Ruhama

Ruhama

Share

সত্যের পথসন্ধানে

09/04/2026
09/04/2026
09/04/2026
09/04/2026
06/03/2025

ুসলিম কেন ইসলামী সংগঠন করা প্রয়োজন:

একজন মুসলিমের ইসলামী সংগঠন করা প্রয়োজন মূলত ইসলাম প্রচার, সামাজিক সংস্কার, নৈতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। কিছু মূল কারণ তুলে ধরা হলো—

১. দ্বীনের দাওয়াত ও প্রচার

ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ সমাজে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এককভাবে কাজ করার তুলনায় সংগঠনের মাধ্যমে দাওয়াত কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়।

২. সমাজ সংস্কার ও নৈতিক উন্নয়ন

ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি, অপসংস্কৃতি দূর করে ন্যায়বিচার, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়।

৩. মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি

বিভিন্ন মতপার্থক্য ও বিভাজন দূর করে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের জন্য সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪. অসহায় ও দুঃস্থদের সাহায্য

সামাজিক ও মানবিক কাজ, যেমন—দুস্থদের সাহায্য, বঞ্চিতদের শিক্ষা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করতে সংগঠনের প্রয়োজন হয়।

৫. ইসলামবিরোধী কার্যক্রমের মোকাবিলা

ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র হয়, তা প্রতিরোধ করতে সংগঠিত প্রচেষ্টা দরকার। ইসলামী সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে।

৬. শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন

ইসলামী জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং ইসলাম-সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংগঠন সহায়ক হতে পারে।

৭. রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সংরক্ষণ

মুসলিমদের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাংগঠনিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

৮. তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা

বর্তমান সময়ে তরুণরা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর আদর্শের শিকার হচ্ছে। ইসলামী সংগঠন তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

সংক্ষেপে, ইসলামী সংগঠন শুধু ধর্মীয় কাজের জন্যই নয়, বরং একটি কল্যাণকর সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। তবে, সংগঠন পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো— ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সত্যবাদিতা ও ঐক্য— সবসময় বজায় রাখা উচিত।

#ইসলামী_দল_বা_সংগঠন করা ফরজ— কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিশ্লেষণ:

ইসলামী সংগঠন করা কুরআন ও হাদীসের আলোকে ফরজ। ইসলামী সমাজ গঠনের জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। কুরআন ও হাদীসের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

১. কুরআনের আলোকে

(ক) ইসলামের পথে আহ্বান ও সংগঠিত প্রচেষ্টার নির্দেশ।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। তারাই সফলকাম।"
(সুরা আলে ইমরান: ১০৪)

🔹 এই আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ইসলামী সংগঠন থাকা আবশ্যক, যারা সমাজে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ করবে।

(খ) মুসলমানদের একতাবদ্ধ থাকার নির্দেশ:
আল্লাহ বলেন,
"তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।"
(সুরা আলে ইমরান: ১০৩)

🔹 এই আয়াত নির্দেশ করছে যে, মুসলমানদের একত্রিত হয়ে সুসংগঠিত থাকতে হবে, যা ইসলামী সংগঠনের মূল লক্ষ্য।

(গ) সত্য ও ধৈর্যের সাথে সংগঠিত থাকার নির্দেশ

"তারা পরস্পরকে সত্যের শিক্ষা দেয় এবং ধৈর্যের উপদেশ দেয়।" (সুরা আসর: ৩)

🔹 এখানে বোঝানো হয়েছে, ইসলামের আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সত্য প্রচার করতে হবে।

২. হাদীসের আলোকে

(ক) জামাতবদ্ধ থাকার নির্দেশ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি এক বিঘৎ পরিমাণও জামাআত (সংগঠন) থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেল।" (আবু দাউদ, হাদীস: ৪৭৫৮)

🔹 এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, ইসলামী সংগঠনের বাইরে থাকা ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার শামিল।

