29/12/2022
প্রারম্ভিক কিছু কথা
মাদ্রাসাতুত তাক্বওয়া (তাক্বওয়া মাদ্রাসা)
ইসলামী রিসার্স সেন্টার,পূর্ব দফাদারপাড়া মোড়,গ্রামঃ ফিলিপ নগর,থানাঃ দৌলতপুর,জেলাঃ কুষ্টিয়া।
১৯৫৩ সালে ফিলিপনগর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তৎপূর্বে সেখানে ছিল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মাদ্রাসা যাহা ১৯৫৩ সালে দ্বিখন্ডিত হয়ে উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন এই স্কুল পাড়াটির নাম ছিল মাদ্রাসা পাড়া। স্কুল প্রতিষ্ঠার পূর্বে অর্থাৎ বৃটিশ আমলে এই এলাকার অনেকে ভারতের বহরমপুর, করিমপুর, শিকারপুর, কৃঞ্চনগর, কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে লেখা পড়া করতে যেত। বৃটিশ যুগের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছিল বৃটিশ সরকারের সুবিধাবদে পরিপূর্ণ। ক্ষমতায় টিকে থাকতে বৃটিশ সরকারের প্রয়োজন হয় পুলিশ বাহিনী, রেলের চাকা সচল রাখতে রেল কর্মচারী আর জমি-জমা দেখভাল করতে পাইক-পেয়াদার ও কর্মচারী। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও সেই মোতাবেক ছিল। এতে অধিকাংশ মানুষ ছিল বৃটিশ সরকারের অনুগত। অল্প কিছু তৈরী হয়েছিল বিপ্লবী। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল নিতি-নৈতিকতাহীন ও বিবেকহীন শিক্ষা ব্যবস্থা। ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংশ করা হয়েছে মাদরাসা ধ্বংশের মাধ্যমে, বৃটিশ সরকার এই কাজটি করেছিল সু-কৌশলে। অনুরুপ ভাবে ফিলিপ নগর স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সময় মাদরাসা বিলুপ্ত করা হয়েছে, সময়ের প্রেক্ষাপটে হয়তবা ঠিক ছিল, কিন্তু সুদূর প্রসারি চিন্তা ছিল বলে মনে হয় না। তবু ও বর্তমান দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় চিন্তা করে আমার মনে প্রশ্ন যাগে, মাদরাসা বিলুপ্ত না করে যদি পৃথক ভাবে উচ্চ বিদ্যালয়টি করা হতো তা হলে ক্ষতি কি ছিল? পরিবর্তিত আকারে মাদ্রাসা থাকলে অন্তত কিছু ইসলামী জ্ঞান সম্পন্ন আলেম তৈরি হতো। আমার মনে হয় এতে লাভের পরিমানই বেশী ছিল। বর্তমান সাধারন শিক্ষা ব্যবস্থায় তৈরী হচ্ছে আমলা, স্বার্থপরতা আর বিবেকহীনশ্রেণী করণ। একবার ভেবে দেখুণ আল্লাহ্পাক ও তদীয় রাসূল (সাঃ) আমাদের সন্তানদেরকে যে ভাবে গড়ে তোলার নির্দেশ ও ব্যবস্থাপনা দিয়েছেন, আমরা কি সে ভাবে আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দিচ্ছি? বা গড়ে তুলছি? আমরা সকলে চাই আমাদের সন্তানেরা সভ্য, ভদ্র, সু-শিক্ষিত ও শান্ত-শিষ্ঠ হোক। পিতা মাতার বাধ্য হোক। সমাজের কল্যাণকামী হোক। আমরা কি তা করতে পারছি? মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেন, “শিশুরা আগামী দিনের নাগরিক। তাই তাদের ইসলামিক শিক্ষা দাও, শিশুদের শিষ্ঠাচার শিক্ষা দাও, শিশুদের ভালোবাস এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর”। আপনার সন্তানকে যদি অন্ততপক্ষে ৩ বৎসর একটি ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের সুযোগ প্রদান করেন তাহলে তাদের জীবনে চলার পথ সুন্দর হবে আর আপনার কাঙ্খিত যে কোন উচ্চ শিক্ষা লাভের পথ সুগম হবে।
বর্তমান যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি দ্বীনই ও আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করেছে। অপর পৃষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আমাদের অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুলনা মূলক ভাবে খুব কম। তবে আশার আলো, সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান শুরু হয়েছে এবং অনেকে প্রতিষ্ঠান শুরু হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে দেয়া হলো
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের পূর্ব দফাদরপড়া মোড়ে অবস্থিত, নামঃ মাদ্রাসাতুত তাক্বওয়া।
শিক্ষা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে ইসলামী রিসার্স সেন্টারটি যাত্রা শুরু করেছে যেখানে প্রাথমিক ভাবে একটি মসজিদ ও মাদরাসার কার্যক্রম চলছে। অর্থ দিয়ে বা বুদ্ধি দিয়ে সহায়তা করার মত লোক এলাকাটিতে খুবই কম। এমনকি সময় বা শ্রম দিয়ে সহায়তা করবে তাও নগন্য। আর সময় বা স্বেচ্ছা শ্রম দিতে গেলে আমাদের ভিতর অনেকের সংসার চলে না, তাই অর্থ বা স্বেচ্ছা শ্রম দেয়ার নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব, ভালোমত নামাজী এমন লোক খুবই কম, শিরক-বেদাতে আচ্ছন্ন জীবন যাপনে আমরা অভ্যস্থ। নিজেদের ভালো-মন্দ চিন্তা করার মত লোক ও খুব কম। মোট কথা একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সামাজিক দুরাবস্থার ভিতর আমরা বসবাস করছি। সার্বিক বিবেচনায় এলাকাটির শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সময় উপযোগী।
বৈশিষ্ট্য সমূহঃ
১। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা শিক্ষাদান।
২। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ব্যক্তি জীবনে সুন্নত তরীকা অনুযায়ী আমল ও আখলাকের অনুসারী হিসাবে গড়ে তোলা।
৩। আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
৪। মাসিক পরীক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
৫। আরবী শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, অংক, ইতিহাস ও সাধারণ জ্ঞানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
স্বল্প পরিসরে প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য, শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রারম্ভিক কিছু বিষয় বর্ণনা করা হলঃ
১। হেফজখানা- এতিম, দরীদ্র,বিত্তবান সকল শ্রেনীর মানুষের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা।
২। মাদ্রাসা- যুগ উপযোগী ও বিশ্বমানের ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা যাহা কর্মসংস্থান ও অন্যত্র উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনে সহায়ক হবে।
৩। বয়স্কদের জন্য শিক্ষা- অশিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত মানুষের জন্য কোরআন ও হাদিস শিক্ষা ব্যবস্থা।
৪। যুব শিক্ষা- যুব সমাজকে তাদের একটি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় উন্নিত/সংশোধিত করে তাদের জীবন মানের উন্নয়ন করা।
৫। একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্টা করা যাহা মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
৬। আরও অনেক সামাজিক ভাল কাজের সুযোগ থাকতে পারে। যেমন- প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, ভালো কাজে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার বা বৃত্তি প্রদান ইত্যাদি।