মুমিন জীবন আখিরাতমুখী। মুমিন দুনিয়াকে বশ করবে, হাতের মুঠোয় নিবে, কিন্তু হৃদয়ে স্থান দেবে না। মুমিন হৃদয়ের পুরোটা জুড়ে আখিরাত। তার সকল চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু আখিরাতকে ঘিরে। আল্লাহ বলেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ পরকালই স্থায়ী ও মহাকল্যাণময়’। [সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১৬-১৭]
রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিটি মজলিসে এই বলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! দুনিয়াকে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্বের জায়গা বানাবেন না। আমাদের চিন্তাভাবনার পুঁজিতে পরিণত করবেন না’। [সুনানে তিরমিযি, ৩৫০২]
Daily Hadith
❝প্রতিদিন একটি করে হাদিস পড়ুন,ইলম অর্জন করুন।❞
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স.) কে বলতে শুনেছি, ‘‘আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে পাপ-প্রকাশকারী ব্যতীত। আর এক প্রকার প্রকাশ এই যে, কোনো ব্যক্তি রাতে কোনো পাপকাজ করে, যা আল্লাহ গোপন রাখেন। কিন্তু সকাল হলে সে বলে বেড়ায়, ‘হে অমুক! আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি।’ অথচ সে এমন অবস্থায় রাত্রি অতিবাহিত করেছিল যে, আল্লাহ তার পাপ গুপ্ত রেখেছিলেন। কিন্তু সে সকালে উঠে তার উপর আল্লাহর আবৃত পর্দা খুলে ফেলে!’’
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২৪৬
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘‘মুসলিমের উপর মুসলিমের পাঁচটি অধিকার রয়েছেঃ
(১) সালামের জবাব দেওয়া
(২) রোগীকে দেখতে যাওয়া
(৩) জানাযায় অংশ গ্রহণ করা
(৪) দাওয়াত গ্রহণ করা এবং
(৫) কেউ হাঁচি দিলে তার জবাব দেওয়া।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘মুসলিমের উপর মুসলিমের অধিকার ছয়টিঃ তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।’’ (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২৪৩
আজকের হাদিস :
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু �আনহ থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কারো জমি এক বিঘত পরিমাণ অন্যায়ভাবে দখল করে নেবে, (কিয়ামতের দিন) সাত তবক (স্তর) যমীন তার গলায় লটকে দেওয়া হবে।’’
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২১১
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে একটি লোক এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি সওম অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করেছি। তিনি বলেনঃ আল্লাহই তোমাকে পানাহার করিয়েছেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৯৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
15/03/2024
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যদি সওম পালন করেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে, তাহলে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৬২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
11/03/2024
আজ তো প্রথম তারাবীহ!
আজকের তারাবীহতে কুরআনের বার্তা কী, তা জেনে নিয়েছেন তো?
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী ( স.)বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার (কোন মুসলিম) ভাইয়ের উপর তার সম্ভ্রম অথবা কোন বিষয়ে যুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তার কাছে (ক্ষমা চেয়ে) হালাল করে নেয়, ঐ দিন আসার পূর্বে যেদিন দ্বীনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। তার যদি কোন নেক আমল থাকে, তবে তার যুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা হতে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার নেকী না থেকে, তবে তার (মযলূম) সঙ্গীর পাপরাশি নিয়ে তার (যালেমের) উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’’
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২১৫
আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রাস্তায় বসা হতে বিরত থাক।’’ সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে মজলিসে না বসলে তো আমাদের উপায় নেই; আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘যখন তোমরা (সেখানে) না বসে মানবেই না, তখন তোমরা রাস্তার হক আদায় কর।’’ তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তার হক কি?’ তিনি বললেন, ‘‘দৃষ্টি সংযত রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, ভাল কাজের নির্দেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা।
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৯৫
আজকের হাদিস:
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জুমু’আহর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহুর্ত রয়েছে যদি কোন মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহুর্তটি তোমরা ‘আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১০৪৮
আজকের হাদিস:
হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অর্ধ শাবানের রাতে (১৪ ই শাবান দিবাগত রাতে) আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি মনোযোগ দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
(সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস: ১৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫; মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস : ২৭৫৪; আল মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৬৭৭৬; আল মুজামুল কাবির, হাদিস : ২১৫; ; মুসন্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৬২০)
আজকের হাদিস:
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযূ করল, অতঃপর জুমআহ পড়তে এল এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুমআহ ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হল। আর যে ব্যক্তি (খুৎবাহ্ চলাকালীন সময়ে) কাঁকর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কর্ম করল।’’ (অর্থাৎ সে জুমআর সওয়াব বরবাদ করে দিল।)
রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৩০
Click here to claim your Sponsored Listing.