16/03/2026
স্বৈরাচারের দীর্ঘ ১৬ বছরে যখনই ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলেছি, রাস্তায় নেমেছি, অবস্থান ও অনশন করেছি। ততবারই শিক্ষকদেরকে বিএনপি-জামাত ট্যাগ দিয়ে হয়রানি, অপমান ও অপদস্ত করা হয়েছিল। নাম সর্বস্ব অশিক্ষক/অবসর রাজনৈতিক পদবীধারী কিছু লোক নিয়ে গঠিত দালাল ও স্বার্থান্বেষী তথাকথিত শিক্ষক সংগঠন স্বাশিপ নেতা সাজু গং এসব অপকর্মের নেপথ্যে ছিলেন। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ, দীপু মনি ও নওফেল এদের সকলকে মিসগাইড করে শিক্ষামন্ত্রীদের কাছেই ঘেঁসতে দেয়নি শিক্ষকদের। শিক্ষকদের মনের কথা, হৃদয়ে রক্তক্ষণ, বুকফাটা কান্নাগুলো এই দূর্ভেদ্য দেয়াল ভেদ করে শিক্ষামন্ত্রীর কানে পৌঁছতোনা। সকল নীতিমালা, আইনকানুন সকাল- বিকাল পরিবর্তিত হতো এ চক্রের চাহিদা ও পরামর্শক্রমে। শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও প্রকৃত স্টেকহোল্ডারদের উপেক্ষা করেই একের পর এক কালাকানুন রচিত হতে থাকলো।
অবসর কল্যাণের নামে লুটপাট করা হলো শিক্ষকের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের আট হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোর নামে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট হলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো তাদের জমিদারি, শিক্ষকরা হলেন নীলচাষী। প্রতিষ্ঠানের আয় ও শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হাজার হাজার কোটি টাকা শিক্ষক - শিক্ষার্থী তথা শিক্ষার কল্যাণে ব্যায় হওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগই লুট করেছে এই রাজনৈতিক চক্রটি। ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষের বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগ হয়। পরিশেষে সরকারের কিছুটা বোধোদয় হয়। ফলে ২০১৬ থেকে সহকারী শিক্ষক এনটিআরসিএর মাধ্যমে শুরু হয়। কিন্তু দূর্ণীতির মুল চেয়ার প্রশাসনিক পদগুলো কিমিটির হাতেই রয়ে যায়।
অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষায় কাঙ্খিত সংস্কার না হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছে ইন্টেরিম। তার মধ্যে কমিটির সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা মিনিমাম স্নাতক এবং ৯ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা। দ্বিতীয়ত প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেওয়া। সে অনুযায়ী নীতিমালাও হলো। বিদ্যমান অভিজ্ঞতাও বাড়িয়ে সহ-প্রধান ১০ বছর, প্রধান পদের জন্য সহ-প্রধান পদে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ সর্বমোট ১৫ বছর অথবা সহকারী শিক্ষক পদে সর্বমোট ১৭ বছরের এমপিও অভিজ্ঞতা । এই নীতিমালা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি হলো। ৮৬,৪৪৫ জন শিক্ষক আবেদন করলেন। পরীক্ষার তারিখও নির্ধারিত হলো ১৮ এপ্রিল-২৬।
একবুক স্বপ্ন নিয়ে মেধাবী শিক্ষকরা পড়াশোনা শুরু করলেন, কোচিং-এ ভর্তি হলেন, বই খাতা কিনলেন। ভাবলেন এই মেধার লড়াইয়ে হেরে গেলেও জিতে যাবে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, জিতে যাবে বাংলাদেশ।
কিন্তু সে স্বপ্ন খুব অল্পদিনেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। যখন মাননীয় মন্ত্রী স্বৈরাচার যুগের মন্ত্রীদের মতোই একটি অশিক্ষক/ অবসরপ্রাপ্ত নিজ দলীয় নেতাদের সংগঠনের সাথে বৈঠক করলেন। তারা এনটিআরসিএকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন। গত ১৮ বছর নিয়োগপ্রাপ্তদের লীগ ও জামাত হিসেবে উপস্থাপন করলেন। আগের মতোই কমিটিতে নিজ দলীয় মুর্খ নেতাদের বসানোর দাবি করলেন। এমনকি নিয়োগটাও কমিটির মাধ্যমে দেয়ার জোর প্রস্তাব করলেন। সেদিনই মন্ত্রী মশাইয়ের ঐ লং জাম্পটি ব্যাকফায়ার করে ১৮ বছর পিছিয়ে গেলো। যা কল্পনাও করিনি।
শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও প্রকৃত স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা ছাড়াই বিগত সময়ের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে কোনরুপ গবেষণা না করে বাস্তবতা বিবর্জিত ও সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে বিদ্যমান নীতিমালা রাতারাতি পরিবর্তন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে ৮৬,৪৪৫ জন শিক্ষকের বুকে ছুরিকাঘাত করলেন। যা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও বেআইনি। কার স্বার্থে এমনটি করলেন? কোন শিক্ষক কি দাবি করেছিল এ নিয়োগটা এভাবে বন্ধ করতে?? এর মাধ্যমে গত ১৮ বছরে নিয়োগ পাওয়া প্রথম ও মধ্যমসারির প্রায় ৭৫% শিক্ষককে সরকারের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে দিলেন? যা সরকারের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে কি?