(খ) মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব
রাসূল (ﷺ) বলেছেন—
"তোমাদের জামাআত (সংগঠন) শক্তিশালী, আর বিভক্তি দুর্বলতা। যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, সে যেন নরকের দিকে ধাবিত হলো।" (তিরমিজি, হাদীস: ২১৬৫)

🔹 ইসলামী সংগঠন একতা ও শক্তির প্রতীক। এটি ছেড়ে দিলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

(গ) আমির বা নেতৃত্ব মান্য করার নির্দেশ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি কোনো আমির বা নেতৃত্ব ছাড়া জীবন অতিবাহিত করল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু মরল।" (মুসলিম, হাদীস: ১৮৫১)

🔹 এখানে বোঝানো হয়েছে, নেতৃত্বহীনভাবে চলা ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী। ইসলামী সংগঠন গঠনের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামের নির্দেশ।

উপরের কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্পষ্ট হয়—

✅ ইসলামী সংগঠন গঠন করা ফরজ
✅ সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার জরুরি
✅ উম্মাহর ঐক্য ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠন অপরিহার্য
✅ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত দল ছাড়া সম্ভব নয়

সুতরাং, ইসলামী সংগঠন করা শুধু একটি ভালো কাজই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি দায়িত্ব, যা ইসলামের সঠিক অনুসরণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

* ইসলামী দল বা সংগঠন না করার পরিণাম:

ইসলামী দল বা সংগঠন গঠন না করার ফলে সমাজে ও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক পরিণতি দেখা দিতে পারে। কুরআন ও হাদীসের আলোকে এ পরিণতিগুলো বিশ্লেষণ করা হলো—

১. মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি ও দুর্বলতা

কুরআনের সতর্কবাণী
আল্লাহ বলেন:
"তোমরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে।"
(সুরা আল-আনফাল: ৪৬)

🔹 ইসলামী দল না থাকলে মুসলমানরা বিভক্ত হয়ে পড়বে, যার ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা সৃষ্টি হবে এবং ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

২. সত্য প্রচার ও ন্যায়বিচার বিলুপ্ত হওয়া

কুরআনের সতর্কবাণী:
আল্লাহ বলেন,
"যদি মানুষ একে অপরকে সৎ কাজের আদেশ না দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ না করে, তবে শিগগিরই তাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি আসবে।"
(সুরা তাওবা: ৭১)

🔹 ইসলামী দল না থাকলে সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পাবে, কারণ সংগঠিতভাবে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজ কেউ করবে না।

৩. ইসলামবিরোধী শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি

হাদীসের সতর্কবাণী

রাসূল (ﷺ) বলেছেন—
"যখন আমার উম্মাহর লোকেরা জালিমকে জালিম বলবে না এবং অন্যায় দেখেও তা প্রতিহত করবে না, তখন আল্লাহ তাদের সবার ওপর শাস্তি পাঠাবেন।" (তিরমিজি, হাদীস: ২১৬৮)

🔹 ইসলামী সংগঠন না থাকলে ইসলামবিরোধী শক্তির অপপ্রচার বাড়বে, সমাজে অন্যায় ও শোষণ প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং মুসলিম উম্মাহ দুর্বল হয়ে পড়বে।

৪. নেতৃত্বহীনতা ও অরাজকতা সৃষ্টি হওয়া

হাদীসের সতর্কবাণী

রাসূল (ﷺ) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি কোনো আমির (নেতা) ছাড়া জীবন অতিবাহিত করল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু মরল।" (মুসলিম, হাদীস: ১৮৫১)

🔹 ইসলামী দল বা সংগঠন না থাকলে মুসলমানদের কোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থাকবে না, ফলে তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়বে।

৫. মুসলিমদের অধিকার হারিয়ে ফেলা

🔹 ইসলামী সংগঠন না থাকলে মুসলমানদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা একত্রিত হয়ে তাদের অধিকার রক্ষা করতে পারবে না, ফলে ইসলামের বিধান বাস্তবায়নের পথ সংকুচিত হয়ে যাবে।

