09/07/2025
সুখের ঘর
ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের এক কোণে মাটির দেয়ালে বাঁশের চালা দেওয়া একটি ঘর, নাম তার “সুখের ঘর”। মানুষ এই নাম শুনে প্রথমে হাসত, ভাবত এমন ভাঙাচোরা ঘর কি করে সুখের হয়! কিন্তু যে ঘরে থাকে, তার চোখে এটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আর শান্তির ঠাঁই।
ঘরটিতে থাকে রফিক আর তার স্ত্রী সারা। বড় কোনো আয় নেই রফিকের—কখনো কৃষি কাজ, কখনো গাছ থেকে ডাব পেড়ে বাজারে বিক্রি। সারার হাতের রান্না আর হাসিমুখেই রফিকের দিন শেষ হয়।
রাতে দু’জন একসাথে বসে ভাত খায়, মাঝে মাঝে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করে। চাঁদের আলোয় চালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখা যায়। রফিক তখন বলে,
—“দেখেছো সারা, আমাদের ঘর থেকে আকাশটা কত সুন্দর দেখা যায়!”
সারা মুচকি হেসে উত্তর দেয়,
—“হ্যাঁ, এই ছোট্ট ঘরই তো আমার সব সুখ।”
একদিন ঝড় এলো। চালা উড়ে গেল, বৃষ্টি ঢুকে ঘর ভিজিয়ে দিল। গ্রামের মানুষ ভেবেছিল, এবার হয়তো রফিকের সুখের ঘর ভেঙে যাবে। কিন্তু পরের দিনই দেখা গেল, রফিক আর সারা মিলে নতুন করে চালা বাঁধছে, দেয়ালে মাটি লেপে দিচ্ছে।
একজন পথচারী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
—“তোমাদের তো কষ্টই হলো! তবু এই ঘরকে সুখের ঘর বলো কেন?”
রফিক হেসে বলল,
—“সুখ দেয়ালে, ছাদে নয়; সুখ থাকে হৃদয়ে, যেখানে ভালোবাসা আর বিশ্বাস আছে।”
সন্ধ্যায় যখন বাতাসে শীতের ছোঁয়া, রফিক আর সারা পাশাপাশি বসে থাকে তাদের ছোট্ট উঠোনে। দূর আকাশের তারা দেখে আর ভাবে—
এই ছোট্ট “সুখের ঘর”-এর মতো বড় সুখের রাজপ্রাসাদও খুব কমই আছে।