29/05/2012
Don't miss •ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থা•
আমি শঙ্কিত! আমি ধিকৃত!! কেন আজ তাজা রক্তে লাল হচ্ছে বাংলার মাটি?
হায়রে আমার দেশ! কোথায় আমাদের স্বাধীনতা? বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই বের হয়না যখন সাংবাদিকদেরকেইস ংবাদ হতে দেখি।।
কেন যেন বিডিনিউজ২৪ কে আমার খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে হয় না, একারণে খুব একটা ওয়াচ-ও করি না। তারপরও ফেসবুকে বন্ধুদের শেয়ার করা লিঙ্ক ধরে প্রায়শই ঢুকে পড়ি ওদের সাইটে। একটা নিউজ মিডিয়ার সবচেয়ে বেশি যে জিনিষটা দরকার সেটা হলো সাধারন মানুষের সহানুভূতি, তাদের চোখে নির্ভীক হওয়া। এটা আজকে রাতে আমার মনে হয় একটা ওখানকার কর্মীরা ভালোই অনুভব করবেন।
আমতলী অফিসের নিচতলায় একটু আগে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে বিডিনিউজের মোটমাট আটজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। ইউটিউব মারফত ওদের রক্তে ভেসে যাওয়া অফিসের মেঝেটা দেখলাম, মনে পড়ে গেলো সাগর-রুনী হত্যাকান্ডের কথা। সারাদেশে এত তোলপাড় হলো এই হত্যা নিয়ে, তারপর এতোগুলো দিন চলে গেছে, তদন্তের বিন্দুমাত্র অগ্রগতি নাই।
কারা এই হামলা করলো? কেন করলো? হামলার পর বিডিনিউজের সংবাদ পরিবেশন কি পালটে যাবে? না এরকম-ইথাকবে? ধামাচাপা পড়ে যাবে এটা তো জানা কথা, তারপরও কোনও একদিন কি আমরা জানতে পারবো 'আসল কাহিনী'?
সরকার কি বিবৃতি দিবে? সাংবাদিক নেতাদের ভূমিকা কি হবে? সাগর রুনীর হত্যাকান্ডে তাদের যে দুর্বল অবস্থান তাতে এই তুলনামূলক 'ছোট' ইস্যুটা কি তারা আদৌ আমলে নিতে রাজী হবেন?
দেশের কোথাও কোন কিছু ঘটলেই যেই ওয়েবসাইটে সবার আগে ছুটে যাই, যেই মিডিয়াটাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি সেই বিডিনিউজ২৪ ডট কম-ই আজকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো আজরাত সাড়ে ৯টার দিকে।
দেশটা আর মানুষের নেই বোধহয়। এটা এখনপাগলা কুকুরের দেশ। হ্যা, কুকুর! কুকুর কি একটা গালি? অবশ্যই সেইসব"জানোয়ার" দের জন্যে এটা গালি না যারা এমন ঘৃণ্যকাজ করতে পারে।
সত্যকে গলা টিপে হত্যা করতে চায় যারা, তাদের দিকে একদলা থুথু নিক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তারা কখনোপারবেনা সত্যকে গলা টিপে হত্যা করতে। আমরা, ব্লগাররা তা হতে দেবোনা। একবার যখন রক্ত দেখেছি, রক্ত বারবার দেখতে প্রস্তুত আছি আমরা। সাংবাদিকদের উপরে আক্রমণ কোনমতেই মেনে নেয়া হবে না।
বিডিনিউজে আমার পরিচিত কেউ নেই। কিন্তু তারপরেও কেন যেন প্রচন্ড কষ্ট লাগছে খবরটা আর রক্তে ভেজা মেঝে দেখে। বারবার একটি দৃশ্যই ভেসে আসছে চোখের সামনে, যেটা ফেব্রুয়ারী মাসের ১১তারিখে দেখেছিলাম। যেই খবর শুনে সেই সকালে ঘুম ভেঙ্গেছিল। আতকে উঠেছিলাম এটা ভেবে যে আগের রাত্রে যেই মূহুর্তে ঘটনাটি ঘটেছিল সেই সময়েও সজাগ ছিলাম আমি! যেই খবর শুনে পরবর্তী একসপ্তাহ আতংকিতভাবে রাত কেটেছিল। আবারো কিছু নির্ঘুম রাতপাবো বলে মনে হচ্ছে এবার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলেছেন যে বেডরুমে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।এবার কি বলবেন আপনি? সাংবাদিকদেরকর্মস্থলে কি সরকার নিরাপত্তা দিতে পারলো?? র্যাব, পুলিশ; কি কাজের জন্যে? কোপাকুপির পরে গিয়ে ঘটনাস্থল পাহারা দেবার জন্যে?? সেই কাজতো আমার বাড়ির বৃদ্ধ কেয়ারটেকারও পারবে!!
বিডিনিউজের কোন বড়ভাই কি আছেন? থাকলে দয়া করে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান।
সব প্রশ্ন ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে সেটা হলো,
আর কতবার রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝের দৃশ্য দেখতে হবে আমাদের?
এরকম আর কতগুলো অপরাধ সংঘঠিত হলে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্ রী কবুল করবেন যে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে চলেগেছে??
সরকার কি আন্তরিকভাবে এগিয়েআসবে যেন এই ধরণের হামলা বন্ধ হয়??
যদি তারা এগিয়ে না আসে, তাহলে তো অপরাধীরা উস্কানী পেয়ে যাবে, আর এধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
বিরুদ্ধ পক্ষের দ্বারা এভাবেই আক্রান্ত হবে অন্য কোনও নিউজ মিডিয়া, চ্যানেল অথবা পত্রিকা..
সেটাই যদি হয়, সাংবাদিকদের উপর এমন হামলা যদি অব্যাহত থাকে...
তাহলে..
এর পরের টার্গেট কে?
প্রতিরোধ-প্রতিব াদ গড়ে তুলুন নয়তো একদিন আমি আর আপনিই হবো এই নরপশুদের বলি।