আধুনিক, যুগোপযোগী ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ও সরকারের মৌলিক নীতিগুলো বাস্তবায়নে যারা অগ্রনী ভুমিকা রাখেন তাদেরকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে শিক্ষাকে এক লাফে ১৮ বছর পিছিয়ে দিলেন নাতো? অধ্যক্ষ থেকে সহ-প্রধান অর্থাৎ ৪র্থ-৮ম সবগুলো গ্রেডেই একই অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, হাস্যকর, বাস্তবতা বিবর্জিত ও বিধি বহির্ভুত নয় কি?
অন্তত চলতি নিয়োগ সম্পাদন পরবর্তী এমন সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টা হয়তো এত বিতর্কিত হতোনা অথবা সহকারী প্রধান পদে ১০ বছর অভিজ্ঞতা বহাল থাকলে মধ্যবয়সী এনার্জেটিক তরুণ শিক্ষকরা নেতৃত্বের গুনাবলি অর্জনের ও অনুশীলনের চমৎকার সুযোগ পেতো এবং এর মাধ্যমে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সত্যিকারের নেতৃত্ব, যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত হতো। প্রধান ও সহ- প্রধান পদে একই অভিজ্ঞতা চাওয়ায় সবাই প্রধান পদেই আবেদন করবে। কেউ সহ- প্রধান হতে চাইবেনা। কারণ ১৮ বছর অভিজ্ঞরা ইতোমধ্যেই ৮ম গ্রেডে আছেন। সহ- প্রধানও ৮ম গ্রেড। ফলে এ পদে এক টাকাও আর্থিক সুবিধা বাড়বেনা, গ্রেডও পরিবর্তন হবেনা। এমনকি এ পদের ক্ষমতাও খুব সীমিত। এমতাবস্থায় যতটা শুন্যপদ ততটা আবেদনই হয়তো পড়বেনা। পড়লেও ততজন পাশ করবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ফলে পদগুলোর বেশিরভাগ শুন্যই থেকে যাবে - সহজেই অনুমান করা যায়।
মাননীয় মন্ত্রী কেন এসব বিবেচনা না করে এত তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ প্রত্যাশীদের এভাবে বঞ্চিত করলেন? কেন সকল পদেই ১৮ বছর শর্ত দিলেন। সবকিছুর মুলেই কি ঐ চক্র? সবই কি সঙ্গদোষ? মন্ত্রী মহোদয় কি ভুলে গেলেন? " সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ"।
আফসোস! আমরা কতটা বোকা!
কার থেকে কী আশা করলাম?
এতো দেখি- মুরুব্বীদের কথাই সত্যি হলো -
"যায় দিন ভালা, আসে দিন খারাপ।"
পরিবর্তন কি আদৌ হবেনা?
নাকি সারাজীবন এমন সাজু- সেলিমের সিন্ডিকেটে বন্দী থাকবে শিক্ষা, বঞ্চিত হবে প্রজন্ম, মেরুদন্ডহীন হয়ে থাকবে জাতি, ধ্বংস হয়ে যাবে বাংলাদেশ??
15/03/2026
18/10/2025
18/10/2025
18/10/2025