27/12/2025
একজন মানুষ প্রকৃত মানুষে পরিণত হয় শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে। আর সেই শিক্ষা যদি হয় দ্বীনি শিক্ষা—যা মানুষকে কেবল পেশাগত যোগ্যতা নয়, বরং চরিত্র, আদর্শ ও দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে—তবে তা নিঃসন্দেহে সোনায় সোহাগা। এই সত্যের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন আমাদের প্রিয়
মাওলানা দিদারুল আলম
দীর্ঘ বারো বছরের নিরলস সাধনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি দ্বীনি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর তাকমিল (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেছেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আরবি বিশ্ব বিদ্যালয়,হাজির হাট মারকাযুল উলুম মাদরাসা থেকে তাঁর এই কৃতিত্ব নিছক একটি ডিগ্রি অর্জন নয়—এ যেন ধৈর্য, মেহনত ও আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলের এক উজ্জ্বল দলিল।
এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অগণিত ত্যাগ ও কোরবানি। আছে বাবা-মায়ের নিরব দোয়া, পরিবারের অদৃশ্য সমর্থন, উস্তাদদের স্নেহমাখা শাসন ও দিকনির্দেশনা। বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনিয়ানগর দারুস সালাম মাদরাসা এবং এর রূপকার, আলেমে দ্বীন মাওলানা মোশাররফ হোসেন সাহেব। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও দোয়ার ছায়ায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছাত্রের ভিত্তি। তাঁর একটাই স্বপ্ন—প্রতিটি ছাত্র যেন তাকমিল ফিল হাদিস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই অবদান অকপটে স্বীকার করে দিদারুল ভাই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
“আজ আমি যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বড় হুজুরের। তিনিই আমার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজ আমি এখানে। হুজুরের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
আজকের এই সাফল্য শুধু তাঁর একার নয়। এতে আনন্দিত তাঁর পরিবার, গর্বিত তাঁর উস্তাদগণ, খুশিতে আপ্লুত সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ী সবাই। বড় বড় শায়েখরা তাঁর মাথায় পাগড়ি তুলে দিচ্ছেন—যেন ইলমের উত্তরাধিকার আজ নতুন করে হস্তান্তরিত হচ্ছে। চারপাশে ঈদের দিনের মতো আনন্দ।
এই সাফল্যের মুহূর্তে আমাদের অন্তর থেকে দোয়া বেরিয়ে আসে—
হে আল্লাহ, আপনি তাঁকে ইলমে নাফে‘ দান করুন, তাঁকে আরও বড় বানান, তাঁর অর্জিত কৃতিত্বকে কবুল করুন এবং এর উপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। তাঁর মাধ্যমে দ্বীন ও উম্মাহ উপকৃত হোক। আমরাও যেন এই আনন্দে শরিক হয়ে আপনার দরবারে কবুলিয়তের যোগ্য হই—আমিন।
26/12/2025