৬. ইসলাম প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে বিমুখ হওয়া

🔹 ইসলামী দল বা সংগঠন না থাকলে মুসলিমরা তাদের মূল দায়িত্ব (ইসলাম প্রচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা) থেকে দূরে সরে যাবে, যা আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কুরআনের হুঁশিয়ারি

"যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করে না, তারা সত্যিকার অর্থে কাফির।" (সুরা মায়েদা: ৪৪)

✅ ইসলামী দল বা সংগঠন না করলে মুসলিম উম্মাহ দুর্বল হয়ে পড়বে।
✅ সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাবে।
✅ ইসলামবিরোধী শক্তি সমাজে প্রভাব বিস্তার করবে।
✅ নেতৃত্বহীনতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।
✅ আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

সুতরাং, ইসলামী সংগঠন গঠন ও পরিচালনা করা কেবল একটি ভালো কাজ নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব ও কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।

ইসলামে ঐক্যবদ্ধ থাকার সুফল

ইসলাম মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ঐক্যের মাধ্যমে মুসলমানরা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারে। কুরআন ও হাদীসের আলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুফল নিচে তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভ

কুরআনের বাণী

"তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।"
(সুরা আলে ইমরান: ১০৩)

🔹 মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহর সাহায্য তাদের সাথে থাকবে, ফলে তারা সমস্ত চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার মোকাবিলা করতে পারবে।

২. মুসলিম উম্মাহ শক্তিশালী হয়

রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
"মুমিনরা একে অপরের সাথে একটি শক্ত প্রাচীরের মতো, যেখানে এক অংশ অপর অংশকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে।" (বুখারি, হাদীস: ২৪৪৬)

🔹 ঐক্যবদ্ধ মুসলমানরা একটি শক্তিশালী সমাজ গঠন করতে পারে, যেখানে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ হয়।

৩. শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়

🔹 মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হিংসা, বিদ্বেষ কমে যাবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, যা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।

কুরআন বলে:
"আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন। তুমি যদি দুনিয়ার সব সম্পদ ব্যয় করতে, তবুও তুমি তাদের হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহই তাদের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করেছেন।" (সুরা আনফাল: ৬৩)

৪. ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা সহজ হয়

🔹 ঐক্যের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়। ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে দাওয়াত, শিক্ষা ও সংস্কারমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
"তোমরা জামাআতের (সংগঠিত মুসলিমদের) সাথে থাকো, কারণ জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি শয়তানের খাবার।" (আবু দাউদ, হাদীস: ৪৭৫৮)

৫. মুসলমানদের অধিকার রক্ষা হয়

🔹 ঐক্যবদ্ধ মুসলমানরা তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে পারে। বিভক্ত মুসলমানরা তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলে এবং শত্রুরা সহজেই তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।

কুরআন বলে:
"তোমরা একে অপরকে সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।" (সুরা আলে ইমরান: ১১০)

৬. দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ

🔹 ঐক্যবদ্ধ মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে থাকবে, সে নিরাপদ থাকবে, আর যে বিচ্ছিন্ন হবে, সে ধ্বংস হবে।" (তিরমিজি, হাদীস: ২১৬৫)

✅ ঐক্যবদ্ধ মুসলমানরা শক্তিশালী হয় ও আল্লাহর রহমত লাভ করে।
✅ শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
✅ ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও প্রচার সহজ হয়।
✅ মুসলমানদের অধিকার সংরক্ষিত হয়।
✅ আখিরাতে জান্নাত লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।

সুতরাং, ইসলামে ঐক্যবদ্ধ থাকা শুধু একটি ভালো গুণ নয়, বরং এটি মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি নির্দেশ, যা তাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

05/03/2025

#আমল (কর্ম) ও #আখলাক (চরিত্র) সুন্দর করার জন্য কুরআন ও হাদিসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিছু কুরআনের আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করা হলো:

