22/02/2024
জাপানে এমন অনেক হালাল রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে মুসলমানদের জন্য হালাল খাবার পাওয়া যায়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এসব রেস্টুরেন্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন মুসলমান থাকে না। তারপরে পরেও হালাল সার্টিফিকেইশন দেওয়া প্রতিষ্ঠান থেকে সনদ নিয়ে হালাল খাদ্য সরবরাহ করছে।
মালিক কর্মচারি মুসলিম না হলেও আপনি ৯৯.৯৯% নিশ্চিত মনে খেতে পারেন যে, আপনি হালালই খাচ্ছেন।
এমনকি আপনি অর্ডার করার সময় জিজ্ঞেস করলেও ওরা ব্যাখ্যা করে দিবে কিভাবে হালাল পণ্য সংগ্রহ করে এবং হালাল খাবার তৈরি করে।
আপনি বাংলাদেশের দিকে তাকান অধিকাংশ রেস্টুরেন্টের মালিক মুসলমান, কর্মচারিও মুসলমান। কিন্তু এদেশে এমন শত শত রেস্টুরেন্টে আপনাকে হালাল বলে খাওয়ানো হচ্ছে মরা গরু বা মুরগির মাংস অনেক সময় শিয়াল বা কুকুরের মাংসও। বাসি বা পঁচা না হয় বাদই দিলাম।
যারা মৃত্যুর পর শাস্তির ভয় না থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতারনা করে না আর আমরা পরকালের শাস্তির কথা জেনেও প্রতারণা করেই যাচ্ছি কেন?
এর মানে এই নয় যে জাপানে প্রতারণা হয় না বা এই নয় যে জাপানিদের কোন খারাপ দিক নাই।
জাপানির সবচেয়ে বড় খারাপ দিক হলো এরা বেশি মাত্রায় বর্ণবাদী। জাপানে ইউরোপ, আমেরিকার চেয়েও বেশি বর্ণবাদ।
তবে এখানে ইউরোপ, আমেরিকার মত বর্ণবাদের কারনে কাউকে শারিরিকভাবে হামলা বা হেনস্থা করা হয় না।
কিছু হেনস্তা বা হামলার ঘটনাও ঘটলেও সেটা খুবই কম।
আর বর্ণবাদ আমাদের দেশেও কম না। কেউ একটু বেটে, কালো, নাক বোচা বা কোন শারিরিক সমস্যা নিয়ে জন্মালে ছোট বেলা থেকেই আত্মীয় স্বজনের বর্ণবাদী আচরণের স্বীকার হয়।
ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। এদেশে এখনো শিক্ষিত সমাজও ফর্সা হওয়াকে সুন্দর মনে করে। যদিও গায়ের রং কেমন হবে এটা কারো ব্যক্তিগত অর্জন নয়।
যাইহোক, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে অন্তত সচেতন ও শিক্ষিত সমাজ অবকাঠামো উন্নয়নকে দেশের উন্নয়ন মনে করবে না।
যেখানে রাস্তার দৈর্ঘ বা প্রস্থ দিয়ে উন্নয়ন বোঝানো হবেনা বরং রাস্তা যেমনই হোক জ্যামজট মুক্ত সুন্দর ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনাকেই উন্নয়ন মনে করা হবে।
যেখানে সর্বক্ষেত্রে থাকবে জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা, সরকারি বা বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা বা কর্মচারির সাথে প্রয়োজনে কথা বলতে আপনাকে পকেটে হাত ঢোকাতে হবে না।
নিজেকে তাদের সামনে তুচ্ছ, নগন্য মানুষ মনে হবে না। বরং বসার জন্য দায়িত্বরত ব্যক্তি চেয়ার টেনে দিয়ে, গুরুত্ব দিয়ে আপনার কথা শুনবে। সরকারি অফিসগুলো হবে দুর্নীতিমুক্ত।
শিক্ষানীতি হবে কর্মমূখী যেখানে সত্যিকার শিক্ষা থাকবে। গুগল থেকে কপি পেস্ট করে বই ছাপানো হবে না।
আব্দুর রাজ্জাক