23/10/2025
আসসালামু আলাইকুম। একটু কষ্ট করে হলেও সম্পূর্ণ পোস্টটা একবার পড়বেন।
আমি সায়েম আহম্মেদ । বরিশাল জিলা স্কুলের দশম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী। লটারি নিয়ে এটি @জিলা স্কুল পরিবার, বাংলাদেশ পেইজে আমার ১ম পোস্ট। এই পোস্টের টপিক হচ্ছে, সরকারি স্কুলগুলোতে লটারি ভর্তি ব্যবস্থা বন্ধের জন্য।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ১৫ টি জিলা স্কুল একসময় ছিল দেশের শিক্ষার গর্ব ও উৎকর্ষতার প্রতীক। এই স্কুলগুলো কেবল পাঠদান করত না—তারা গড়ে তুলত নেতৃত্ব, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত মানুষ।
বহুকাল ধরে মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল ভিত্তি, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে স্থান করে নিত। সেই ব্যবস্থাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জিলা স্কুলগুলোর ঐতিহ্য, মর্যাদা ও গৌরব ধরে রেখেছিল।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ২০২০ সালের লকডাউন-পরবর্তী সময়ে লটারি ভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালুর ফলে সেই ঐতিহ্য ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে ভর্তি প্রক্রিয়া। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব হ্রাস পাচ্ছে, অভিভাবকদের আস্থা ও আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার মানেও স্পষ্ট অবনতি দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের শুধুমাত্র ১৫ টি জিলা স্কুলই নয়—এর মতোই ঐতিহ্যবাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ( Govt. girls high school ) এবং দেশের অন্যান্য প্রাচীন ও স্বনামধন্য সরকারি স্কুলগুলোও এই লটারি ব্যবস্থার কারণে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় প্রতিটি জেলার গর্বের প্রতীক ছিল, আজ সেগুলো ক্রমে হারাচ্ছে তাদের স্বকীয়তা, ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারা।
এখন সময় এসেছে এই ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার।
আমরা চাই—আবারও ফিরুক সেই মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী নিজের মেধা,পরিশ্রম ও যোগ্যতার মাধ্যমে জায়গা করে নেবে জিলা স্কুলে।
যে স্কুলগুলো একদিন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিল, সেগুলোকে ফিরিয়ে দিতে হবে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, গৌরব ও ঐতিহ্য।
জিলা স্কুল কোনো লটারির খেলা নয়—এটা মেধার মঞ্চ। মেধার দীপ্তিতেই পুনর্জাগুক ঐতিহ্যের গৌরব।
লেখাঃ সায়েম আহম্মেদ
বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল