঞানী এডিংটন চন্দ্রশেখরের গবেষণার কাজে আগ্রহ দেখাতেন। তিনি চন্দ্রশেখরকে তার গবেষণার ফলাফল লন্ডনের রয়েল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটিতে সবার সামনে ব্যাখ্যা করতে বললেন।

১৯৩৫ সালের ১১ই জানুয়ারি মাত্র ২৫ বছর বয়সী চন্দ্রশেখর রয়েল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির সভায় তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করলেন পৃথিবীর সব বড় বড় বিজ্ঞানীদের সামনে।
তিনি বললেন, কোনো নক্ষত্রের ভর যদি একটি নির্দিষ্ট ভর থেকে বেশি হয়, তখন তার সব জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে মহাকর্ষ বলের প্রবল আকর্ষণে পুরো ভরটুকু অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে পরিণত হয়!

(তখনও কেউ ব্ল্যাক হোলের নাম জানতোনা, অথচ এটিই ছিলো একটি ব্ল্যাকহোলের জন্মের মূল রহস্য)

চন্দ্রশেখর তার বক্তব্য শেষ করে নিজের জায়গায় বসবেন ঠিক এমন সময়েই এডিংটন উঠে স্টেজে গেলেন কথা বলতে।
চন্দ্রশেখর ধরেই নিলেন এডিংটন তার বক্তব্যকে সমর্থন করে কথা বলবেন।
কিন্তু এডিংটন হিংস্র ভাষায় বললেন, "এটি কেমন করে হতে পারে বিশাল একটি নক্ষত্র বাস্তব জগত থেকে অদৃশ্য হয়ে একটি বিন্দুতে মিলিয়ে যাবে?
কেমন করে একজন বিজ্ঞানী এরকম অবাস্তব হাস্যকর কথা বলতে পারে?"
এডিংটন বললেন চন্দ্রশেখরের পুরো গবেষণা একটি গাণিতিক ভেলকিবাজি ছাড়া কিছুই নয়!
এডিংটনের মত এমন বড় বিজ্ঞানীর মুখে এসব কথা শুনে বাকি সবাই চুপ হয়ে গেলেন, কেউ চন্দ্রশেখরের পক্ষে কথা বলারও সাহস পাননি!

এ ঘটনার পর চন্দ্রশেখর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। বন্ধ করে দেন নিজের গবেষণা। কেমব্রিজের ফেলোশিপ ছেড়ে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে বাকি জীবন কাটিয়ে দিলেন।

এরপরের কয়েক দশকে বিজ্ঞানীরা যখন মহাজাগতিক বস্তু নিয়ে জোরেসোরে গবেষণা চালাতে লাগলেন, তখন দেখলেন চন্দ্রশেখরের গবেষণার ওই মূল কথাটি ছিলো বাস্তব। মহাবিশ্বে এটি ঘটে। এর নামই হলো ব্ল্যাক হোল!

যে কাজের জন্য এডিংটন সেদিন চন্দ্রশেখরকে রয়েল সোসাইটির সবার সামনে অপমান করেছিলেন, সেই গবেষণা কাজের জন্যই ১৯৮৩ সালে চন্দ্রশেখরকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়।

(চন্দ্রশেখরের সাথে এডিংটনের মতবিরোধ দুএকটা জার্নালে অস্পষ্টভাবে দেখেছিলাম, এই ঘটনাটি জাফর ইকবাল স্যার উনার এই বছরের বইমেলায় প্রকাশিত "রহস্যময় ব্ল্যাকহোল" বইটিতে খুব সুন্দরভাবে লিখেছেন।)

Address

Village: Nabinagar 2 No Word. Matiranga
Matiranga
4450

Telephone

+8801815168825

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Matiranga Students Helpline- MASH posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Matiranga Students Helpline- MASH:

Shortcuts

Share