13/04/2026
❝হয়তো আমার জীবন শেষ: তালিবুল ইলমের হতাশা, তার বড় একটি কারণ ও তা থেকে উত্তরণের পথ❞
আব্দুল্লাহ ইবনে ফুলান। সদ্য হিফজখানা থেকে হিফজ শেষ করে কিতাব বিভাগে এসেছে। হেফজখানার মেহনতের সময় ভাবতো "আহ, কিতাব বিভাগে কত্ত শান্তি! কবে যে আমি কিতাব বিভাগে উঠবো! বড় ভাইদের মতো শান্তিতে থাকবো।" তার ভাবনার বিষয়টি শুধুমাত্র আফসোস হিসেবেই থাকে নি, বরং এটা নিয়তে রূপান্তরিত হয়েছিলো।
সে কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর শান্তিতে দিন কাটানোর নিয়তটাকে এবার বাস্তবে পরিণত করে শান্তির দিন উপভোগ করতে লাগলো। নিচের জামাত। কিতাবগুলো সহজ ও ছোট। অল্প স্বল্প পড়ে কোনমতে পাশ করে যাওয়া যাচ্ছে। এভাবে সে তাইসির, এসো আরবি শিখি, নাহবেমীর, হেদায়াতুন্নাহু, কাফিয়া জামাত শেষ করে ফেলেছে। তাইসির, এসো আরবি শিখি আর নাহবেমীর জামাতে জায়্যিদ জিদ্দান রেজাল্ট হলেও হেদায়াতুন্নাহু ও কাফিয়ার রেজাল্ট মাকবুল।
সে এখন শহরে বেকায়ার ছাত্র। আরবী ইবারত পড়তে পারে না। কোনমতে টেনেটুনে ইবারত পড়লেও অর্থ বুঝে না। আরবীতে পরীক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন তো দূর দেশের কথা!
এখন সে তার অবস্থা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। চোখে মুখে হতাশার ছাপ। একবুক কষ্ট নিয়ে পথ চলতে শুরু করেছে। সামান্য সময়ও এই দুশ্চিন্তা তার পিছু ছাড়ে না। মন তাকে বলে — আব্দুল্লাহ তোর জীবন শেষ। আর কিছুই হবে না। তুই যে অবস্থায় আছিস, এর থেকে পেছনে ফেরার আর কোন সুযোগ নাই। আব্দুল্লাহ এখন মোনাজাতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে লাগলো। হঠাৎ একদিন সে কোন এক মাধ্যমে আল মাদরাসাতুল আরাবিয়্যাতু দারুল উলূম কুষ্টিয়ার নাম শুনলো। সে জানতে পারলো দারুল উলূম এমন তালিবুল ইলমদেরকে নিয়ে হতাশা দূরীকরণের কাজ শুরু করেছে। সে আর কালবিলম্ব না করেই ছুটে আসলো দারুল উলূমে।
আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম কুষ্টিয়া হেদায়াতুন্নাহু, কাফিয়া, শহরে বেকায়া পড়া দূর্বল ছাত্রদেরকে নিয়ে নতুন ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে। তাদের জন্য এক বছর বিশেষ পড়াশোনা করে নিজের মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এখানে উক্ত তালিবুল ইলম যা যা পাবে :
১. এক বছরেই এসো আবরী শিখি, তামরীন, নাহু, সরফসহ মৌলিক কিতাবাদী পরিপূর্ণ অধ্যায়নের সুযোগ।
২. আরবিতে লিখতে পারার মতো অনুশীলন ও সাহস।
৩. শুদ্ধ ইবারত পড়া শিখতে উস্তাদদের বিশেষ তত্বাবধানে নাহু চর্চা ও ইজরার ব্যবস্থা।
দারুল উলূম কুষ্টিয়া উম্মাহর খেদমতে একদল যোগ্য আলেম পেশ করতে বদ্ধপরিকর। আমরা মেধা নয়, বরং মেহনতে বিশ্বাসী। তাই হতাশা নিয়ে জীবন শেষ করার আগে আপনাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন ইনশাআল্লাহ।
বিঃদ্রঃ এই বছরেও চারজন কাফিয়া পড়া তালিবুল ইলম দারুল উলূমে এসে এক বছরের জন্য নিজেদেরকে উস্তাদদের নিকট সঁপে দিয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে সফলতা দান করুন, আমিন।