04/03/2024
কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জিনকে জালিয়ে দেওয়া সম্ভব?
🔴এমন কোন কথা কুরআন ও হাদীছে পাওয়া যায়না, যেখানে বলা হয়েছে কুরআনের ওমুক আয়াত পড়লে জিন পুড়ে যাবে।
🔴এগুলো মূলত রাক্বীদের অভিজ্ঞতা যা তারা তাদের জীবনে দেখেছেন, বুঝেছেন।
যেমন, হাদীছে এসেছে আয়াতুল কুরসী পড়লে শয়তান থাকেনা, কিন্তু জিনের রোগীর কাছে আয়াতুল কুরসী পড়লে জিন কষ্ট পায় এমন কথা হাদীছে কোথাও নাই।
অথচ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ জিনের রোগীর নিকটে কুরসী পড়তেন । এছাড়াও তিনি সূরা মুমিনুনের শেষ আয়াত গুলো পড়তেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম রহ নিজেও এমনটাই বলেছেন।
🔴পুরো কুরআন হলো শিফা, কিন্তু রাসূল স সূরা ইখলাস ফালাক নাস বেশি পড়তেন। কোথাও এমনটা তিনি বলেননি ওমুক ওমুক আয়াত পড়ে ফু দাও ।কিছু হাদীছে সূরা ফাতিহার কথা এসেছে, অথচ সাহাবীদেরকে রাসূল স বলেননি সূরা ফাতিহা পড়ে ফু দিলে রোগ মুক্তি হবে। কিন্তু সাহাবীরা সূরা ফাতিহা পড়ে ফু দিয়েছেন, পরে রাসূল স সমর্থন করেছেন।
🔴জিনের রোগীর সামনে, সুলাইমান আ এর কথা যে আয়াতে আছে সেই আয়াত সাথে সূরা জিনের কিছু আয়াত পাঠ করলে জিন হাজির হয়ে যায়। অথচ এমন কোন বর্ণনা নেই, যেখানে বলা হয়েছে এগুলো পাঠ করলে জিন হাজির হবে।
🔴জিনের যখন রোগীর শরীরে থাকে তখন তার সামনে জাহান্নাম, নার, উল্লেখিত আয়াত গুলো পড়লে রোগী ছটফট করতে থাকে, অথচ এমন কোন আয়াত বা হাদীছ নেই যেখানে বলা হয়েছে এগুলো পড়লে এমন হবে।
🔴যারা রুকইয়া করেন, করেছেন তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে এগুলো বলে থাকেন, যেমন জাদুর চিকিৎসা হিসেবে ইমাম আবু হাতীম ও ইমাম আবুশ শাইখ, লাইস ইবনে আবি সালিম থেকে বর্ননা করেছেন,
تقرأ في إناء فيه ماء، ثم يصب على رأس المسحور
কুরআনে এই আয়াত গুলো পড়ে পানিতে ফু দিয়ে যাদুগ্রস্থ রোগীর মাথাতে পানি ঢেলে দিলে জাদু কেটে যাবে।
আয়াত গুলো হলো........مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ﴾ ٢ إلى قوله: ﴿وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ﴾ ٣، وقوله: ﴿فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾ ٤ إلى آخر الآيات الأربع، وقوله: ﴿إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى
দেখুন, 📚শারহু কিতাবিত তাওহীদ লি আব্দির রহমান ইবনে হাসান (১৪৬)
✅অথচ এমনটা কোন হাদীছে বর্ণিত হয়নি।
আবার একই পৃষ্ঠাতে শায়েখ উল্লেখ করেছেন,
وقال ابن بطال: «في كتاب وهب بن منبه: أن يأخذ سبع ورقات من سدر أخضر فيدقه بين حجرين، ثم يضربه بالماء ويقرأ فيه آية الكرسي والقواقل، ثم يحسو منه ثلاث حسوات، ثم يغتسل به يذهب عنه كل ما به،
ইবনু বাত্তাল রহ বলেছেন, ৭টি বরইয়ের পাতা পিশে ফেলে পানিতে মিশিয়ে আয়াতুল কুরসী চার কুল পড়ে সেই পানিতে ফু দিয়ে তিন অঞ্জলি পানি সেখান থেকে পান করতে হবে, বাকিটা দিয়ে গোসল করতে হবে 📚(ঐ)
অথচ এগুলো কোন হাদীছে এভাবে বর্ণীত হয়নি । এমন আরো পদ্ধতি ইমামদের থেকে বর্ণনা করা সম্ভব। ইমাম ইবনু বাজ রহ আরো একটি পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন।
🔴সর্বোপরি যে সকল ভাইয়েরা এগুলো নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করেন, তাদের উচিত নিজে রুকইয়ার কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা অথবা চুপ থাকা।
👉হ্যাঁ, যারা কুরআনের আয়াত বা সুন্নাহর দুয়া ছাড়া অন্য কোম উপায় অবলম্বন করেন, জিনের সাহায্য নেন। তারা ভণ্ড আপনারা তাদের বিষয়ে কথা বলুন। যারা গায়েব জানার ও গায়েবের খবর দেওয়ার দাবি করে তাদের বিষয়ে কথা বলুন।