কুরআন থেকে

1. ভালো কথা বলা ও উত্তম আচরণ
اللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও আত্মগর্বিত ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।"
— (সুরা লুকমান: ১৮)

2. ধৈর্য ও ক্ষমা করা
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ ۗ
"তারা যেন ক্ষমা করে এবং দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন?"
— (সুরা আন-নূর: ২২)

3. সত্যবাদী হওয়া
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।"
— (সুরা আত-তাওবা: ১১৯)

4. নম্রতা ও বিনয়
وَعِبَادُ الرَّحْمَٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
"রহমানের বান্দারা তারা, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞরা তাদের সঙ্গে কথা বলে, তখন তারা (উত্তরে) বলে: 'সালাম'।"
— (সুরা আল-ফুরকান: ৬৩)

হাদিস থেকে

1. আখলাকের পূর্ণতা
النبي ﷺ قال: "إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ"
"আমি তো উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।"
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

2. ভালো আচরণ করা
رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ: "أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا"
"ঈমানদারদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।"
— (তিরমিজি: ১১৬২)

3. নম্র স্বভাব ও ক্ষমাশীলতা
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلِّهِ"
"নিশ্চয়ই আল্লাহ নরম স্বভাবকে ভালোবাসেন এবং সব বিষয়ে নম্রতা পছন্দ করেন।"
— (সহিহ বুখারি: ৬৯৩৭, সহিহ মুসলিম: ২৫৯৩)

4. সেরা ব্যক্তি কে?
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: "خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي"
"তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো আচরণ করে। আমিও আমার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম।"
— (তিরমিজি: ৩৮৯৫)

5. গোসসা নিয়ন্ত্রণ করা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ ﷺ أَوْصِنِي قَالَ: لَا تَغْضَبْ فَرَدَّدَ مِرَارًا قَالَ: لَا تَغْضَبْ
"এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে বললেন, আমাকে উপদেশ দিন। নবী (সা.) বললেন, 'রাগ কোরো না।' তিনি বারবার বললেন, 'রাগ কোরো না।'"
— (সহিহ বুখারি: ৬১১৬)

আমল ও আখলাক সুন্দর করার জন্য কুরআন ও হাদিসের উপর আমল করা জরুরি। উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য আমাদের উচিত:

সত্যবাদী ও ধৈর্যশীল হওয়া

অহংকার না করা

মানুষকে ক্ষমা করা

নম্রতা ও দয়াশীলতা বজায় রাখা

পরিবারের ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা

আল্লাহ আমাদের উত্তম চরিত্র ও আমল গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

16/03/2024

যে ব্যক্তি পরকালীন ফসল চায়, তার ফসল আমি বৃদ্ধি করি। আর যে লোক দুনিয়ার ফসল চায়, তাকে দুনিয়া হতেই দান করি কিন্তু পরকালে তার কিছুই প্রাপ্য হবে না।
সূরা আশ শুরা: ২০

04/03/2024

যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘উরওয়া (রহঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি 'আয়িশা (রাঃ) - কে আল্লাহ্‌র এ বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ “যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিয়ে কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।” (সূরাহঃ আন-নিসাঃ ৩)
‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, হে ভাগ্নে! এক ইয়াতীম বালিকা এমন একজন অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে ছিল, যে তার সম্পদ রূপের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। সে তাকে যথোচিতের চেয়ে কম মাহ্‌র দিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছা করে। তখন লোকদেরকে নিষেধ করা হল ঐসব ইয়াতীমদের বিয়ে করার ব্যাপারে। তবে যদি তারা সুবিচার করে ও পূর্ণ মাহ্‌র আদায় করে (তাহলে বিয়ে করতে পারবে)। (অন্যথায়) তাদের বাদ দিয়ে অন্য নারীদের বিয়ে করার আদেশ করা হল। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৬৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪৬৯৪)

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৬৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

26/02/2024

আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্তসমূহ পেশ করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।
সূরা আন নূর: ৩৫

Want your school to be the top-listed School/college in Maijdee Court?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address

Maijdee Court